০৬:২৩ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৭ মার্চ ২০২৬

ইমামকে দিগম্বর করে ভিডিও ধারণকারী গ্রেফতার

গাজীপুরে জুমার বয়ানে মাদকের কুফল নিয়ে আলোচনার জেরে মসজিদের ইমামকে মারধর ও দিগম্বর করে ভিডিও ধারণ করার মামলার প্রধান আসামী মফিজুর রহমান টুটুলকে মঙ্গলবার দুপুরে গ্রেফতার করেছে মহানগর গাছা থানা পুলিশ। টুটুল গাছা থানার চান্দরা এলাকার একজন চিহ্নিত মাদক কারবারি। টুটুল ও তার সহযোগীদের অত্যাচারে এলাকার মানুষ অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছিল। মঙ্গলবার বিকেলে গাছা থানায় এক প্রেস ব্রিফিংয়ে জিএমপি দক্ষিণ বিভাগের কর্মকর্তারা এ তথ্য জানান।
এদিকে সরেজমিনে চান্দরা আল আকসা জামে মসজিদ ও মসজিদ সংলগ্ন দারুল হাবিব মাদ্রাসায় গিয়ে ভুক্তভোগী ইমাম মুফতি শফিকুল ইসলাম তালুকদারকে পাওয়া যায়নি। মাদ্রাসাটির প্রধান ফটকে তালা ঝুলতে দেখা গেছে। মুসল্লিরা জানান, আলোচিত ঘটনার পর তিনি দুই মাসের ছুটি নিয়ে গ্রামের বাড়ি নেত্রকোনায় চলে গেছেন। তার পরিচালিত দারুল হাবিব মাদ্রাসাটিও সাময়িক বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। আসরের নামাজের সময় কথা হয় মুসল্লি শামসুল হকের সাথে। তিনি বলেন, ‘আমার বাড়ি অন্য মহল্লায়। আমাদের মহল্লার মসজিদের পরিবর্তে আমি এই মসজিদের ইমামের পেছনেই বেশি নামাজ পড়ি। এই ইমামের সূরা-কিরাত উচ্চারণ আমার খুব ভালো লাগে, তার বয়ান শুনলে হৃদয় কেঁপে উঠে।’
অপরদিকে মাদকের প্রসঙ্গে জানতে চাইলে স্থানীয়রা অভিযোগ করে জানান, মাদক কারবারি টুটুল ও তার সহযোগীদের অত্যাচারে এলাকাবাসী অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছেন। টুটুল ও তার বড় ভাই সরকারি দল আওয়ামী লীগের রাজনীতির সাথে সম্পৃক্ত হওয়ায় কেউ প্রতিবাদ করার সাহস পান না। তাছাড়া টুটুল গাজীপুর সিটি করপোরেশনের গাছা অঞ্চলের প্রভাবশালী একজন ওয়ার্ড কাউন্সিলরের ঘনিষ্ট লোক হিসেবে এলাকায় পরিচিত এবং একসময় সাবেক গাছা ইউনিয়ন ছাত্রলীগের একজন প্রভাবশালী নেতার সাথে ঝুট ব্যবসাও করতেন টুটুল। মসজিদের একজন মুসল্লি মাদকের বাস্তব চিত্র দেখানোর জন্য সংবাদকর্মীদেরকে মসজিদে যাওয়ার রাস্তায় নিয়ে যান। এসময় ওই রাস্তার পাশে বাউন্ডারি বেষ্টিত একটি খালি জায়গায় ফেনসিডিলের খালি বোতল ছড়িয়ে ছিটিয়ে পড়ে থাকতে দেখা গেছে।
উল্লেখ্য, জুমার বয়ানে মাদকের কুফল নিয়ে আলোচনা করায় মসজিদের ইমামকে মারধর ও দিগম্বর করে ভিডিও ধারণ করার সংবাদ গত সোমবার দৈনিক নয়া দিগন্তসহ বিভিন্ন জাতীয় দৈনিকে প্রকাশ হওয়ার পর প্রশাসনের টনক নড়ে। এ ঘটনায় সোমবার বিকেলে পুলিশের পক্ষ থেকে ওই এলাকায় মাদক বিরোধী সমাবেশ করা হয়। এ সমাবেশে একাধিক বক্তা পুলিশ কর্মকর্তাদের উদ্দেশ্যে বলেন, ‘মাদক কারবারিদের কবল থেকে আমাদেরকে বাঁচান, আমরা পরিবার পরিজন নিয়ে বাঁচতে চাই।’

বিজনেস বাংলাদেশ/ bh

ট্যাগ :
জনপ্রিয়

ছাত্রদলের নতুন কমিটির আলোচনায় বারবার গুম হওয়া ছাত্রদল নেতা আবু হান্নান তালুকদার

ইমামকে দিগম্বর করে ভিডিও ধারণকারী গ্রেফতার

প্রকাশিত : ০৭:৪৮:২০ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৩

গাজীপুরে জুমার বয়ানে মাদকের কুফল নিয়ে আলোচনার জেরে মসজিদের ইমামকে মারধর ও দিগম্বর করে ভিডিও ধারণ করার মামলার প্রধান আসামী মফিজুর রহমান টুটুলকে মঙ্গলবার দুপুরে গ্রেফতার করেছে মহানগর গাছা থানা পুলিশ। টুটুল গাছা থানার চান্দরা এলাকার একজন চিহ্নিত মাদক কারবারি। টুটুল ও তার সহযোগীদের অত্যাচারে এলাকার মানুষ অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছিল। মঙ্গলবার বিকেলে গাছা থানায় এক প্রেস ব্রিফিংয়ে জিএমপি দক্ষিণ বিভাগের কর্মকর্তারা এ তথ্য জানান।
এদিকে সরেজমিনে চান্দরা আল আকসা জামে মসজিদ ও মসজিদ সংলগ্ন দারুল হাবিব মাদ্রাসায় গিয়ে ভুক্তভোগী ইমাম মুফতি শফিকুল ইসলাম তালুকদারকে পাওয়া যায়নি। মাদ্রাসাটির প্রধান ফটকে তালা ঝুলতে দেখা গেছে। মুসল্লিরা জানান, আলোচিত ঘটনার পর তিনি দুই মাসের ছুটি নিয়ে গ্রামের বাড়ি নেত্রকোনায় চলে গেছেন। তার পরিচালিত দারুল হাবিব মাদ্রাসাটিও সাময়িক বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। আসরের নামাজের সময় কথা হয় মুসল্লি শামসুল হকের সাথে। তিনি বলেন, ‘আমার বাড়ি অন্য মহল্লায়। আমাদের মহল্লার মসজিদের পরিবর্তে আমি এই মসজিদের ইমামের পেছনেই বেশি নামাজ পড়ি। এই ইমামের সূরা-কিরাত উচ্চারণ আমার খুব ভালো লাগে, তার বয়ান শুনলে হৃদয় কেঁপে উঠে।’
অপরদিকে মাদকের প্রসঙ্গে জানতে চাইলে স্থানীয়রা অভিযোগ করে জানান, মাদক কারবারি টুটুল ও তার সহযোগীদের অত্যাচারে এলাকাবাসী অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছেন। টুটুল ও তার বড় ভাই সরকারি দল আওয়ামী লীগের রাজনীতির সাথে সম্পৃক্ত হওয়ায় কেউ প্রতিবাদ করার সাহস পান না। তাছাড়া টুটুল গাজীপুর সিটি করপোরেশনের গাছা অঞ্চলের প্রভাবশালী একজন ওয়ার্ড কাউন্সিলরের ঘনিষ্ট লোক হিসেবে এলাকায় পরিচিত এবং একসময় সাবেক গাছা ইউনিয়ন ছাত্রলীগের একজন প্রভাবশালী নেতার সাথে ঝুট ব্যবসাও করতেন টুটুল। মসজিদের একজন মুসল্লি মাদকের বাস্তব চিত্র দেখানোর জন্য সংবাদকর্মীদেরকে মসজিদে যাওয়ার রাস্তায় নিয়ে যান। এসময় ওই রাস্তার পাশে বাউন্ডারি বেষ্টিত একটি খালি জায়গায় ফেনসিডিলের খালি বোতল ছড়িয়ে ছিটিয়ে পড়ে থাকতে দেখা গেছে।
উল্লেখ্য, জুমার বয়ানে মাদকের কুফল নিয়ে আলোচনা করায় মসজিদের ইমামকে মারধর ও দিগম্বর করে ভিডিও ধারণ করার সংবাদ গত সোমবার দৈনিক নয়া দিগন্তসহ বিভিন্ন জাতীয় দৈনিকে প্রকাশ হওয়ার পর প্রশাসনের টনক নড়ে। এ ঘটনায় সোমবার বিকেলে পুলিশের পক্ষ থেকে ওই এলাকায় মাদক বিরোধী সমাবেশ করা হয়। এ সমাবেশে একাধিক বক্তা পুলিশ কর্মকর্তাদের উদ্দেশ্যে বলেন, ‘মাদক কারবারিদের কবল থেকে আমাদেরকে বাঁচান, আমরা পরিবার পরিজন নিয়ে বাঁচতে চাই।’

বিজনেস বাংলাদেশ/ bh