০৮:০০ অপরাহ্ন, রবিবার, ০১ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

নাটক সিনেমা’য় অনবদ্য মা দিলারা জামান

একুশে পদকপ্রাপ্ত বরেণ্য অভিনেত্রী দিলারা জামান ৮১ বছর বয়সেও অভিনয় করছেন নিয়মিত। কিছুদিন আগে তার অভিনীত একটি সিনেমাও মুক্তি পায়। সিনেমাটিতে তার অভিনয় দর্শকের কাছে দারুণ সমাদৃত হয়েছে। দিলারা জামান এমনই একজন বরেণ্য অভিনেত্রী, বিশেষত নাটকে সিনেমায় মায়ের চরিত্রে তিনি অনবদ্য। যে কারণে নির্মাতারা এখনো গল্পে মায়ের চরিত্র যদি দিলারা জামানের সাথে মানানসই হয় তাহলে তাকে নিয়েই কাজ করার চেষ্টা করেন। দিলারা জামান অভিনীত সর্বশেষ মুক্তিপ্রাপ্ত সিনেমা ছিলো (স্বল্পদৈর্ঘ্য) এম এম রহিমের ‘ওমর ফারুকের মা’। এতে গল্পের কেন্দ্রীয় চরিত্রে অভিনয় করেছেন দিলারা জামান। দিলারা জামান ১৯৫৭ সালে স্কুলে তিনি প্রথম নাটক অভিনয় করেন। শরৎচন্দ্রের ‘মামলার ফল’। ১৯৬৬ সালে প্রথম নাজমুল আলমের রচনায় ও আতিকুল হক চৌধুরীর প্রযোজনায় রেডিওতে প্রথম নাটক করেন। টেলিভিশনে আমি প্রথম নাটক করি ১৯৬৭ সালে খান জয়নুলের লেখা ‘পিনিস’ নাটকে।

পরিচালক ছিলেন আব্দুল্লাহ আল মামুন। হুমায়ূন আহমেদ’র নির্দেশনায় প্রথম ১৯৮৪ সালে ‘দিনের শেষে’ নাটকে অভিনয় করেন। বিপরীতে ছিলেন গোলাম মুস্তাফা। এরপর হুমায়ূন আহমেদ’র ‘এইসব দিনরাত্রি’,‘অয়োময়’ নাটকেও অভিনয় করেন। তার অভিনীত উল্লেখযোগ্য চলচ্চিত্র হচ্ছে ‘আগুনের পরশমনি’, ‘চন্দ্রকথা’, ‘মেঘলা আকাশ’,‘মনপুরা’, ‘চন্দ্রগ্রহণ’, ‘অপেক্ষা’, ‘আলতাবানু’, ‘পোস্টমাষ্টার ৭১’ , ‘মিশন এক্সট্রিম’, ‘চিরঞ্জীব মুজিব’, ‘গোর’ ইত্যাদি। মুক্তির অপেক্ষায় রয়েছে তার অভিনীত আফজাল হোসেন পরিচালিত ‘মানিকের লাল কাঁকড়া’, চয়নিকা চৌধুরীর ‘প্রহেলিকা’, শ্যাম বানেগালের বায়োপিক ‘মুজিব’, জেড এইচ মিন্টুর ‘ক্ষমা নেই’, জাহিদ হোসেনের ‘সুবর্ণ ভ‚মি’সহ আরো বেশ কযেকটি সিনেমা।

১৯৯২ সালে দিলারা জামান একুশে পদকে ভূষিত হন। মুরাদ পারভেজ পরিচালিত ‘চন্দ্রগ্রহণ’ চলচ্চিত্রে অভিনয়ের জন্য জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারে ভূষিত হন। ১৯৪৩ সালের ১৯ জুন দিলারা জামানের জন্ম। দিলারা জামানের লেখা প্রথম ১৯৫৬ সালে ‘ইত্তেফাক’র কঁচিকাচা আসরের পাতায় ছাপা হয়। সেটি ছিলো ছোট্ট একটি আট লাইনের ছড়া। ছাপার অক্ষরে নিজের নাম ‘দিলারা আহমেদ লিলি’ দেখে তখন তার বেশ আনন্দ হয়েছিলো। সেই থেকে তার লেখালেখির অভ্যাসও রয়েছে। ১৯৬৩ সালে তিনি যখন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়েন তখন পূর্ব পাকিস্তানের ছাত্র ইউনিয়নের বার্ষিক সম্মেলনে বাংলা একাডেমির উন্মুক্ত মঞ্চে একাঙ্কিকায় অভিনয় করেছিলেন তিনি। একই বছরে তিনি আলাউদ্দীন আল আজাদ রচিত ডাকসু’র নাটক ‘মায়াবি প্রহর’-এ অভিনয় করেছিলেন। এতে তিনি আব্দুল্লাহ আল মামুনের স্ত্রীর ভূমিকায় অভিনয় করেছিলেন।

বাংলাদেশের নাটকে, সিনেমায় মা’য়ের ভ‚মিকায় অভিনয় করতে করতে এখানকার সবার কাছেই তিনি মা হিসেবেই সম্মান পেয়ে থাকেন। দর্শকও দিলারা জামানকে নিজেদের মায়ের মতোই শ্রদ্ধা করেন। দিলারা জামান বলেন,‘ দর্শকের ভালোবাসা নিয়ে এখনো মন থেকে অভিনয় করে যাচ্ছি। প্রতিনিয়তই চলার পথে মানুষের যে ভালোবাসা পাই, তাই আমাকে ভীষণভাবে আবেগাপ্লুত করে। মানুষের এই যে ভালোবাসা, শ্রদ্ধা তা অভিনয় না করলে হয়তো পাওয়া হতো না।’

 

বিজনেস বাংলাদেশ/ হাবিব

ট্যাগ :

৮ থেকে ১৩ ফেব্রুয়ারি ডিজিটাল লেনদেনে ‘রেড অ্যালার্ট’

নাটক সিনেমা’য় অনবদ্য মা দিলারা জামান

প্রকাশিত : ১২:৫৭:২৬ অপরাহ্ন, সোমবার, ৮ মে ২০২৩

একুশে পদকপ্রাপ্ত বরেণ্য অভিনেত্রী দিলারা জামান ৮১ বছর বয়সেও অভিনয় করছেন নিয়মিত। কিছুদিন আগে তার অভিনীত একটি সিনেমাও মুক্তি পায়। সিনেমাটিতে তার অভিনয় দর্শকের কাছে দারুণ সমাদৃত হয়েছে। দিলারা জামান এমনই একজন বরেণ্য অভিনেত্রী, বিশেষত নাটকে সিনেমায় মায়ের চরিত্রে তিনি অনবদ্য। যে কারণে নির্মাতারা এখনো গল্পে মায়ের চরিত্র যদি দিলারা জামানের সাথে মানানসই হয় তাহলে তাকে নিয়েই কাজ করার চেষ্টা করেন। দিলারা জামান অভিনীত সর্বশেষ মুক্তিপ্রাপ্ত সিনেমা ছিলো (স্বল্পদৈর্ঘ্য) এম এম রহিমের ‘ওমর ফারুকের মা’। এতে গল্পের কেন্দ্রীয় চরিত্রে অভিনয় করেছেন দিলারা জামান। দিলারা জামান ১৯৫৭ সালে স্কুলে তিনি প্রথম নাটক অভিনয় করেন। শরৎচন্দ্রের ‘মামলার ফল’। ১৯৬৬ সালে প্রথম নাজমুল আলমের রচনায় ও আতিকুল হক চৌধুরীর প্রযোজনায় রেডিওতে প্রথম নাটক করেন। টেলিভিশনে আমি প্রথম নাটক করি ১৯৬৭ সালে খান জয়নুলের লেখা ‘পিনিস’ নাটকে।

পরিচালক ছিলেন আব্দুল্লাহ আল মামুন। হুমায়ূন আহমেদ’র নির্দেশনায় প্রথম ১৯৮৪ সালে ‘দিনের শেষে’ নাটকে অভিনয় করেন। বিপরীতে ছিলেন গোলাম মুস্তাফা। এরপর হুমায়ূন আহমেদ’র ‘এইসব দিনরাত্রি’,‘অয়োময়’ নাটকেও অভিনয় করেন। তার অভিনীত উল্লেখযোগ্য চলচ্চিত্র হচ্ছে ‘আগুনের পরশমনি’, ‘চন্দ্রকথা’, ‘মেঘলা আকাশ’,‘মনপুরা’, ‘চন্দ্রগ্রহণ’, ‘অপেক্ষা’, ‘আলতাবানু’, ‘পোস্টমাষ্টার ৭১’ , ‘মিশন এক্সট্রিম’, ‘চিরঞ্জীব মুজিব’, ‘গোর’ ইত্যাদি। মুক্তির অপেক্ষায় রয়েছে তার অভিনীত আফজাল হোসেন পরিচালিত ‘মানিকের লাল কাঁকড়া’, চয়নিকা চৌধুরীর ‘প্রহেলিকা’, শ্যাম বানেগালের বায়োপিক ‘মুজিব’, জেড এইচ মিন্টুর ‘ক্ষমা নেই’, জাহিদ হোসেনের ‘সুবর্ণ ভ‚মি’সহ আরো বেশ কযেকটি সিনেমা।

১৯৯২ সালে দিলারা জামান একুশে পদকে ভূষিত হন। মুরাদ পারভেজ পরিচালিত ‘চন্দ্রগ্রহণ’ চলচ্চিত্রে অভিনয়ের জন্য জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারে ভূষিত হন। ১৯৪৩ সালের ১৯ জুন দিলারা জামানের জন্ম। দিলারা জামানের লেখা প্রথম ১৯৫৬ সালে ‘ইত্তেফাক’র কঁচিকাচা আসরের পাতায় ছাপা হয়। সেটি ছিলো ছোট্ট একটি আট লাইনের ছড়া। ছাপার অক্ষরে নিজের নাম ‘দিলারা আহমেদ লিলি’ দেখে তখন তার বেশ আনন্দ হয়েছিলো। সেই থেকে তার লেখালেখির অভ্যাসও রয়েছে। ১৯৬৩ সালে তিনি যখন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়েন তখন পূর্ব পাকিস্তানের ছাত্র ইউনিয়নের বার্ষিক সম্মেলনে বাংলা একাডেমির উন্মুক্ত মঞ্চে একাঙ্কিকায় অভিনয় করেছিলেন তিনি। একই বছরে তিনি আলাউদ্দীন আল আজাদ রচিত ডাকসু’র নাটক ‘মায়াবি প্রহর’-এ অভিনয় করেছিলেন। এতে তিনি আব্দুল্লাহ আল মামুনের স্ত্রীর ভূমিকায় অভিনয় করেছিলেন।

বাংলাদেশের নাটকে, সিনেমায় মা’য়ের ভ‚মিকায় অভিনয় করতে করতে এখানকার সবার কাছেই তিনি মা হিসেবেই সম্মান পেয়ে থাকেন। দর্শকও দিলারা জামানকে নিজেদের মায়ের মতোই শ্রদ্ধা করেন। দিলারা জামান বলেন,‘ দর্শকের ভালোবাসা নিয়ে এখনো মন থেকে অভিনয় করে যাচ্ছি। প্রতিনিয়তই চলার পথে মানুষের যে ভালোবাসা পাই, তাই আমাকে ভীষণভাবে আবেগাপ্লুত করে। মানুষের এই যে ভালোবাসা, শ্রদ্ধা তা অভিনয় না করলে হয়তো পাওয়া হতো না।’

 

বিজনেস বাংলাদেশ/ হাবিব