০৯:০১ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

স্বাবাভিক জীবনে ফিরছে টাঙ্গাইলের অর্ধ শতাধিক চরমপন্থি

টাঙ্গাইলের আতঙ্কের নাম পূর্ব বাংলা কমিউনিস্ট পার্টি (সর্বহারা)। লুটতরাজ, জিম্মি, অপহরণ ও খুনসহ নানা অপরাধ ছিলো তাদের নেশা ও পেশা। সেই অপরাধের পথ ছেড়ে স্বাভাবিক জীবনে ফিরছেন পূর্ব বাংলার কমিউনিস্ট পার্টি টাঙ্গাইলের অর্ধ শতাধিক চরমপন্থির সদস্যরা। এতো এসব সদস্যরা গ্রেপ্তার ও মৃত্যুর আতঙ্ক থেকে রক্ষা পেতে নিজেদের আত্মগোপন করেছে রেখে ছিলেন। তাই স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে সোমবার তারা র‌্যাবের মাধ্যমে আত্মসমর্পন করতে যাচ্ছেন। এদের মধ্যে অনেকেই অস্ত্রসহ আত্মসমর্পন করবে বলে জানা গেছে।
স্থানীয়রা জানান, একটা সময় এ অঞ্চলকে বলা হতো ‘রক্তাক্ত জনপদ’। এ অঞ্চলের চরমপন্থিদের দাপটে রাত গভীর হলেই কলাপসিবল গেট আটকে আতঙ্কে থাকতেন খোদ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরাই। নব্বইয়ের দশক থেকে এ পর্যন্ত প্রায় শতাধিক মানুষ খুন হয়েছেন চরমপন্থিদের হাতে। এমনকি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অনেক সদস্যকেও প্রাণ দিতে হয়েছে। এমনই অচলাবস্থায় সাধারণ মানুষের মাঝে স্বস্তি ফেরাতে কাজ শুরু করে পুলিশের এলিট ফোর্স ও র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‌্যাব)। র‌্যাবের অভিযানে বিভিন্ন চরমপন্থি গ্রæপের শীর্ষস্থানীয় নেতাসহ অনেক সদস্যকেই গ্রেফতার করে আইনের আওতায় আনা হয়েছে। এক পর্যায়ে চরমপন্থি দলের বাকি সদস্যরা এলাকা ছেড়ে পালিয়ে যান। এতে টাঙ্গাইলে উত্তর পশ্চিমাঞ্চলে ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হয়ে আসে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি। তবে আতংক শেষ হয়নি সাধারন মানুষের মাঝে। নানা অপকর্ম অব্যাহত রাখে চরম পন্থিরা। র‌্যাবসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ক্রমাগত আভিযান পরিচালনা করতে থাকে। অবশেষে আইনশৃংখলা বাহিনীর তৎপরতার চাপ সইতে না পেরে চরমপন্থি দলগুলোর শীর্ষস্থানীয় নেতা থেকে শুরু করে সাধারণ সদস্যরা অস্ত্র জমা দিয়ে আত্মসমর্পণের সুযোগ খুঁজতে থাকেন। এরই অংশ হিসাবে সোমবার টাঙ্গাইলের অর্ধশতাধিক চরমপন্থির সদস্য ৩৬টি অ¯্রসহ র‌্যাবের নিকট আত্মসর্ম্পন করতে যাচ্ছে।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে একাধিক ব্যক্তি বলেন, তারা অনেকেই ২০০১ সাল থেকে চরম পন্থীর সদস্য হয়েছে। হুগড়ার রফিকের নেতৃত্বে তারা পূর্ব বাংলা কমিউনিস্ট পার্টিতে যোগ দেন। তাদের অনেকের নামে একাধিক মামলা রয়েছে। কেউ কারাভোগ করেছেন। রাষ্ট্রের পক্ষ থেকে তারা স্বাভাবিক জীবনে ফেরার সুযোগ দেয়ার তারা কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন।
র‌্যাব ১২ অধিনায়ক মো. মারুফ হোসেন বলেন, সোমবার তারা আত্মসমর্পন করবে। তাদের স্বাভাবিক জীবনে দ্রæত ফিরিয়ে আনা হবে। তাদের নানাভাবে প্রশিক্ষণ ও অর্থনৈতিক সহযোগিতার মাধ্যমে স্বাবলম্বী করা হবে।

বিজনেস বাংলাদেশ/ bh

ট্যাগ :
জনপ্রিয়

স্বাবাভিক জীবনে ফিরছে টাঙ্গাইলের অর্ধ শতাধিক চরমপন্থি

প্রকাশিত : ০৮:১৩:৪৪ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৯ মে ২০২৩

টাঙ্গাইলের আতঙ্কের নাম পূর্ব বাংলা কমিউনিস্ট পার্টি (সর্বহারা)। লুটতরাজ, জিম্মি, অপহরণ ও খুনসহ নানা অপরাধ ছিলো তাদের নেশা ও পেশা। সেই অপরাধের পথ ছেড়ে স্বাভাবিক জীবনে ফিরছেন পূর্ব বাংলার কমিউনিস্ট পার্টি টাঙ্গাইলের অর্ধ শতাধিক চরমপন্থির সদস্যরা। এতো এসব সদস্যরা গ্রেপ্তার ও মৃত্যুর আতঙ্ক থেকে রক্ষা পেতে নিজেদের আত্মগোপন করেছে রেখে ছিলেন। তাই স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে সোমবার তারা র‌্যাবের মাধ্যমে আত্মসমর্পন করতে যাচ্ছেন। এদের মধ্যে অনেকেই অস্ত্রসহ আত্মসমর্পন করবে বলে জানা গেছে।
স্থানীয়রা জানান, একটা সময় এ অঞ্চলকে বলা হতো ‘রক্তাক্ত জনপদ’। এ অঞ্চলের চরমপন্থিদের দাপটে রাত গভীর হলেই কলাপসিবল গেট আটকে আতঙ্কে থাকতেন খোদ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরাই। নব্বইয়ের দশক থেকে এ পর্যন্ত প্রায় শতাধিক মানুষ খুন হয়েছেন চরমপন্থিদের হাতে। এমনকি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অনেক সদস্যকেও প্রাণ দিতে হয়েছে। এমনই অচলাবস্থায় সাধারণ মানুষের মাঝে স্বস্তি ফেরাতে কাজ শুরু করে পুলিশের এলিট ফোর্স ও র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‌্যাব)। র‌্যাবের অভিযানে বিভিন্ন চরমপন্থি গ্রæপের শীর্ষস্থানীয় নেতাসহ অনেক সদস্যকেই গ্রেফতার করে আইনের আওতায় আনা হয়েছে। এক পর্যায়ে চরমপন্থি দলের বাকি সদস্যরা এলাকা ছেড়ে পালিয়ে যান। এতে টাঙ্গাইলে উত্তর পশ্চিমাঞ্চলে ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হয়ে আসে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি। তবে আতংক শেষ হয়নি সাধারন মানুষের মাঝে। নানা অপকর্ম অব্যাহত রাখে চরম পন্থিরা। র‌্যাবসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ক্রমাগত আভিযান পরিচালনা করতে থাকে। অবশেষে আইনশৃংখলা বাহিনীর তৎপরতার চাপ সইতে না পেরে চরমপন্থি দলগুলোর শীর্ষস্থানীয় নেতা থেকে শুরু করে সাধারণ সদস্যরা অস্ত্র জমা দিয়ে আত্মসমর্পণের সুযোগ খুঁজতে থাকেন। এরই অংশ হিসাবে সোমবার টাঙ্গাইলের অর্ধশতাধিক চরমপন্থির সদস্য ৩৬টি অ¯্রসহ র‌্যাবের নিকট আত্মসর্ম্পন করতে যাচ্ছে।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে একাধিক ব্যক্তি বলেন, তারা অনেকেই ২০০১ সাল থেকে চরম পন্থীর সদস্য হয়েছে। হুগড়ার রফিকের নেতৃত্বে তারা পূর্ব বাংলা কমিউনিস্ট পার্টিতে যোগ দেন। তাদের অনেকের নামে একাধিক মামলা রয়েছে। কেউ কারাভোগ করেছেন। রাষ্ট্রের পক্ষ থেকে তারা স্বাভাবিক জীবনে ফেরার সুযোগ দেয়ার তারা কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন।
র‌্যাব ১২ অধিনায়ক মো. মারুফ হোসেন বলেন, সোমবার তারা আত্মসমর্পন করবে। তাদের স্বাভাবিক জীবনে দ্রæত ফিরিয়ে আনা হবে। তাদের নানাভাবে প্রশিক্ষণ ও অর্থনৈতিক সহযোগিতার মাধ্যমে স্বাবলম্বী করা হবে।

বিজনেস বাংলাদেশ/ bh