০৩:৩৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৭ জানুয়ারী ২০২৬

আমি মইরা গেলেও তারে ছাড়বা না

মৃত্যুর আগে হাসপাতালের বেডে শয্যাশায়ী মাহমুদা বলেন, আমার গায়ের উপর কি যেন পানির মতন একটা ছুড়ে মারছে । এরপরে আগুন ধরে গেছে, আমার আব্বারে ডাক দিছি, এইসব আমার হাসবেন্ড করছে আমি মইরা গেলেও তারে ছাড়বা না তোমরা। শরীরের প্রায় ৮০ শতাংশ পুড়ে যাওয়ার পর এভাবেই মুমূর্ষ অবস্থায় কথাগুলো বলেন মাহামুদা আক্তার(২৫)।

মাদারীপুর রাজৈরে মাহমুদা আক্তার (২৫) নামের এক মহিলা অগ্নিদগ্ধে মৃত্যু , পরিবারের অভিযোগ স্বামীর বিরুদ্ধে। মাহমুদা আক্তার মাদারীপুর জেলার রাজৈর উপজেলার বদরপাশা ইউনিয়নের কাজীকাঠাল গ্রামের আনোয়ার কাজীর মেয়ে। ঘটনাটি ঘটেছে গতকাল শুক্রবার দিবাগত রাত তিনটার সময় পিতার বাড়ীতে।

পারিবারিক সূত্রে জানা যায় , মাহামুদা আক্তারের পাঁচ বছর আগে একটি বিয়ে হয়। বিয়ের দুই মাস যেতে না যেতেই স্বামী স্ত্রীর বিচ্ছেদ ঘটে। এর কিছুদিন পর টাঙ্গাইলের ভুয়াপুর এলাকার আফিদুল ইসলাম নামের এক যুবকের সাথে মুঠোফোনের মাধ্যমে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে এই প্রেমের সম্পর্কের জের ধরেই দুই বছর আগে তাদের বিয়ে হয়। আগের বিয়ের কথা স্বামীর কাছে গোপন করে মাহামুদা। বিয়ের এক বছর পর স্বামী তার আগের বিয়ের কথা জানতে পেরে স্বামী স্ত্রীর মাঝে মনমালিন্য সৃষ্টি হয়। তারই জের ধরে এই ঘটনাটি ঘটেছে বলে পরিবারের দাবি। মাহমুদা টেকেরহাট প্রাইভেট সিটি হসপিটালে চাকরি করতেন।

মাহামুদার মা জাহেদা বেগম জানান, আমি রাত তিনটার সময় ছাগলের বাচ্চা কে দুধ খাওয়ানোর জন্য বাইরে বের হই। তখন আমি ব্রিজের উপর দুজন লোক দেখি । মনে করছি গরমের দিন তারা হয়তো এখানে কেউ মোবাইলে ছবি দেখতাছে । আমি বিষয়টা কেয়ার করি নাই । তার কিছুক্ষণ পর দেখি ঘরের বাতি নিভানো, আমি ঘরে গিয়ে আমার স্বামীকে বললাম আমাকে বাইরে রেখে বাতিটা নিভাইছো কেন। তার কিছুক্ষণ পরই আমার মেয়ে চিৎকার করে বলতেছে আমাকে আগুন ধরায় দিছে বাবা মা আমাকে বাঁচাও, মেয়ের চিৎকার শুনে ওর বাবা ওর কাছে গিয়ে পানি ঢাইলা দেয় পরে আগুন নিভে যায়। এসব আমার মেয়ের জামাই করাইছে ।টাঙ্গাইলের ভুয়াপুর এলাকার আফিদুল ইসলাম সে বর্তমানে নৌ বাহিনীতে কর্মরত আছে। আমার জামাই ও তার লোাকজন আমার মেয়েকে পুড়িয়ে মেরে ফেলেছে। আমি এর বিচার চাই ।

মাহামুদার দাদি মেহেরুন বেগম জানান, নাতনিকে যখন চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে নেয়া হচ্ছিল তখন আমাকে নাতনি বলেন, নানী আমার গায়ে পানি জাতীয় ঠান্ডা কিছু একটা দিয়ে আগুন ধরায় দিছে । আমার নাতনির শরীরের প্রায় ৮০ ভাগ পুড়ে গেছে।

প্রতিবেশী ফুপাত ভাই জানান, আমরা আগুন লাগার কথা শুনে এসে দেখি তার শরীর পুড়ে গেছে। তারপর তাকে হাসপাতালে ধরাধরি করে পাঠিয়ে দেই। এরপর উন্নত চিকিৎসার জন্য ডাক্তার তাকে ঢাকা পাঠায়। সে এখন আইসিইউতে ভর্তি আছে। সন্ধ্যায় তার মৃত্যুর খবর পেয়ে এলাকায় শোকের মাতম বইছে।

রাজৈর থানার ওসি ( তদন্ত ) সঞ্জয় কুমার ঘোষ জানান , মাহামুদা আক্তার নামের একজনের গায়ে অগ্নি কান্ডের ঘটনা ঘটেছে। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে আলামত সংগ্রহ করেছি। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। আমরা ঢাকাও মেডিকেল টিম পাঠিয়েছি । বিকালে তার মৃত্যুর খবর পেয়েছি। তাদের পরিবারের অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

বিজনেস বাংলাদেশ/ bh

ট্যাগ :
জনপ্রিয়

বিগত সময়ে সবচেয়ে বেশি অপরাধ ও অন্যায় করা হয়েছে সাতক্ষীরায়: ডা. শফিকুর রহমান

আমি মইরা গেলেও তারে ছাড়বা না

প্রকাশিত : ০৪:১৭:৩৩ অপরাহ্ন, রবিবার, ২১ মে ২০২৩

মৃত্যুর আগে হাসপাতালের বেডে শয্যাশায়ী মাহমুদা বলেন, আমার গায়ের উপর কি যেন পানির মতন একটা ছুড়ে মারছে । এরপরে আগুন ধরে গেছে, আমার আব্বারে ডাক দিছি, এইসব আমার হাসবেন্ড করছে আমি মইরা গেলেও তারে ছাড়বা না তোমরা। শরীরের প্রায় ৮০ শতাংশ পুড়ে যাওয়ার পর এভাবেই মুমূর্ষ অবস্থায় কথাগুলো বলেন মাহামুদা আক্তার(২৫)।

মাদারীপুর রাজৈরে মাহমুদা আক্তার (২৫) নামের এক মহিলা অগ্নিদগ্ধে মৃত্যু , পরিবারের অভিযোগ স্বামীর বিরুদ্ধে। মাহমুদা আক্তার মাদারীপুর জেলার রাজৈর উপজেলার বদরপাশা ইউনিয়নের কাজীকাঠাল গ্রামের আনোয়ার কাজীর মেয়ে। ঘটনাটি ঘটেছে গতকাল শুক্রবার দিবাগত রাত তিনটার সময় পিতার বাড়ীতে।

পারিবারিক সূত্রে জানা যায় , মাহামুদা আক্তারের পাঁচ বছর আগে একটি বিয়ে হয়। বিয়ের দুই মাস যেতে না যেতেই স্বামী স্ত্রীর বিচ্ছেদ ঘটে। এর কিছুদিন পর টাঙ্গাইলের ভুয়াপুর এলাকার আফিদুল ইসলাম নামের এক যুবকের সাথে মুঠোফোনের মাধ্যমে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে এই প্রেমের সম্পর্কের জের ধরেই দুই বছর আগে তাদের বিয়ে হয়। আগের বিয়ের কথা স্বামীর কাছে গোপন করে মাহামুদা। বিয়ের এক বছর পর স্বামী তার আগের বিয়ের কথা জানতে পেরে স্বামী স্ত্রীর মাঝে মনমালিন্য সৃষ্টি হয়। তারই জের ধরে এই ঘটনাটি ঘটেছে বলে পরিবারের দাবি। মাহমুদা টেকেরহাট প্রাইভেট সিটি হসপিটালে চাকরি করতেন।

মাহামুদার মা জাহেদা বেগম জানান, আমি রাত তিনটার সময় ছাগলের বাচ্চা কে দুধ খাওয়ানোর জন্য বাইরে বের হই। তখন আমি ব্রিজের উপর দুজন লোক দেখি । মনে করছি গরমের দিন তারা হয়তো এখানে কেউ মোবাইলে ছবি দেখতাছে । আমি বিষয়টা কেয়ার করি নাই । তার কিছুক্ষণ পর দেখি ঘরের বাতি নিভানো, আমি ঘরে গিয়ে আমার স্বামীকে বললাম আমাকে বাইরে রেখে বাতিটা নিভাইছো কেন। তার কিছুক্ষণ পরই আমার মেয়ে চিৎকার করে বলতেছে আমাকে আগুন ধরায় দিছে বাবা মা আমাকে বাঁচাও, মেয়ের চিৎকার শুনে ওর বাবা ওর কাছে গিয়ে পানি ঢাইলা দেয় পরে আগুন নিভে যায়। এসব আমার মেয়ের জামাই করাইছে ।টাঙ্গাইলের ভুয়াপুর এলাকার আফিদুল ইসলাম সে বর্তমানে নৌ বাহিনীতে কর্মরত আছে। আমার জামাই ও তার লোাকজন আমার মেয়েকে পুড়িয়ে মেরে ফেলেছে। আমি এর বিচার চাই ।

মাহামুদার দাদি মেহেরুন বেগম জানান, নাতনিকে যখন চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে নেয়া হচ্ছিল তখন আমাকে নাতনি বলেন, নানী আমার গায়ে পানি জাতীয় ঠান্ডা কিছু একটা দিয়ে আগুন ধরায় দিছে । আমার নাতনির শরীরের প্রায় ৮০ ভাগ পুড়ে গেছে।

প্রতিবেশী ফুপাত ভাই জানান, আমরা আগুন লাগার কথা শুনে এসে দেখি তার শরীর পুড়ে গেছে। তারপর তাকে হাসপাতালে ধরাধরি করে পাঠিয়ে দেই। এরপর উন্নত চিকিৎসার জন্য ডাক্তার তাকে ঢাকা পাঠায়। সে এখন আইসিইউতে ভর্তি আছে। সন্ধ্যায় তার মৃত্যুর খবর পেয়ে এলাকায় শোকের মাতম বইছে।

রাজৈর থানার ওসি ( তদন্ত ) সঞ্জয় কুমার ঘোষ জানান , মাহামুদা আক্তার নামের একজনের গায়ে অগ্নি কান্ডের ঘটনা ঘটেছে। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে আলামত সংগ্রহ করেছি। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। আমরা ঢাকাও মেডিকেল টিম পাঠিয়েছি । বিকালে তার মৃত্যুর খবর পেয়েছি। তাদের পরিবারের অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

বিজনেস বাংলাদেশ/ bh