ইতিহাস ঐতিহ্যের সাক্ষি হয়ে দীর্ঘদিন যাবৎ কর্তৃপক্ষের অযত্নে অবহেলায় পরে আছে ফরিদপুর জেলার সদরপুর উপজেলার বাইশরশি জমিদার বাড়িটি। সদরপুর বাসীর কাছে কালের সাক্ষি হয়ে ঐতিহ্য বহন করে আছে বাড়িটি। সদরপুরে কথিত আছে ব্রিটিসদের শাসন আমল থেকে বাইশরশি জমিদার বাড়ির জমিদারি চলে আসছে। কথিত আছে, এই জমিদার বাড়ির সামনে দিয়ে কারো ঘোড়ায় চরে, ছাতি মাথায় দিয়ে, বাইসাইকেল চালিয়ে, এমুনকি জুতা সেন্ডেল পায় দিয়েও যাওয়ার নিয়ম ছিলনা। তাতে নাকি জমিদারদের সম্মান হানি হোত। তবে এটাও চির সত্য যে, বাইশরশি জমিদারদের বংশধর রাজেন্দ্র বাবু তার নিজ অর্থায়নে তাঁর নামে ফরিদপুর রাজেন্দ্র বিশ্ব বিদ্যালয় কলেজ, সদরপুরে তাঁর স্ত্রীর নামে বাইশরশি শিব সুন্দরী একাডেমী সহ অনেক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নির্মান করেছিলেন। এমন বিভিন্ন ঘটনা- দুর্ঘটনার মধ্যদিয়েই ছিল বাইশরশি জমিদারদের জীবনযাত্রা।
সর্বশেষ ১৯৪৯ ইং সালে পাকিস্তান আমলে ফরাজী আন্দলনের মাধ্যমে জমিদারি প্রথা উচ্ছেদ আইন চালু হলে বাইশরশির জমিদাররা দেশ ছেড়ে ইন্ডিয়ায় চলে যায়। আর তাঁদের সাক্ষি হয়ে ঐতিহ্য বহন করে আসছে প্রায় ৪০ একর জায়গার বাড়িটি। দীর্ঘ ৫৩ বছর যাবৎ অযত্ন অবহেলার কারনে এই বাড়ি থেকে দিন দিন হারিয়ে যাচ্ছে দামী দামী বিভিন্ন প্রকার নির্মান সামগ্রী। তাছারাও এই বাড়িটি নজরদারির অভাবে এখানে প্রায়ই ঘটছে দুর্ঘটনা। স্থানীয় অভিজ্ঞ মহল মনে করেন সুবিশাল এই বাড়িটি সরকারের সদিচ্ছা থাকলে এখানে তৈরী করা যেতে পারে পর্যটন কেন্দ্র। সেক্ষেত্রে একদিকে যেমন রক্ষা হবে বাড়িটি, অপরদিকে প্রতিবছর আয় হবে বিপুল পরিমান রাজস্ব। এ ব্যাপারে গত বছরের প্রথম দিকে, ফরিদপুর জেলার প্রায় ৪০ টি মানবিক সংগঠন জমিদার বাড়িটি ধ্বংসের হাত থেকে রক্ষা করে পুঃন সংস্কার করে পর্যটন কেন্দ্র করার জন্য মানব বন্ধন করেছিল। সেই থেকে দিন দিন জোরালো হচ্ছে সেই দাবি। তবে আপাতত এই ঐতিহ্য বাহী জমিদার বাড়িটি ধ্বংসের হাত থেকে রক্ষা করতে অন্তত সরকারি ভাবে বাড়িটি দখল নেওয়া হোক এমনটাই দাবী সদরপুর উপজেলা বাসীর।
বিজনেস বাংলাদেশ/ হাবিব




















