০৫:২৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৭ জানুয়ারী ২০২৬

চট্টগ্রাম-২ আসনে সরওয়ার আলমগীরের প্রার্থিতা বৈধ ঘোষণা হাইকোর্টের

চট্টগ্রাম-২ (ফটিকছড়ি) সংসদীয় আসনে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী সরওয়ার আলমগীর এর প্রার্থিতা বৈধ ঘোষণা করেছেন হাইকোর্ট। এর ফলে আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তার অংশগ্রহণে আর কোনো আইনি বাধা রইল না।

মঙ্গলবার হাইকোর্ট বিভাগের বিচারপতি ফাহমিদা কাদের ও বিচারপতি আসিফ হাসান এর সমন্বয়ে গঠিত দ্বৈত বেঞ্চ সরওয়ার আলমগীরের প্রার্থিতার বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে দায়ের করা রিটের শুনানি শেষে এ আদেশ দেন।

বিএনপি প্রার্থী সরওয়ার আলমগীরের আইনজীবী অ্যাডভোকেট ইউসুফ আলী মাসুদ জানান, হাইকোর্টের এই আদেশের মাধ্যমে সরওয়ার আলমগীরের নির্বাচনে অংশগ্রহণে আর কোনো প্রতিবন্ধকতা নেই।

আদালতে শুনানিকালে সরওয়ার আলমগীরের পক্ষে ছিলেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী আহসানুল করিম, ব্যারিস্টার রুহুল কুদ্দুস কাজল, ব্যারিস্টার মোস্তাফিজুর রহমান ও ব্যারিস্টার ফয়সল মাহমুদ ফয়জি।

আদালত সূত্রে জানা গেছে, নির্বাচন কমিশনের (ইসি) মনোনয়নপত্র বাতিলের সিদ্ধান্তের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে সরওয়ার আলমগীর যে রিট দায়ের করেছিলেন, সেটির ওপর আদেশের জন্য মঙ্গলবার দিন ধার্য ছিল। হাইকোর্টের কার্যতালিকায় এটি ৮৩ নম্বর ক্রমিকে শুনানির জন্য ওঠে।

এর আগে, ১৮ জানুয়ারি আগারগাঁওয়ের নির্বাচন ভবনে শুনানি শেষে সরওয়ার আলমগীরের বিরুদ্ধে জামায়াত মনোনীত প্রার্থী অধ্যাপক নুরুল আমিন–এর করা আপিল প্রথম দফায় নামঞ্জুর করে নির্বাচন কমিশন। তবে ওই দিন বিকেলে সরওয়ার আলমগীরের মালিকানাধীন এএনএফজেড টেরি টেক্সটাইল–এর বিরুদ্ধে প্রিমিয়ার লিজিং অ্যান্ড ফাইন্যান্স লিমিটেডের একটি স্থিতি আদেশ জমা দেন তার প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী। পরবর্তীতে নির্বাচন কমিশন একতরফাভাবে চট্টগ্রাম-২ আসনে বিএনপি প্রার্থী সরওয়ার আলমগীরের মনোনয়নপত্র বাতিল ঘোষণা করে।

এ সিদ্ধান্তের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে সরওয়ার আলমগীর ২০ জানুয়ারি হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন।

উল্লেখ্য, সরওয়ার আলমগীরকে নির্বাচনের মাঠের বাইরে রাখতে জামায়াত মনোনীত প্রার্থী অধ্যাপক নুরুল আমিন ছয়টি সিভিল পিটিশন দায়ের করেন। এসব আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ২২ জানুয়ারি সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের চেম্বার জজ বিচারপতি মো. রেজাউল হক এক আদেশে বলেন, চট্টগ্রাম-২ (ফটিকছড়ি) আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী সরওয়ার আলমগীরকে আর ঋণখেলাপি হিসেবে গণ্য করা যাবে না।

প্রিমিয়ার লিজিং অ্যান্ড ফাইন্যান্স সার্ভিসেস লিমিটেডের করা এক আবেদনের শুনানি শেষে চেম্বার জজ তার পূর্বে দেওয়া স্থগিতাদেশ প্রত্যাহার করলে হাইকোর্টের রায় কার্যকর থাকে, ফলে সরওয়ার আলমগীরের নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতার পথ সুগম হয়।

রিট শুনানিকালে জামায়াত প্রার্থীর আইনজীবীরা যমুনা ব্যাংকসহ বিভিন্ন ব্যাংকে সরওয়ার আলমগীরের ঋণখেলাপি থাকার অভিযোগ উত্থাপন করলেও আদালত তা আমলে নেয়নি।

সরওয়ার আলমগীরের আইনজীবী আহসানুল করিম বলেন, এই আদেশের মাধ্যমে সব ধরনের আইনি বাধা দূর হয়েছে। তিনি চট্টগ্রাম-২ (ফটিকছড়ি) আসনে ধানের শীষ প্রতীকে নির্বাচনে অংশ নিতে পারবেন।

এ বিষয়ে সরওয়ার আলমগীর বলেন, “সত্যের জয় অবশ্যম্ভাবী আবারও তা প্রমাণিত হয়েছে। একটি গোষ্ঠী আমাকে নির্বাচন থেকে দূরে রাখতে নানা ষড়যন্ত্র করেছে, কিন্তু তারা সফল হয়নি। মাননীয় আদালতে ন্যায়বিচার পেয়েছি। ফটিকছড়িবাসী আমার পাশে আছে আমি তাদের প্রতি কৃতজ্ঞ।”

ডিএস./

ট্যাগ :
জনপ্রিয়

চট্টগ্রাম-২ আসনে সরওয়ার আলমগীরের প্রার্থিতা বৈধ ঘোষণা হাইকোর্টের

প্রকাশিত : ০৩:০৩:২৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৭ জানুয়ারী ২০২৬

চট্টগ্রাম-২ (ফটিকছড়ি) সংসদীয় আসনে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী সরওয়ার আলমগীর এর প্রার্থিতা বৈধ ঘোষণা করেছেন হাইকোর্ট। এর ফলে আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তার অংশগ্রহণে আর কোনো আইনি বাধা রইল না।

মঙ্গলবার হাইকোর্ট বিভাগের বিচারপতি ফাহমিদা কাদের ও বিচারপতি আসিফ হাসান এর সমন্বয়ে গঠিত দ্বৈত বেঞ্চ সরওয়ার আলমগীরের প্রার্থিতার বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে দায়ের করা রিটের শুনানি শেষে এ আদেশ দেন।

বিএনপি প্রার্থী সরওয়ার আলমগীরের আইনজীবী অ্যাডভোকেট ইউসুফ আলী মাসুদ জানান, হাইকোর্টের এই আদেশের মাধ্যমে সরওয়ার আলমগীরের নির্বাচনে অংশগ্রহণে আর কোনো প্রতিবন্ধকতা নেই।

আদালতে শুনানিকালে সরওয়ার আলমগীরের পক্ষে ছিলেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী আহসানুল করিম, ব্যারিস্টার রুহুল কুদ্দুস কাজল, ব্যারিস্টার মোস্তাফিজুর রহমান ও ব্যারিস্টার ফয়সল মাহমুদ ফয়জি।

আদালত সূত্রে জানা গেছে, নির্বাচন কমিশনের (ইসি) মনোনয়নপত্র বাতিলের সিদ্ধান্তের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে সরওয়ার আলমগীর যে রিট দায়ের করেছিলেন, সেটির ওপর আদেশের জন্য মঙ্গলবার দিন ধার্য ছিল। হাইকোর্টের কার্যতালিকায় এটি ৮৩ নম্বর ক্রমিকে শুনানির জন্য ওঠে।

এর আগে, ১৮ জানুয়ারি আগারগাঁওয়ের নির্বাচন ভবনে শুনানি শেষে সরওয়ার আলমগীরের বিরুদ্ধে জামায়াত মনোনীত প্রার্থী অধ্যাপক নুরুল আমিন–এর করা আপিল প্রথম দফায় নামঞ্জুর করে নির্বাচন কমিশন। তবে ওই দিন বিকেলে সরওয়ার আলমগীরের মালিকানাধীন এএনএফজেড টেরি টেক্সটাইল–এর বিরুদ্ধে প্রিমিয়ার লিজিং অ্যান্ড ফাইন্যান্স লিমিটেডের একটি স্থিতি আদেশ জমা দেন তার প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী। পরবর্তীতে নির্বাচন কমিশন একতরফাভাবে চট্টগ্রাম-২ আসনে বিএনপি প্রার্থী সরওয়ার আলমগীরের মনোনয়নপত্র বাতিল ঘোষণা করে।

এ সিদ্ধান্তের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে সরওয়ার আলমগীর ২০ জানুয়ারি হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন।

উল্লেখ্য, সরওয়ার আলমগীরকে নির্বাচনের মাঠের বাইরে রাখতে জামায়াত মনোনীত প্রার্থী অধ্যাপক নুরুল আমিন ছয়টি সিভিল পিটিশন দায়ের করেন। এসব আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ২২ জানুয়ারি সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের চেম্বার জজ বিচারপতি মো. রেজাউল হক এক আদেশে বলেন, চট্টগ্রাম-২ (ফটিকছড়ি) আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী সরওয়ার আলমগীরকে আর ঋণখেলাপি হিসেবে গণ্য করা যাবে না।

প্রিমিয়ার লিজিং অ্যান্ড ফাইন্যান্স সার্ভিসেস লিমিটেডের করা এক আবেদনের শুনানি শেষে চেম্বার জজ তার পূর্বে দেওয়া স্থগিতাদেশ প্রত্যাহার করলে হাইকোর্টের রায় কার্যকর থাকে, ফলে সরওয়ার আলমগীরের নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতার পথ সুগম হয়।

রিট শুনানিকালে জামায়াত প্রার্থীর আইনজীবীরা যমুনা ব্যাংকসহ বিভিন্ন ব্যাংকে সরওয়ার আলমগীরের ঋণখেলাপি থাকার অভিযোগ উত্থাপন করলেও আদালত তা আমলে নেয়নি।

সরওয়ার আলমগীরের আইনজীবী আহসানুল করিম বলেন, এই আদেশের মাধ্যমে সব ধরনের আইনি বাধা দূর হয়েছে। তিনি চট্টগ্রাম-২ (ফটিকছড়ি) আসনে ধানের শীষ প্রতীকে নির্বাচনে অংশ নিতে পারবেন।

এ বিষয়ে সরওয়ার আলমগীর বলেন, “সত্যের জয় অবশ্যম্ভাবী আবারও তা প্রমাণিত হয়েছে। একটি গোষ্ঠী আমাকে নির্বাচন থেকে দূরে রাখতে নানা ষড়যন্ত্র করেছে, কিন্তু তারা সফল হয়নি। মাননীয় আদালতে ন্যায়বিচার পেয়েছি। ফটিকছড়িবাসী আমার পাশে আছে আমি তাদের প্রতি কৃতজ্ঞ।”

ডিএস./