করোনা মহামারির কারণে প্রায় দুই বছর বন্ধ ছিল বাংলাদেশ- ভারতের মধ্যে ট্রেন যোগাযোগ। সর্বশেষ রোববার (২৯ মে) মৈত্রী ও বন্ধন এক্সপ্রেসের মধ্য দিয়ে শুরু হয়েছে দুই দেশের মধ্যে ট্রেন চলাচল। এবার রাজধানী ঢাকা ও ভারতের জলপাইগুড়ির মধ্যে আন্তঃদেশীয় যাত্রীবাহী ট্রেন ‘মিতালী এক্সপ্রেস’ বাণিজ্যিকভাবে আজ (১ জুন) থেকে চলাচল শুরু করছে।
দীর্ঘ আন্দোলনের পর চিলাহাটি- হলদিবাড়ি রেলপথে ট্রেন চলাচল শুরু হলেও চিলাহাটি স্টেশনে যাত্রী ওঠা-নামার ব্যবস্থা না থাকায় এখন এই ট্রেনের কোনো সুবিধা পাচ্ছে না আশপাশের এলাকার মানুষ। তাই চিলাহাটিসহ উত্তরের জেলা নীলফামারীর মানুষের উৎসাহ ও উদ্দীপনার চেয়ে হতাশা দেখা যাচ্ছে বেশি। বুধবার (০১ জুন) সকাল থেকে অনেকেই মিতালী এক্সপ্রেস ট্রেনটিকে এক নজর দেখার জন্য ভিড় করছেন চিলাহাটি স্টেশন এলাকায়।
এ সময় কথা হয় নীলফামারী শহর থেকে আসা খলিলুর রহমানের সঙ্গে কথা হলে তিনি বলেন, চিকিৎসার জন্য আগে বাংলাবান্ধা ও বুড়িমারী দিয়ে আমরা ভারত যেতাম এতে অতিরিক্ত অর্থ ও সময় নষ্ট হতো। এজন্য আমরা চিলাহাটি- হলদিবাড়ি রেলপথটি পুনরায় চালুর জন্য দীর্ঘ দিন থেকে আন্দোলন করেছি। অবশেষে আমাদের আন্দোলন সফল হলো। তবে আমরা এর কোনো সুফল পাচ্ছি না। তবুও ইতিহাসের সাক্ষী হতে নীলফামারী থেকে চলে এসেছি মিতালীকে দেখতে। কারণ ট্রেন চিলাহাটি স্টেশন দিয়েই যাবে অথচ এখান থেকে ৪০০ কিলোমিটার দূরে ঢাকা গিয়ে উঠতে হবে। তাহলে লাভ কী হলো?
মিতালী এক্সপ্রেস ট্রেনটি ভারতের জলপাইগুড়ি থেকে ঢাকা ক্যান্টনমেন্টের মধ্যে চলাচল করবে। ট্রেনটি হলদিবাড়ি (ভারত)- চিলাহাটি (বাংলাদেশ) রুট দিয়ে চলাচল করবে।
সূত্র মতে, মিতালী এক্সপ্রেস ট্রেনটির পরিচালন সময় ৯ ঘণ্টা ৫৫ মিনিট। ট্রেনটি ঢাকার ক্যান্টনমেন্ট রেলওয়ে স্টেশন থেকে ভারতের জলপাইগুড়ি স্টেশন পর্যন্ত সপ্তাহে চার দিন চলাচল করবে। ট্রেনটি ক্যান্টনমেন্ট রেলওয়ে স্টেশন থেকে প্রতি সোমবার ও বৃহস্পতিবার রাত ৯টা ৫০ মিনিটে এনজিপির উদ্দেশে ছেড়ে যাবে। আর প্রতি সপ্তাহে রোববার ও বুধবার ভারতের এনজিপি থেকে ভারতীয় সময় বেলা ১১টা ৪০ মিনিটে বাংলাদেশের উদ্দেশে ছেড়ে আসবে।
বাংলাদেশ রেলওয়ে সূত্রে জানা যায়, মিতালী এক্সপ্রেস ট্রেনের ভাড়া করসহ প্রতিটি এসিবাথ সিটের ৫ হাজার ২৫৫ টাকা, এসি সিটের ৩ হাজার ৪২০ টাকা এবং এসি চেয়ার ২ হাজার ৭৮০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। ট্রেনটি দিনে ৪৫৬ আসন এবং রাতে ৪০৮ আসন নিয়ে চলাচল করবে।
ভারতের জলপাইগুড়ি (শিলিগুড়ি) থেকে ঢাকার মোট দূরত্ব ৫৩০ কিলোমিটার। এর মধ্যে ভারতীয় অংশে ৮৪ ও বাংলাদেশ অংশে ৪৪৬ কিলোমিটার। তবে কোনো স্টেশনে ট্রেনটি যাত্রী ওঠানো-নামানোর জন্য থামবে না। যারা এ ট্রেনের যাত্রী হবেন তারা ঢাকায় উঠে নামবেন জলপাইগুড়ি। আবার যেসব যাত্রী জলপাইগুড়ি থেকে এই ট্রেনে উঠবেন তারা নামতে পারবেন ঢাকা ক্যান্টনমেন্ট রেলস্টেশনে।
প্রসঙ্গত, ১৯৬৫ সালে ভারত-পাকিস্তান যুদ্ধের পর বাংলাদেশের চিলাহাটি আর ভারতের হলদিবাড়ি রুটে ট্রেন চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। ৫৫ বছর পর ২০২০ সালের ১৭ ডিসেম্বর মালবাহী ট্রেন এবং ২০২১ সালের ২৭ মার্চ যাত্রীবাহী ট্রেন চলাচলের জন্য উদ্বোধন করেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। এরপর থেকে মালবাহী ট্রেন চলাচল করলেও করোনাভাইরাস ও ভিসা সংক্রান্ত জটিলতায় আটকে যায় যাত্রীবাহী ট্রেন মিতালী এক্সপ্রেসর চলাচল যাত্রা শুরু।
বিজনেস বাংলাদেশ/ এ আর




















