০৬:৫৩ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৪ জুন ২০২৬

নওগাঁ শহরজুড়ে বসছে সিসিটিভি ও নাইট ভিশন ক্যামেরা, ডিজিটাল নিরাপত্তায় নতুন উদ্যোগ’

নওগাঁ শহরকে অপরাধমুক্ত ও নিরাপদ নগরীতে পরিণত করতে এবার প্রযুক্তিনির্ভর নজরদারি ব্যবস্থার আওতায় আনার উদ্যোগ নিয়েছে জেলা পুলিশ। শহরের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক, সরকারি স্থাপনা, হাসপাতাল, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, শহীদ মিনারসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে সিসিটিভি ও নাইট ভিশন ক্যামেরা স্থাপনের পরিকল্পনা হাতে নিয়েছেন নওগাঁর পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম।

শনিবার নওগাঁ সদর মডেল থানায় আয়োজিত এক প্রেস কনফারেন্সে সাংবাদিকদের মাধ্যমে জেলার জনগণের উদ্দেশ্যে এ তথ্য নিশ্চিত করেন পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম।

তিনি জানান, শহরের তাজের মোড় থেকে বালুডাঙ্গা বাসস্ট্যান্ড পর্যন্ত বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে পর্যায়ক্রমে আধুনিক সিসিটিভি ও নাইট ভিশন ক্যামেরা স্থাপন করা হবে। এ বিষয়ে জেলার ব্যবসায়ী, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের সঙ্গে আলোচনা চলছে। সবার সহযোগিতায় আগামী মাস থেকেই ক্যামেরা স্থাপনের কাজ শুরু করা সম্ভব হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

পুলিশ সুপার বলেন, “শহরের বিভিন্ন স্থানে ক্যামেরা স্থাপনের মাধ্যমে পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে একটি আধুনিক কন্ট্রোল রুম থেকে সার্বক্ষণিক পুরো শহর পর্যবেক্ষণ করা হবে। কোথাও কোনো অপরাধ সংঘটিত হওয়ার আগেই সন্দেহজনক গতিবিধি শনাক্ত করে তা প্রতিরোধ করা সম্ভব হবে। আবার কোনো অপরাধ সংঘটিত হলেও দ্রুত অপরাধীদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনা সহজ হবে।”

তিনি আরও বলেন, মোটরসাইকেল চুরি, ছিনতাই, রাহাজানি, মাদক ব্যবসা, সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডসহ বিভিন্ন ধরনের অপরাধ নিয়ন্ত্রণে এই প্রযুক্তিনির্ভর নজরদারি ব্যবস্থা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

উল্লেখ্য, নওগাঁয় যোগদানের পর থেকেই পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম জেলার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়নে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন। মাদকবিরোধী অভিযান, চুরি, ডাকাতি ও অন্যান্য অপরাধ দমনে তাঁর নেতৃত্বে জেলা পুলিশ একাধিক সফল অভিযান পরিচালনা করেছে।

জেলার বিভিন্ন প্রত্যন্ত সড়কে একসময় ডাকাতির আতঙ্ক বিরাজ করলেও রাতের বেলা নিজে মাঠে নেমে টহল কার্যক্রম পরিচালনার মাধ্যমে সেই পরিস্থিতির উল্লেখযোগ্য উন্নতি ঘটিয়েছেন তিনি। বর্তমানে জেলায় ডাকাতির ঘটনা প্রায় নেই বললেই চলে।

এছাড়া তাঁর নেতৃত্বে পরিচালিত বিভিন্ন অভিযানে বিপুল পরিমাণ মাদক জব্দ করা হয়েছে এবং মাদক কারবারিদের গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়েছে। জেলার একাধিক আলোচিত হত্যাকাণ্ডের রহস্য ২৪ থেকে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যেই উদঘাটন করে আসামিদের আইনের আওতায় আনতেও সক্ষম হয়েছে জেলা পুলিশ।

নওগাঁর সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলামের নিরবচ্ছিন্ন প্রচেষ্টা ইতোমধ্যেই জেলার সচেতন মহলে প্রশংসা কুড়িয়েছে। শহরজুড়ে সিসিটিভি ও নাইট ভিশন ক্যামেরা স্থাপনের উদ্যোগকে সময়োপযোগী ও যুগান্তকারী পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন অনেকেই।

সচেতন নাগরিকদের মতে, প্রযুক্তিনির্ভর এই নিরাপত্তা ব্যবস্থা বাস্তবায়িত হলে নওগাঁ আরও নিরাপদ, সুশৃঙ্খল ও অপরাধ নিয়ন্ত্রিত শহরে পরিণত হবে এবং সাধারণ মানুষের মাঝে নিরাপত্তাবোধ আরও বৃদ্ধি পাবে।

“অপরাধের আগেই শনাক্তকরণ, দ্রুত অপরাধী গ্রেপ্তার এবং সার্বক্ষণিক নজরদারি এই লক্ষ্যগুলো নিয়েই নওগাঁকে নিরাপত্তার ডিজিটাল চাদরে ঢেকে দিতে এগিয়ে চলেছেন পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম।”

ডিএস./

ট্যাগ :

মুঘল বাংলার আঞ্চলিক শাসনব্যবস্থা নিয়ে নতুন গবেষণা: আলোচনায় নলডাঙ্গা রাজ্য

নওগাঁ শহরজুড়ে বসছে সিসিটিভি ও নাইট ভিশন ক্যামেরা, ডিজিটাল নিরাপত্তায় নতুন উদ্যোগ’

প্রকাশিত : ০৫:৩৬:২৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৪ জুন ২০২৬

নওগাঁ শহরকে অপরাধমুক্ত ও নিরাপদ নগরীতে পরিণত করতে এবার প্রযুক্তিনির্ভর নজরদারি ব্যবস্থার আওতায় আনার উদ্যোগ নিয়েছে জেলা পুলিশ। শহরের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক, সরকারি স্থাপনা, হাসপাতাল, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, শহীদ মিনারসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে সিসিটিভি ও নাইট ভিশন ক্যামেরা স্থাপনের পরিকল্পনা হাতে নিয়েছেন নওগাঁর পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম।

শনিবার নওগাঁ সদর মডেল থানায় আয়োজিত এক প্রেস কনফারেন্সে সাংবাদিকদের মাধ্যমে জেলার জনগণের উদ্দেশ্যে এ তথ্য নিশ্চিত করেন পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম।

তিনি জানান, শহরের তাজের মোড় থেকে বালুডাঙ্গা বাসস্ট্যান্ড পর্যন্ত বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে পর্যায়ক্রমে আধুনিক সিসিটিভি ও নাইট ভিশন ক্যামেরা স্থাপন করা হবে। এ বিষয়ে জেলার ব্যবসায়ী, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের সঙ্গে আলোচনা চলছে। সবার সহযোগিতায় আগামী মাস থেকেই ক্যামেরা স্থাপনের কাজ শুরু করা সম্ভব হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

পুলিশ সুপার বলেন, “শহরের বিভিন্ন স্থানে ক্যামেরা স্থাপনের মাধ্যমে পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে একটি আধুনিক কন্ট্রোল রুম থেকে সার্বক্ষণিক পুরো শহর পর্যবেক্ষণ করা হবে। কোথাও কোনো অপরাধ সংঘটিত হওয়ার আগেই সন্দেহজনক গতিবিধি শনাক্ত করে তা প্রতিরোধ করা সম্ভব হবে। আবার কোনো অপরাধ সংঘটিত হলেও দ্রুত অপরাধীদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনা সহজ হবে।”

তিনি আরও বলেন, মোটরসাইকেল চুরি, ছিনতাই, রাহাজানি, মাদক ব্যবসা, সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডসহ বিভিন্ন ধরনের অপরাধ নিয়ন্ত্রণে এই প্রযুক্তিনির্ভর নজরদারি ব্যবস্থা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

উল্লেখ্য, নওগাঁয় যোগদানের পর থেকেই পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম জেলার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়নে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন। মাদকবিরোধী অভিযান, চুরি, ডাকাতি ও অন্যান্য অপরাধ দমনে তাঁর নেতৃত্বে জেলা পুলিশ একাধিক সফল অভিযান পরিচালনা করেছে।

জেলার বিভিন্ন প্রত্যন্ত সড়কে একসময় ডাকাতির আতঙ্ক বিরাজ করলেও রাতের বেলা নিজে মাঠে নেমে টহল কার্যক্রম পরিচালনার মাধ্যমে সেই পরিস্থিতির উল্লেখযোগ্য উন্নতি ঘটিয়েছেন তিনি। বর্তমানে জেলায় ডাকাতির ঘটনা প্রায় নেই বললেই চলে।

এছাড়া তাঁর নেতৃত্বে পরিচালিত বিভিন্ন অভিযানে বিপুল পরিমাণ মাদক জব্দ করা হয়েছে এবং মাদক কারবারিদের গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়েছে। জেলার একাধিক আলোচিত হত্যাকাণ্ডের রহস্য ২৪ থেকে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যেই উদঘাটন করে আসামিদের আইনের আওতায় আনতেও সক্ষম হয়েছে জেলা পুলিশ।

নওগাঁর সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলামের নিরবচ্ছিন্ন প্রচেষ্টা ইতোমধ্যেই জেলার সচেতন মহলে প্রশংসা কুড়িয়েছে। শহরজুড়ে সিসিটিভি ও নাইট ভিশন ক্যামেরা স্থাপনের উদ্যোগকে সময়োপযোগী ও যুগান্তকারী পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন অনেকেই।

সচেতন নাগরিকদের মতে, প্রযুক্তিনির্ভর এই নিরাপত্তা ব্যবস্থা বাস্তবায়িত হলে নওগাঁ আরও নিরাপদ, সুশৃঙ্খল ও অপরাধ নিয়ন্ত্রিত শহরে পরিণত হবে এবং সাধারণ মানুষের মাঝে নিরাপত্তাবোধ আরও বৃদ্ধি পাবে।

“অপরাধের আগেই শনাক্তকরণ, দ্রুত অপরাধী গ্রেপ্তার এবং সার্বক্ষণিক নজরদারি এই লক্ষ্যগুলো নিয়েই নওগাঁকে নিরাপত্তার ডিজিটাল চাদরে ঢেকে দিতে এগিয়ে চলেছেন পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম।”

ডিএস./