০২:৩৬ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৮ জানুয়ারী ২০২৬

ভারতে বজ্রসহ ঝড়ে ১৩ জনের মৃত্যু

ভারতের পশ্চিমবঙ্গের কলকাতা ও আশেপাশের জেলাগুলোতে দুটি কালবৈশাখী ঝড়ে কমপক্ষে ১৩ জনের মৃত্যু হয়েছে। এদের মধ্যে অনেকেই গাছ ভেঙে এবং ভবন ধসে মারা যান। এছাড়া বজ্রপাতে একজনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে।

তাদের মধ্যে চারজন কোলকাতায়, পাঁচজন হাওড়াতে এবং একজন হুগলী ও একজন বাঁকুড়া জেলায় মারা যান বলে রাজ্যের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা নিয়ন্ত্রণ কক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।

কলকাতা, হাওড়া, হুগলি, বাঁকুড়ায় ঝড়ে এই ১৩ জনের মৃত্যু হয়। ব্যাহত হয় ট্রেন চলাচল ও বন্ধ হয়ে যায় মেট্রো। বিভিন্ন জায়গায় বিদ্যুৎ ছিল না অনেক রাত পর্যন্ত।

আলিপুর আবহাওয়া দফতরের কর্মকর্তা গণেশকুমার দাস বলেন, পরপর দু’টি বৈশাখী ঝড় আঘাত হানে মহানগরীতে। প্রথমটির গতিবেগ ঘণ্টায় ৮৪ কিলোমিটার। পরেরটির ঘণ্টায় ৯৮ কিলোমিটার। প্রথম ঝড়টি ওঠে মঙ্গলবার রাত ৭টা ৪২ মিনিটে। দ্বিতীয়টি ৭টা ৫৫ মিনিটে।

তিনি বলেন, দ্বিতীয় ঝড়টির সর্বোচ্চ গতিবেগ স্থায়ী হয়েছিল মাত্র এক মিনিট। ২০০৯ সালে আইলায় গতিবেগ ছিল ঘণ্টায় ১১৩ থেকে ১২০ কিলোমিটার। ফলে ঝড় আরো কিছুক্ষণ থাকলে আরো ভয়াবহ হতে পারত পরিস্থিতি।

শত শত গাছ ভেঙে পড়ার পর রাস্তায় যান চলাচলে মারাত্মক বিঘ্ন ঘটে। কলকাতা ও সল্টলেকের বিভিন্ন রাস্তায় অন্তত দেড়শো গাছ ও গাছের ডাল ভেঙে পড়েছে ঝড়ে। হাওড়া স্টেশনের ১৯ নম্বর প্ল্যাটফর্মে দাঁড়ানো একটি ট্রেনের ছাদে ভেঙে পড়ে বঙ্কিম সেতুর রেলিংয়ের প্রায় ৩০ ফুট লম্বা একটি অংশ।

কলকাতা বিমানবন্দরে ডেকানের একটি বাতিল বিমান দাঁড়িয়ে ছিল এয়ারইন্ডিয়ার হ্যাঙার থেকে ২০ ফুট দূরে। ঝড়ের দাপটে বিমানের মুখ ঘুরে গিয়ে সেটি একটি ল্যাম্পপোস্টে ধাক্কা মারে। অন্য একটি ছোট ‘সেসনা’ বিমানেরও মুখ ঘুরে যায়। নামতে না পেরে কলকাতার আকাশে চক্কর কাটে ১০টি বিমান।

সল্টলেকের ইসি মার্কেটের কাছে গাছসহ একটি মন্দির ও দমদমের গোপাল চন্দ্র বোস লেনে একটি খালি বাড়ি ভেঙে পড়েছে ঝড়ে।

নগরীর কর্মকর্তারা বলছেন, বজ্রসহ ঝড়ের সাথে এত বেশি বাতাসের গতি গত কয়েক দশকেও দেখা যায়নি। সূত্র: বিবিসি ও আনন্দবাজার

ট্যাগ :
জনপ্রিয়

ভারতে বজ্রসহ ঝড়ে ১৩ জনের মৃত্যু

প্রকাশিত : ১১:২৪:১৯ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৮ এপ্রিল ২০১৮

ভারতের পশ্চিমবঙ্গের কলকাতা ও আশেপাশের জেলাগুলোতে দুটি কালবৈশাখী ঝড়ে কমপক্ষে ১৩ জনের মৃত্যু হয়েছে। এদের মধ্যে অনেকেই গাছ ভেঙে এবং ভবন ধসে মারা যান। এছাড়া বজ্রপাতে একজনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে।

তাদের মধ্যে চারজন কোলকাতায়, পাঁচজন হাওড়াতে এবং একজন হুগলী ও একজন বাঁকুড়া জেলায় মারা যান বলে রাজ্যের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা নিয়ন্ত্রণ কক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।

কলকাতা, হাওড়া, হুগলি, বাঁকুড়ায় ঝড়ে এই ১৩ জনের মৃত্যু হয়। ব্যাহত হয় ট্রেন চলাচল ও বন্ধ হয়ে যায় মেট্রো। বিভিন্ন জায়গায় বিদ্যুৎ ছিল না অনেক রাত পর্যন্ত।

আলিপুর আবহাওয়া দফতরের কর্মকর্তা গণেশকুমার দাস বলেন, পরপর দু’টি বৈশাখী ঝড় আঘাত হানে মহানগরীতে। প্রথমটির গতিবেগ ঘণ্টায় ৮৪ কিলোমিটার। পরেরটির ঘণ্টায় ৯৮ কিলোমিটার। প্রথম ঝড়টি ওঠে মঙ্গলবার রাত ৭টা ৪২ মিনিটে। দ্বিতীয়টি ৭টা ৫৫ মিনিটে।

তিনি বলেন, দ্বিতীয় ঝড়টির সর্বোচ্চ গতিবেগ স্থায়ী হয়েছিল মাত্র এক মিনিট। ২০০৯ সালে আইলায় গতিবেগ ছিল ঘণ্টায় ১১৩ থেকে ১২০ কিলোমিটার। ফলে ঝড় আরো কিছুক্ষণ থাকলে আরো ভয়াবহ হতে পারত পরিস্থিতি।

শত শত গাছ ভেঙে পড়ার পর রাস্তায় যান চলাচলে মারাত্মক বিঘ্ন ঘটে। কলকাতা ও সল্টলেকের বিভিন্ন রাস্তায় অন্তত দেড়শো গাছ ও গাছের ডাল ভেঙে পড়েছে ঝড়ে। হাওড়া স্টেশনের ১৯ নম্বর প্ল্যাটফর্মে দাঁড়ানো একটি ট্রেনের ছাদে ভেঙে পড়ে বঙ্কিম সেতুর রেলিংয়ের প্রায় ৩০ ফুট লম্বা একটি অংশ।

কলকাতা বিমানবন্দরে ডেকানের একটি বাতিল বিমান দাঁড়িয়ে ছিল এয়ারইন্ডিয়ার হ্যাঙার থেকে ২০ ফুট দূরে। ঝড়ের দাপটে বিমানের মুখ ঘুরে গিয়ে সেটি একটি ল্যাম্পপোস্টে ধাক্কা মারে। অন্য একটি ছোট ‘সেসনা’ বিমানেরও মুখ ঘুরে যায়। নামতে না পেরে কলকাতার আকাশে চক্কর কাটে ১০টি বিমান।

সল্টলেকের ইসি মার্কেটের কাছে গাছসহ একটি মন্দির ও দমদমের গোপাল চন্দ্র বোস লেনে একটি খালি বাড়ি ভেঙে পড়েছে ঝড়ে।

নগরীর কর্মকর্তারা বলছেন, বজ্রসহ ঝড়ের সাথে এত বেশি বাতাসের গতি গত কয়েক দশকেও দেখা যায়নি। সূত্র: বিবিসি ও আনন্দবাজার