প্রিন্স চার্লস এখন রাজা তৃতীয় চার্লস। ১৪টি কমনওয়েলথভুক্ত রাষ্ট্রের প্রধান হয়েছেন তিনি। গতকাল বৃহস্পতিবার তার মা রানী দ্বিতীয় এলিজাবেথ মারা যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে তিনি স্বয়ংক্রিয়ভাবে রাজা হয়েছেন। এর আগে তিনি ও তার সব ভাইবোন, রাজপরিবারের অন্য সদস্যরা দীর্ঘ পথ পাড়ি দিয়ে ছুটে যান স্কটল্যান্ডের বালমোরাল ক্যাসেলে। সেখানে রানীর মৃত্যুর সময় তারা সবাই উপস্থিত ছিলেন। তাদের উপস্থিতিতে কিংবদন্তি রানী শান্তিতে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। এরপর এক বিবৃতিতে রাজা বলেন- একজন প্রিয় রানী এবং প্রিয়তম মায়ের মৃত্যুতে আমরা গভীরভাবে শোকাহত। আমি জানি সারা দেশ, রাজ্য ও কমনওয়েলথ, এবং সারা বিশ্বের অগণিত মানুষ তার মৃত্যুকে গভীরভাবে অনুভব করবেন।
রাজা চার্লস বলেন, প্রয়াত রানীর প্রতি ‘যে সম্মান এবং গভীর স্নেহ রয়েছে’ এই শোক ও পরিবর্তনের সময়কালে সেটা তাকে ও তার পরিবারকে সান্ত্বনা দেবে এবং শক্তি জোগাবে।
এর আগে রানীর প্রাসাদ বাকিংহাম প্যালেস থেকে এক বিবৃতিতে জানানো হয়, রানি ব্যালমোরাল প্রাসাদে বৃহস্পতিবার বিকেলে শান্তিপূর্ণভাবে প্রাণত্যাগ করেছেন। নতুন রাজা এবং রাজপত্নী এদিন সন্ধ্যায় বালমোরালে থাকবেন এবং আজ তারা লন্ডনে ফিরে যাবেন। ডাক্তাররা রানীর চিকিৎসা তত্ত্বাবধান শুরু করার পর রানী এলিজাবেথের সব সন্তান অ্যাবারডিন শহরের কাছে বালমোরাল প্রাসাদে জড়ো হন।
তার নাতি প্রিন্স উইলিয়াম সেখানে উপস্থিত ছিলেন। ছোট নাতি প্রিন্স হ্যারিও পরে সেখানে হাজির হন।
রাজার প্রতি প্রধানমন্ত্রীর আনুগত্য প্রধানমন্ত্রী লিজ ট্রাস মাত্র মঙ্গলবারই রানীর আমন্ত্রণে বৃটেনের নতুন সরকার প্রধানের দায়িত্বে নিযুক্ত হয়েছেন। তিনি বলছেন, প্রয়াত রানী হলেন সেই ভিত্তি যার ওপর আধুনিক বৃটেনের কাঠামো নির্মিত হয়েছে এবং “আমাদের যে স্থিতিশীলতা ও শক্তির প্রয়োজন ছিল তিনি সরবরাহ করেছিলেন।”
বৃটেনের নতুন রাজা সম্পর্কে তিনি বলেন, তার মা যেমন দীর্ঘদিন ধরে অগণিত মানুষের কল্যাণে নিজের জীবনকে উৎসর্গ করেছেন, আমরাও তার (রাজার) প্রতি আমাদের আনুগত্য এবং ভক্তি নিবেদন করছি। এবং দ্বিতীয় এলিজাবেথ যুগের অবসানের সাথে সাথে, ‘ঈশ্বর রাজাকে রক্ষা করুন’ কথাটি বলে আমরা আমাদের মহান দেশের মহিমান্বিত ইতিহাসে আরও একটি নতুন যুগের সূচনা করছি, ঠিক যেমনটি প্রয়াত রানী কামনা করেছিলেন।”
রাষ্ট্রপ্রধান হিসেবে রানী দ্বিতীয় এলিজাবেথের মেয়াদকালে মহাযুদ্ধ-পরবর্তী কৃচ্ছতা, বৃটিশ সাম্রাজ্য থেকে কমনওয়েলথে উত্তরণ, স্নায়ুযুদ্ধের পরিসমাপ্তি এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নে বৃটেনের যোগদান ও পরে প্রত্যাহারের ঘটনা ঘটেছে। প্রয়াত ডিউক অফ এডিনবরা ছয় দশকেরও বেশি সময় ধরে রানীর সাহচর্য্যে ছিলেন।
তার জীবদ্দশায় ১৮৭৪ সালে জন্মগ্রহণকারী উইনস্টন চার্চিল থেকে শুরু করে, তার ১০১ বছর পর, ১৯৭৫ সালে জন্মগ্রহণকারী মিস ট্রাসসহ ১৫ জন প্রধানমন্ত্রী দায়িত্ব পালন করেছেন। পুরো শাসনামলে তিনি নিয়মিতভাবে প্রতি সপ্তাহে তার প্রধানমন্ত্রীদের সাক্ষাৎ দিতেন।
বিজনেস বাংলাদেশ/হাবিব























