দীর্ঘ মেয়াদি জন্ম নিয়ন্ত্রণ পদ্ধতি ইমপ্ল্যান্ট মহিলাদের বাহুতে চামড়ার নিচে স্থাপন করা হয়। নির্দিষ্ট সময় শেষে সেটি আবার খোলে নিতে হয়। আর এ কাজটি নিয়ম অনুযায়ী একজন প্রশিক্ষিত চিকিৎসক করার কথা। কিন্তু ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়ায় স্বাস্থ্যকমপ্লেক্সের একজন অফিস পিয়ন চিকিৎসকের ইমপ্ল্যান্ট খোলার কাজটি করছেন। বহু দিন ধরেই তিনি এ কাজটি করছেন বলে খোদ সংশ্লিষ্ট দপ্তরের একজন জানিয়েছেন। আলোচিত সেই পিয়ন হলেন মোঃ আরমান মিয়া।
জানা গেছে, মহিলাদের দীর্ঘ মেয়াদি জন্ম নিয়ন্ত্রণ পদ্ধতি ইমপ্ল্যান্ট। উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কার্যালয়ে বিনা খরচে এই পদ্ধতিটি দেওয়া হয়। মহিলাদের বাহুতে চামড়ার নিচে এটি স্থাপন করা হয়। মেয়াদ মেয়াদ শেষ হওয়ার পর আবার এসে এটি খোলতে হয়। এর জন্য কোন ফি দিতে হয় না। একজন চিকিৎসক এ কাজটি করার নিয়ম। কিন্তু আখাউড়া পরিবার পরিকল্পনা অফিসের পিয়ন আরমান মিয়া দীর্ঘ দিন ধরে এ কাজ করে আসছেন।
মঙ্গলবার(২৮ জুন)বেলা সাড়ে এগারটার সময় উপজেলা স্বাস্থ্যকমপ্লেক্সে গিয়ে দেখা যায় নতুন ভবনের দুতলার একটি কক্ষের সামনে ৭/৮ জন নারী দাঁড়িয়ে আছে। ভেতরে একজন পুরুষ একজন নারীর ইমপ্ল্যান্ট খোলার কাজ করছেন। আরেক নারী কর্মীও সেখানে উপস্থিত ছিলেন। পরে ওই ব্যক্তির পরিচয় জানতে চাইলে তার নাম বলেন আরমান মিয়া, তিনি অফিস পিয়ন।
অফিস পিয়ন হয়ে ইমপ্ল্যান্ট খুলছেন কেন জানতে চাইলে তিনি ইমপ্ল্যান্ট খোলার কথা অস্বীকার করে বলেন, আমি রুম প্রস্তুত করছিলাম।
এসময় নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন নারী বলেন, আরমান মিয়াই ইমপ্ল্যান্ট খুলতেছেন। এ পর্যন্ত তিনি ৭/৮ জনের ইমপ্ল্যান্ট খোলেছেন।
আরেক নারী বলেন, তিন ঘন্টা হয়েছে আমি এখানে এসেছি। তখন থেকে দেখছি ওই ব্যক্তি ইমপ্ল্যান্ট খুলতেছে। আমরা মনে করেছিলাম তিনি ডাক্তার কিন্তু পরে শুনি ডাক্তার না।
আরেক নারী অভিযোগ করেন আরমান মিয়া ঠিকমত খুলতে পারে না। একজনের খোলার সময় ইমপ্ল্যান্ট কাঠি ভেঙ্গে ফেলেছে। তিনি খোলার সময় ব্যথা পাওয়া যায়।
এ ব্যপারে পরিবার কল্যাণ পরিদর্শিকা ইয়াসমিন আক্তার বলেন, নিয়ম অনুযায়ী একজন মেডিকেল অফিসারের সাথে আমি অথবা একজন আয়া এ কাজটি করতে হয়। তার (আরমানের ) সে রুমে যাওয়ার নিয়ম নাই। আরমান মিয়া দুই-আড়াই বছর ধরে ইমপ্ল্যান খোলে আসছে। এর জন্য সে ২০০ থেকে ৩০০ টাকা নেয়। কিন্তু টাকার নেওয়ার কোন নিয়ম নাই। কিন্তু বিষয়টি স্যারকে অনেকবার জানিয়েছি।
এ ব্যপারে উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাঃ মোঃ শাহ্ নেওয়াজের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন। সে (আরমান মিয়া) ইমপ্ল্যান্ট খোলার কথা নয়। যদি করে থাকে তাহলে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
জানতে চাইলে জেলা পরিবার পরিকল্পনা কার্যালয়ের উপ-পরিচালক মোঃ মতিউর রহমান বলেন, পিয়নের ইমপ্ল্যান্ট খোলার কোন সুযোগ নাই। বিষয়টি আমি জানলাম। এর আগেও আমি এমন অভিযোগ পেয়েছি। আমি সহকারি পরিচালককে পাঠিয়ে তদন্ত করে এ ব্যপারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিব।
বিজনেস বাংলাদেশ/বিএইচ



















