০৯:২৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৭ জানুয়ারী ২০২৬

নিজের নাম ভুলে গেছি

সাবেক স্বামী পারভেজ সানজারির বিরুদ্ধে নির্যাতনের অভিযোগ এনে গত বছরের অক্টোবরে হইচই ফেলে দিয়েছিলেন পপ সংগীতশিল্পী মিলা ইসলাম। মাঝে দীর্ঘ বিরতির পর সানজারির বিরুদ্ধে ফের বিভিন্ন অভিযোগ করেছেন তিনি।

১০ বছর প্রেম করার পর গত বছরের ১২ মে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হয়েছিলেন সানজারি ও মিলা। সানজারি পেশায় একজন বৈমানিক। বিয়ের প্রায় পাঁচ মাসের মাথায় তাদের সংসার রূপ নিয়েছিল বিষাদে।

স্বামী পারভেজ শারীরিক ও মানসিকভাবে নির্যাতন করতেন বলে সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যম ফেসবুকে গত বছরের ৬ অক্টোবর স্ট্যাটাস দিয়েছিলেন মিলা। এর আগে ৫ অক্টোবর রাতে মিলা বাদী হয়ে উত্তরা (পশ্চিম) থানায় মারধর ও যৌতুকের অভিযোগে তার স্বামীর বিরুদ্ধে মামলা করেছিলেন। এই মামলার পরিপ্রেক্ষিতে সেই রাতেই পারভেজকে গ্রেফতার করেছিল পুলিশ। পরবর্তী সময়ে মিলার সঙ্গে পারভেজের বিবাহ বিচ্ছেদ হয়ে যায়।

ওই ঘটনার সাত মাস পর ৯ মে, বুধবার একটি স্ট্যাটাস দেন মিলা। সেই স্ট্যাটাসে তিনি লিখেন, “আমার সাথে যা-ই হচ্ছে, আমি গত ছয় মাস চুপ ছিলাম…সবাই জিজ্ঞেস করে যাচ্ছে, মিলা মেয়েটা কী গেল? সবাই অবাক হবে যখন জানতে পারবে, আমার সাথে কী করা হয়েছে একটা মামলার জন্যে। কীভাবে আমাকে আমার সকল সাক্ষী, আমার মেডিকেল রিপোর্ট গায়েব করার চেষ্টা করা হয়েছে। এমনকি আমার পুলিশ রিপোর্ট বদলাবার জন্য রিপোর্ট মাঝ রাতে ফেরত আনা হয়। যদিও পুলিশের কর্মকর্তাগণ এই অনৈতিক কাজে আসামি ও তার পক্ষের যারা কাজ করছে, তাদের কোনো পাত্তা না দিয়ে আসামির নামে ‘খ’ ও ‘গ’ ধারায় সকল অভিযোগ প্রমাণিত করে চার্জশিট দাখিল করেছে।

আমি প্রতি মুহূর্তে এই মামলার পর আমার সাথে আসামির বিভিন্ন হোমরা-চোমরা হ্যাডম দ্বারা যেভাবে অপদস্ত হয়েছে, আমাকে এই মামলা তুলে ফেলার জন্যে আসামি জেলে থাকার সময় সামাজিকভাবে বদনাম করে দেওয়ার অনেক চেষ্টা করা হয়। আমার ওপর অন্যায়কারী ২০ দিনে ছাড়া পেয়ে যায় কোর্ট থেকে, পুরাই অযোক্তিকভাবে জামিন নিয়ে।

ছয় মাস পার হয়ে গিয়েছে। আমি চুপ ছিলাম। কারণ অন্যায়কারী অন্য কেউ নয়। আমি বলতেও চাই না তার সাথে আমার সম্পর্কের নাম। কারণ হি ইজ আ ডিজগ্রেস ফর দ্যাট হলি রিলেশনশিপ।

বাট নাউ ইজ টাইম। এই ছেলে আমার পিছনে কত বিশাল টিম বানিয়ে আমাকে ধামাচাপা দেওয়ার ট্রাই করেছে, এগুলা আমি সব সামনে আনব।

শুধু এই আসামি না তার সাথে টাফ প্রতিষ্ঠানের আরও দুইজন পাইলট, যারা কোনোদিন আমাকে দেখে নাই বা কথাও বলে নাই, তারা আমাকে এমনভাবে হেনস্তা করেছে, তা ভাবা যায় না। তারা জেলে যায় আসামির সাথে দেখা করতে এবং তারাই বলেছেন, আসামি তাদের বলেছিল, ‘ফিনিশ হার ফ্রম এভরিহয়ার’। তারা তাই করেন। আমার বাবাসহ আমাকে বিভিন্ন সামাজিকমাধ্যমে তারা এমন কোনো নোংরা অপবাদ নাই, যা দেয় নাই।

ভাবতে অবাক লাগে, যার হাত বাবা রক্ষক হিসেবে তুলে দিয়েছিলেন, সেই ছেলে ভক্ষক হিসেবে সামনে আজকে। তার পরিবার, তার কর্মস্থলের বন্ধুরা ,এমনকি তার গার্লফ্রেন্ডরা সবাই তার পরিচালনায় আমার জীবনকে অন্ধকারে আটকে ফেলেছে।

আমি শিল্পী বা সেলিব্রেটি হওয়ার কারণে তারা আমাকে আর বেশি নোংরা আজেবাজে কথা বলে অসম্মানিত করেন। বারবার বলেন, (প্রকাশের অযোগ্য)। আমি জানতে চাই, এই আসামি কীভাবে এত বড় অপরাধের পর জামিন পেয়ে বুক ফুলিয়ে ফ্লাই করে?

জামিন পাওয়ার মাত্র এক সপ্তাহ পরে তাকে আমাকে না জানতে দিয়ে দেশের বাইরে পাঠিয়ে দেওয়া হয় তার কোম্পানি থেকে। তাকে মাথা ফ্রেশ করার উদ্দেশ্যে তার স্ত্রীকে তোয়াক্কা না করে তারা তাকে পার করে দেয়। তাদের বিন্দুমাত্র লজ্জাও লাগে নাই যে, এই স্ত্রী তার নিজের চোখে ছেলেটার অবৈধ সম্পর্কের একটি ছবি ইন্টারনেটে সয়লাব হয়ে যেতে দেখে, যেই ছবির মেয়েটি তাদের এয়ারলাইনের একটা বুয়া।

এক তো নিয়ম অনুযায়ী এই ছেলের সাসপেন্ড হয়ে যাওয়ার কথা। দুই, এই এয়ারলাইনের মধ্যে থেকে শেষমেশ এই রকম অনৈতিক জঘন্য সম্পর্কে জড়ানো প্রমাণসহ সামনে দেখতে পাই আমি একজন স্ত্রী হয়ে। তৃতীয় এরপরও তারা আমাকে স্ত্রী হিসাবে সম্মান না দিয়ে আরও দুইজন পাইলট উল্টা আমি রকস্টার বলে আমাকে বাজে মেয়ে বলে প্রমাণ করে এই মামলা উল্টে দিতে চায়।

তালাকের পরামর্শে তাকে মাথায় তুলে পোস্টারবয় বানায়। কোনো ব্যাপার না, তোমারে আমরা বাঁচাব বলে আমার পুরিপোর্ট ধামাচাপা দিতে যায় এবং একজন জেল ফেরত পারভার্টেড ক্রিমিনালের যাত্রীর জীবনের দায়ভার ছেড়ে দিয়ে মশকরা করে যাচ্ছে।

যেই ছেলে অমানুষের মতো ব্যবহার করে সদ্য বিবাহিত স্ত্রীকে এত কষ্ট দিতে পারে শুধুমাত্র বুয়াদের জন্যে, ওই ছেলেকে দিয়ে ফ্লাই করায় কী করে? ওই ছেলে তো বুয়া নিয়ে ককপিটে পার্টি করবে। জেল ফেরত একটা উন্মাদ হিংস্র ছেলে কতটাই বা মানসিকভাবে স্বাভাবিক যে, তার ওপর এত যাত্রীর দায়িত্ব দিয়ে রাখে।

অন্যায়কে প্রশ্রয় দিলো, অপরাধীকে মাথায় উঠিয়ে তার স্ত্রীকে বেইজ্জত করে অপরাধীর অপরাধবোধ ও উপলব্ধি দিলো। না তার ওপর আমার মানসম্মান, আমার সংসার, আমার আত্মমর্যাদা, আমার শিল্পী হবার গর্বকে কুপিয়ে কুপিয়ে মেরে ফেলা হলো।

আমি এদের প্রত্যেকের বিচার চাই এখন। প্রতিটা মানুষ, যারা আমি একজন মেয়ে আর দুর্ভাগ্যক্রমে এই দেশের একজন মহিলা রকস্টার হবার কারণে আমার এই অপ্রত্যাশিত দুর্ঘটনার সুযোগে আমাকে লাঞ্ছিত করেছে। যারা আমার মামলা ধামাচাপা দেওয়ার ট্রাই করেছে, যারা শুধু মজা দেখার জন্য আমাকে আজ এ রকম অশান্তিতে ফেলে দিয়েছে, তাদের কাউকে আমি ছাড়ব না।

আজ আমি চুপ হয়ে গেলে কোনোদিন কোনো মেয়ে সামাজিক ফাঁপরের ভয়ে বিচার চাইবে না। হ্যাঁ, ভালোবেসেছিলাম আমি। কিন্তু আমার এই ভালোবাসা যেভাবে আমার মানসম্মান, আমার আত্মাকে ধর্ষণ করায় এতগুলা মানুষ দ্বারা জেল থেকে প্রতিশোধের জন্যে নিজের গুনাহ চাপা দিতে, তাকে আমি ঘৃণা করি।

দেশের মানুষদের যদি আমি কোনোদিন একটু হাসি এনে দিয়ে থাকি শিল্পী হিসেবে, তাহলে আমার প্রতিদিনের কান্নায় ডুবে থাকা দিনগুলোর জন্যে, আমার মতো যত মেয়েদের এ রকমভাবে গেড়ে দেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে বিচার চাইবার কারণে, আর যাতে এই দুঃসাহস কেউ না করে তোমরা প্রতিবাদ করো।

এই ছেলের জামিন বাতিল হোক। আমি গান ভুলে গিয়েছি আজকে এই মুখোশধারী রাক্ষসের জন্যে,আমি হাসতে ভুলে গিয়েছি, আমি স্বপ্ন দেখতে ভুলে গিয়েছি , আমি সম্মানহানি আর শিক্ষিত সমাজের মূর্খ আচরণে ধর্ষিত হয়ে বাঁচতে ভুলে গিয়েছি।

আমি মিলা ইসলাম আমার নিজের নাম ভুলে গিয়েছি। আমি যে পুরাটা দেশের মানুষের এত ভালোবাসা পেয়েছি, এই মিথ্যা ভালোবাসার কারণে আজকে আমি তোমাদের থেকে অনেক দূরে বড় গিয়েছি।

আমি তোমাদের সবার কাছে আমার সম্মান ফিরিয়ে নিয়ে এসে এই সামাজিক জানোয়ারগুলোর শাস্তি চাওয়ার জন্যে প্রতিবাদ করে একটা করে স্ট্যাটাস কামনা করছি। আমার বিচার এনে দাও তোমরা।

সবার নাম আর কে, কী করেছে, সব আমি ফেইসবুক লাইভে শিগগিরই প্রমাণসহ তোমাদের জানাচ্ছি। তোমাদের প্রিয়, মিলা।”

ট্যাগ :
জনপ্রিয়

নিজের নাম ভুলে গেছি

প্রকাশিত : ০৯:৪৮:৫০ অপরাহ্ন, বুধবার, ৯ মে ২০১৮

সাবেক স্বামী পারভেজ সানজারির বিরুদ্ধে নির্যাতনের অভিযোগ এনে গত বছরের অক্টোবরে হইচই ফেলে দিয়েছিলেন পপ সংগীতশিল্পী মিলা ইসলাম। মাঝে দীর্ঘ বিরতির পর সানজারির বিরুদ্ধে ফের বিভিন্ন অভিযোগ করেছেন তিনি।

১০ বছর প্রেম করার পর গত বছরের ১২ মে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হয়েছিলেন সানজারি ও মিলা। সানজারি পেশায় একজন বৈমানিক। বিয়ের প্রায় পাঁচ মাসের মাথায় তাদের সংসার রূপ নিয়েছিল বিষাদে।

স্বামী পারভেজ শারীরিক ও মানসিকভাবে নির্যাতন করতেন বলে সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যম ফেসবুকে গত বছরের ৬ অক্টোবর স্ট্যাটাস দিয়েছিলেন মিলা। এর আগে ৫ অক্টোবর রাতে মিলা বাদী হয়ে উত্তরা (পশ্চিম) থানায় মারধর ও যৌতুকের অভিযোগে তার স্বামীর বিরুদ্ধে মামলা করেছিলেন। এই মামলার পরিপ্রেক্ষিতে সেই রাতেই পারভেজকে গ্রেফতার করেছিল পুলিশ। পরবর্তী সময়ে মিলার সঙ্গে পারভেজের বিবাহ বিচ্ছেদ হয়ে যায়।

ওই ঘটনার সাত মাস পর ৯ মে, বুধবার একটি স্ট্যাটাস দেন মিলা। সেই স্ট্যাটাসে তিনি লিখেন, “আমার সাথে যা-ই হচ্ছে, আমি গত ছয় মাস চুপ ছিলাম…সবাই জিজ্ঞেস করে যাচ্ছে, মিলা মেয়েটা কী গেল? সবাই অবাক হবে যখন জানতে পারবে, আমার সাথে কী করা হয়েছে একটা মামলার জন্যে। কীভাবে আমাকে আমার সকল সাক্ষী, আমার মেডিকেল রিপোর্ট গায়েব করার চেষ্টা করা হয়েছে। এমনকি আমার পুলিশ রিপোর্ট বদলাবার জন্য রিপোর্ট মাঝ রাতে ফেরত আনা হয়। যদিও পুলিশের কর্মকর্তাগণ এই অনৈতিক কাজে আসামি ও তার পক্ষের যারা কাজ করছে, তাদের কোনো পাত্তা না দিয়ে আসামির নামে ‘খ’ ও ‘গ’ ধারায় সকল অভিযোগ প্রমাণিত করে চার্জশিট দাখিল করেছে।

আমি প্রতি মুহূর্তে এই মামলার পর আমার সাথে আসামির বিভিন্ন হোমরা-চোমরা হ্যাডম দ্বারা যেভাবে অপদস্ত হয়েছে, আমাকে এই মামলা তুলে ফেলার জন্যে আসামি জেলে থাকার সময় সামাজিকভাবে বদনাম করে দেওয়ার অনেক চেষ্টা করা হয়। আমার ওপর অন্যায়কারী ২০ দিনে ছাড়া পেয়ে যায় কোর্ট থেকে, পুরাই অযোক্তিকভাবে জামিন নিয়ে।

ছয় মাস পার হয়ে গিয়েছে। আমি চুপ ছিলাম। কারণ অন্যায়কারী অন্য কেউ নয়। আমি বলতেও চাই না তার সাথে আমার সম্পর্কের নাম। কারণ হি ইজ আ ডিজগ্রেস ফর দ্যাট হলি রিলেশনশিপ।

বাট নাউ ইজ টাইম। এই ছেলে আমার পিছনে কত বিশাল টিম বানিয়ে আমাকে ধামাচাপা দেওয়ার ট্রাই করেছে, এগুলা আমি সব সামনে আনব।

শুধু এই আসামি না তার সাথে টাফ প্রতিষ্ঠানের আরও দুইজন পাইলট, যারা কোনোদিন আমাকে দেখে নাই বা কথাও বলে নাই, তারা আমাকে এমনভাবে হেনস্তা করেছে, তা ভাবা যায় না। তারা জেলে যায় আসামির সাথে দেখা করতে এবং তারাই বলেছেন, আসামি তাদের বলেছিল, ‘ফিনিশ হার ফ্রম এভরিহয়ার’। তারা তাই করেন। আমার বাবাসহ আমাকে বিভিন্ন সামাজিকমাধ্যমে তারা এমন কোনো নোংরা অপবাদ নাই, যা দেয় নাই।

ভাবতে অবাক লাগে, যার হাত বাবা রক্ষক হিসেবে তুলে দিয়েছিলেন, সেই ছেলে ভক্ষক হিসেবে সামনে আজকে। তার পরিবার, তার কর্মস্থলের বন্ধুরা ,এমনকি তার গার্লফ্রেন্ডরা সবাই তার পরিচালনায় আমার জীবনকে অন্ধকারে আটকে ফেলেছে।

আমি শিল্পী বা সেলিব্রেটি হওয়ার কারণে তারা আমাকে আর বেশি নোংরা আজেবাজে কথা বলে অসম্মানিত করেন। বারবার বলেন, (প্রকাশের অযোগ্য)। আমি জানতে চাই, এই আসামি কীভাবে এত বড় অপরাধের পর জামিন পেয়ে বুক ফুলিয়ে ফ্লাই করে?

জামিন পাওয়ার মাত্র এক সপ্তাহ পরে তাকে আমাকে না জানতে দিয়ে দেশের বাইরে পাঠিয়ে দেওয়া হয় তার কোম্পানি থেকে। তাকে মাথা ফ্রেশ করার উদ্দেশ্যে তার স্ত্রীকে তোয়াক্কা না করে তারা তাকে পার করে দেয়। তাদের বিন্দুমাত্র লজ্জাও লাগে নাই যে, এই স্ত্রী তার নিজের চোখে ছেলেটার অবৈধ সম্পর্কের একটি ছবি ইন্টারনেটে সয়লাব হয়ে যেতে দেখে, যেই ছবির মেয়েটি তাদের এয়ারলাইনের একটা বুয়া।

এক তো নিয়ম অনুযায়ী এই ছেলের সাসপেন্ড হয়ে যাওয়ার কথা। দুই, এই এয়ারলাইনের মধ্যে থেকে শেষমেশ এই রকম অনৈতিক জঘন্য সম্পর্কে জড়ানো প্রমাণসহ সামনে দেখতে পাই আমি একজন স্ত্রী হয়ে। তৃতীয় এরপরও তারা আমাকে স্ত্রী হিসাবে সম্মান না দিয়ে আরও দুইজন পাইলট উল্টা আমি রকস্টার বলে আমাকে বাজে মেয়ে বলে প্রমাণ করে এই মামলা উল্টে দিতে চায়।

তালাকের পরামর্শে তাকে মাথায় তুলে পোস্টারবয় বানায়। কোনো ব্যাপার না, তোমারে আমরা বাঁচাব বলে আমার পুরিপোর্ট ধামাচাপা দিতে যায় এবং একজন জেল ফেরত পারভার্টেড ক্রিমিনালের যাত্রীর জীবনের দায়ভার ছেড়ে দিয়ে মশকরা করে যাচ্ছে।

যেই ছেলে অমানুষের মতো ব্যবহার করে সদ্য বিবাহিত স্ত্রীকে এত কষ্ট দিতে পারে শুধুমাত্র বুয়াদের জন্যে, ওই ছেলেকে দিয়ে ফ্লাই করায় কী করে? ওই ছেলে তো বুয়া নিয়ে ককপিটে পার্টি করবে। জেল ফেরত একটা উন্মাদ হিংস্র ছেলে কতটাই বা মানসিকভাবে স্বাভাবিক যে, তার ওপর এত যাত্রীর দায়িত্ব দিয়ে রাখে।

অন্যায়কে প্রশ্রয় দিলো, অপরাধীকে মাথায় উঠিয়ে তার স্ত্রীকে বেইজ্জত করে অপরাধীর অপরাধবোধ ও উপলব্ধি দিলো। না তার ওপর আমার মানসম্মান, আমার সংসার, আমার আত্মমর্যাদা, আমার শিল্পী হবার গর্বকে কুপিয়ে কুপিয়ে মেরে ফেলা হলো।

আমি এদের প্রত্যেকের বিচার চাই এখন। প্রতিটা মানুষ, যারা আমি একজন মেয়ে আর দুর্ভাগ্যক্রমে এই দেশের একজন মহিলা রকস্টার হবার কারণে আমার এই অপ্রত্যাশিত দুর্ঘটনার সুযোগে আমাকে লাঞ্ছিত করেছে। যারা আমার মামলা ধামাচাপা দেওয়ার ট্রাই করেছে, যারা শুধু মজা দেখার জন্য আমাকে আজ এ রকম অশান্তিতে ফেলে দিয়েছে, তাদের কাউকে আমি ছাড়ব না।

আজ আমি চুপ হয়ে গেলে কোনোদিন কোনো মেয়ে সামাজিক ফাঁপরের ভয়ে বিচার চাইবে না। হ্যাঁ, ভালোবেসেছিলাম আমি। কিন্তু আমার এই ভালোবাসা যেভাবে আমার মানসম্মান, আমার আত্মাকে ধর্ষণ করায় এতগুলা মানুষ দ্বারা জেল থেকে প্রতিশোধের জন্যে নিজের গুনাহ চাপা দিতে, তাকে আমি ঘৃণা করি।

দেশের মানুষদের যদি আমি কোনোদিন একটু হাসি এনে দিয়ে থাকি শিল্পী হিসেবে, তাহলে আমার প্রতিদিনের কান্নায় ডুবে থাকা দিনগুলোর জন্যে, আমার মতো যত মেয়েদের এ রকমভাবে গেড়ে দেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে বিচার চাইবার কারণে, আর যাতে এই দুঃসাহস কেউ না করে তোমরা প্রতিবাদ করো।

এই ছেলের জামিন বাতিল হোক। আমি গান ভুলে গিয়েছি আজকে এই মুখোশধারী রাক্ষসের জন্যে,আমি হাসতে ভুলে গিয়েছি, আমি স্বপ্ন দেখতে ভুলে গিয়েছি , আমি সম্মানহানি আর শিক্ষিত সমাজের মূর্খ আচরণে ধর্ষিত হয়ে বাঁচতে ভুলে গিয়েছি।

আমি মিলা ইসলাম আমার নিজের নাম ভুলে গিয়েছি। আমি যে পুরাটা দেশের মানুষের এত ভালোবাসা পেয়েছি, এই মিথ্যা ভালোবাসার কারণে আজকে আমি তোমাদের থেকে অনেক দূরে বড় গিয়েছি।

আমি তোমাদের সবার কাছে আমার সম্মান ফিরিয়ে নিয়ে এসে এই সামাজিক জানোয়ারগুলোর শাস্তি চাওয়ার জন্যে প্রতিবাদ করে একটা করে স্ট্যাটাস কামনা করছি। আমার বিচার এনে দাও তোমরা।

সবার নাম আর কে, কী করেছে, সব আমি ফেইসবুক লাইভে শিগগিরই প্রমাণসহ তোমাদের জানাচ্ছি। তোমাদের প্রিয়, মিলা।”