ঢাকা রাত ৮:১৬, শুক্রবার, ১২ই আগস্ট, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ, ২৮শে শ্রাবণ, ১৪২৯ বঙ্গাব্দ

পদ্মা সেতু উদ্বোধন

মাওয়া-জাজিরায় উৎসবের রং

পদ্মা নদীর এই নদীর পারে এখন উৎসবের মহাযজ্ঞ। গতকাল শুক্রবারই সেখানে পৌঁছতে পথে পথে নিরাপত্তা তল্লাশিতে পড়তে হলো। সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পুলিশ ও র‌্যাবের টহল গাড়ি ঘুরে বেড়াচ্ছে পুরো এলাকা। পথে পথে ব্যানার-ফেস্টুনে উৎসবের আমেজ।

ফেরিঘাটের কাছে দেখা গেল নিরাপত্তাবলয়ের মধ্যেও স্থানীয় উত্সুক মানুষ ভিড় করেছে। আছেন আওয়ামী লীগের অনেক নেতাকর্মী। জনসভায় যোগ দিতে অনেকেই চলে এসেছে আগে থেকে। তাদের একজন পাশের কাদেরপুর ইউনিয়নের আব্দুল হাকিম (৫০)। তিনি বলেন, ‘আমাদের সারা জীবনের স্বপ্ন ছিল ঢাকার লগে একটা সেতু হইবে। আমাগো নেত্রী সেই স্বপ্ন পূরণ করছে। এখন চালু হইব। ঘরে থাকতে কী মন চায়!’

হাকিমের মতো অনেকেই উৎসবের চূড়ান্ত সময়ের অপেক্ষায়। তাঁদের আশা, ১০ লাখের বেশি মানুষ উপস্থিত হবে বিলপদ্মার পারে। আজ শনিবার এখানেই দেশের সবচেয়ে বড় জনসভা করার লক্ষ্য ঠিক করেছেন আয়োজকরা। পদ্মা সেতুর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন উপলক্ষে পদ্মা সেতুর আদলেই তৈরি মঞ্চে ভাষণ দেবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এরই মধ্যে উদ্বোধনের সব প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে।

গতকাল সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, দেশের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় পরিসরে নিরাপত্তার আয়োজন করা হয়েছে পদ্মা সেতুকে ঘিরে। সেতুর মাওয়া প্রান্ত থেকে জাজিরা, শিবচরের প্রতিটি জায়গায় রাস্তার মোড়ে মোড়ে অবস্থান নিয়েছেন আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনীর সদস্যরা। আজকের জনসভায় যোগ দিতে তৈরি আওয়ামী লীগের নেতাকর্মী, স্থানীয় সব প্রশাসন ও সাধারণ জনগণও। আজ উদ্বোধনের পরই আলোকবাতি প্রদর্শন, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, মিষ্টি বিতরণসহ বেশ কিছু অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছে পদ্মার দুই পারের বাসিন্দারা। গতকাল থেকেই এসব উৎসবের রং ছড়িয়ে পড়েছে সবখানে। সন্ধ্যায় পদ্মার দুই ধারে বাতি জ্বলে ওঠে। উজ্জ্বল আলোয় রঙিন হয়ে ওঠে পদ্মার পার।

গতকাল বিকেলে মাদারীপুরের বাংলাবাজার ঘাটসংলগ্ন জনসভাস্থল পরিদর্শন শেষে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল বলেন, ‘আমাদের নিরাপত্তা বাহিনী এখন যেকোনো চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করতে পারে। আমাদের গোয়েন্দারা কাজ করছেন, সব নিরাপত্তা বাহিনী তাদের দায়িত্ব পালনের জন্য তৈরি হয়ে আছে। পুরো এলাকা সিসিটিভির আওতায় আসছে। আমাদের নৌ পুলিশ, পুলিশ ও র‌্যাব প্রয়োজন বোধে আমাদের বিজিবিও আসবে। এখানে যথেষ্ট পরিমাণ স্বেচ্ছাসেবক রয়েছেন, দলীয় স্বেচ্ছাসেবকরাও রয়েছেন। তাঁরাও নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে একসঙ্গে কাজ করবেন। ’

১০ লাখ মানুষের জমায়েত হওয়ার আশা করছে আওয়ামী লীগ। এ বিষয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘যদি বৃষ্টি না হয় তাহলে সমাবেশে জমায়েত ১০ লাখ ছাড়িয়ে যাবে। সারা বাংলাদেশে জনতার যে উৎসব দেখছি, যে আনন্দ দেখছি, তারা সেতু দেখার জন্য উদগ্রীব হয়ে আছে। ’

বিজনেস বাংলাদেশ/ এ আর

এ বিভাগের আরও সংবাদ