ব্রাহ্মণবাড়িয়ার তিতাস আবৃত্তি সংগঠন ও ভারতের ত্রিপুরার আগরতলার শ্রুতি বাচিকশিল্প চর্চা কেন্দ্র তাদের যৌথ নিবেদন হিসেবে আয়োজন করেছে ‘সম্প্রীতির আবৃত্তি সন্ধ্যা’।
শুক্রবার (২০ মে) রাতে ব্রাহ্মণবাড়িয়া শহরের সুর সম্রাট দি আলাউদ্দিন সঙ্গীতাঙ্গনে ‘আমরা ভাষায়, ভালোবাসায় এক’ শীর্ষক ওই অনুষ্ঠান হয়।
আয়োজনে আগরতলার শ্রুতি’র পরিচালক স্মীতা ভট্টাচার্যের গ্রন্থনা ও নির্দেশনায় শিল্পীরা দলীয় প্রযোজনা ‘শ্যামলিমা ত্রিপুরা’ উপস্থাপন করেন। মিলনায়তনে উপস্থিত দর্শক শিল্পীদের কবিতা নির্বাচন ও আবৃত্তি উপস্থাপনের ভূয়সী প্রশংসা করেন।
এ সময় শ্রুতি’র পরিচালক স্মীতা ভট্টাচার্য কবি কাজী নজরুল ইসলামের সৃষ্টি থেকে কবিতা কোলাজ উপস্থাপন করেন।
শুদ্ধ সংস্কৃতি বিনিময়ের প্রত্যয়ে ধারাবাহিক আয়োজন হিসেবে এটি প্রথম অনুষ্ঠিত হয় ২০২০ সালের ১৩ জানুয়ারি ত্রিপুরার আগরতলায়। দ্বিতীয়বারের আয়োজনটি হয়েছে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায়।
সন্ধ্যা ৭টায় বাংলাদেশ ও ভারতের জাতীয় সঙ্গীত পরিবেশনের মধ্য দিয়ে ‘সম্প্রীতির আবৃত্তি সন্ধ্যা’ শুরু হয়। এরপর মঙ্গল প্রদীপ প্রজ্বলন করে কর্মসূচির উদ্বোধন করেন জেলা প্রশাসক মো. শাহগীর আলম। অনুষ্ঠানে সদ্য প্রয়াত ভাষা সংগ্রামী আবদুল গাফফার চৌধুরী, বরেণ্য আবৃত্তিগুরু পার্থ ঘোষ ও সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোট সাধারণ সম্পাদক হাসান আরিফকে শ্রদ্ধা জানিয়ে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়।
তিতাস আবৃত্তি সংগঠনের পরিচালক মো. মনির হোসেনের সভাপতিত্বে ও সহকারী পরিচালক উত্তম কুমার দাসের সঞ্চালনায় বক্তব্য রাখেন জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আমিনুল ইসলাম, ব্রাহ্মণবাড়িয়া সরকারি কলেজ অধ্যক্ষ অধ্যাপক বিভূতিভূষণ দেবনাথ, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোজাম্মেল হোসেন খান, ব্রাহ্মণবাড়িয়া পৌরসভার প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো.আবদুল কুদ্দুস, বীর মুক্তিযোদ্ধা ওয়াসেল সিদ্দিকী, প্রেসক্লাব সভাপতি রিয়াজ উদ্দিন জামি, সাধারণ সম্পাদক জাবেদ রহিম বিজন, অধ্যক্ষ সোপানুল ইসলাম, নারী সংগঠক এড.তাসলিমা সুলতানা খানম নিশাত, রবীন্দ্র সঙ্গীত সম্মিলন পরিষদ কেন্দ্রীয় সদস্য ডা.অরুনাভ পোদ্দার, ভাষা ও সাহিত্য অনুশীল কেন্দ্র সভাপতি উসমান গনি সজিব, সাহিত্য একাডেমির জামিনুর রহমান, আনোয়ার হোসেন সোহেল, আবরনি আবৃত্তি চর্চা কেন্দ্র নির্বাহী পরিচালক হাবিবুর রহমান পারভেজ, আবৃত্তি একাডেমি সভাপতি মনিরুজ্জামান ভূঞা শিপু।
সম্প্রীতির আবৃত্তি সন্ধ্যায় তিতাস আবৃত্তি সংগঠনের পক্ষ থেকে শ্রুতি বাচিকশিল্প চর্চা কেন্দ্রকে বিশেষ সম্মাননা ও শ্রুতির ১২ জন শিল্পীকে শুভেচ্ছা স্মারক-ফুলেল শুভেচ্ছা প্রদান করা হয়। শ্রুতির পক্ষ থেকেও তিতাস আবৃত্তি সংগঠনকে শুভেচ্ছা উপহার প্রদান করা হয়।
উদ্বোধনী বক্তব্যে জেলা প্রশাসক মো. শাহগীর আলম বলেন, কবিতার নান্দনিক উপস্থাপনায় ভারত-বাংলাদেশে সম্প্রীতির বার্তা দিয়েছে আবৃত্তিশিল্পীরা। এমন চমৎকার আয়োজন বারবার হওয়া জরুরি। বিশেষ করে ত্রিপুরার শিল্পীরা তাদের পরিবেশনায় প্রমাণ করেছে আবৃত্তিশিল্প মানুষকে কতটা আকর্ষণ করতে সক্ষম।
শ্রুতির পরিচালক ও আবৃত্তিশিল্পী স্মীতা ভট্টাচার্য বলেন, আমরা চাই ভারত-বাংলাদেশের শিল্পীদের মধ্যে শান্তি-সম্প্রীতির মধুর সম্পর্ক। শিল্পের মাধ্যমেই আমরা সম্প্রীতির বার্তাটি সকল মানুষের মাঝে পৌঁছাতে চাই। তাই শ্রুতি ও তিতাস আবৃত্তি সংগঠন যৌথভাবে সম্প্রীতির আবৃত্তি অনুষ্ঠানের আয়োজন করছি।
তিতাস আবৃত্তি সংগঠনের সমন্বয়ক রোকেয়া দস্তগীর বলেন, মহান মুক্তিযুদ্ধে ভারতের অবদান অবিস্মরণীয়। তাদের সাথে রাষ্ট্রীয় সম্পর্কও আন্তরিক বন্ধুত্বের। আমরা আবৃত্তির মধ্য দিয়ে সম্প্রীতির বন্ধনকে আরও মজবুত করতে চাই। সংস্কৃতিই পারবে সম্পর্কের উন্নয়ন ঘটিয়ে অসাম্প্রদায়িক সামাজিক বন্ধন বৃদ্ধি করতে।
বিজনেস বাংলাদেশ/বিএইচ




















