০৪:৪৬ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ০৬ নভেম্বর ২০২৬

বৃষ্টির পানি নেই মাঠে, পাট নিয়ে বিপাকে চাষিরা

ষড়ঋতুর বাংলাদেশে চলছে ভাদ্র মাস। দেশের বিভিন্ন স্থানের কৃষকরা পানির অভাবে পাট জাগ দিতে পারছেন না । ফলে এসব পাট ক্ষেতেই রোদে পুড়ে লালচে হয়ে যাচ্ছে। এতে উৎপাদিত পাট নিয়ে বিপাকে পড়েছেন চাষিরা।

এদিকে স্থানীয় কৃষি বিভাগ চাষিদের রিবন রেটিং পদ্ধতিতে(আধুনিক পদ্ধতি) পাট জাগ দেওয়ার পরামর্শ দিচ্ছে। তবে এ বিষয়ে কৃষকদের কোনো ধারণা না থাকায় পদ্ধতিটি কোনো কাজে আসছে না।

সাধারনত আষাঢ় মাস থেকে ভাদ্র মাসের মধ্যে পাট কেটে জাগ দেওয়া হয়। এখন পর্যন্ত দেশের প্রায় ৫০ ভাগ পাট কাটা হয়েছে। ইতোমধ্যে বাজারে পাটের আঁশ উঠতে শুরু করেছে। বাজারে মানভেদ ৩ থেকে সাড়ে ৩ হাজার টাকা মণ দরে পাট বিক্রি হচ্ছে।

সরেজমিনে বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, ‘কৃষক পাট কেটে ফসলের মাঠে রেখে দিয়েছেন। অনেকেই পানি আছে এমন জায়গায় পাট নিয়ে গিয়ে জাগ দিচ্ছেন। সনাতন পদ্ধতিতে অভ্যস্থ হওয়ায় এবং আধুনিক পদ্ধতি সম্পর্কে জ্ঞান থাকায় বিপাকে রয়েছেন তারা।

বৃষ্টি না হওয়ায় জমিতে পানি জমেনি। তাই ক্ষেতের পাট কেটে দূরে নিয়ে জাগ দিচ্ছি। এতে কৃষকদের বেশি খাটাতে হচ্ছে। দিতে হচ্ছে বেশি মজুরি। প্রতি বছর বৃষ্টির পানিতে পাট জাগ দিয়ে হাটে বিক্রি করি। তবে এবার এখন পর্যন্ত হাটে যেতে পারিনি। ‘বৃষ্টির পানি ছাড়া অন্য কোনো পদ্ধতিতে পাট জাগ দেওয়া যায় এমন বিষয়ে কখনো শুনিনি। আদিকাল থেকে বৃষ্টির পানিতে সবাই পাট জাগ দেই। এবার মাঠে পানি না হওয়ায় সবাই বিপাকে পড়েছি। পাট ক্ষেতের আশেপাশে পানি নেই। এক কিলোমিটার দূরে একটি ডোবা ভাড়া নিয়ে পাট জাগ দিতে হচ্ছে। এবার অনাবৃষ্টির কারণেও পাটের উৎপাদনে মান কমেছে। ’

প্রতি বিঘা জমি চাষ, বীজ, সার, কীটনাশক দেওয়া, আগাছা পরিস্কার, পাট কাটা, পরিবহণ খরচ, জাগ দেওয়া, ধোয়া, শুকানো এবং শ্রমিক খরচ বাবদ ১৫ হাজার টাকার মতো খরচ হয়। এবার অতিরিক্ত খরা ও অনাবৃষ্টির কারণে বিঘাপ্রতি ৭ থেকে সাড়ে ৭ মণ পাট উৎপাদন হয়েছে। বাজারে বর্তমানে ভালো মানের প্রতি মণ পাট ৩ হাজার ২০০ থেকে ৩ হাজার ৫০০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।’ গত বছরের তুলনায় চলতি বছর পাটের চাষ বেশি হয়েছে। মাঠে বর্ষার পানি না থাকায় পাট কৃষকরা দূরে নিয়ে পাট জাগ দিচ্ছেন। চাষিদের রিবন রেটিং পদ্ধতিতে পাট জাগ দেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। এ পদ্ধতিতে পাট কাটার পর আঁশ ছাড়িয়ে অল্প পানিতে জাগ দিতে হয়। এতে অনেক বেশি পাটের আঁশ জাগ দেওয়া যায়। জাগ দেওয়া আঁশের গুণগত মান অনেক ভালো থাকায় বাজারে এর দামও বেশি পাওয়া যায়।

বিজনেস বাংলাদেশ/হাবিব

জনপ্রিয়

বৃষ্টির পানি নেই মাঠে, পাট নিয়ে বিপাকে চাষিরা

প্রকাশিত : ১২:১৭:৩০ অপরাহ্ন, শনিবার, ২০ অগাস্ট ২০২২

ষড়ঋতুর বাংলাদেশে চলছে ভাদ্র মাস। দেশের বিভিন্ন স্থানের কৃষকরা পানির অভাবে পাট জাগ দিতে পারছেন না । ফলে এসব পাট ক্ষেতেই রোদে পুড়ে লালচে হয়ে যাচ্ছে। এতে উৎপাদিত পাট নিয়ে বিপাকে পড়েছেন চাষিরা।

এদিকে স্থানীয় কৃষি বিভাগ চাষিদের রিবন রেটিং পদ্ধতিতে(আধুনিক পদ্ধতি) পাট জাগ দেওয়ার পরামর্শ দিচ্ছে। তবে এ বিষয়ে কৃষকদের কোনো ধারণা না থাকায় পদ্ধতিটি কোনো কাজে আসছে না।

সাধারনত আষাঢ় মাস থেকে ভাদ্র মাসের মধ্যে পাট কেটে জাগ দেওয়া হয়। এখন পর্যন্ত দেশের প্রায় ৫০ ভাগ পাট কাটা হয়েছে। ইতোমধ্যে বাজারে পাটের আঁশ উঠতে শুরু করেছে। বাজারে মানভেদ ৩ থেকে সাড়ে ৩ হাজার টাকা মণ দরে পাট বিক্রি হচ্ছে।

সরেজমিনে বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, ‘কৃষক পাট কেটে ফসলের মাঠে রেখে দিয়েছেন। অনেকেই পানি আছে এমন জায়গায় পাট নিয়ে গিয়ে জাগ দিচ্ছেন। সনাতন পদ্ধতিতে অভ্যস্থ হওয়ায় এবং আধুনিক পদ্ধতি সম্পর্কে জ্ঞান থাকায় বিপাকে রয়েছেন তারা।

বৃষ্টি না হওয়ায় জমিতে পানি জমেনি। তাই ক্ষেতের পাট কেটে দূরে নিয়ে জাগ দিচ্ছি। এতে কৃষকদের বেশি খাটাতে হচ্ছে। দিতে হচ্ছে বেশি মজুরি। প্রতি বছর বৃষ্টির পানিতে পাট জাগ দিয়ে হাটে বিক্রি করি। তবে এবার এখন পর্যন্ত হাটে যেতে পারিনি। ‘বৃষ্টির পানি ছাড়া অন্য কোনো পদ্ধতিতে পাট জাগ দেওয়া যায় এমন বিষয়ে কখনো শুনিনি। আদিকাল থেকে বৃষ্টির পানিতে সবাই পাট জাগ দেই। এবার মাঠে পানি না হওয়ায় সবাই বিপাকে পড়েছি। পাট ক্ষেতের আশেপাশে পানি নেই। এক কিলোমিটার দূরে একটি ডোবা ভাড়া নিয়ে পাট জাগ দিতে হচ্ছে। এবার অনাবৃষ্টির কারণেও পাটের উৎপাদনে মান কমেছে। ’

প্রতি বিঘা জমি চাষ, বীজ, সার, কীটনাশক দেওয়া, আগাছা পরিস্কার, পাট কাটা, পরিবহণ খরচ, জাগ দেওয়া, ধোয়া, শুকানো এবং শ্রমিক খরচ বাবদ ১৫ হাজার টাকার মতো খরচ হয়। এবার অতিরিক্ত খরা ও অনাবৃষ্টির কারণে বিঘাপ্রতি ৭ থেকে সাড়ে ৭ মণ পাট উৎপাদন হয়েছে। বাজারে বর্তমানে ভালো মানের প্রতি মণ পাট ৩ হাজার ২০০ থেকে ৩ হাজার ৫০০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।’ গত বছরের তুলনায় চলতি বছর পাটের চাষ বেশি হয়েছে। মাঠে বর্ষার পানি না থাকায় পাট কৃষকরা দূরে নিয়ে পাট জাগ দিচ্ছেন। চাষিদের রিবন রেটিং পদ্ধতিতে পাট জাগ দেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। এ পদ্ধতিতে পাট কাটার পর আঁশ ছাড়িয়ে অল্প পানিতে জাগ দিতে হয়। এতে অনেক বেশি পাটের আঁশ জাগ দেওয়া যায়। জাগ দেওয়া আঁশের গুণগত মান অনেক ভালো থাকায় বাজারে এর দামও বেশি পাওয়া যায়।

বিজনেস বাংলাদেশ/হাবিব