১১:২৮ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৪ জুলাই ২০২৪

রেলস্টেশনে রুশ ক্ষেপণাস্ত্র হামলা, নিহত ২৫

ইউক্রেনের পূর্বাঞ্চলে একটি রেলস্টেশন ও আবাসিক এলাকায় রুশ সেনাদের ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় ২৫ জন নিহত হয়েছেন। কিয়েভের কর্মকর্তারা বলছেন, গত বুধবার রুশ হামলার ছয় মাস পূর্তির দিন হামলার এ ঘটনা ঘটেছে। দেশটির পূর্বাঞ্চলের চ্যাপলিন শহরে এ হামলার ঘটনা ঘটে। এদিন রুশ বাহিনীর ভারী গোলাবর্ষণের মধ্যেই ইউক্রেন তার স্বাধীনতা দিবস পালন করেছে।

বৃহস্পতিবার ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির ঘনিষ্ঠ কাইরাইলো তাইমোশেঙ্কো বলেন, প্রাথমিকভাবে জানা গিয়েছিল রুশ বাহিনীর হামলায় নিহতের সংখ্যা ২২। কিন্তু পরে ধ্বংসস্তূপের মধ্যে থেকে আরও লাশ উদ্ধার করা হয়। উদ্ধারকাজ শেষে নিহতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২৫।

ইউক্রেনের আঞ্চলিক কর্মকর্তা অলেক্সি কুলেবা বলেন, ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভের উত্তরে ভিসগরদ এলাকায় রকেট হামলার ঘটনা ঘটেছে। তবে সেখানে হতাহতের কোনো খবর পাওয়া যায়নি।

বুধবার ইউক্রেনের ৩১তম স্বাধীনতা দিবস উদ্‌যাপনের আগেই জনগণকে রুশ বাহিনীর হামলার ব্যাপারে সতর্ক করে দেন জেলেনস্কি। এ ছাড়া কিয়েভে জনসমাবেশেও নিষেধাজ্ঞা দেয় নগর কর্তৃপক্ষ। এর পরপরই ইউক্রেনের খারকিভ, মাইকোলাইভ, নিকোপোল ও দানিপ্রোতে ক্ষেপণাস্ত্র ও ভারী গোলাবর্ষণ শুরু করেন রুশ সেনারা।

২৪ আগস্ট স্বাধীনতা দিবসের পাশাপাশি ইউক্রেনে রুশ হামলার ৬ মাস পূর্তি হয়েছে। এর আগে গত এপ্রিল মাসে রেলস্টেশনে আরেকটি হামলার ঘটনা ঘটেছিল। ওই ঘটনায় ৫০ জন নিহত হয়েছিলেন।

চ্যাপলিন শহরটি রুশ বাহিনীর নিয়ন্ত্রণে থাকা দোনেৎস্ক থেকে ১৪৫ কিলোমিটার পশ্চিমে। উদ্ধারকাজ সমাপ্ত ঘোষণার পর ছোট্ট এ শহরটির বাসিন্দারা প্রিয়জনকে হারানোর ঘটনায় শোক প্রকাশ করছেন। এ হামলায় স্থানীয় বাসিন্দা সের্গেই তাঁর ১১ বছরের ছেলেকে হারিয়েছেন। ছেলের লাশের পাশে বিলাপ করে তিনি বলেন, ‘ধ্বংসস্তূপের মধ্যে ছেলেকে খুঁজছিলাম। সে এখানে শুয়ে আছে। কেউ জানত না, সে এখানে আছে।’

এদিকে এই হামলার বিষয়ে রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে কোনো মন্তব্য করা হয়নি। রুশ প্রতিরক্ষামন্ত্রী সের্গেই সোইগু বলেছেন, বেসামরিক লোকজনের মৃত্যু এড়াতে বিশেষ সামরিক অভিযান অনেকটাই ধীরগতিতে চালানো হচ্ছে। ক্রেমলিনের পক্ষ থেকে কোনো বেসামরিক স্থাপনাকে লক্ষ্যবস্তু বানানোর বিষয়টি অস্বীকার করা হয়েছে। তবে রেলস্টেশনে হামলাকে বৈধ লক্ষ্যবস্তু বলেছে মস্কো। কারণ, এখান দিয়ে পশ্চিমা অস্ত্র পেয়ে থাকে কিয়েভ।

হামলার বিষয়ে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী অ্যান্টনি ব্লিঙ্কেন বলেন, ‘বেসামরিক লোকজনভর্তি রেলস্টেশনে রাশিয়ার ক্ষেপণাস্ত্র হামলার ঘটনাটি নৃশংসতা। অংশীদারদের সঙ্গে নিয়ে ইউক্রেনের পাশে দাঁড়ানো এবং রুশ কর্মকর্তাদের জবাবদিহি করার কাজ চালিয়ে যাব।’

এর আগে বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়, ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি বলেন, জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের বৈঠকের মাঝখানে এ হামলা চালিয়েছে রাশিয়া। ইউক্রেনের পূর্বাঞ্চলের দানিপ্রো ও দোনেৎস্কের মাঝে চ্যাপলিনে হামলার বিষয়টি জানতে পেরেছেন তিনি। জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদে কথা বলার প্রস্তুতি নেওয়ার সময়ই হামলার এ ঘটনা ঘটেছে। তিনি আরও বলেন, এভাবেই জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের বৈঠকের প্রস্তুতি নিল রাশিয়া।

এর আগে জেলেনস্কি মস্কোর বাহিনীকে জাপোরিঝিয়া পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রকে একটি যুদ্ধক্ষেত্রে পরিণত করার জন্য অভিযুক্ত করেছিলেন। তিনি বলেন, ইউরোপের জনগণকে বিপন্ন করে এবং বিশ্বকে বিকিরণ বিপর্যয়ের দ্বারপ্রান্তে নিয়ে গেছেন রুশ সেনারা।

জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস বলেন, সংবেদনহীন এ যুদ্ধ ইউক্রেন এবং এর বাইরেও লাখ লাখ মানুষকে চরম দারিদ্র্যের দিকে ঠেলে দিতে পারে।

বিজনেস বাংলাদেশ/বিএইচ

চারদিকে কি হচ্ছে,সেইদিকে নজর না রেখে নিজের লক্ষ্যে পৌঁছাতে হবে

রেলস্টেশনে রুশ ক্ষেপণাস্ত্র হামলা, নিহত ২৫

প্রকাশিত : ০৯:০৮:৪৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৫ অগাস্ট ২০২২

ইউক্রেনের পূর্বাঞ্চলে একটি রেলস্টেশন ও আবাসিক এলাকায় রুশ সেনাদের ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় ২৫ জন নিহত হয়েছেন। কিয়েভের কর্মকর্তারা বলছেন, গত বুধবার রুশ হামলার ছয় মাস পূর্তির দিন হামলার এ ঘটনা ঘটেছে। দেশটির পূর্বাঞ্চলের চ্যাপলিন শহরে এ হামলার ঘটনা ঘটে। এদিন রুশ বাহিনীর ভারী গোলাবর্ষণের মধ্যেই ইউক্রেন তার স্বাধীনতা দিবস পালন করেছে।

বৃহস্পতিবার ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির ঘনিষ্ঠ কাইরাইলো তাইমোশেঙ্কো বলেন, প্রাথমিকভাবে জানা গিয়েছিল রুশ বাহিনীর হামলায় নিহতের সংখ্যা ২২। কিন্তু পরে ধ্বংসস্তূপের মধ্যে থেকে আরও লাশ উদ্ধার করা হয়। উদ্ধারকাজ শেষে নিহতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২৫।

ইউক্রেনের আঞ্চলিক কর্মকর্তা অলেক্সি কুলেবা বলেন, ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভের উত্তরে ভিসগরদ এলাকায় রকেট হামলার ঘটনা ঘটেছে। তবে সেখানে হতাহতের কোনো খবর পাওয়া যায়নি।

বুধবার ইউক্রেনের ৩১তম স্বাধীনতা দিবস উদ্‌যাপনের আগেই জনগণকে রুশ বাহিনীর হামলার ব্যাপারে সতর্ক করে দেন জেলেনস্কি। এ ছাড়া কিয়েভে জনসমাবেশেও নিষেধাজ্ঞা দেয় নগর কর্তৃপক্ষ। এর পরপরই ইউক্রেনের খারকিভ, মাইকোলাইভ, নিকোপোল ও দানিপ্রোতে ক্ষেপণাস্ত্র ও ভারী গোলাবর্ষণ শুরু করেন রুশ সেনারা।

২৪ আগস্ট স্বাধীনতা দিবসের পাশাপাশি ইউক্রেনে রুশ হামলার ৬ মাস পূর্তি হয়েছে। এর আগে গত এপ্রিল মাসে রেলস্টেশনে আরেকটি হামলার ঘটনা ঘটেছিল। ওই ঘটনায় ৫০ জন নিহত হয়েছিলেন।

চ্যাপলিন শহরটি রুশ বাহিনীর নিয়ন্ত্রণে থাকা দোনেৎস্ক থেকে ১৪৫ কিলোমিটার পশ্চিমে। উদ্ধারকাজ সমাপ্ত ঘোষণার পর ছোট্ট এ শহরটির বাসিন্দারা প্রিয়জনকে হারানোর ঘটনায় শোক প্রকাশ করছেন। এ হামলায় স্থানীয় বাসিন্দা সের্গেই তাঁর ১১ বছরের ছেলেকে হারিয়েছেন। ছেলের লাশের পাশে বিলাপ করে তিনি বলেন, ‘ধ্বংসস্তূপের মধ্যে ছেলেকে খুঁজছিলাম। সে এখানে শুয়ে আছে। কেউ জানত না, সে এখানে আছে।’

এদিকে এই হামলার বিষয়ে রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে কোনো মন্তব্য করা হয়নি। রুশ প্রতিরক্ষামন্ত্রী সের্গেই সোইগু বলেছেন, বেসামরিক লোকজনের মৃত্যু এড়াতে বিশেষ সামরিক অভিযান অনেকটাই ধীরগতিতে চালানো হচ্ছে। ক্রেমলিনের পক্ষ থেকে কোনো বেসামরিক স্থাপনাকে লক্ষ্যবস্তু বানানোর বিষয়টি অস্বীকার করা হয়েছে। তবে রেলস্টেশনে হামলাকে বৈধ লক্ষ্যবস্তু বলেছে মস্কো। কারণ, এখান দিয়ে পশ্চিমা অস্ত্র পেয়ে থাকে কিয়েভ।

হামলার বিষয়ে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী অ্যান্টনি ব্লিঙ্কেন বলেন, ‘বেসামরিক লোকজনভর্তি রেলস্টেশনে রাশিয়ার ক্ষেপণাস্ত্র হামলার ঘটনাটি নৃশংসতা। অংশীদারদের সঙ্গে নিয়ে ইউক্রেনের পাশে দাঁড়ানো এবং রুশ কর্মকর্তাদের জবাবদিহি করার কাজ চালিয়ে যাব।’

এর আগে বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়, ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি বলেন, জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের বৈঠকের মাঝখানে এ হামলা চালিয়েছে রাশিয়া। ইউক্রেনের পূর্বাঞ্চলের দানিপ্রো ও দোনেৎস্কের মাঝে চ্যাপলিনে হামলার বিষয়টি জানতে পেরেছেন তিনি। জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদে কথা বলার প্রস্তুতি নেওয়ার সময়ই হামলার এ ঘটনা ঘটেছে। তিনি আরও বলেন, এভাবেই জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের বৈঠকের প্রস্তুতি নিল রাশিয়া।

এর আগে জেলেনস্কি মস্কোর বাহিনীকে জাপোরিঝিয়া পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রকে একটি যুদ্ধক্ষেত্রে পরিণত করার জন্য অভিযুক্ত করেছিলেন। তিনি বলেন, ইউরোপের জনগণকে বিপন্ন করে এবং বিশ্বকে বিকিরণ বিপর্যয়ের দ্বারপ্রান্তে নিয়ে গেছেন রুশ সেনারা।

জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস বলেন, সংবেদনহীন এ যুদ্ধ ইউক্রেন এবং এর বাইরেও লাখ লাখ মানুষকে চরম দারিদ্র্যের দিকে ঠেলে দিতে পারে।

বিজনেস বাংলাদেশ/বিএইচ