চট্টগ্রামের সাতকানিয়ায় এক বিধবা নারীর স্বামীর পৈত্রিক সম্পত্তি দখলের চেষ্টা এবং এলাকা ছাড়ার হুমকির অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় কিশোর গ্যাং লিডার আলী আকবর মিনহাজের বিরুদ্ধে। মঙ্গলবার (১২ মে)রাতে কেরানীহাটে একটি রেস্টুরেন্টে ভুক্তভোগী রিজিয়া বেগম প্রশাসনের কাছে নিজের ও সন্তানদের জীবনের নিরাপত্তা চেয়ে সংবাদ সম্মেলন করেন।
লিখিত বক্তব্যে রিজিয়া বেগম জানান, সাতকানিয়া থানাধীন রামপুর মৌজার বি.এস ১১৭২ ও ১১৭৩ নং খতিয়ানের ৪৯৩০ ও ৪৯৩১ দাগের ০২ গণ্ডা আধা কড়া জায়গা তার স্বামীর পৈত্রিক ও দলিলমূলে প্রাপ্ত সম্পত্তি। বর্তমানে ওই জায়গাটি জনৈক ইকবাল গংয়ের দখলে রয়েছে।
তিনি আরও জানান, বর্তমানে তিনি ইকবাল গংয়ের মালিকানাধীন বি.এস ১১৭৪ নং খতিয়ানের ৪৯২৯ দাগের অন্দরে মাত্র ০১ গণ্ডা জায়গায় বসবাস করছেন, যা তাদের প্রাপ্য দলিলমূলে প্রাপ্ত সম্পত্তির চেয়ে এক গণ্ডা কম।
রিজিয়া বেগম অভিযোগ করেন, তার দেবরের ছেলে ও স্থানীয় কিশোর গ্যাং লিডার হিসেবে পরিচিত আলী আকবর মিনহাজ দীর্ঘদিন ধরে তাকে বসতবাড়ি থেকে উচ্ছেদের চেষ্টা চালিয়ে আসছে। মিনহাজ প্রায়ই দলবল নিয়ে বাড়ির সামনে শোডাউন দেয় এবং অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করে।
তিনি বলেন, গত ২৮ জুন ২০২৫ রাত আনুমানিক ১০টার দিকে মিনহাজের নেতৃত্বে ১৫ থেকে ২০ জনের একটি সশস্ত্র দল তার বাড়িতে হামলা চালায়। এ সময় বাধা দিতে গেলে তাকে ও তার সন্তানদের মিথ্যা মামলায় জড়ানোসহ প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়।
ভুক্তভোগীর দাবি, গত ০৩ মে ২০২৬ মিনহাজ সাতকানিয়া থানায় তার সন্তানদের নামে একটি মিথ্যা জিডি করেন। এ বিষয়ে এসআই বেলাল হোসেনের তত্ত্বাবধানে থানায় বৈঠক চলাকালে মিনহাজ প্রকাশ্যে স্কুল প্রহরী নুরুল হুদা সুজনকে ঘুষি মেরে মাটিতে ফেলে দেন।
এ বিষয়ে এসআই বেলাল বলেন,ঐদিন সুজনকে ঘুষি মারার বিষয়টি সত্য এছাড়া তারা থানার বাইরে গিয়েও মারামারি করেছেন ।
এদিকে আহত সুজনকে সাতকানিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হলে মিনহাজ পুনরায় ১৪ থেকে ১৫ জন সহযোগী নিয়ে হাসপাতালে হামলার চেষ্টা চালায় বলেও অভিযোগ করেন তিনি। চিকিৎসা শেষে ফেরার পথে সাতকানিয়া কালী মন্দির এলাকায় সুজনের ওপর আবারও হামলা চালিয়ে মারধর করা হয় এবং তাকে শহীদ মিনারের সামনে ফেলে রাখা হয় বলে দাবি করা হয়।
বর্তমানে রিজিয়া বেগম ও তার সন্তানেরা চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন উল্লেখ করে তিনি বলেন, “মিনহাজ ও তার গ্যাংয়ের ভয়ে আমরা বাড়িতে শান্তিতে থাকতে পারছি না। তারা যেকোনো সময় আমাদের বড় ধরনের ক্ষতি করতে পারে। আমি প্রশাসনের কাছে জোর দাবি জানাই, দ্রুত তাকে গ্রেফতার করে আইনের আওতায় আনা হোক।”
মিনহাজের বিরুদ্ধে অভিযোগ থানায় গ্রহণ করেনি এমন বক্তব্য রিজিয়া বেগমের।
সাতকানিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ ওসি জাহাঙ্গীর আলম এর কাছে এ বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন,গত ৬ মে তিনি সাতকানিয়া থানায় যোগদান করেছেন তাই এ বিষয় অবগত নয়,তবে কেউ অভিযোগ দিতে চাইলে থানা কেন গ্রহণ করবে না, অভিযোগ না নেওয়ার কোন সুযোগ নেই, অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে অবশ্যই ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
এ ঘটনায় সাতকানিয়া থানা প্রশাসনের দ্রুত হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন ভুক্তভোগী পরিবার ও স্থানীয় সচেতন মহল।
ডিএস./























