আল কায়েদার সাবেক প্রধান ওসামা বিন লাদেনের সন্ধানদাতা পাকিস্তানি চিকিৎসক শাকিল আফ্রিদিকে মুক্ত করতে সিআইএর জেলখানা ভাঙার পরিকল্পনা ব্যর্থ করে দিয়েছে পাকিস্তানের গোয়েন্দা সংস্থা আইএসআই। পরিচয় প্রকাশে অনিচ্ছুক একটি সূত্রের বরাতে রাশিয়ার সংবাদমাধ্যম স্পুটনিককে জানিয়েছে, পেশোয়ার কারাগার ভেঙে সেখান থেকে ডা. শাকিল আফ্রিদিকে মুক্ত করার পরিকল্পনা করেছিল সিআইএ।
কিন্তু পরিকল্পনাটি ভুল করে দেয় পাকিস্তানি গোয়েন্দা সংস্থা আইএসআই। একই সঙ্গে সিআইয়ের সঙ্গে কাজ করছে, এমন এক ‘ডাবল এজেন্ট’ সিআইয়ের পরিকল্পনাটি আইএসআইকে জানিয়ে দেয়। স্পুটনিককে এ পরিকল্পনার কথা আরেকটি সূত্রও নিশ্চিত করেছে। সূত্রটি জানায়, এর আগে আফ্রিদিকে তাদের কাছে হস্তান্তর করার জন্য পাকিস্তানকে অনুরোধ করেছিল যুক্তরাষ্ট্র।
একটি সূত্র জানায়, অন্য গোয়েন্দা সংস্থার সঙ্গে কাজ করেও যারা সিআইএকে তথ্য দেয়, তাদের জন্য বিশেষ সুরক্ষার ব্যবস্থা করে থাকে যুক্তরাষ্ট্র। এ কারণেই সিআইএ বারবার অনুরোধ করেছিল আফ্রিদিকে তাদের কাছে দিয়ে দিতে। পাকিস্তানের কাছে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প যেসব প্রধান দাবি করেছিলেন, তার একটি ছিল আফ্রিদিকে তাদের হাতে তুলে দেয়া।সূত্রটি জানায়, এশিয়া অঞ্চলে আরেকটি সিআইএর অভিযানের জন্য আফ্রিদিকে মুক্ত করা এবং তাকে যুক্তরাষ্ট্রে নিয়ে যাওয়া খুবই গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। কিন্তু পাকিস্তানের সামরিক বাহিনী চাচ্ছে না ডা. আফ্রিদিকে মুক্ত করতে।
কারণ তারা বিশ্বাস করে, এতে দেশের সার্বভৌমত্ব নস্যাৎ হবে। তা ছাড়া দেশের আইনিব্যবস্থাও ক্ষতিগ্রস্ত হবে। তা ছাড়া এতে মার্কিন গোয়েন্দা কার্যক্রম জোরদার হবে। আফিয়া সিদ্দিকির বদলে আফ্রিদিকে হস্তান্তরের প্রস্তাবও পাকিস্তান প্রত্যাখ্যান করেছে। ডা. আফ্রিদিকে পেশোয়ারের একটি কারাগার থেকে অন্যত্র সরিয়ে নেয়ার খবর প্রকাশিত হওয়ার প্রেক্ষাপটে এ তথ্য সামনে এলো।
তাকে মুক্ত করতে কারাগার ভাঙা হতে পারে, এমন আভাস পেয়েই তাকে অন্য কারাগারে সরিয়ে নেয়া হয়। সূত্রটি জানায়, পাকিস্তান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার সম্পর্কোন্নয়নে আফ্রিদির মুক্তিও একটি বড় বাধা।আফ্রিদিকে মুক্ত করার একটি পরিকল্পনা পাকিস্তান ভ-ুল করে দিয়েছে- এমন খবরে মন্তব্য করতে অস্বীকার করেছে সিআইএ। এদিকে সোমবার মার্কিন পররাষ্ট্র দফতরের এক কর্মকর্তা স্পুটনিককে বলেন, যুক্তরাষ্ট্র আশা করে, পাকিস্তান কর্তৃপক্ষ শাকিল আফ্রিদির নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।
উল্লেখ্য, ওসামা বিন লাদেনকে ২০১১ সালের মে মাসে হত্যা করার পর মার্কিন মিডিয়ায় খবর প্রকাশিত হয়, সিআইএর ওই অভিযান সফল হওয়ার পেছনে আফ্রিদির ভূমিকা ছিল। তিনি বিন লাদেনের পরিবারের ডিএনএ নমুনা সিআইএর হাতে তুলে দিয়েছিলেন।ওই সময়ের সিআইএ পরিচালক লিয়ন পেনেত্তা ও মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিলারি ক্লিনটনও বিষয়টি নিশ্চিত করেছিলেন। যুক্তরাষ্ট্রের ওই অভিযানের ফলে পাকিস্তানের সঙ্গে দেশটির সম্পর্কে অবনতি ঘটে। সূত্র : স্পুতনিক

























