১২:২৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২১ মে ২০২৬

ভূঞাপুরে সেই মা ক্লিনিক অ্যান্ড হাসপাতাল সিলগালা

টাঙ্গাইলে ভূঞাপুরে ভুল চিকিৎসায় প্রসূতিসহ নবজাতকের মৃত্যুর ঘটনায় সেই অবৈধ ক্লিনিককে সিলগালা করেছে গঠিত তদন্ত কমিটি।

বৃহস্পতিবার (২৬ মে) বিকেলে উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তার (টিএইচও) নেতৃত্বে গঠিত তদন্ত কমিটি ভূঞাপুর বাজারে মা ক্লিনিক অ্যান্ড হাসপাতাল পরিদর্শন শেষে প্রতিষ্ঠানটি সিলগালা করে দেয়।

এর আগে গত বুধবার রাতে অপারেশন টেবিলে সিজারিয়ান করার সময় প্রসূতিসহ নবজাতকের মৃত্যুর ঘটনা ঘটে। এঘটনায় মৃতের পরিবারের পক্ষ থেকে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে থানায় মামলা দায়ের করেছে।

প্রতিষ্ঠান সিলগালার সময় উপস্থিত ছিলেন, উপজেলা স্বাস্থ্যকমপ্লেক্সের কর্মকর্তা মোহাম্মদ আব্দুস সোবহান, তদন্ত কমিটির প্রধান ও উপজেলা স্বাস্থ্যকমপ্লেক্সের শিশু কনসালটেন্ট ডা. অনামিকা সাহা, মেডিকেল অফিসার ডা. নিশাত সাঈদা ও ডা. মো. খাদেমুল ইসলাম।

উপজেলা স্বাস্থ্যকমপ্লেক্সের কর্মকর্তা (টিএইচও) মোহাম্মদ আব্দুস সোবহান জানান, সিজারিয়ান করার সময় রোগী মৃত্যুর ঘটনায় তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছিল। তদন্ত কমিটি ক্লিনিক পরিদর্শন করে সিলগালা করে দিয়েছে যাতে কর্তৃপক্ষ সেখানে তাদের কার্যক্রম চালাতে না পারেন। ঘটনাটি নিয়ে তদন্ত চলছে।

উল্লেখ্য, গত বুধবার (২৫ মে) বিকেলে ভ‚ঞাপুর উপজেলার খানুরবাড়ি গ্রামের লাইলী বেগমের প্রসব যন্ত্রণা হলে তার স্বজনরা উপজেলা স্বাস্থ্যকমপ্লেক্সে নিয়ে যান। হাসপাতালের কর্মরত মেডিকেল অফিসার ডা. রুপক রোগীর শারিরীক অবস্থা খারাপ থাকায় উন্নত চিকিৎসার জন্য টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে রেফার্ড (স্থানান্তর) করেন। পরে সেখানে থাকা ক্লিনিকের দালাল শামছুর খপ্পরে রোগীর স্বজনরা। কম টাকায় সিজার করানোর কথা বললে দরিদ্র রোগীর স্বজনরা দালালের কথামত মা ক্লিনিক এন্ড হাসপাতালে নিয়ে যায়। এরপর ক্লিনিকে ভর্তি করা হয়। রাত ৮টার দিকে রোগীকে অপারেশন থিয়েটারে নিয়ে যায়। পরে ওই ক্লিনিকের সার্জারি চিকিৎসক ও ভুঞাপুর স্বাস্থ্যকমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) এনামুল হক সোহেল ও অ্যানেস্থিসিয়ার চিকিৎসক ডা. আল মামুন অস্ত্রপ্রচার শুরু করেন। পরে এক পর্যায়ে রোগী অপারেশন টেবিলেই মারা যায়। ঘটনা ধামাচাপা দিতে স্বজনদের না জানিয়ে রোগীর মরদেহ অ্যাম্বুলেন্সে উঠিয়ে টাঙ্গাইলে পাঠিয়ে দেয়ার সময় স্বজন ও স্থানীয়রা বাঁধা দেয়।

বিজনেস বাংলাদেশ/ এ আর

ট্যাগ :
জনপ্রিয়

ট্রেনে ফিরতি যাত্রা : আজ বিক্রি হবে ৩১ মে’র টিকিট

ভূঞাপুরে সেই মা ক্লিনিক অ্যান্ড হাসপাতাল সিলগালা

প্রকাশিত : ০৮:৩৭:২২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৬ মে ২০২২

টাঙ্গাইলে ভূঞাপুরে ভুল চিকিৎসায় প্রসূতিসহ নবজাতকের মৃত্যুর ঘটনায় সেই অবৈধ ক্লিনিককে সিলগালা করেছে গঠিত তদন্ত কমিটি।

বৃহস্পতিবার (২৬ মে) বিকেলে উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তার (টিএইচও) নেতৃত্বে গঠিত তদন্ত কমিটি ভূঞাপুর বাজারে মা ক্লিনিক অ্যান্ড হাসপাতাল পরিদর্শন শেষে প্রতিষ্ঠানটি সিলগালা করে দেয়।

এর আগে গত বুধবার রাতে অপারেশন টেবিলে সিজারিয়ান করার সময় প্রসূতিসহ নবজাতকের মৃত্যুর ঘটনা ঘটে। এঘটনায় মৃতের পরিবারের পক্ষ থেকে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে থানায় মামলা দায়ের করেছে।

প্রতিষ্ঠান সিলগালার সময় উপস্থিত ছিলেন, উপজেলা স্বাস্থ্যকমপ্লেক্সের কর্মকর্তা মোহাম্মদ আব্দুস সোবহান, তদন্ত কমিটির প্রধান ও উপজেলা স্বাস্থ্যকমপ্লেক্সের শিশু কনসালটেন্ট ডা. অনামিকা সাহা, মেডিকেল অফিসার ডা. নিশাত সাঈদা ও ডা. মো. খাদেমুল ইসলাম।

উপজেলা স্বাস্থ্যকমপ্লেক্সের কর্মকর্তা (টিএইচও) মোহাম্মদ আব্দুস সোবহান জানান, সিজারিয়ান করার সময় রোগী মৃত্যুর ঘটনায় তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছিল। তদন্ত কমিটি ক্লিনিক পরিদর্শন করে সিলগালা করে দিয়েছে যাতে কর্তৃপক্ষ সেখানে তাদের কার্যক্রম চালাতে না পারেন। ঘটনাটি নিয়ে তদন্ত চলছে।

উল্লেখ্য, গত বুধবার (২৫ মে) বিকেলে ভ‚ঞাপুর উপজেলার খানুরবাড়ি গ্রামের লাইলী বেগমের প্রসব যন্ত্রণা হলে তার স্বজনরা উপজেলা স্বাস্থ্যকমপ্লেক্সে নিয়ে যান। হাসপাতালের কর্মরত মেডিকেল অফিসার ডা. রুপক রোগীর শারিরীক অবস্থা খারাপ থাকায় উন্নত চিকিৎসার জন্য টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে রেফার্ড (স্থানান্তর) করেন। পরে সেখানে থাকা ক্লিনিকের দালাল শামছুর খপ্পরে রোগীর স্বজনরা। কম টাকায় সিজার করানোর কথা বললে দরিদ্র রোগীর স্বজনরা দালালের কথামত মা ক্লিনিক এন্ড হাসপাতালে নিয়ে যায়। এরপর ক্লিনিকে ভর্তি করা হয়। রাত ৮টার দিকে রোগীকে অপারেশন থিয়েটারে নিয়ে যায়। পরে ওই ক্লিনিকের সার্জারি চিকিৎসক ও ভুঞাপুর স্বাস্থ্যকমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) এনামুল হক সোহেল ও অ্যানেস্থিসিয়ার চিকিৎসক ডা. আল মামুন অস্ত্রপ্রচার শুরু করেন। পরে এক পর্যায়ে রোগী অপারেশন টেবিলেই মারা যায়। ঘটনা ধামাচাপা দিতে স্বজনদের না জানিয়ে রোগীর মরদেহ অ্যাম্বুলেন্সে উঠিয়ে টাঙ্গাইলে পাঠিয়ে দেয়ার সময় স্বজন ও স্থানীয়রা বাঁধা দেয়।

বিজনেস বাংলাদেশ/ এ আর