০৫:১৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৭ জানুয়ারী ২০২৬

চট্টগ্রাম বন্দরকে বিশ্বমানের হাবে গড়ে তুলতে যুক্তরাষ্ট্রের সহযোগিতার আশ্বাস

চট্টগ্রাম বন্দর পরিদর্শনে মার্কিন রাষ্ট্রদূতের নেতৃত্বে প্রতিনিধি দল ২৬ জানুয়ারি ২০২৬ তারিখে বাংলাদেশে নিযুক্ত যুক্তরাষ্ট্রের মান্যবর রাষ্ট্রদূত Brent T. Christensen–এর নেতৃত্বে ৫ সদস্যের একটি প্রতিনিধিদল চট্টগ্রাম বন্দর পরিদর্শন করেছেন।

বন্দর পরিদর্শন শেষে প্রতিনিধিদলটি চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান রিয়ার এডমিরাল এস এম মনিরুজ্জামান, ওএসপি, এনডিসি, এনসিসি, পিএসসি–এর সঙ্গে এক সৌজন্য সাক্ষাতে মিলিত হন। এসময় চেয়ারম্যান জুলাই গণঅভ্যুত্থান–২০২৪ পরবর্তী অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময়ে চট্টগ্রাম বন্দরের উল্লেখযোগ্য অর্জন ও অগ্রগতি সম্পর্কে প্রতিনিধিদলকে অবহিত করেন।

তিনি বলেন, বিগত সময়ের নানা অনিয়ম, শ্রম অসন্তোষ, বিভিন্ন প্রেশার গ্রুপের আধিপত্য, অগ্নি দুর্ঘটনা ও ডিজিটাইজেশনে প্রতিবন্ধকতাসহ বহুমুখী চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করে বন্দরে যুগোপযোগী সংস্কার কার্যক্রম বাস্তবায়ন করা হয়েছে। এর ফলে সাম্প্রতিক সময়ে চট্টগ্রাম বন্দরে কন্টেইনার হ্যান্ডলিংয়ে রেকর্ড সৃষ্টি, জাহাজের টার্ন-এরাউন্ড টাইম ও ডুয়েল টাইম হ্রাস, পোর্ট লিমিট বৃদ্ধি এবং সর্বাধিক মুনাফা অর্জন সম্ভব হয়েছে।

এছাড়া পানগাঁও আইসিটি ও লালদিয়া কনটেইনার টার্মিনালে বিদেশি অপারেটর নিয়োগ, বে টার্মিনাল ও মাতারবাড়ি গভীর সমুদ্র বন্দর উন্নয়ন প্রকল্পের দ্রুত বাস্তবায়ন, বন্দরের ডিজিটাইজেশন কার্যক্রম এবং ইউএস কোস্টগার্ড কর্তৃক আইএসপিএস অডিটে ‘জিরো অবজারভেশন’ অর্জনের বিষয়গুলোও তুলে ধরেন তিনি।

চেয়ারম্যান আরও জানান, মাতারবাড়ি গভীর সমুদ্র বন্দর ও বে টার্মিনাল চালু হলে চট্টগ্রাম বন্দর বিশ্বের অন্যান্য বন্দরের সঙ্গে সরাসরি জাহাজ চলাচলের সক্ষমতা অর্জন করবে। পাশাপাশি প্রতিবেশী দেশের পণ্য পরিবহনের মাধ্যমে বন্দরটি দক্ষিণ এশিয়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ নৌ-বাণিজ্যিক হাবে পরিণত হবে, যা দেশের অর্থনীতিকে আরও শক্তিশালী করবে এবং ব্যাপক কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করবে।

চট্টগ্রাম বন্দরের মাধ্যমে আমদানিকৃত রেফার কন্টেইনার সংরক্ষণে কোল্ড চেইন ইন্ডাস্ট্রি স্থাপনে মার্কিন সরকারের আগ্রহকে স্বাগত জানান বন্দর চেয়ারম্যান। একই সঙ্গে বন্দরে বিভিন্ন শ্রমিক সংগঠনের ইতিবাচক ভূমিকার কারণে নির্বিঘ্নে অপারেশনাল কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে বলেও তিনি মান্যবর রাষ্ট্রদূতকে অবহিত করেন।

এদিকে মান্যবর রাষ্ট্রদূত Brent T. Christensen চট্টগ্রাম বন্দরের বর্তমান ও ভবিষ্যৎ কার্যক্রমে সন্তোষ প্রকাশ করেন। তিনি বন্দরকে আরও দক্ষ, আধুনিক ও বিশ্বমানের বন্দর হিসেবে গড়ে তুলতে যুক্তরাষ্ট্র সরকারের সার্বিক সহযোগিতার আশ্বাস দেন। পাশাপাশি বন্দরকেন্দ্রিক বিদেশি বিনিয়োগ বৃদ্ধি, দক্ষ জনশক্তি তৈরিতে প্রশিক্ষণ এবং অন্যান্য খাতে সহযোগিতা প্রদানের আগ্রহ ব্যক্ত করেন। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্র থেকে রপ্তানিকৃত পণ্য খালাসে চট্টগ্রাম বন্দরের সহযোগিতাও কামনা করেন তিনি।

সৌজন্য সাক্ষাতে প্রতিনিধিদলের অন্যান্য সদস্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন Micheal Pennell (Economic Unit Chief), Paul Frost (Commercial Counselor), Firoze Ahmed (Political Specialist), Asif Ahmed (Economic Specialist)। এসময় চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের পরিচালক (প্রশাসন) মোঃ ওমর ফারুক, সচিব মোহাম্মদ আজিজুল মওলাসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

ডিএস./

ট্যাগ :
জনপ্রিয়

চট্টগ্রাম বন্দরকে বিশ্বমানের হাবে গড়ে তুলতে যুক্তরাষ্ট্রের সহযোগিতার আশ্বাস

প্রকাশিত : ০৩:০০:৫০ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৭ জানুয়ারী ২০২৬

চট্টগ্রাম বন্দর পরিদর্শনে মার্কিন রাষ্ট্রদূতের নেতৃত্বে প্রতিনিধি দল ২৬ জানুয়ারি ২০২৬ তারিখে বাংলাদেশে নিযুক্ত যুক্তরাষ্ট্রের মান্যবর রাষ্ট্রদূত Brent T. Christensen–এর নেতৃত্বে ৫ সদস্যের একটি প্রতিনিধিদল চট্টগ্রাম বন্দর পরিদর্শন করেছেন।

বন্দর পরিদর্শন শেষে প্রতিনিধিদলটি চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান রিয়ার এডমিরাল এস এম মনিরুজ্জামান, ওএসপি, এনডিসি, এনসিসি, পিএসসি–এর সঙ্গে এক সৌজন্য সাক্ষাতে মিলিত হন। এসময় চেয়ারম্যান জুলাই গণঅভ্যুত্থান–২০২৪ পরবর্তী অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময়ে চট্টগ্রাম বন্দরের উল্লেখযোগ্য অর্জন ও অগ্রগতি সম্পর্কে প্রতিনিধিদলকে অবহিত করেন।

তিনি বলেন, বিগত সময়ের নানা অনিয়ম, শ্রম অসন্তোষ, বিভিন্ন প্রেশার গ্রুপের আধিপত্য, অগ্নি দুর্ঘটনা ও ডিজিটাইজেশনে প্রতিবন্ধকতাসহ বহুমুখী চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করে বন্দরে যুগোপযোগী সংস্কার কার্যক্রম বাস্তবায়ন করা হয়েছে। এর ফলে সাম্প্রতিক সময়ে চট্টগ্রাম বন্দরে কন্টেইনার হ্যান্ডলিংয়ে রেকর্ড সৃষ্টি, জাহাজের টার্ন-এরাউন্ড টাইম ও ডুয়েল টাইম হ্রাস, পোর্ট লিমিট বৃদ্ধি এবং সর্বাধিক মুনাফা অর্জন সম্ভব হয়েছে।

এছাড়া পানগাঁও আইসিটি ও লালদিয়া কনটেইনার টার্মিনালে বিদেশি অপারেটর নিয়োগ, বে টার্মিনাল ও মাতারবাড়ি গভীর সমুদ্র বন্দর উন্নয়ন প্রকল্পের দ্রুত বাস্তবায়ন, বন্দরের ডিজিটাইজেশন কার্যক্রম এবং ইউএস কোস্টগার্ড কর্তৃক আইএসপিএস অডিটে ‘জিরো অবজারভেশন’ অর্জনের বিষয়গুলোও তুলে ধরেন তিনি।

চেয়ারম্যান আরও জানান, মাতারবাড়ি গভীর সমুদ্র বন্দর ও বে টার্মিনাল চালু হলে চট্টগ্রাম বন্দর বিশ্বের অন্যান্য বন্দরের সঙ্গে সরাসরি জাহাজ চলাচলের সক্ষমতা অর্জন করবে। পাশাপাশি প্রতিবেশী দেশের পণ্য পরিবহনের মাধ্যমে বন্দরটি দক্ষিণ এশিয়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ নৌ-বাণিজ্যিক হাবে পরিণত হবে, যা দেশের অর্থনীতিকে আরও শক্তিশালী করবে এবং ব্যাপক কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করবে।

চট্টগ্রাম বন্দরের মাধ্যমে আমদানিকৃত রেফার কন্টেইনার সংরক্ষণে কোল্ড চেইন ইন্ডাস্ট্রি স্থাপনে মার্কিন সরকারের আগ্রহকে স্বাগত জানান বন্দর চেয়ারম্যান। একই সঙ্গে বন্দরে বিভিন্ন শ্রমিক সংগঠনের ইতিবাচক ভূমিকার কারণে নির্বিঘ্নে অপারেশনাল কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে বলেও তিনি মান্যবর রাষ্ট্রদূতকে অবহিত করেন।

এদিকে মান্যবর রাষ্ট্রদূত Brent T. Christensen চট্টগ্রাম বন্দরের বর্তমান ও ভবিষ্যৎ কার্যক্রমে সন্তোষ প্রকাশ করেন। তিনি বন্দরকে আরও দক্ষ, আধুনিক ও বিশ্বমানের বন্দর হিসেবে গড়ে তুলতে যুক্তরাষ্ট্র সরকারের সার্বিক সহযোগিতার আশ্বাস দেন। পাশাপাশি বন্দরকেন্দ্রিক বিদেশি বিনিয়োগ বৃদ্ধি, দক্ষ জনশক্তি তৈরিতে প্রশিক্ষণ এবং অন্যান্য খাতে সহযোগিতা প্রদানের আগ্রহ ব্যক্ত করেন। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্র থেকে রপ্তানিকৃত পণ্য খালাসে চট্টগ্রাম বন্দরের সহযোগিতাও কামনা করেন তিনি।

সৌজন্য সাক্ষাতে প্রতিনিধিদলের অন্যান্য সদস্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন Micheal Pennell (Economic Unit Chief), Paul Frost (Commercial Counselor), Firoze Ahmed (Political Specialist), Asif Ahmed (Economic Specialist)। এসময় চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের পরিচালক (প্রশাসন) মোঃ ওমর ফারুক, সচিব মোহাম্মদ আজিজুল মওলাসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

ডিএস./