স্বরূপকাঠীতে বিভাষ মন্ডল নামে এক শিক্ষার্থী দরিদ্র পরিবারে জন্ম নিয়েও কঠোর অধ্যবসায় দিয়ে ইতোমধ্যে মেডিকেল কলেজে ভর্তির সুযোগ পেয়েছে। এতে এলাকার মানুষ তাকে নিয়ে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেছে। কিন্তু পরিবারের লোকজন রয়েছে চরম হতাশায়। কারণ মেডিকেল কলেজের নিয়মিত খরচ চালানোর ক্ষমতা নেই তার বাবা মায়ের।
পিরোজপুরের স্বরূপকাঠি উপজেলার জলাবাড়ী ইউনিয়নের মাদ্রা ঝালকাঠি গ্রামের কৃষক বিমল মন্ডলের ছেলে বিভাষ মন্ডলের। ওরা এক ভাই ও এক বোন।
নিজের মনোবল, কঠোর অধ্যবসায় দিয়ে সে এবার ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষের এমবিবিএস কোর্সের প্রথম বর্ষের ভর্তি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েছে। পটুয়াখালী মেডিকেল কলেজে ভর্তির সুযোগ পেয়েছে হতদরিদ্র কৃষক পরিবারের ছেলে বিভাষ মন্ডল । ভর্তি পরীক্ষায় সে ১০০ নম্বরের মধ্যে পেয়েছে ৬৭ দশমিক ৭৫ নম্বর।
বাবা-মায়ের স্বপ্ন পূরণ করতে পেরে এলাকার মানুষের কাছে অনুপ্রেরণা হয়ে দাঁড়িয়েছে বিভাষ মন্ডল। তার মেডিকেলে ভর্তি পরীক্ষার ফলাফলে এলাকাবাসি সবাই খুশি।
তার এই সাফল্যে এলাকায় সব শ্রেণির মানুষের মাঝে বইছে আনন্দের বন্যা। কিন্তু আনন্দের মাঝেও বাবা-মায়ের মনে বাসা বেঁধেছে অজানা দুশ্চিন্তা ।
বিভাষের মা আরতি মন্ডল বলেন, ছেলেকে মেডিকেল কলেজে ভর্তি করাতেই হিমশিম খেতে হয়েছে এখন আগামী বছর গুলোতে কিভাবে মেডিকেল কলেজের খরচের টাকা যোগাড় করবো জানিনা। তার পরে মেয়েটাও নার্সিংয়ে পড়াশোনা করে। কিন্তু এত টাকার যোগান দিতে আমরা গরিব মানুষ কোথায় পাব?
ওর বাবা অসুস্থ টুকটাক কৃষি কাজ করে মাঝে মাঝে দিনমজুরের কাজ করে তা দিয়ে সংসার চলে। এখন মেডিক্যাল কলেজের পড়াশোনার খরচ কিভাবে বহন করব এই চিন্তায় চোখে অন্ধকার দেখছি।
বিভাষ মন্ডল বলেন, ছোটবেলা থেকে ইচ্ছে ছিল লেখাপড়া করে একদিন ডাক্তার হবো। এজন্য নিরলস পরিশ্রম করে গেছি। বাবা-মায়ের ইচ্ছা ছিল আমাকে ডাক্তার বানানোর। তাদের স্বপ্ন পূরণের জন্য রাতদিন ১৫-২০ ঘণ্টা লেখাপড়া করেছি। নবম শ্রেণির থেকে টিউশনি করিয়েছি এবং সেই টাকা দিয়েই বেশির ভাগ পড়াশোনার খরচ চালিয়েছি। আমার বাবার আর্থিক অবস্থা ভালো ছিল না। অনেক সময় আমি না খেয়ে কলেজে গিয়েছি।
আমার পারিবারিক কষ্টের কথা জেনে স্কুল থেকে বেতন মওকুফ করেছেন।যখন কলেজে ভর্তি হলাম সেখানেও কলেজ কতৃপক্ষ আমাকে বিনা বেতনে পড়ার সুযোগ করে দিয়েছেন। অনেক স্যার আমাকে সাহায্য করেছেন।বিশেষ করে কলেজের আনন্দ স্যার, মাহমুদ স্যার আমাকে সর্বদিক থেকে সহযোগিতা করেছেন।
শহীদ স্মৃতি ডিগ্রি কলেজের বিজ্ঞান বিভাগের আনন্দ কুমার ঘোষ বলেন,বিভাষ অত্যাম্ত মেধাবী একজন ছাত্র। অসচ্ছল পরিবার থেকে আসার কারনে তাকে সর্বদিক থেকে সাহায্য করেছি।আজ সে মেডিক্যাল কলেজে পড়াশোনার চান্স পেয়েছে। আর্থিক অসচ্ছলতার কারনে তার পড়াশোনা ব্যাহত না হয় সেজন্য দেশের ধনাঢ্য পরিবারের প্রতি আমার আবেদন রইলো আপনারা সবাই মিলে বিভাষে পাশে দাড়ান। তাকে যেন এই দেশের একটা মানব সম্পদ হিসাবে গড়ে তুলতে পারি।
কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মাহমুদুর রহমান খান বলেন,বিভাষ মন্ডল অদম্য মনোবলে স্পৃহার একটি ছেলে। দারিদ্র্যতা যাকে কখনো আটকাতে পারেনি৷ সে দারিদ্র্যতাকে জয় করেছে। তার স্বপ্নকে জয় করেছে কলেজের সম্মান বৃদ্ধি করেছে। তার পথচলায় এই দারিদ্রতা বা অসচ্ছলতা যেন তাকে আটকাতে না পারে। তাই আমি বলবো সমাজে অনেক বিত্তশালী লোক রয়েছে অনেক শিক্ষানুরাগী মানুষ রয়েছে অনেক সুন্দর সুন্দর মনের মানুষ রয়েছে,, তাদের প্রতি উদাত্ত আহ্বান রইলো আপনারা এই মেধাবী বিভাষের পাশে এসে দাড়ান।ও যেন ওর বাবা মায়ের স্বপ্ন পুরন করতে পারে।
প্রতিবেশীরা বলেন, বিভাষ আমাদের এলাকার একজন দিনমজুরের ছেলে। মেডিকেলে ভর্তির সুযোগ পেয়েছে জেনে আমরা সবাই আনন্দিত। সে আমাদের জলাবাড়ী ইউনিয়নবাসীর গর্ব। তার লেখাপড়ার খরচ চালাতে প্রশাসনের পাশাপাশি এলাকার ধনাঢ্য লোকজনকে এগিয়ে আসার অনুরোধ জানাচ্ছি।
নেছারাবাদ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ মাহাবুব উল্লাহ মজুমদার বলেন, যে সকল মেধাবী শিক্ষার্থীরা নিম্ন-মধ্যবিত্ত ও অসচ্ছল পরিবার থেকে এসেছে, তাদেরকে লেখাপড়ার বিষয়ে সার্বিক সহযোগিতা করার জন্য উপজেলা প্রশাসন সবসময় তাদের পাশে আছে। বিভাষ মন্ডলের এই সাফল্যে আমরা সবাই অত্যন্ত আনন্দিত ও গর্বিত। মেডিকেলে তার চলার পথের শুরুটা যেন মসৃণ হয়, সে বিষয়টি আমরা লক্ষ্য রাখবো।
বিজনেস বাংলাদেশ/ হাবিব




















