০৫:৪৬ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

গরমে বেড়েছে তাল শাঁসের কদর

কুষ্টিয়ার ভেড়ামারাতে গরমের তাপমাত্রার তীব্রতা প্রতিদিন যেন বেড়েই চলেছে। জ্যৈষ্ঠের তীব্র দাবদাহে শরীরটাকে একটু স্বস্তিতে রাখতে বেড়েছে তাল শাঁসের কদর। তাল শাঁস ঠান্ডা ফল হওয়ায় গরম থেকে বাঁচতে এ মৌসুমি তাল শাঁস ফলটির কদর বেড়েছে অত্র অঞ্চলে অধিকগুণ।

তালশাঁস জেলির মতো হওয়ায় খেতে খুব মুখরোচক এবং শিশুদের কাছে খুব প্রিয়। পাকা তালে বড়া, হালুয়াসহ নানা ধরণের খাবার তৈরি করা যায়। তাছাড়া তালের আঁটি কেটে আঁটির ভেতর থেকে সাদা রঙের শাঁস বের করে খাওয়া যায়। যা খেতে খুব সুস্বাদু।

প্রতিদিন গ্রামের হাট-বাজারে প্রচুর পরিমাণে তাল বিক্রি হচ্ছে। গ্রাম অঞ্চল থেকে তাল জেলা শহর ও রাজধানী ঢাকা শহরে সরবরাহ হচ্ছে। ভেড়ামারা থেকে ট্রাকে করে তাল ঢাকা শহরে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। এলাকার ব্যবসায়ীরা ঢাকা কারওয়ান বাজারে পাইকারি বিক্রি করছে। তবে বিগত বছরের তুলনায় তালের দাম এবার বেশি।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, ভেড়ামারা রেল বাজারে দুপুর বেলায় তাল শাঁস বিক্রেতারা তাল শাঁস কাটা শেষ করতে না করতেই ক্রেতারা নিয়ে যাচ্ছেন। ৩ পিস তাল শাঁস বিক্রি হচ্ছে ২০ টাকায়। প্রতিদিন প্রায় ৪০০-৫০০ পিস তাল শাঁস বিক্রি করে থাকেন এসব বিক্রেতা। তাও প্রায় দেড় দুই হাজার টাকার তাল বিক্রি করছেন তারা।

জানা যায়, এ বছর ভেড়ামারা উপজেলা অঞ্চলে তালের প্রচুর ফলন হয়েছে। বৈরী আবহাওয়া আর অনাবৃষ্টির পরেও ফলন ভালো হয়েছে। ছোট-বড় কাঁদি হিসেবে ১০-৪০টি পর্যন্ত তাল একটি কাঁদিতে ধরেছে। এ এলাকায় দুই রকম তালের জাত দেখা যায়। একটি কালছে রঙের আর একটি ধূসর হলদে বর্ণের। স্থানীয় বাজারে এক একটি তাল ২০-২৫ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। একটি তালে দুই থেকে চারটে আঁটি হয়। প্রতিটি আঁটির ভেতরে শাঁস। তাল ছোট-বড় হিসেবে বিভিন্ন দামে বিক্রি হচ্ছে। স্থানীয় ব্যবসায়ীরা তাল গাছের মালিকের থেকে গাছ চুক্তি ৩০০-১০০০ টাকায় তাল ক্রয় করছেন।

উপজেলার চাদগ্রামের তাল ব্যবসায়ী মমিনুর বলেন, প্রতিদিন ফেরি করে ২-৩ হাজার টাকার তাল বিক্রি করি। গরম বেশি থাকায় প্রচুর পরিমাণে তাল বিক্রি হচ্ছে।

বিশেষজ্ঞ ডাক্তারদের মতে, এই গরমে প্রাণ জুড়াতে তাল শাঁসের জুড়ি মেলা ভার। তাল শাঁস একটি সু-স্বাদু ও ঠান্ডাজনিত ফল। তাল শাঁসে থাকে- আয়োডিন, মিনারেল, পটাশিয়াম, জিঙ্ক, ফসফরাস। এসব পুষ্টি উপাদান এই গরমে নানা উপায়ে শরীর ভালো রাখতে সহায়তা করে। এই গরমে তাল শাঁস শরীরে শক্তি জোগানোর পাশাপাশি দৈহিক তাপমাত্রা কমাতে কাজ করে। এছাড়াও কোষ্ঠকাঠিন্য দূর, ত্বক শুষ্ক ও চুল পড়া রোধ করতে সাহায্য করে। তাল শাঁসে থাকা ক্যালসিয়াম হাড় গঠনে ভূমিকা রাখে ও শরীরের কোষের ক্ষয় প্রতিরোধ করে।

বিজনেস বাংলাদেশ/ হাবিব

ট্যাগ :
জনপ্রিয়

গরমে বেড়েছে তাল শাঁসের কদর

প্রকাশিত : ০২:৫৮:৩৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৫ মে ২০২৩

কুষ্টিয়ার ভেড়ামারাতে গরমের তাপমাত্রার তীব্রতা প্রতিদিন যেন বেড়েই চলেছে। জ্যৈষ্ঠের তীব্র দাবদাহে শরীরটাকে একটু স্বস্তিতে রাখতে বেড়েছে তাল শাঁসের কদর। তাল শাঁস ঠান্ডা ফল হওয়ায় গরম থেকে বাঁচতে এ মৌসুমি তাল শাঁস ফলটির কদর বেড়েছে অত্র অঞ্চলে অধিকগুণ।

তালশাঁস জেলির মতো হওয়ায় খেতে খুব মুখরোচক এবং শিশুদের কাছে খুব প্রিয়। পাকা তালে বড়া, হালুয়াসহ নানা ধরণের খাবার তৈরি করা যায়। তাছাড়া তালের আঁটি কেটে আঁটির ভেতর থেকে সাদা রঙের শাঁস বের করে খাওয়া যায়। যা খেতে খুব সুস্বাদু।

প্রতিদিন গ্রামের হাট-বাজারে প্রচুর পরিমাণে তাল বিক্রি হচ্ছে। গ্রাম অঞ্চল থেকে তাল জেলা শহর ও রাজধানী ঢাকা শহরে সরবরাহ হচ্ছে। ভেড়ামারা থেকে ট্রাকে করে তাল ঢাকা শহরে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। এলাকার ব্যবসায়ীরা ঢাকা কারওয়ান বাজারে পাইকারি বিক্রি করছে। তবে বিগত বছরের তুলনায় তালের দাম এবার বেশি।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, ভেড়ামারা রেল বাজারে দুপুর বেলায় তাল শাঁস বিক্রেতারা তাল শাঁস কাটা শেষ করতে না করতেই ক্রেতারা নিয়ে যাচ্ছেন। ৩ পিস তাল শাঁস বিক্রি হচ্ছে ২০ টাকায়। প্রতিদিন প্রায় ৪০০-৫০০ পিস তাল শাঁস বিক্রি করে থাকেন এসব বিক্রেতা। তাও প্রায় দেড় দুই হাজার টাকার তাল বিক্রি করছেন তারা।

জানা যায়, এ বছর ভেড়ামারা উপজেলা অঞ্চলে তালের প্রচুর ফলন হয়েছে। বৈরী আবহাওয়া আর অনাবৃষ্টির পরেও ফলন ভালো হয়েছে। ছোট-বড় কাঁদি হিসেবে ১০-৪০টি পর্যন্ত তাল একটি কাঁদিতে ধরেছে। এ এলাকায় দুই রকম তালের জাত দেখা যায়। একটি কালছে রঙের আর একটি ধূসর হলদে বর্ণের। স্থানীয় বাজারে এক একটি তাল ২০-২৫ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। একটি তালে দুই থেকে চারটে আঁটি হয়। প্রতিটি আঁটির ভেতরে শাঁস। তাল ছোট-বড় হিসেবে বিভিন্ন দামে বিক্রি হচ্ছে। স্থানীয় ব্যবসায়ীরা তাল গাছের মালিকের থেকে গাছ চুক্তি ৩০০-১০০০ টাকায় তাল ক্রয় করছেন।

উপজেলার চাদগ্রামের তাল ব্যবসায়ী মমিনুর বলেন, প্রতিদিন ফেরি করে ২-৩ হাজার টাকার তাল বিক্রি করি। গরম বেশি থাকায় প্রচুর পরিমাণে তাল বিক্রি হচ্ছে।

বিশেষজ্ঞ ডাক্তারদের মতে, এই গরমে প্রাণ জুড়াতে তাল শাঁসের জুড়ি মেলা ভার। তাল শাঁস একটি সু-স্বাদু ও ঠান্ডাজনিত ফল। তাল শাঁসে থাকে- আয়োডিন, মিনারেল, পটাশিয়াম, জিঙ্ক, ফসফরাস। এসব পুষ্টি উপাদান এই গরমে নানা উপায়ে শরীর ভালো রাখতে সহায়তা করে। এই গরমে তাল শাঁস শরীরে শক্তি জোগানোর পাশাপাশি দৈহিক তাপমাত্রা কমাতে কাজ করে। এছাড়াও কোষ্ঠকাঠিন্য দূর, ত্বক শুষ্ক ও চুল পড়া রোধ করতে সাহায্য করে। তাল শাঁসে থাকা ক্যালসিয়াম হাড় গঠনে ভূমিকা রাখে ও শরীরের কোষের ক্ষয় প্রতিরোধ করে।

বিজনেস বাংলাদেশ/ হাবিব