খুলনার পাইকগাছায় ওয়াপদার বেড়িবাঁধ ভেঙ্গে ও পূর্ণিমার জোতে পানি উপচে বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হয়েছে। ভেসে গেছে শত শত বিঘা চিংড়ি ঘেরের মৎস্য ও আমনের বীজতলা। ভাঙন এলাকার সার্বিক পরিস্থিতি মনিটরিং করছেন স্থানীয় প্রশাসন, জনপ্রতিনিধি ও পানি উন্নয়ন বোর্ড। ঘূর্ণিঝড় প্রস্তুতি কর্মসূচি সিপিপি উপজেলা টিম লিডার ও ইউপি সদস্য আব্দুল্লাহ আল মামুন জানান, বৈরী আবহাওয়ার প্রভাবে এলাকার নদ-নদীতে অস্বাভাবিক পানি বৃদ্ধি পেয়েছে। যার ফলে প্রবল জোয়ারের ¯্রােতে পানি উন্নয়ন বোর্ডে ২৩নং পোল্ডারের উপজেলার সোলাদানা ইউনিয়নের ৮নং ওয়ার্ডের ভাঙ্গাহাড়ি পাঁচ মুখ কারিতাস গেট সংলগ্ন স্থানে দফায় দফায় ভেঙে যায়। প্রথমে শনিবার বিকাল ৪টার প্রবল জোয়ারে ছোট আকারে ভেঙে গেলে সোলাদানা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানের নেতৃত্বে স্থানীয়ভাবে আমরা রাত ১০টা পর্যন্ত মেরামত করি। ভোর রাতের জোয়ারে আবারো বাঁধটি ভেঙে যায়। সকালে পুনরায় মেরামতকাজ শুরু করা হয় এবং মেরামতকাজ চলমান থাকা অবস্থায় রবিবার দুপুরের জোয়ারে কারিতাস গেট সংলগ্ন ২৫-৩০ ফুট এলাকা জুড়ে ওয়াপদার বেড়িবাঁধ ভেঙে পোল্ডার অভ্যান্তরে পানি প্রবেশ করে। মূহুর্তের মধ্যে ইউনিয়নের মাস্টার পাড়া, পার বয়ারঝাপা, নায়েবখালী, টেংরামারী ও সোলাদানার আংশিক সহ ৫টি গ্রাম প্লাবিত হয়। তলিয়ে যায় শত শত বিঘা চিংড়িঘের ও আমন ফসলের বীজতলা। চিংড়িঘেরের মৎস্য ভেসে গিয়ে এবং বীজতলা তলিয়ে গিয়ে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুল মান্নান গাজী জানান। অপরদিকে জোয়ারের উপচে পড়া পানিতে হরিঢালী ইউনিয়নের মাহমুদকাটী জেলেপল্লী ও গদাইপুর ইউনিয়নের বাইশারাবাদ সহ বেশ কয়েকটি এলাকা তলিয়ে গেছে। দেলুটি ইউপি চেয়ারম্যান রিপন কুমার মন্ডল বলেন, জলবায়ু পরিবর্তন জনিত যে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা তাঁর মধ্যে উপজেলার ৪টি দ্বীপবেষ্টিত দেলুটি অধিক ঝুঁকিপূর্ণ। নদীর পানি বৃদ্ধিতে দেলুটির ২১ ও ২২নং পোল্ডার এর দারুনমল্লিক ও কালিনগরের ওয়াপদার বেড়িবাঁধ মারাত্মক ঝুঁকিতে রয়েছে। কয়েক জায়গায় বেড়িবাঁধ উপচে ভিতরে পানি প্রবেশ করেছে। এলাকার মানুষ শঙ্কিত। হরিঢালী ইউপি সদস্য শংকর বিশ্বাস বলেন, জোয়ারের পানিতে মাহমুদকাটির জেলেপল্লী সহ রামনাথপুর এলাকার ঘরবাড়ি ফের তলিয়ে যাওয়ার অবস্থা। বসতবাড়ির উঠানে হাটু পানি। বৃষ্টি ও নদীর পানি বৃদ্ধিতে রাড়–লী ইউপি চেয়ারম্যান আ. কালাম আজাদসহ এলাকাবাসী মারাত্মক শংকা বোধ করে বলেন, যেকোন মূহুর্তে ২, ৩নং গেট ছাঁপিয়ে সমগ্র গ্রাম ও বিল এলাকায় পানি প্রবেশ করে ক্ষতি করতে পারে। সবচেয়ে বেশি মারাত্মক রাড়–লী পূর্ব মালোপাড়া। সেখানে প্রতিনিয়ত ভাঙ্গছে। ভাঙনে ইতোপূর্বে প্রায় ১শ পরিবার ভিটেমাটি ছেড়েছে। উপক‚লবাসী প্রতি মূহুর্তে শঙ্কিত এ ভঙ্গুর বেড়িবাঁধ নিয়ে। পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপ-সহকারী প্রকৌশলী রাজু হাওলাদার জানান, ভাঙন কবলিত এলাকা পরিদর্শন করা হয়েছে। বাঁধ মেরামতের জন্য বাঁশ, বস্তাসহ বিভিন্ন উপকরণ প্রস্তুত করা হয়েছে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মমতাজ বেগম জানান, উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে সার্বিক পরিস্থিতি মনিটরিং করা হচ্ছে। ভাঙন সহ সার্বিক পরিস্থিতি জেলা প্রশাসন ও পানি উন্নয়ন বোর্ডের উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে। ইতোমধ্যে জেলা প্রশাসন থেকে সহায়তা হিসেবে চাল ও নগদ অর্থ বরাদ্দ পাওয়া গিয়েছে। বাঁধ মেরামতের জন্য সব ধরণের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।
বিজনেস বাংলাদেশ/হাবিব




















