সিদ্ধিরগঞ্জে মো: হেলাল নামে এক সাজাপ্রাপ্ত আসামীকে গ্রেফতারে পুলিশের অভিযানকে কেন্দ্র করে ক্ষিপ্ত হয়ে প্রতিপক্ষের উপর বর্বরোচিত হামলা চালিয়েছে আসামীর পরিবারের সদস্যরা। এ ঘটনায় মো: আসলাম (৩০) নামে এক যুবক গুরুতর রক্তাক্ত জখম হয়েছেন। এছাড়াও আরো তিন জন নারী-পুরুষ মারধরের শিকার হয়েছেন। গত মঙ্গলবার (১২ জুলাই) ঈদুল আযহার তৃতীয় দিন রাত সাড়ে ৮ টায় সিদ্ধিরগঞ্জের উত্তর আজিবপুর আউলাবন এলাকায় এ ঘটনাটি ঘটেছে।
আহতরা হলো, সিদ্ধিরগঞ্জের উত্তর আজিবপুর আউলাবন এলাকার মৃত আ: সালামের ছেলে মো: আসলাম, তার বোন হনুফা বেগম, তাদের নিকট আত্মীয় তোফাজ্জল হোসেন ও নুরজাহান।
এ ঘটনায় গত বুধবার (১৩ জুলাই) ঈদুল আযহার চতুর্থ দিন দুপুরে আহত আসলামের মা মোসা: আছিয়া বেগম বাদী হয়ে ৬ জনকে এজাহার নামীয় এবং আরো ২/৩ জনকে অজ্ঞাত আসামী করে একটি অভিযোগ দায়ের করেছেন।
আসামীরা হলো, সিদ্ধিরগঞ্জের উত্তর আজিবপুর আউলাবন এলাকার মৃত তোফাজ্জল হোসেনের ছেলে মো: মাসুম (৩৫), শুভ (২৮), আটিগ্রাম এলাকার মৃত আ: জব্বারের ছেলে মো: লাড্ডু (৫০), তার ছেলে মো: পারভেজ (৩৫) ও বিপ্লব (২৮), উত্তর আজিবপুর আউলাবন এলাকার মৃত তোফাজ্জল হোসেনের ছেলে মো: কবির হোসেন (৪৫) সহ আরো অজ্ঞাতনামা ২/৩ জন।
অভিযোগে মোসা: আছিয়া বেগম জানান, গত মঙ্গলবার ঈদুল আযহার তৃতীয় দিন দুপুর ৩ টার দিকে সিদ্ধিরগঞ্জ থানা পুলিশ আমার পার্শ্ববর্তী সাজাপ্রাপ্ত আসামী মো: হেলালকে গ্রেফতার করার জন্য তাহার বাসায় অভিযান চালায়। আসামীকে না পাইয়া পুলিশ চলিয়া যায়। এই আক্রোশে ওই দিন রাত আনুমানিক সাড়ে ৮টায় আমার ছেলে মো: আসলাম ও মেয়ে হনুফা বেগম আমার আত্মীয় তোফাজ্জল হোসেন ও নুরজাহানকে আগাইয়া দেওয়ার জন্য উত্তর আজিবপুর আউলাবন আমার বাড়ীর পশ্চিম পাশে পাকা রাস্তার উপর পৌছাইলে উক্ত বিবাদীগন সহ আরো ২/৩ জন পূর্ব পরিকল্পিত ভাবে লোহার রড, লাঠি সহ দেশীয় অস্ত্র-সস্ত্র সহ আমার ছেলে, মেয়ে ও আত্মীয় তোফাজ্জল হোসেন এবং নুরজাহানদের পথরোধ করিয়া মো: লাড্ডুর হুকুমে সকল বিবাদীগন আমার ছেলে-মেয়ে ও আত্মীয় তোফাজ্জল হোসেন এবং নুরজাহানদের এলোপাথারী ভাবে মারধর করিয়া শরীরের বিভিন্ন স্থানে জখম করে। আসামী মাসুম তার হাতে থাকা লোহার রড দিয়ে আমার ছেলেকে হত্যার উদ্দেশ্যে মাথায় বারী মারিলে আসলামের মুখের সামনে লাগিয়া নিচের পাটির একটি দাত ভাঙ্গিয়া পরিয়া যায় এবং দুই পাশের চোয়াল ভাঙ্গিয়া রক্তাক্ত জখম হয়। আমার ছেলে-মেয়ে ও আত্মীয়দের ডাক চিৎকারে আশে-পাশের লোকজন আগাইয়া আসিতে থাকিলে হামলাকারী মাসুম আমার ছেলের ২২ হাজার টাকা মূল্যের একটি স্যামসাং মোবাইল ফোন ও কবির হোসেন আমার ছেলের প্যান্টের পকেট থেকে ২০ হাজার টাকা জোর পূর্বক ছিনিয়ে নিয়ে আমার ছেলে ও মেয়েকে পুনরায় সুযোগ মত পাইলে প্রানে মেরে ফেলার হুমকি প্রদর্শন করে পালিয়ে যায়। পরে আমি ও আমার আত্মীয় স্বজন সংবাদ পেয়ে ঘটনাস্থলে আসিয়া আমার ছেলে-মেয়ে ও আত্মীয়দের আহত অবস্থায় উদ্ধার করে নারায়ণগঞ্জ ৩০০ শয্যা হাসপাতালে নিয়া চিকিৎসা করাই। আমার ছেলের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় ডাক্তারের পরামর্শে আমার ছেলেকে উন্নত চিকিৎসার জন্য মিরপুর ডেন্টাল হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়। বর্তমানে সে সেখানে চিকিৎসাধীন রয়েছে।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে সিদ্ধিরগঞ্জ থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মোখলেছুর রহমান জানান, আমি ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি। এ ব্যাপারে উভয় পক্ষ থানায় পাল্টা-পাল্টি অভিযোগ করেছে। অভিযোগের প্রেক্ষিতে দু’পক্ষের দুটি মামলা হয়েছে।
বিজনেস বাংলাদেশ/বিএইচ



















