০৮:৩০ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

‘আপনারা সরকারের মুখে বিষ ঢেলে দিচ্ছেন’

আওয়ামী লীগ থেকে স্থায়ী বহিষ্কার হওয়া গাজীপুর সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র জাহাঙ্গীর আলম বলেছেন, ‘কেন্দ্রীয় (আওয়ামী লীগের) নেতারা গাজীপুরে আসছেন আপনাদেরকে বলবো, দাওয়াত খেয়ে যান। কিন্তু গাজীপুরের মানুষকে আপনারা থ্রেট (হুমকি) দিয়েন না। আপনারা নেতা আমরা কর্মী। আপনারা কর্মীর বাসায় দিনে-রাতে যাচ্ছেন, থ্রেট দিচ্ছেন ও মোবাইলে কল করছেন- এটাকে ভোটের পরিবেশ বলে না।’

তিনি বলেন, ‘আমি আওয়ামী লীগের একজন সমর্থক। সমর্থককে বহিষ্কার করতে আপনাদের কেন্দ্রীয় কমিটি কেন লাগবে? আমি আবেদন করবো, আমাকে দলের সমর্থক হিসেবে থাকার জন্য জায়গা করে দেন। ক্ষমতা ও পদের জন্য না- আমার বিরুদ্ধে যে অবিচার করা হয়েছে সেই সত্যটা প্রতিষ্ঠিত করার জন্য আমার মায়ের সঙ্গে রয়েছি।’

মঙ্গলবার (১৬ মে) দুপুরে গাজীপুর মহানগরের ছয়দানা (মালেকের বাড়ি) এলাকায় নিজ বাড়িতে সাংবাদিকদের তিনি এ কথা বলেন।

জাহাঙ্গীর আলম বলেন, ‘আমার মা জায়েদা খাতুন একজন সংগ্রামী নারী। তিনি নির্বাচনের প্রস্তুতি নিয়েছেন। জন্মের পর থেকেই আমাকে ছাত্রলীগ ও আওয়ামী লীগ করার জন্য যে শিক্ষা দিয়েছেন তা নিয়ে আমি গাজীপুরে আওয়ামী লীগের পরিবারে থেকে কাজ করেছি। ছাত্রজীবন থেকে সংগঠনের আদর্শ ও নিয়ম-নীতির বাইরে কখনও চলিনি। আমি ছয় বছর গাজীপুর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেছি। আমাকে ২০১৮ সালে নৌকা দিয়েছে। সেই নৌকা নিয়ে আমি সিটি করপোরেশনের মেয়র নির্বাচিত হয়েছি।’

তিনি বলেন, ‘তিন বছর মেয়রের দায়িত্ব পালনের পর গাজীপুরের কোনও মানুষ আমার বিরুদ্ধে অভিযোগ করেননি। শুধু একজন করেছে। সব নেতৃবৃন্দ বলেছে, তুমি কোনও অন্যায় করোনি, আমরা বলবো সমাধান হয়ে যাবে। দুঃখের বিষয়, প্রধানমন্ত্রীর কাছে কেউ সঠিক খবরটি পৌঁছায়নি এবং উপস্থাপন করেনি। মেয়র থাকা অবস্থায় আমি যেসব কাজ করেছি সব সরকারি নিয়ম মেনেই করেছি। তারপরও আমার মেয়র পদ বাতিল বা স্থগিত হয়ে গেলো। আমাকে আওয়ামী লীগ ও মেয়রের পদ থেকে বহিষ্কারের বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী ও দলের সাধারণ সম্পাদক কেউ আমার কথা দুই মিনিট শোনেননি বা তাদের কাছে আমাকে পৌঁছানোর কোনও পথ রাখা হয়নি।’

সাবেক এই মেয়র বলেন, ‘দীর্ঘ ১৮ মাস চোখের পানি ফেলেছি, আর ফেলবো না। আমি আওয়ামী লীগের একজন কর্মী হিসেবে দলের প্রত্যেক কেন্দ্রীয় নেতার দরজায় গেছি। কিন্তু কেউ আমাকে সুযোগ দেয়নি। নেতৃত্ব হচ্ছে, যদি কর্মী বিপদে পড়ে তাহলে সমাধানের পথ খুঁজে বের করা। আজকে দেখেন, গাজীপুরে লাখ লাখ মানুষ এক হয়েছেন। আওয়ামী লীগের সবাই একসঙ্গে গাজীপুরে ভোট করতে আসছেন। আপনারা যুদ্ধ করতে যেখানে বোমা ব্যবহার করতে আসছেন সেখানে বোমার কোনও দরকার ছিল না। আমি ও আমার মায়ের সঙ্গে যারা একসঙ্গে কাজ করছেন আওয়ামী লীগের নেতৃবৃন্দ ও প্রশাসন বাসায় বাসায় যাচ্ছেন, প্রশাসনের লোকদের দিয়ে হুমকি দিচ্ছেন। এতে আপনারা সরকারের মুখে বিষ ঢেলে দিচ্ছেন না? আমি কেন্দ্রীয় নেতাদেরকে দৃষ্টি আকর্ষণ করবো, প্রধানমন্ত্রীকে সত্যটা জানান।’

ইভিএম নিয়ে শঙ্কা আছে কি না- এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, ‘ইভিএম ভালো না খারাপ সেটা ২৫ মে (নির্বাচনের দিন) দেখতে পারবেন। তখন আপনারাই বলবেন ভালো না খারাপ।’

বিজনেস বাংলাদেশ/ bh

ট্যাগ :
জনপ্রিয়

নারায়ণগঞ্জে চারটিতে ধানের শীষ এবং একটিতে শাপলা কলি বিজয়ী

‘আপনারা সরকারের মুখে বিষ ঢেলে দিচ্ছেন’

প্রকাশিত : ০৭:২৫:০০ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৬ মে ২০২৩

আওয়ামী লীগ থেকে স্থায়ী বহিষ্কার হওয়া গাজীপুর সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র জাহাঙ্গীর আলম বলেছেন, ‘কেন্দ্রীয় (আওয়ামী লীগের) নেতারা গাজীপুরে আসছেন আপনাদেরকে বলবো, দাওয়াত খেয়ে যান। কিন্তু গাজীপুরের মানুষকে আপনারা থ্রেট (হুমকি) দিয়েন না। আপনারা নেতা আমরা কর্মী। আপনারা কর্মীর বাসায় দিনে-রাতে যাচ্ছেন, থ্রেট দিচ্ছেন ও মোবাইলে কল করছেন- এটাকে ভোটের পরিবেশ বলে না।’

তিনি বলেন, ‘আমি আওয়ামী লীগের একজন সমর্থক। সমর্থককে বহিষ্কার করতে আপনাদের কেন্দ্রীয় কমিটি কেন লাগবে? আমি আবেদন করবো, আমাকে দলের সমর্থক হিসেবে থাকার জন্য জায়গা করে দেন। ক্ষমতা ও পদের জন্য না- আমার বিরুদ্ধে যে অবিচার করা হয়েছে সেই সত্যটা প্রতিষ্ঠিত করার জন্য আমার মায়ের সঙ্গে রয়েছি।’

মঙ্গলবার (১৬ মে) দুপুরে গাজীপুর মহানগরের ছয়দানা (মালেকের বাড়ি) এলাকায় নিজ বাড়িতে সাংবাদিকদের তিনি এ কথা বলেন।

জাহাঙ্গীর আলম বলেন, ‘আমার মা জায়েদা খাতুন একজন সংগ্রামী নারী। তিনি নির্বাচনের প্রস্তুতি নিয়েছেন। জন্মের পর থেকেই আমাকে ছাত্রলীগ ও আওয়ামী লীগ করার জন্য যে শিক্ষা দিয়েছেন তা নিয়ে আমি গাজীপুরে আওয়ামী লীগের পরিবারে থেকে কাজ করেছি। ছাত্রজীবন থেকে সংগঠনের আদর্শ ও নিয়ম-নীতির বাইরে কখনও চলিনি। আমি ছয় বছর গাজীপুর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেছি। আমাকে ২০১৮ সালে নৌকা দিয়েছে। সেই নৌকা নিয়ে আমি সিটি করপোরেশনের মেয়র নির্বাচিত হয়েছি।’

তিনি বলেন, ‘তিন বছর মেয়রের দায়িত্ব পালনের পর গাজীপুরের কোনও মানুষ আমার বিরুদ্ধে অভিযোগ করেননি। শুধু একজন করেছে। সব নেতৃবৃন্দ বলেছে, তুমি কোনও অন্যায় করোনি, আমরা বলবো সমাধান হয়ে যাবে। দুঃখের বিষয়, প্রধানমন্ত্রীর কাছে কেউ সঠিক খবরটি পৌঁছায়নি এবং উপস্থাপন করেনি। মেয়র থাকা অবস্থায় আমি যেসব কাজ করেছি সব সরকারি নিয়ম মেনেই করেছি। তারপরও আমার মেয়র পদ বাতিল বা স্থগিত হয়ে গেলো। আমাকে আওয়ামী লীগ ও মেয়রের পদ থেকে বহিষ্কারের বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী ও দলের সাধারণ সম্পাদক কেউ আমার কথা দুই মিনিট শোনেননি বা তাদের কাছে আমাকে পৌঁছানোর কোনও পথ রাখা হয়নি।’

সাবেক এই মেয়র বলেন, ‘দীর্ঘ ১৮ মাস চোখের পানি ফেলেছি, আর ফেলবো না। আমি আওয়ামী লীগের একজন কর্মী হিসেবে দলের প্রত্যেক কেন্দ্রীয় নেতার দরজায় গেছি। কিন্তু কেউ আমাকে সুযোগ দেয়নি। নেতৃত্ব হচ্ছে, যদি কর্মী বিপদে পড়ে তাহলে সমাধানের পথ খুঁজে বের করা। আজকে দেখেন, গাজীপুরে লাখ লাখ মানুষ এক হয়েছেন। আওয়ামী লীগের সবাই একসঙ্গে গাজীপুরে ভোট করতে আসছেন। আপনারা যুদ্ধ করতে যেখানে বোমা ব্যবহার করতে আসছেন সেখানে বোমার কোনও দরকার ছিল না। আমি ও আমার মায়ের সঙ্গে যারা একসঙ্গে কাজ করছেন আওয়ামী লীগের নেতৃবৃন্দ ও প্রশাসন বাসায় বাসায় যাচ্ছেন, প্রশাসনের লোকদের দিয়ে হুমকি দিচ্ছেন। এতে আপনারা সরকারের মুখে বিষ ঢেলে দিচ্ছেন না? আমি কেন্দ্রীয় নেতাদেরকে দৃষ্টি আকর্ষণ করবো, প্রধানমন্ত্রীকে সত্যটা জানান।’

ইভিএম নিয়ে শঙ্কা আছে কি না- এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, ‘ইভিএম ভালো না খারাপ সেটা ২৫ মে (নির্বাচনের দিন) দেখতে পারবেন। তখন আপনারাই বলবেন ভালো না খারাপ।’

বিজনেস বাংলাদেশ/ bh