১১:১২ অপরাহ্ন, বুধবার, ০৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

কে হচ্ছেন গাজীপুর মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি-সম্পাদক

রাজধানী ঢাকার উপকন্ঠে ইতিহাস ঐতিহ্য ভরা রাজনীতির গুরুত্বপূর্ণ মহানগর হিসেবে দেশ-বিদেশে পরিচিত গাজীপুর মহানগর আওয়ামী লীগের সম্মেলন ঘিরে নতুন করে প্রাণচাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে আওয়ামী পরিবারে। ১৯ নভেম্বর সম্মেলনে কে হবেন সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক তা নিয়ে ব্যাপক আলোচনা চলছে রাজধানী থেকে শুরু গাজীপুরের সর্বমহলে। নগরী জুড়ে সাজ সাজ রব। পদ প্রত্যাশী ও তাদের সমর্থকদের পোস্টার, ফেস্টুন ও তোরণে ছেয়ে গেছে পথঘাট-অলিগলি।

২০১৩ সালের ১৬ জানুয়ারি গাজীপুর সিটি কর্পোরেশন সৃষ্টি হলেও মহানগরীর মর্যাদা পায় ২০১৮ সালের ১৬ সেপ্টেম্বর গাজীপুর মেট্রোপলিটান পুলিশ প্রতিষ্ঠার পর থেকে আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম শুরু হয় ১২৮ বর্গ কিলোমিটারের এই মহানগরীর। বর্তমানে ৮টি মেট্রোপলিটান থানা এলাকা নিয়ে এই মহানগরীর রাজনৈতিক দলগুলির কর্মকান্ড শরু হয় বর্তমান ক্ষমতাসীন দলের আওয়ামী লীগের ২০১৫ সালের গঠিত কমিটির কর্মকান্ডের মাধ্যমে।

৭ বছর আগে মহানগর আওয়ামী লীগের প্রথম কমিটির সভাপতি হিসেবে এডভোকেট আজমত উল্লাহ খান এবং সাধারণ সম্পাদক হিসেবে মো. জাহাঙ্গীর আলমকে দায়িত্ব দেয়া হয়। পরে প্রায় দুই বছর পর ৭১ সদস্যবিশিষ্ট পূর্ণাঙ্গ কমিটি এবং ২১ সদস্যবিশিষ্ট উপদেষ্টা পরিষদ গঠিত হয়। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এবং মহান মুক্তিযুদ্ধ এবং জাতীয় নেতাদের সম্পর্কে বিরূপ মন্ত্যব্যের কারণে আওয়ামী লীগ থেকে আজীবনের জন্য বহিস্কৃত হন সাধারণ সম্পাদক মো.জাহাঙ্গীর আলম। পরে নানা দুর্নীতির অভিযোগে তাকে গাজীপুর সিটি কর্পোরেশনের মেয়রের পথ থেকেও সরিয়ে দেয়া হয়। বর্তমান মহানগর কমিটির সম্মেলনকে ঘিরে নতুন করে দলের নেতা কর্মীদের মধ্যে আবার ব্যাপক উৎসাহ উদ্দিপনার সৃষ্টি হয় শহিদ আহসান উল্লাহ মাস্টারের সুযোগ্য সন্তান বর্তমান যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী মো. জাহিদ আহসান রাসেল এমপিকে মহানগর সম্মেলন প্রস্তুতি কমিটির আহবায়ক নির্বাচিত করার পর থেকে। সর্বজন নন্দিত হিসেবে পরিচিত যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী মো. জাহিদ আহসান রাসেল এমপি ইতোমধ্যে এলাকায় আওয়ামী লীগকে সংগঠিত করতে গত কয়েকদিন তৃণমূল পর্যায় থেকে শুরু করে থানা ও মহানগরীর সকল সহযোগী ও অঙ্গ সংগঠনের নেতা-কর্মীদের নিয়ে দফায় দফায় সভা-সমাবেশ করছেন।

গাজীপুরের মাটি ও মানুষের কাছে সুপরিচিত নাম জননন্দিত প্রখ্যাত শ্রমিক নেতা শহিদ আহসান উল্লাহ মাস্টারের কর্ম ও গুণের কারণে আওয়ামী পরিবারের সাংগঠনিক ঐক্যের যে ঐতিহ্য ছিল তা আবার ফিরে এসেছে মহানগরীর সম্মেলনকে ঘিরে। তাই আওয়ামী পরিবারে সুশৃংখলতা এবং সাংগঠনিক ঐক্য ধরে রাখার জন্য মহানগরীর কমিটিতে জাহিদ আহসান রাসেল এমপি এবং শহিদ আহসান উল্লাহ মাস্টারের ছোট ভাই সাংগঠন প্রিয় কর্মী বান্ধব নেতা বর্তমান যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মতিউর রহমান মতির কোন বিকল্প নেই বলে রাজনৈতিক মহল মনে করছে । তাই মতিউর রহমান মতিকে গাজীপুর মহানগর আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীরা সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দেখতে চায় বলে আওয়ামী লীগের ত্যাগী নেতা কর্মী ও সমর্থকরা জানান।

আওয়ামী লীগের ত্যাগী নেতা ও কর্মীদের সমন্বয়ে গাজীপুর মহনগরীর ৭১ সদস্যবিশিষ্ট পূর্ণাঙ্গ কমিটি এবং ২১ সদস্যবিশিষ্ট উপদেষ্টা পরিষদ গঠনে নীতি নির্ধারকদের মধ্যে অনেক বেশি ভাবতে হবে আগামী গাজীপুর সিটি কর্পোরেশন নির্বাচন এবং জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে। গাজীপুর মহানগরের নেতৃত্ব হতে হবে ত্যাগী নেতা-কর্মী বান্ধব। তবেই আগামী নির্বাচন দুটি আওয়ামী পরিবারে ঘরে আসবে বলে অনেকেই মনে করছেন। ইতোমধ্যে ঐতিহাসিক রাজবাড়ী মাঠে সুবিশাল আকৃতির মঞ্চ তৈরি করা হচ্ছে। সম্মেলনে উপস্থিত থাকবেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের এমপিসহ কেন্দ্রীয় কয়েকজন আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতা।

সভাপতি পদে কমিটিতে তিনজন প্রার্থীর নাম জোরেশোরে শোনা গেলেও যুব ও ক্রীড়া মো. জাহিদ আহসান রাসেল এমপি সভাপতি পদ চান না বলে সবাইকে জানিয়ে দিয়েছেন। সভাপতি পদে অ্যাডভোকেট আজমত উল্লাহ খান ও বীর মুক্তিযোদ্ধা কাজী আলিমউদ্দিন বুদ্দিনই সাংগঠনিকভাবে ত্যাগী ও সিনিয়র। আগামী সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে মেয়র পদে অ্যাডভোকেট আজমত উল্লাহ খান একক প্রার্থী হিসেবে অনেকটা নিশ্চিত তাই তাকে কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের কোন একটি গুরুত্বপূর্ণ পদে দিয়ে বীর মুক্তিযোদ্ধা কাজী আলিমউদ্দিন বুদ্দিনকে সভাপতি ও মতিউর রহমান মতিকে সাধারণ সম্পাদক করা হলে গাজীপুর মহানগর আওয়ামী লীগ সাংগঠনিকভাবে খুবই শক্তিশালী হবে বলে দলের নেতা-কর্মীরা অভিমত প্রকাশ করেছেন। এই দুইজন হলে গাজীপুর মহানগর আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক ভিত যেমন শক্ত হবে তেমনি করে আগামী দুটি নির্বাচনী ফলাফলও আওয়ামী পরিবারের ঘরে আসবে বলে দলের নেতা কর্মী সমর্থকরা মনে করছেন। যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মো. মতিউর রহমান মতি বলেন, আমাদের সম্মেলন সফল করার জন্য সবধরণের প্রস্তুতি চলছে। সম্মেলনটি যেন মহা সম্মেলনে রূপান্তরিত হয়ে রাজবাড়ী মাঠ যেন লোকে লোকারণ্য হয় এর জন্য আমরা কাজ করছি।

সম্মেলনকে কেন্দ্র করে নেতাকর্মীদের মধ্যে ব্যাপক সাড়া পড়েছে। রাজবাড়ি মাঠ ছাড়িয়ে কয়েক লক্ষাধিক লোকের সমাবেশ ঘটবে। মহানগর আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক মো. আতাউল্লাহ মন্ডল সহসভাপতি আফজাল হোসেন সরকার রিপন,মহানগর সাংগঠনিক সম্পাদক মজিবুর রহমান, মহানগর আওয়ামী যুবলীগের আহ্বায়ক কামরুল আহসান সরকার রাসেল, সাবেক ছাত্রলীগ নেতা আব্দুল হালিম সরকার, কাউন্সিলর আব্দুল্লাহ আল মামুন মন্ডল ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ছাত্রলীগ নেতা ব্যারিস্টার সাজ্জাদুর রহমান,মোস্তফা হুমায়ুন হিমু সাধারণ সম্পাদক হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন বলে জানা যায়। আবার কেউ বলছেন তাদেরকে মহানগর কমিটিতে স্থান দিয়ে একটি শক্তিশালী কমিটি গঠন করা হবে বলে দলের কেন্দ্রীয় দায়িত্বশীল নেতৃবৃন্দ কাজ করছেন বলে আভাষ পাওয়া গেছে। আগামী দিনে নির্বাচন ও সামনের রাজপথের আন্দোলন সংগ্রামকে সামনে রেখে বিএনপিসহ বিরোধী দলকে মোকাবিলা করার জন্য আওয়ামী লীগের গাজীপুর মহানগর সম্মেলন খুবই গুরুত্বপূর্ণ।

সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্বে রাজপথের লড়াকু সৈনিক ছাড়া অন্য কেউ দায়িত্বে আসলে রাজধানীর সীমান্তবর্তী জেলা গাজীপুর মহানগরীতে একজন দক্ষ ও কর্মীবান্ধব নেতা সাধারণ সম্পাদককে দায়িত্ব দিতে হবে। এখানে দরকার সাংগঠনিক ভিত ইস্পাত কঠিন নেতৃত্ব। আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের পাশাপাশি বিরোধী শিবিরে ব্যাপক আগ্রহের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয় বিএনপি মনে করছে, মহানগর আওয়ামীলীগ রাজনীতির উত্তপ্ত সময়ে রাজপথের লড়াই সংগ্রামে নেতৃত্ব দেয়ার সঠিক নেতা নির্বাচনে ভুল করলে রাজধানী ঢাকার পাশের জেলা গাজীপুর, বিশেষ করে গাজীপুর মহানগর অঞ্চলের রাজপথ কব্জায় রাখাও জরুরী হয়ে পড়েছে সরকারি দল আওয়ামী লীগের জন্য। সামনের রাজনৈতিক আন্দোলনে রাজপথে সরকার হঠানো, সরকার টিকিয়ে রাখার সংগ্রামে গাজীপুর মহানগর আওয়ামী লীগ বিশেষ ভুমিকা পালন করবে এমনটাই মনে করছেন স্থানীয় আওয়ামী লীগ সমর্থক এবং সাধারণ মানুষজন। মহানগর আওয়ামী লীগের পদে এডভোকেট আজমত উল্লাহ খান ও সাধারণ সম্পাদক পদে মতিউর রহমান দায়িত্ব পাচ্ছেন বলে রাজনৈতিক মহল মনে করছেন।
এ নিয়ে স্থানীয় নেতাকর্মী ও রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা নানা সমীকরণ কসছেন। গাজীপুর মহানগর আওয়ামী লীগে নতুন নেতৃত্বে কারা আসছেন সেটি জানতে আরও কয়েক ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হবে।

বিজনেস বাংলাদেশ / bh

ট্যাগ :

৯ ফেব্রুয়ারি জাতির উদ্দেশে ভাষণ দেবেন জামায়াত আমির

কে হচ্ছেন গাজীপুর মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি-সম্পাদক

প্রকাশিত : ০৭:৪২:৪৩ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৮ নভেম্বর ২০২২

রাজধানী ঢাকার উপকন্ঠে ইতিহাস ঐতিহ্য ভরা রাজনীতির গুরুত্বপূর্ণ মহানগর হিসেবে দেশ-বিদেশে পরিচিত গাজীপুর মহানগর আওয়ামী লীগের সম্মেলন ঘিরে নতুন করে প্রাণচাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে আওয়ামী পরিবারে। ১৯ নভেম্বর সম্মেলনে কে হবেন সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক তা নিয়ে ব্যাপক আলোচনা চলছে রাজধানী থেকে শুরু গাজীপুরের সর্বমহলে। নগরী জুড়ে সাজ সাজ রব। পদ প্রত্যাশী ও তাদের সমর্থকদের পোস্টার, ফেস্টুন ও তোরণে ছেয়ে গেছে পথঘাট-অলিগলি।

২০১৩ সালের ১৬ জানুয়ারি গাজীপুর সিটি কর্পোরেশন সৃষ্টি হলেও মহানগরীর মর্যাদা পায় ২০১৮ সালের ১৬ সেপ্টেম্বর গাজীপুর মেট্রোপলিটান পুলিশ প্রতিষ্ঠার পর থেকে আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম শুরু হয় ১২৮ বর্গ কিলোমিটারের এই মহানগরীর। বর্তমানে ৮টি মেট্রোপলিটান থানা এলাকা নিয়ে এই মহানগরীর রাজনৈতিক দলগুলির কর্মকান্ড শরু হয় বর্তমান ক্ষমতাসীন দলের আওয়ামী লীগের ২০১৫ সালের গঠিত কমিটির কর্মকান্ডের মাধ্যমে।

৭ বছর আগে মহানগর আওয়ামী লীগের প্রথম কমিটির সভাপতি হিসেবে এডভোকেট আজমত উল্লাহ খান এবং সাধারণ সম্পাদক হিসেবে মো. জাহাঙ্গীর আলমকে দায়িত্ব দেয়া হয়। পরে প্রায় দুই বছর পর ৭১ সদস্যবিশিষ্ট পূর্ণাঙ্গ কমিটি এবং ২১ সদস্যবিশিষ্ট উপদেষ্টা পরিষদ গঠিত হয়। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এবং মহান মুক্তিযুদ্ধ এবং জাতীয় নেতাদের সম্পর্কে বিরূপ মন্ত্যব্যের কারণে আওয়ামী লীগ থেকে আজীবনের জন্য বহিস্কৃত হন সাধারণ সম্পাদক মো.জাহাঙ্গীর আলম। পরে নানা দুর্নীতির অভিযোগে তাকে গাজীপুর সিটি কর্পোরেশনের মেয়রের পথ থেকেও সরিয়ে দেয়া হয়। বর্তমান মহানগর কমিটির সম্মেলনকে ঘিরে নতুন করে দলের নেতা কর্মীদের মধ্যে আবার ব্যাপক উৎসাহ উদ্দিপনার সৃষ্টি হয় শহিদ আহসান উল্লাহ মাস্টারের সুযোগ্য সন্তান বর্তমান যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী মো. জাহিদ আহসান রাসেল এমপিকে মহানগর সম্মেলন প্রস্তুতি কমিটির আহবায়ক নির্বাচিত করার পর থেকে। সর্বজন নন্দিত হিসেবে পরিচিত যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী মো. জাহিদ আহসান রাসেল এমপি ইতোমধ্যে এলাকায় আওয়ামী লীগকে সংগঠিত করতে গত কয়েকদিন তৃণমূল পর্যায় থেকে শুরু করে থানা ও মহানগরীর সকল সহযোগী ও অঙ্গ সংগঠনের নেতা-কর্মীদের নিয়ে দফায় দফায় সভা-সমাবেশ করছেন।

গাজীপুরের মাটি ও মানুষের কাছে সুপরিচিত নাম জননন্দিত প্রখ্যাত শ্রমিক নেতা শহিদ আহসান উল্লাহ মাস্টারের কর্ম ও গুণের কারণে আওয়ামী পরিবারের সাংগঠনিক ঐক্যের যে ঐতিহ্য ছিল তা আবার ফিরে এসেছে মহানগরীর সম্মেলনকে ঘিরে। তাই আওয়ামী পরিবারে সুশৃংখলতা এবং সাংগঠনিক ঐক্য ধরে রাখার জন্য মহানগরীর কমিটিতে জাহিদ আহসান রাসেল এমপি এবং শহিদ আহসান উল্লাহ মাস্টারের ছোট ভাই সাংগঠন প্রিয় কর্মী বান্ধব নেতা বর্তমান যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মতিউর রহমান মতির কোন বিকল্প নেই বলে রাজনৈতিক মহল মনে করছে । তাই মতিউর রহমান মতিকে গাজীপুর মহানগর আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীরা সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দেখতে চায় বলে আওয়ামী লীগের ত্যাগী নেতা কর্মী ও সমর্থকরা জানান।

আওয়ামী লীগের ত্যাগী নেতা ও কর্মীদের সমন্বয়ে গাজীপুর মহনগরীর ৭১ সদস্যবিশিষ্ট পূর্ণাঙ্গ কমিটি এবং ২১ সদস্যবিশিষ্ট উপদেষ্টা পরিষদ গঠনে নীতি নির্ধারকদের মধ্যে অনেক বেশি ভাবতে হবে আগামী গাজীপুর সিটি কর্পোরেশন নির্বাচন এবং জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে। গাজীপুর মহানগরের নেতৃত্ব হতে হবে ত্যাগী নেতা-কর্মী বান্ধব। তবেই আগামী নির্বাচন দুটি আওয়ামী পরিবারে ঘরে আসবে বলে অনেকেই মনে করছেন। ইতোমধ্যে ঐতিহাসিক রাজবাড়ী মাঠে সুবিশাল আকৃতির মঞ্চ তৈরি করা হচ্ছে। সম্মেলনে উপস্থিত থাকবেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের এমপিসহ কেন্দ্রীয় কয়েকজন আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতা।

সভাপতি পদে কমিটিতে তিনজন প্রার্থীর নাম জোরেশোরে শোনা গেলেও যুব ও ক্রীড়া মো. জাহিদ আহসান রাসেল এমপি সভাপতি পদ চান না বলে সবাইকে জানিয়ে দিয়েছেন। সভাপতি পদে অ্যাডভোকেট আজমত উল্লাহ খান ও বীর মুক্তিযোদ্ধা কাজী আলিমউদ্দিন বুদ্দিনই সাংগঠনিকভাবে ত্যাগী ও সিনিয়র। আগামী সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে মেয়র পদে অ্যাডভোকেট আজমত উল্লাহ খান একক প্রার্থী হিসেবে অনেকটা নিশ্চিত তাই তাকে কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের কোন একটি গুরুত্বপূর্ণ পদে দিয়ে বীর মুক্তিযোদ্ধা কাজী আলিমউদ্দিন বুদ্দিনকে সভাপতি ও মতিউর রহমান মতিকে সাধারণ সম্পাদক করা হলে গাজীপুর মহানগর আওয়ামী লীগ সাংগঠনিকভাবে খুবই শক্তিশালী হবে বলে দলের নেতা-কর্মীরা অভিমত প্রকাশ করেছেন। এই দুইজন হলে গাজীপুর মহানগর আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক ভিত যেমন শক্ত হবে তেমনি করে আগামী দুটি নির্বাচনী ফলাফলও আওয়ামী পরিবারের ঘরে আসবে বলে দলের নেতা কর্মী সমর্থকরা মনে করছেন। যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মো. মতিউর রহমান মতি বলেন, আমাদের সম্মেলন সফল করার জন্য সবধরণের প্রস্তুতি চলছে। সম্মেলনটি যেন মহা সম্মেলনে রূপান্তরিত হয়ে রাজবাড়ী মাঠ যেন লোকে লোকারণ্য হয় এর জন্য আমরা কাজ করছি।

সম্মেলনকে কেন্দ্র করে নেতাকর্মীদের মধ্যে ব্যাপক সাড়া পড়েছে। রাজবাড়ি মাঠ ছাড়িয়ে কয়েক লক্ষাধিক লোকের সমাবেশ ঘটবে। মহানগর আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক মো. আতাউল্লাহ মন্ডল সহসভাপতি আফজাল হোসেন সরকার রিপন,মহানগর সাংগঠনিক সম্পাদক মজিবুর রহমান, মহানগর আওয়ামী যুবলীগের আহ্বায়ক কামরুল আহসান সরকার রাসেল, সাবেক ছাত্রলীগ নেতা আব্দুল হালিম সরকার, কাউন্সিলর আব্দুল্লাহ আল মামুন মন্ডল ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ছাত্রলীগ নেতা ব্যারিস্টার সাজ্জাদুর রহমান,মোস্তফা হুমায়ুন হিমু সাধারণ সম্পাদক হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন বলে জানা যায়। আবার কেউ বলছেন তাদেরকে মহানগর কমিটিতে স্থান দিয়ে একটি শক্তিশালী কমিটি গঠন করা হবে বলে দলের কেন্দ্রীয় দায়িত্বশীল নেতৃবৃন্দ কাজ করছেন বলে আভাষ পাওয়া গেছে। আগামী দিনে নির্বাচন ও সামনের রাজপথের আন্দোলন সংগ্রামকে সামনে রেখে বিএনপিসহ বিরোধী দলকে মোকাবিলা করার জন্য আওয়ামী লীগের গাজীপুর মহানগর সম্মেলন খুবই গুরুত্বপূর্ণ।

সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্বে রাজপথের লড়াকু সৈনিক ছাড়া অন্য কেউ দায়িত্বে আসলে রাজধানীর সীমান্তবর্তী জেলা গাজীপুর মহানগরীতে একজন দক্ষ ও কর্মীবান্ধব নেতা সাধারণ সম্পাদককে দায়িত্ব দিতে হবে। এখানে দরকার সাংগঠনিক ভিত ইস্পাত কঠিন নেতৃত্ব। আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের পাশাপাশি বিরোধী শিবিরে ব্যাপক আগ্রহের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয় বিএনপি মনে করছে, মহানগর আওয়ামীলীগ রাজনীতির উত্তপ্ত সময়ে রাজপথের লড়াই সংগ্রামে নেতৃত্ব দেয়ার সঠিক নেতা নির্বাচনে ভুল করলে রাজধানী ঢাকার পাশের জেলা গাজীপুর, বিশেষ করে গাজীপুর মহানগর অঞ্চলের রাজপথ কব্জায় রাখাও জরুরী হয়ে পড়েছে সরকারি দল আওয়ামী লীগের জন্য। সামনের রাজনৈতিক আন্দোলনে রাজপথে সরকার হঠানো, সরকার টিকিয়ে রাখার সংগ্রামে গাজীপুর মহানগর আওয়ামী লীগ বিশেষ ভুমিকা পালন করবে এমনটাই মনে করছেন স্থানীয় আওয়ামী লীগ সমর্থক এবং সাধারণ মানুষজন। মহানগর আওয়ামী লীগের পদে এডভোকেট আজমত উল্লাহ খান ও সাধারণ সম্পাদক পদে মতিউর রহমান দায়িত্ব পাচ্ছেন বলে রাজনৈতিক মহল মনে করছেন।
এ নিয়ে স্থানীয় নেতাকর্মী ও রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা নানা সমীকরণ কসছেন। গাজীপুর মহানগর আওয়ামী লীগে নতুন নেতৃত্বে কারা আসছেন সেটি জানতে আরও কয়েক ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হবে।

বিজনেস বাংলাদেশ / bh