০১:৩৮ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৮ জানুয়ারী ২০২৬

সমরেশের ‘দীপাবলী’ মিথিলা

সময় পেলেই বই পড়তে ভালোবাসেন অভিনয়শিল্পী রাফিয়াথ রশিদ মিথিলা। যে কজন লেখক তার প্রিয়, তাদের মধ্যে একজন কথাসাহিত্যিক সমরেশ মজুমদার। তার ‘সাতকাহন’ ভীষণ পছন্দ এ অভিনেত্রীর। যে উপন্যাস পড়ে ভালো লাগে, সে উপন্যাসের চরিত্রগুলো ভিজুয়ালাইজ করার চেষ্টা করেন মিথিলা। ‘সাতকাহনের’ ক্ষেত্রেও তার ব্যতিক্রম হয়নি।

যেদিন সমরেশের ‘সাতকাহন’ পড়েন, সেদিনই উপন্যাসের ‘দীপাবলী’ চরিত্রটি মনে জায়গা করে নেয়। উপন্যাসের ‘দীপাবলী’র ভেতরে ঢুকে গিয়ে জীবন্ত করার একটা চেষ্টা তখনই ছিল মিথিলার মধ্যে।

সম্প্রতি সমরেশের সেই ‘দীপাবলী’ হওয়ার সুযোগ পেলেন মিথিলা। চরিত্রটির বেশ কয়েকটি দিক বিশ্লেষণ করে একটি ফটোশুট করা হয়েছে এবং ‘চরিত্র বিশ্লেষণ’ শিরোনামে সেই ফটোশুটে ‘দীপাবলী’ হয়েছেন এই অভিনেত্রী।

ফটোশুট সম্পর্কে মিথিলা বলেন, ‘ছবিগুলো তুলেছে জুহি, ও হলো আমার ভাইয়ের বন্ধু। আমরা যারা পরিচিত ফটোগ্রাফার রয়েছেন, তাদের মধ্যে ওকেই প্রথম দেখি গল্প বা উপন্যাসের চরিত্র নিয়ে ফটোশুট করতে। দীপাবলী চরিত্রটি শুট করার আগে ও বিভিন্ন গল্প বা উপন্যাসের আরও কয়েকটি চরিত্র নিয়ে শুট করেছে।

আমাদের বাসায় এলে জুহির সঙ্গে ফটোগ্রাফি নিয়ে আলোচনা হয়। সে একদিন আমাকে বলল, আপু আপনাকে যদি দীপাবলী চরিত্রে শুট করা হয় তাহলে ভালো লাগবে। চরিত্র খুবই স্ট্রং এবং ইনডিপেন্ডেট। জুহি আমাকে বলে, দীপাবলী চরিত্রের সঙ্গে আমার নাকি কিছুটা মিলও রয়েছে।’

মিথিলা জানান, এরপর শুট নিয়ে অনেকদিন তাদের মধ্যে আলোচনা হয়। কিন্তু একজনের সময় মিললে আরেকজনের সময় মিলছিল না।নিজেদের কাজে ব্যস্ত হয়ে পড়েন। এরই মধ্যে একদিন সময় বের করেন তারা। হাতিরঝিলে জুহির স্টুডিওর ছাদে ও বিভিন্ন লোকেশনে ছবিগুলো তোলা হয়।

মিথিলা বলেন, ‘পুরো উপন্যাস থেকে নির্দিষ্ট কিছু বিষয়বস্তু ধরে ধরে ছবিগুলো তোলা হয়েছে। দীপাবলী যখন বিধবা হয়, দীপাবলী যখন প্রথম রঙিন শাড়িটা পরল, এরপর যখন ওর মনে নতুন করে প্রথম প্রেম আসলো, এ রকমভাবে বিষয়গুলো ধরে ধরে শুট করা হয়েছে।’

‘দেখুন জীবনানন্দ আমার চেতনার কাছে আবেদন করেন। তাকে বুঝতে গেলে বুদ্ধি, আগ্রহ দুই-ই রাখতে হয়’–দীপাবলীর এই কথাকে কেন্দ্র করেই এ ছবিটা তোলা হয়েছে।

ছবিগুলো সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে প্রকাশ করেন মিথিলা। এ নিয়ে বিভিন্ন ধরনের প্রতিক্রিয়া পেয়েছেন তিনি। মিথিলা বলেন, ‘ছবিগুলো পাবলিশড হওয়ার পরে অনেকের রিঅ্যাকশনে আমি খুব মজা পেয়েছি। অনেকেই মনে করেছে এটা কোনো ধারাবাহিক নাটকের চরিত্র। আবার অনেকে ভেবেছে এটা কোনো ফিচার ফিল্ম, এজন্য হাজারো প্রশ্নের সম্মুখীন আমাকে হতে হয়েছে।’

‘এর মধ্যে একটা দিক ভালো লেগেছে যে, অনেকেই আমাকে বলেছে, উপন্যাসটির নাম শুনলেও তাদের পড়া হয়নি। কিন্তু ছবিগুলোর সঙ্গে জুড়ে দেওয়া ক্যাপশনগুলো পড়ে তাদের মধ্যে উপন্যাসটি পড়ার আগ্রহবোধ জন্মেছে। আমার কাছে মনে হয়েছে, এটা এ শুটের সবচেয়ে শক্তিশালী একটা দিক’, বলেন মিথিলা।

হঠাৎ একটা ভালোলাগার ঘোরে আক্রান্ত হলো দীপা। আর উপন্যাসের চরিত্রের সেই ভালোলাগাই যেন ফুটে উঠেছে এই ছবিতে।

এই অভিনেত্রী বলেন, ‘এটা শুধু একটা ফটোশুট না। কল্পনায় আমি যে দীপাবলীকে দেখেছি, আমি নিজে চরিত্রটির ভেতরে ঢুকে গিয়ে জীবন্ত করার চেষ্টা করেছি, এটা একটা এক্সসাইমেন্ট ছিল। সবচেয়ে ভালো যা হয়েছে–ছবিগুলো দেখে অনেকেই উপন্যাসটি পড়ার জন্য আগ্রহী হয়ে উঠেছে। এটাই সবচেয়ে বড় পাওয়া।’

ঈদে বেশ কয়েকটি নাটকে দেখা মিলবে মিথিলার। ইতোমধ্যেই দুটি নাটকের শুটিং শেষ হয়েছে। এ ছাড়া এ মাসের শেষের দিকে আরেকটি নাটকেরও শুটিং রয়েছে বলে জানান তিনি।

তবে সাতকাহন নিয়ে কোনো ফিচার ফিল্ম বানানো হলে তাতে অভিনয় চান মিথিলা। যদিও এমন ফিল্মে প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান কিংবা প্রযোজক পাওয়া কঠিন, তারপরও হাল ছাড়তে রাজি নন মিথিলা।

‘সাতকাহন’ উপন্যাসে দীপাবলীকে আপোষহীন সংগ্রামী এক নারী চরিত্র হিসেবে তুলে ধরেছেন সমরেশ মজুমদার।

ট্যাগ :
জনপ্রিয়

সমরেশের ‘দীপাবলী’ মিথিলা

প্রকাশিত : ০৯:৩২:১০ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৪ মে ২০১৮

সময় পেলেই বই পড়তে ভালোবাসেন অভিনয়শিল্পী রাফিয়াথ রশিদ মিথিলা। যে কজন লেখক তার প্রিয়, তাদের মধ্যে একজন কথাসাহিত্যিক সমরেশ মজুমদার। তার ‘সাতকাহন’ ভীষণ পছন্দ এ অভিনেত্রীর। যে উপন্যাস পড়ে ভালো লাগে, সে উপন্যাসের চরিত্রগুলো ভিজুয়ালাইজ করার চেষ্টা করেন মিথিলা। ‘সাতকাহনের’ ক্ষেত্রেও তার ব্যতিক্রম হয়নি।

যেদিন সমরেশের ‘সাতকাহন’ পড়েন, সেদিনই উপন্যাসের ‘দীপাবলী’ চরিত্রটি মনে জায়গা করে নেয়। উপন্যাসের ‘দীপাবলী’র ভেতরে ঢুকে গিয়ে জীবন্ত করার একটা চেষ্টা তখনই ছিল মিথিলার মধ্যে।

সম্প্রতি সমরেশের সেই ‘দীপাবলী’ হওয়ার সুযোগ পেলেন মিথিলা। চরিত্রটির বেশ কয়েকটি দিক বিশ্লেষণ করে একটি ফটোশুট করা হয়েছে এবং ‘চরিত্র বিশ্লেষণ’ শিরোনামে সেই ফটোশুটে ‘দীপাবলী’ হয়েছেন এই অভিনেত্রী।

ফটোশুট সম্পর্কে মিথিলা বলেন, ‘ছবিগুলো তুলেছে জুহি, ও হলো আমার ভাইয়ের বন্ধু। আমরা যারা পরিচিত ফটোগ্রাফার রয়েছেন, তাদের মধ্যে ওকেই প্রথম দেখি গল্প বা উপন্যাসের চরিত্র নিয়ে ফটোশুট করতে। দীপাবলী চরিত্রটি শুট করার আগে ও বিভিন্ন গল্প বা উপন্যাসের আরও কয়েকটি চরিত্র নিয়ে শুট করেছে।

আমাদের বাসায় এলে জুহির সঙ্গে ফটোগ্রাফি নিয়ে আলোচনা হয়। সে একদিন আমাকে বলল, আপু আপনাকে যদি দীপাবলী চরিত্রে শুট করা হয় তাহলে ভালো লাগবে। চরিত্র খুবই স্ট্রং এবং ইনডিপেন্ডেট। জুহি আমাকে বলে, দীপাবলী চরিত্রের সঙ্গে আমার নাকি কিছুটা মিলও রয়েছে।’

মিথিলা জানান, এরপর শুট নিয়ে অনেকদিন তাদের মধ্যে আলোচনা হয়। কিন্তু একজনের সময় মিললে আরেকজনের সময় মিলছিল না।নিজেদের কাজে ব্যস্ত হয়ে পড়েন। এরই মধ্যে একদিন সময় বের করেন তারা। হাতিরঝিলে জুহির স্টুডিওর ছাদে ও বিভিন্ন লোকেশনে ছবিগুলো তোলা হয়।

মিথিলা বলেন, ‘পুরো উপন্যাস থেকে নির্দিষ্ট কিছু বিষয়বস্তু ধরে ধরে ছবিগুলো তোলা হয়েছে। দীপাবলী যখন বিধবা হয়, দীপাবলী যখন প্রথম রঙিন শাড়িটা পরল, এরপর যখন ওর মনে নতুন করে প্রথম প্রেম আসলো, এ রকমভাবে বিষয়গুলো ধরে ধরে শুট করা হয়েছে।’

‘দেখুন জীবনানন্দ আমার চেতনার কাছে আবেদন করেন। তাকে বুঝতে গেলে বুদ্ধি, আগ্রহ দুই-ই রাখতে হয়’–দীপাবলীর এই কথাকে কেন্দ্র করেই এ ছবিটা তোলা হয়েছে।

ছবিগুলো সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে প্রকাশ করেন মিথিলা। এ নিয়ে বিভিন্ন ধরনের প্রতিক্রিয়া পেয়েছেন তিনি। মিথিলা বলেন, ‘ছবিগুলো পাবলিশড হওয়ার পরে অনেকের রিঅ্যাকশনে আমি খুব মজা পেয়েছি। অনেকেই মনে করেছে এটা কোনো ধারাবাহিক নাটকের চরিত্র। আবার অনেকে ভেবেছে এটা কোনো ফিচার ফিল্ম, এজন্য হাজারো প্রশ্নের সম্মুখীন আমাকে হতে হয়েছে।’

‘এর মধ্যে একটা দিক ভালো লেগেছে যে, অনেকেই আমাকে বলেছে, উপন্যাসটির নাম শুনলেও তাদের পড়া হয়নি। কিন্তু ছবিগুলোর সঙ্গে জুড়ে দেওয়া ক্যাপশনগুলো পড়ে তাদের মধ্যে উপন্যাসটি পড়ার আগ্রহবোধ জন্মেছে। আমার কাছে মনে হয়েছে, এটা এ শুটের সবচেয়ে শক্তিশালী একটা দিক’, বলেন মিথিলা।

হঠাৎ একটা ভালোলাগার ঘোরে আক্রান্ত হলো দীপা। আর উপন্যাসের চরিত্রের সেই ভালোলাগাই যেন ফুটে উঠেছে এই ছবিতে।

এই অভিনেত্রী বলেন, ‘এটা শুধু একটা ফটোশুট না। কল্পনায় আমি যে দীপাবলীকে দেখেছি, আমি নিজে চরিত্রটির ভেতরে ঢুকে গিয়ে জীবন্ত করার চেষ্টা করেছি, এটা একটা এক্সসাইমেন্ট ছিল। সবচেয়ে ভালো যা হয়েছে–ছবিগুলো দেখে অনেকেই উপন্যাসটি পড়ার জন্য আগ্রহী হয়ে উঠেছে। এটাই সবচেয়ে বড় পাওয়া।’

ঈদে বেশ কয়েকটি নাটকে দেখা মিলবে মিথিলার। ইতোমধ্যেই দুটি নাটকের শুটিং শেষ হয়েছে। এ ছাড়া এ মাসের শেষের দিকে আরেকটি নাটকেরও শুটিং রয়েছে বলে জানান তিনি।

তবে সাতকাহন নিয়ে কোনো ফিচার ফিল্ম বানানো হলে তাতে অভিনয় চান মিথিলা। যদিও এমন ফিল্মে প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান কিংবা প্রযোজক পাওয়া কঠিন, তারপরও হাল ছাড়তে রাজি নন মিথিলা।

‘সাতকাহন’ উপন্যাসে দীপাবলীকে আপোষহীন সংগ্রামী এক নারী চরিত্র হিসেবে তুলে ধরেছেন সমরেশ মজুমদার।