ঢাকা দুপুর ১:৪৭, শনিবার, ২৫শে জুন, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ, ১১ই আষাঢ়, ১৪২৯ বঙ্গাব্দ

লালমনিরহাটে রোবট আবিস্কার করেন কলেজ ছাত্র

রেস্টুরেন্টের সকল কাজ করতে সক্ষম এমন রোবট আবিষ্কার করে এলাকায় হৈ চৈ ফেলেছেন লালমনিরহাটের প্রত্যন্ত অঞ্চলের কলেজছাত্র আহসান হাবিব।

কলেজছাত্র আহসান হাবিব লালমনিরহাটের কালীগঞ্জ উপজেলার তুষভান্ডার ইউনিয়নের মানিক বাজার এলাকার মৃত মজু মিয়ার ছেলে। তিনি কালীগঞ্জ করিম উদ্দিন পাবলিক কলেজের দ্বাদশ শ্রেণির মানবিক শাখার ছাত্র। দীর্ঘ ২ বছরের গবেষণায় আবিষ্কার এ রোবটটি রেস্টুরেন্টের সব কাজ করতে পারে।

শুধু তাই নয়, এই রোবট প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ দেশের অনেক মন্ত্রী-এমপির নাম বলতে পারে। এছাড়াও বাংলা, ইংরেজিতে প্রশ্নের উত্তর ও হাত দিয়ে ভারী জিনিসপত্র বহন করতে এবং হাত বাড়িয়ে হ্যান্ডশেক করতে পারে রোবটি।

জানা গেছে, মেধাবী শিক্ষার্থী আহসান হাবিব ছোটবেলা থেকেই তথ্য প্রযুক্তির ওপর আসক্ত ছিলেন। নতুন কিছু আবিষ্কারের নেশায় তথ্য প্রযুক্তিতে বেশ দখল ছিল তার।

কিন্তু দারিদ্রতার কারণে বড় কোনো শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পড়া হয়নি তার। ২০১৭ সালের দিকে তুষভাণ্ডার আর এমএমপি সরকারি বালক উচ্চ বিদ্যালয় অধ্যায়নরত অবস্থায় বিদ্যালয়ের খরচে কাঠ দিয়ে একটি রোবট তৈরি করেন আহসান হাবিব। যা ওই সময় লালমনিরহাট জেলা বিজ্ঞান ও তথ্য প্রযুক্তি মেলায় প্রথম স্থান অর্জন করে। এতে আবিষ্কারের নেশা আরও বেড়ে যায় তার।

২০১৮ সালে আহসান হাবিবের বাবার মৃত্যুতে পরিবারে দারিদ্রতা আরও বেড়ে যায়। তবুও হাল ছাড়েনি আহসান হাবিব। লক্ষ্য পূরণে টিউশনি শুরু করেন। সেখান থেকে যা আয় হতো তার একটা অংশ গবেষণা কাজে ব্যয় করতেন। ইউটিউব দেখে রেস্টুরেন্টে কাজ করতে সক্ষম এমন একটি রোবট আবিষ্কারে প্রচেষ্টা শুরু করেন আহসান হাবিব। এভাবে দিনরাত পরিশ্রম করে গত সাপ্তাহে রোবটটি আবিষ্কার আংশিক করেন হাবিব।

আর্থিক সংকটের কারণে এখনো রোবটির পুরোপুরি কাজ শেষ হয়নি। সামনের দিকে এগিয়ে আসা বা পিছিয়ে যাওয়া সব করতে পারে। এছাড়াও সব প্রশ্নের উত্তর দিতে পারে রোবটটি। হাবিবের টাকা সংগ্রহ হলেই আগামী তিন মাসের মধ্যে তা বাংলাদেশের মানুষের জন্য উন্মুক্ত করা হবে রোবটটি।

প্রতিবেশীরা জানান, হাবিব যখন এসব তৈরি করতেন। তখন ভেবেছিল বাবা-মায়ের টাকা নষ্ট করছেন। কিন্তু এখন তাকে দেখে তাদের ভুল ভেঙেছে। হাবিবকে নিয়ে বুক ফুলিয়ে গর্ব করছেন এলাকাবাসী। জাতীয় পর্যায়ে রোবটটি প্রদর্শনী করার অনুমতি দিয়ে আহসান হাবিবের মেধার মূল্যায়ন করতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানান স্থানীয়রা।

আহসান হাবিবের শিক্ষক ইমান আলী বলেন, আহসান হাবিবের এ কাজে প্রথম দিকে প্রতিবেশীরা তাকে পাগল বলতেন। কিন্তু আজ তারাই গর্ব নিয়ে কথা বলছেন। তাই শিক্ষার্থীদের মেধাকে মূল্যায়ন করার অনুরোধ করেন তিনি। হাবিব ছোট থেকেই অনেক মেধাবী ছিল। সব ধরনের পরীক্ষায় প্রথম হতো। কিন্তু অভাবের কারণে বাইরে পড়াশুনা করতে পারেনি। তার আবিষ্কারে উৎসাহ দিতে বিত্তবান ও সরকারের প্রতি এগিয়ে আসার আহ্বান জানান তিনি।

আহসান হাবিবের মা খালেদা বেগম বলেন, হাবিবের বাবার মৃত্যুর পর সংসারের দারিদ্রতা বেড়ে যায়। হাবিব সারাদিনের ক্লান্তি শেষে তার চিন্তা-ভাবনা তথ্য-প্রযুক্তি আর গবেষণা নিয়ে ব্যস্ত থাকতেন। তার পরিশ্রম আজ সফলতা দেখতে শুরু করেছে। বাকি কাজ সম্পন্ন করতে সরকারি সহায়তার অনুরোধ করেন তিনি।

কলেজছাত্র আহসান হাবিব বলেন, সারাবিশ্বের কাছে বাংলাদেশকে পরিচিত করে দিতেই আমার এই প্রচেষ্টা। এই কাজে সাহস যুগিয়েছেন আমার মা ও বড় ভাই। আমার এই রোবটটি রেস্টুরেন্টে কাজ করবে। মানুষের সঙ্গে কথা বলবে, ভারী খাবার পরিবহন ও পরিবেশন করবে। এছাড়াও যেকোনো প্রশ্নের উত্তর চাইলে বলে দিবে। যদিও এখনো আমি রোবটটির পুরোপুরি কাজ শেষ করিনি। অর্থের কারণে কাজ বন্ধ রেখেছি, যে টাকা আয় করি সেটি দিয়ে কাজ চলমান রেখেছি। আশা করছি দ্রুত মানুষের কাছে রোবটি উন্মুক্ত করতে পারব। তাই প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ দেশবাসীর কাছে আমি সহযোগীতা চাই।

বিজনেস বাংলাদেশ/ এ আর

এ বিভাগের আরও সংবাদ