ঢাকা রাত ১০:১২, শুক্রবার, ১২ই আগস্ট, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ, ২৮শে শ্রাবণ, ১৪২৯ বঙ্গাব্দ

রাজধানীতে মাসিক ৩,৫০০ টাকার কিস্তিতে আবাসন

দেশের সব প্রান্ত থেকে প্রতিনিয়ত অসংখ্য মানুষ ঢাকামুখী হচ্ছে। তাই রাজধানীতে বসবাসরত স্বল্প আয়ের মানুষের জন্য সরকারের আশ্রয়ণ প্রকল্পের আদলে আবাসন তৈরির কথা ভাবছে রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (রাজউক)। এমনটিই জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরাম (ডব্লিউইএফ) এর তথ্য মতে, জনঘনত্বের বিচারে ঢাকা বিশ্বের সবচেয়ে ঘনবসতিপূর্ণ শহর। জনসংখ্যার বিচারে ঢাকা দক্ষিণ এশিয়ার দ্বিতীয় বৃহত্তম এবং বিশ্বের সপ্তম বৃহত্তম শহর। এ শহরের জনসংখ্যা প্রায় ২ কোটি ১০ লাখ, যা দেশের মোট জনসংখ্যা প্রায় ১১ ভাগ। ঢাকা মহানগরীর প্রতি বর্গকিলোমিটারে পঞ্চাশ হাজারের বেশি লোকের বসবাস।

সর্বশেষ গত ২৭ জুলাই বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) তথ্য অনুযায়ী, রাজধানীতে ১ কোটি ২ লাখের বেশি মানুষ বসবাস করে। ঢাকা উত্তর সিটির জনসংখ্যা ৫৯ লাখ ৭৯ হাজার ৫৩৭ জন। আর ঢাকা দক্ষিণ সিটির জনসংখ্যা ৪২ লাখ ৯৯ হাজার ৩৪৫। সে হিসাবে দুই সিটি করপোরেশনের মোট বাসিন্দা ১ কোটি ২ লাখ ৭৮ হাজার ৮৮২ জন।

চারশো বছরের পুরাতন রাজধানী ঢাকা। অন্য, বস্ত্র, বাসস্থান, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, দাফতরিক কার্যক্রম, বাণিজ্য, অর্থনীতি আর জীবিকার কেন্দ্রস্থল এই নগরী। স্বল্প আয় থেকে উচ্চ আয়ের মানুষ বসবাস করে এখানে। এখন সরকার ঢাকাকে বাসযোগ্য করতে নানা উদ্যোগ নিয়েছে। তবে সঠিক সুফল পাচ্ছে না জনগণ। উল্টো নগরে যানজট, বায়ুদূষণ, জলাবদ্ধতা, বর্জ্য অব্যবস্থাপনাসহ বিভিন্ন সমস্যা বেড়েই চলছে।

গত ২০ জুলাই জাতীয় প্রেসক্লাবে নগর সাংবাদিক ফোরাম আয়োজিত এক আলোচনা সভায় রাজউক চেয়ারম্যান মো. আনিছুর রহমান মিয়া শহরের স্বল্প আয়ের মানুষের জন্য এ প্রকল্পের বিষয়ে কথা বলেন। এ সময় তিনি বলেন, সরকারের আশ্রয়ণ প্রকল্পের মতো এটি বিনামূল্যে করার কথা বলেছেন অনেকেই। কিন্তু, সেটি হলে ঢাকায় চাপ আরও বাড়বে। তখন দেখা গেল, আশ্রয়ণের ঘরের জন্য রাজধানীতে আরও মানুষ আসতে শুরু করবে। কাজেই আমরা যেটি চাই, সেটি হচ্ছে স্বল্প আয়ের মানুষের জন্য এসব ঘর করতে। যাতে তারা ছড়িয়ে-ছিটিয়ে না থাকে।

রাজউক চেয়ারম্যান জানান, এই প্রকল্পে আমরা দু’ধরনের আবাসন তৈরির কথা ভাবছি। যদি আমরা ৩০০-৪০০ বর্গফুটের আবাসন তৈরি করি, সেক্ষেত্রে মাসিক সাড়ে ৩ হাজার টাকায় এটি বরাদ্দ দেওয়া যাবে। আরেকটি হলো, যদি আমরা ৫০০-৬০০ বর্গফুটের আবাসন তৈরি করতে চাই সেক্ষেত্রে ৫-৬ হাজার টাকা মাসিক কিস্তি নির্ধারিত হবে। নির্দিষ্ট মেয়াদ শেষে মালিকানা তাদের বুঝিয়ে দেওয়া হবে।

মাসিক ৩ হাজার ৫০০ টাকার কিস্তিতে আবাসন করবে রাজউক বিষয়টি নিয়ে এক প্রতিক্রিয়ায় দিনমুজুর বিল্লাল মিয়া বলেন, ‘মাসিক ৩ হাজার ৫০০ টাকার কিস্তিতে ঘর বা ফ্ল্যাট পেলে আমাদের জন্য খুব ভালো হয়। ৩ থেকে ৪ হাজার টাকায় ১ থেকে ২টি ছোট রুমে নোংরা পরিবেশে ভাড়া থাকি।’
রিকশাচালক সানাউল্লাহ বলেন, ‘মাসিক ৩ হাজার ৫০০ টাকা কিস্তিতে ঘর বা ফ্ল্যাট ঠিকই হবে, তবে আমাদের কপালে জুটবে না। তবে যদি সত্যি হয়, তাহলে আমাদের মতো স্বল্প আয়ের মানুষের জন্য ভালো হবে।’

স্বল্প আয়ের মানুষদের জন্য স্বল্পমূল্যে নগর পরিকল্পনাবিদ হাসিবুল হাসান চৌধুরী বলেন, ‘অতীতের অভিজ্ঞতা থেকে বলা যায় এই ধরনের প্রকল্প যে উদ্দেশ্য বা যাদের উদ্দেশ্য করা হয় তারা সুফল পায় না। তবে এই টাকায় যদি এই ধরনের প্রকল্প বাস্তবায়ন হয় তাহলে রাজধানীতে যেসব ছিন্নমূল মানুষ বা স্বল্প আয়ের মানুষ আছে তাদের জন্য খুব ভালো হবে। তাদের নিরাপদ আবাসনের ব্যবস্থা হবে।’
বিজনেস বাংলাদেশ/বিএইচ

এ বিভাগের আরও সংবাদ