০৫:০৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২১ মে ২০২৬

নারায়ণগঞ্জে আল্টিমেটামের পরেও অবাধে চলছে শতাধিক স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠান

নীতিমালা অনুযায়ী,স্বাস্থ্যসেবা খাতে বেসরকারি কোনো প্রতিষ্ঠান নিবন্ধন ছাড়াই সেবা কার্যক্রম চালু করতে পারে। এসব প্রতিষ্ঠান তাদের কার্যক্রম চলমান থাকা অবস্থায় ধাপে ধাপে সরকারের বিভিন্ন দপ্তর থেকে ছাড়পত্র নিয়ে চূড়ান্তভাবে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নিবন্ধন নেয়। নীতিমালার এই সুযোগকে ব্যবহার নারায়ণগঞ্জে গড়ে উঠেছে শতাধিক অনুমোদন বিহীন স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠান।
অনুমোদনহীন কিংবা অবৈধ স্বাস্থ্য সেবা প্রতিষ্ঠান বন্ধ করার উদ্দেশ্য নারায়ণগঞ্জ সিভিল সার্জনের আওতায় জেলাজুড়ে নিবন্ধনহীন স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে আইনী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়। তবে এই কার্যক্রম ধারাবাহিক চালু থাকার কথা থাকলেও হাতে গোনা কয়েকটি প্রতিষ্ঠানে অভিযান শেষে স্থগিত রয়েছে কার্যক্রম। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর নির্দেশিত ৭২ ঘন্টা পরবর্তী দেশে অনিবন্ধিত বেসরকারি হাসপাতাল,ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারগুলো বন্ধ করার কথা থাকলেও জেলাজুড়ে চলমান রয়েছে অগনিত অনিবন্ধিত স্বাস্থ্য সেবা প্রতিষ্ঠান। ফলে স্বাস্থ্য খাতে শৃঙ্খলাও ফিরে আসেনি,চিকিৎসাপ্রার্থীদের প্রতারিত হওয়াও বন্ধ হয়নি।
নারায়ণগঞ্জ জেলা সিভিল সার্জন বিভাগ থেকে জানা যায়, স্বাস্থ্য অধিদপ্তর নির্দেশনার পর ২৭ ও ২৮ মে জেলাজুড়ে ৭ টি স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানে অভিযান পরিচালনা হয়। ২৯ মে সিদ্ধিরগঞ্জ ও সদর থানা এলাকায় মোট ৬টি বেসরকারি হাসপাতাল, ক্লিনিক ও ফিজিও থেরাপি সেন্টারে অভিযান পরিচালনা করে জেলা স্বাস্থ্য বিভাগ। অভিযানে ৩টি হাসপাতাল সীলগালা ও ৩টি প্রতিষ্ঠানকে জরিমানা করা হয়। ৩০ মে সোনারগাঁ উপজেলায় ৬ টি ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারকে সীলাগালা করে দেয় স্বাস্থ্য বিভাগ।
এদিকে, যারা চিকিৎসার নামে প্রতিদিন রোগীদের কাছ থেকে মোটা অঙ্কের অর্থ হাতিয়ে নিচ্ছে, ন্যূনতম আর্থিক জরিমানা তাদের ব্যবস্থায় খুব একটা পরিবর্তন আসবে বলে মনে করছে না জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা।
জেলা স্বাস্থ্য বিভাগের সূত্রমতে, স্বাস্থ্য সেবা প্রতিষ্ঠানের নিবন্ধনের জন্য আবেদন করতে প্রয়োজন হয় ৫টি লাইসেন্স। নিবন্ধনের জন্য আবেদন পত্রের সঙ্গে সংশ্লিষ্ঠ দপ্তরে জমা দিতে হয় পরিবেশ অধিদপ্তরের লাইসেন্স, ট্রেড লাইসেন্স, বর্জ্য ব্যবস্থাপনার লাইসেন্স, ফায়ার সার্ভিসের লাইসেন্স। জেলা জুড়ে ১৫৯ টি স্বাস্থ্য সেবা প্রতিষ্ঠান নিবন্ধিত রয়েছে। যার মধ্যে হাসপাতাল রয়েছে ৯৯ টি, ডায়াগনস্টিক সেন্টার ৫৬ টি, ৪ টি ব্লাড ব্যাংক। এর বাহিরে রয়েছে শতাধিক অনিবন্ধিত স্বাস্থ্য সেবা প্রতিষ্ঠান।
অনুসন্ধানে জানা যায়, শহরের একাধিক বেসরকারি হাসপাতাল, ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টার গুলো অনলাইন লাইসেন্স গ্রহণ কিংবা হালনাগাদ নবায়ন ও সঠিক নিয়মে আবেদন ব্যতীত রোগী ভর্তি, বিভিন্ন ধরনের অপারেশন ও পরীক্ষা-নিরীক্ষা সহ অবৈধভাবে সকল ধরনের কার্যক্রম পরিচালনা করছে। এরমধ্যে রয়েছে মুক্তি জেনারেল হাসপাতাল, রিজিয়া জেনারেল হাসপাতাল, মিতু ক্লিনিক, ইমন ডায়াগনস্টিক সেন্টার, সুপার ডায়াগনস্টিক সেন্টার, মেডিক্যাল প্যাথলজি এন্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টার, সোহেল জেনারেল হাসপাতাল, মেডিস্টার হাসপাতাল এন্ড রেনেসা ল্যাব। এছাড়াও সিভিল সার্জন বিভাগে নিবন্ধনের জন্য আবেদন করা অধিকাংশ স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানের নেই প্রয়োজনীয় দপ্তরের ছাড়পত্র। ফলে ছাড়পত্র ছাড়া আবেদনকৃত অধিকাংশ প্রতিষ্ঠান নিবন্ধন পত্র পায়না। তবে নিবন্ধনপত্র ছাড়াই তাদের প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম অব্যাহত থাকে।
সিভিল সার্জন বিভাগের নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন কর্মকর্তা এ বিষয়ে বলেন, প্রতিমাসে জেলা ব্যাপী অবৈধ এসব প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে আইনী ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য কমপক্ষে ৩-৪ টি অভিযানের প্রয়োজন। এই অভিযান পরিচালনা করতে আমাদের জেলা প্রশাসনের সহযোগিতার প্রয়োজন হয়। অবৈধ স্বাস্থ্য সেবা প্রতিষ্ঠানের তালিকা দিয়ে অভিযানের জন্য আমরা একাধিকবার প্রশাসনকে জানিয়েও কোন সদুত্তর পাইনি। এ ধরনের কারণবশত নিয়মিত ভাবে মাসেও একটি অভিযান পরিচালনা করা সম্ভব হয়না।
নারায়ণগঞ্জ সিভিল সার্জন ডা. মশিউর রহমান জেলাব্যাপী স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানে অভিযান পরিচালনা প্রসঙ্গে বলেন, আমরা এই সপ্তাহে আর কোন অভিযান পরিচালনা করছি না। আগামী সপ্তাহে এই অভিযান করা হবে। অভিযানে যেসব স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠান নিবন্ধিত করা হয়নি সেগুলো বন্ধ করে দেওয়া হবে। অবৈধ ভাবে ক্লিনিক বা ডায়াগনস্টিক সেন্টার চালু থাকলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
বিজনেস বাংলাদেশ/বিএইচ

ট্যাগ :
জনপ্রিয়

কালীগঞ্জে জনবান্ধব ভূমি ব্যবস্থাপনায় কুইজ প্রতিযোগিতা ও পুরস্কার বিতরণ

নারায়ণগঞ্জে আল্টিমেটামের পরেও অবাধে চলছে শতাধিক স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠান

প্রকাশিত : ০৯:১৩:৪৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২ জুন ২০২২

নীতিমালা অনুযায়ী,স্বাস্থ্যসেবা খাতে বেসরকারি কোনো প্রতিষ্ঠান নিবন্ধন ছাড়াই সেবা কার্যক্রম চালু করতে পারে। এসব প্রতিষ্ঠান তাদের কার্যক্রম চলমান থাকা অবস্থায় ধাপে ধাপে সরকারের বিভিন্ন দপ্তর থেকে ছাড়পত্র নিয়ে চূড়ান্তভাবে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নিবন্ধন নেয়। নীতিমালার এই সুযোগকে ব্যবহার নারায়ণগঞ্জে গড়ে উঠেছে শতাধিক অনুমোদন বিহীন স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠান।
অনুমোদনহীন কিংবা অবৈধ স্বাস্থ্য সেবা প্রতিষ্ঠান বন্ধ করার উদ্দেশ্য নারায়ণগঞ্জ সিভিল সার্জনের আওতায় জেলাজুড়ে নিবন্ধনহীন স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে আইনী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়। তবে এই কার্যক্রম ধারাবাহিক চালু থাকার কথা থাকলেও হাতে গোনা কয়েকটি প্রতিষ্ঠানে অভিযান শেষে স্থগিত রয়েছে কার্যক্রম। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর নির্দেশিত ৭২ ঘন্টা পরবর্তী দেশে অনিবন্ধিত বেসরকারি হাসপাতাল,ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারগুলো বন্ধ করার কথা থাকলেও জেলাজুড়ে চলমান রয়েছে অগনিত অনিবন্ধিত স্বাস্থ্য সেবা প্রতিষ্ঠান। ফলে স্বাস্থ্য খাতে শৃঙ্খলাও ফিরে আসেনি,চিকিৎসাপ্রার্থীদের প্রতারিত হওয়াও বন্ধ হয়নি।
নারায়ণগঞ্জ জেলা সিভিল সার্জন বিভাগ থেকে জানা যায়, স্বাস্থ্য অধিদপ্তর নির্দেশনার পর ২৭ ও ২৮ মে জেলাজুড়ে ৭ টি স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানে অভিযান পরিচালনা হয়। ২৯ মে সিদ্ধিরগঞ্জ ও সদর থানা এলাকায় মোট ৬টি বেসরকারি হাসপাতাল, ক্লিনিক ও ফিজিও থেরাপি সেন্টারে অভিযান পরিচালনা করে জেলা স্বাস্থ্য বিভাগ। অভিযানে ৩টি হাসপাতাল সীলগালা ও ৩টি প্রতিষ্ঠানকে জরিমানা করা হয়। ৩০ মে সোনারগাঁ উপজেলায় ৬ টি ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারকে সীলাগালা করে দেয় স্বাস্থ্য বিভাগ।
এদিকে, যারা চিকিৎসার নামে প্রতিদিন রোগীদের কাছ থেকে মোটা অঙ্কের অর্থ হাতিয়ে নিচ্ছে, ন্যূনতম আর্থিক জরিমানা তাদের ব্যবস্থায় খুব একটা পরিবর্তন আসবে বলে মনে করছে না জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা।
জেলা স্বাস্থ্য বিভাগের সূত্রমতে, স্বাস্থ্য সেবা প্রতিষ্ঠানের নিবন্ধনের জন্য আবেদন করতে প্রয়োজন হয় ৫টি লাইসেন্স। নিবন্ধনের জন্য আবেদন পত্রের সঙ্গে সংশ্লিষ্ঠ দপ্তরে জমা দিতে হয় পরিবেশ অধিদপ্তরের লাইসেন্স, ট্রেড লাইসেন্স, বর্জ্য ব্যবস্থাপনার লাইসেন্স, ফায়ার সার্ভিসের লাইসেন্স। জেলা জুড়ে ১৫৯ টি স্বাস্থ্য সেবা প্রতিষ্ঠান নিবন্ধিত রয়েছে। যার মধ্যে হাসপাতাল রয়েছে ৯৯ টি, ডায়াগনস্টিক সেন্টার ৫৬ টি, ৪ টি ব্লাড ব্যাংক। এর বাহিরে রয়েছে শতাধিক অনিবন্ধিত স্বাস্থ্য সেবা প্রতিষ্ঠান।
অনুসন্ধানে জানা যায়, শহরের একাধিক বেসরকারি হাসপাতাল, ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টার গুলো অনলাইন লাইসেন্স গ্রহণ কিংবা হালনাগাদ নবায়ন ও সঠিক নিয়মে আবেদন ব্যতীত রোগী ভর্তি, বিভিন্ন ধরনের অপারেশন ও পরীক্ষা-নিরীক্ষা সহ অবৈধভাবে সকল ধরনের কার্যক্রম পরিচালনা করছে। এরমধ্যে রয়েছে মুক্তি জেনারেল হাসপাতাল, রিজিয়া জেনারেল হাসপাতাল, মিতু ক্লিনিক, ইমন ডায়াগনস্টিক সেন্টার, সুপার ডায়াগনস্টিক সেন্টার, মেডিক্যাল প্যাথলজি এন্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টার, সোহেল জেনারেল হাসপাতাল, মেডিস্টার হাসপাতাল এন্ড রেনেসা ল্যাব। এছাড়াও সিভিল সার্জন বিভাগে নিবন্ধনের জন্য আবেদন করা অধিকাংশ স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানের নেই প্রয়োজনীয় দপ্তরের ছাড়পত্র। ফলে ছাড়পত্র ছাড়া আবেদনকৃত অধিকাংশ প্রতিষ্ঠান নিবন্ধন পত্র পায়না। তবে নিবন্ধনপত্র ছাড়াই তাদের প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম অব্যাহত থাকে।
সিভিল সার্জন বিভাগের নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন কর্মকর্তা এ বিষয়ে বলেন, প্রতিমাসে জেলা ব্যাপী অবৈধ এসব প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে আইনী ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য কমপক্ষে ৩-৪ টি অভিযানের প্রয়োজন। এই অভিযান পরিচালনা করতে আমাদের জেলা প্রশাসনের সহযোগিতার প্রয়োজন হয়। অবৈধ স্বাস্থ্য সেবা প্রতিষ্ঠানের তালিকা দিয়ে অভিযানের জন্য আমরা একাধিকবার প্রশাসনকে জানিয়েও কোন সদুত্তর পাইনি। এ ধরনের কারণবশত নিয়মিত ভাবে মাসেও একটি অভিযান পরিচালনা করা সম্ভব হয়না।
নারায়ণগঞ্জ সিভিল সার্জন ডা. মশিউর রহমান জেলাব্যাপী স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানে অভিযান পরিচালনা প্রসঙ্গে বলেন, আমরা এই সপ্তাহে আর কোন অভিযান পরিচালনা করছি না। আগামী সপ্তাহে এই অভিযান করা হবে। অভিযানে যেসব স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠান নিবন্ধিত করা হয়নি সেগুলো বন্ধ করে দেওয়া হবে। অবৈধ ভাবে ক্লিনিক বা ডায়াগনস্টিক সেন্টার চালু থাকলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
বিজনেস বাংলাদেশ/বিএইচ