১২:২৯ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২১ মে ২০২৬

মাছ চাষের পুকুরে বিদ্যুৎ উৎপাদন

নবায়নযোগ্য জ্বালানি ব্যবহারে বিদ্যুৎ উৎপাদনের বিষয়টি প্রায়ই সামনে আসে। চাঁপাইনবাবগঞ্জের একটি মৎস্য খামারের পুকুরে সোলার প্যানেল বসিয়ে মাছ চাষের পাশাপাশি বিদ্যুৎ উৎপাদন করছেন উদ্যোক্তারা। তাদের ব্যবহারের পর সেই বিদ্যুৎ যুক্ত হচ্ছে জাতীয় গ্রিডে। একটি জেলা শহরে উদ্যোক্তা পর্যায়ে বিদ্যুৎ উৎপাদনের এমন উদ্যোগ দেখাচ্ছে আশার আলো।

চাঁপাইনবাবগঞ্জের আতাহার এলাকায় নবাব অটো রাইস মিলের মধ্যে থাকা মৎস্য খামারের দুইটি পুকুরে পরীক্ষামূলকভাবে শুরু হয়েছে সৌর বিদ্যুৎ উৎপাদন। বিদ্যুৎ উৎপাদনে পুকুরের পানির উপর প্লাস্টিকের ভাসমান কন্টেইনারে বিশেষ কায়দায় বসানো হয়েছে প্রায় এক হাজার ৫০০টি সোলার বিদ্যুৎ প্যানেল। পুকুরে ভাসমান সৌর বিদ্যুৎ উৎপাদনের এ প্রকল্প দেশে প্রথমবারের মতো করা হয়েছে বলে দাবি এর উদ্যোক্তাদের।

ভাসমান এ সৌর বিদ্যুৎ প্রকল্পটির পরিচালনা ও রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্বে থাকা বেসরকারি বিদ্যুৎ উৎপাদন প্রতিষ্ঠান জুলস পাওয়ার লিমিটেডের প্রকৌশলী মিজানুর রহমান জানান, চলতি মাসের শুরুতে বিদ্যুৎ উৎপাদন শুরু হয়েছে এ প্রকল্প থেকে। দুই দশমিক তিন মেগাওয়াট ক্ষমতার প্রকল্প থেকে প্রতিদিন উৎপাদন হচ্ছে এক দশমিক আট মেগাওয়াট। এ বিদ্যুৎ ব্যবহার হচ্ছে নবাব অটো রাইস মিলসহ নবাব গ্রুপের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে। ব্যবহারের পর বিদ্যুৎ অবশিষ্ট থাকলে তা চলে যাচ্ছে জাতীয় গ্রিডে। মাস শেষে নেট মিটারিংয়ের মাধ্যমে নেসকো এর বিল পরিশোধ করবে।

সৌর বিদ্যুৎ উৎপাদনের এ কার্যক্রমে মাছের উৎপাদনে কোনো ধরনের সমস্যা হচ্ছে কিনা, সেটি এখন পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। নবাব অটো রাইস মিলের প্রশাসনিক কর্মকর্তা আব্দুল মমিন জানান, এখন পর্যন্ত মাছের উৎপাদনে কোনো ধরনের সমস্যা পরিলক্ষিত হয়নি তাদের কাছে। মাছ ধরতেও তাদের কোনো সমস্যা হচ্ছে না। যেভাবে প্যানেলগুলো স্থাপন করা হয়েছে তাতে সমস্যা হবে না বলেই তারা আশা করছেন।

চালকল ব্যবসা দিয়ে শুরু হওয়া নবাব গ্রুপ এখন চাঁপাইনবাবগঞ্জে অন্যতম ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান। নবাব গ্রুপের কর্ণধার আকবর হোসেন জানান, পরিবেশবান্ধব বিদ্যুৎ উৎপাদন প্রকল্পটি তারা আগামীতে আরো বাড়ানোর পরিকল্পনা করছেন।চাঁপাইনবাবগঞ্জে বিদ্যুৎ বিতরণের দায়িত্বে থাকা নেসকোর নির্বাহী প্রকৌশলী আলিউল আজিম জানান, ২০৪১ সালের মধ্যে দেশের মোট ব্যবহৃত বিদ্যুতের অন্তত ১০ ভাগ নবায়নযোগ্য উৎস থেকে উৎপাদনের লক্ষ্য বিদ্যুৎ বিভাগের। সেই দিক মাথায় রেখে গ্রাহক পর্যায়ে সোলার বিদ্যুৎ ব্যবহার বাড়াতে তারা উৎসাহিত করছেন। নবাব অটো রাইস মিলের মতো অন্য পাঁচ থেকে পাঁচজন উদ্যোক্তা এগিয়ে আসলে চাঁপাইনবাবগঞ্জকে লোডশেডিং মুক্ত রাখা সম্ভব বলেও জানান তিনি।

ট্যাগ :
জনপ্রিয়

যশোর জেলা পুলিশের মাসিক কল্যাণ সভা অনুষ্ঠিত, ২০ সদস্যকে পুরস্কার প্রদান

মাছ চাষের পুকুরে বিদ্যুৎ উৎপাদন

প্রকাশিত : ০৬:৫২:৩০ অপরাহ্ন, রবিবার, ১১ জুন ২০২৩

নবায়নযোগ্য জ্বালানি ব্যবহারে বিদ্যুৎ উৎপাদনের বিষয়টি প্রায়ই সামনে আসে। চাঁপাইনবাবগঞ্জের একটি মৎস্য খামারের পুকুরে সোলার প্যানেল বসিয়ে মাছ চাষের পাশাপাশি বিদ্যুৎ উৎপাদন করছেন উদ্যোক্তারা। তাদের ব্যবহারের পর সেই বিদ্যুৎ যুক্ত হচ্ছে জাতীয় গ্রিডে। একটি জেলা শহরে উদ্যোক্তা পর্যায়ে বিদ্যুৎ উৎপাদনের এমন উদ্যোগ দেখাচ্ছে আশার আলো।

চাঁপাইনবাবগঞ্জের আতাহার এলাকায় নবাব অটো রাইস মিলের মধ্যে থাকা মৎস্য খামারের দুইটি পুকুরে পরীক্ষামূলকভাবে শুরু হয়েছে সৌর বিদ্যুৎ উৎপাদন। বিদ্যুৎ উৎপাদনে পুকুরের পানির উপর প্লাস্টিকের ভাসমান কন্টেইনারে বিশেষ কায়দায় বসানো হয়েছে প্রায় এক হাজার ৫০০টি সোলার বিদ্যুৎ প্যানেল। পুকুরে ভাসমান সৌর বিদ্যুৎ উৎপাদনের এ প্রকল্প দেশে প্রথমবারের মতো করা হয়েছে বলে দাবি এর উদ্যোক্তাদের।

ভাসমান এ সৌর বিদ্যুৎ প্রকল্পটির পরিচালনা ও রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্বে থাকা বেসরকারি বিদ্যুৎ উৎপাদন প্রতিষ্ঠান জুলস পাওয়ার লিমিটেডের প্রকৌশলী মিজানুর রহমান জানান, চলতি মাসের শুরুতে বিদ্যুৎ উৎপাদন শুরু হয়েছে এ প্রকল্প থেকে। দুই দশমিক তিন মেগাওয়াট ক্ষমতার প্রকল্প থেকে প্রতিদিন উৎপাদন হচ্ছে এক দশমিক আট মেগাওয়াট। এ বিদ্যুৎ ব্যবহার হচ্ছে নবাব অটো রাইস মিলসহ নবাব গ্রুপের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে। ব্যবহারের পর বিদ্যুৎ অবশিষ্ট থাকলে তা চলে যাচ্ছে জাতীয় গ্রিডে। মাস শেষে নেট মিটারিংয়ের মাধ্যমে নেসকো এর বিল পরিশোধ করবে।

সৌর বিদ্যুৎ উৎপাদনের এ কার্যক্রমে মাছের উৎপাদনে কোনো ধরনের সমস্যা হচ্ছে কিনা, সেটি এখন পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। নবাব অটো রাইস মিলের প্রশাসনিক কর্মকর্তা আব্দুল মমিন জানান, এখন পর্যন্ত মাছের উৎপাদনে কোনো ধরনের সমস্যা পরিলক্ষিত হয়নি তাদের কাছে। মাছ ধরতেও তাদের কোনো সমস্যা হচ্ছে না। যেভাবে প্যানেলগুলো স্থাপন করা হয়েছে তাতে সমস্যা হবে না বলেই তারা আশা করছেন।

চালকল ব্যবসা দিয়ে শুরু হওয়া নবাব গ্রুপ এখন চাঁপাইনবাবগঞ্জে অন্যতম ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান। নবাব গ্রুপের কর্ণধার আকবর হোসেন জানান, পরিবেশবান্ধব বিদ্যুৎ উৎপাদন প্রকল্পটি তারা আগামীতে আরো বাড়ানোর পরিকল্পনা করছেন।চাঁপাইনবাবগঞ্জে বিদ্যুৎ বিতরণের দায়িত্বে থাকা নেসকোর নির্বাহী প্রকৌশলী আলিউল আজিম জানান, ২০৪১ সালের মধ্যে দেশের মোট ব্যবহৃত বিদ্যুতের অন্তত ১০ ভাগ নবায়নযোগ্য উৎস থেকে উৎপাদনের লক্ষ্য বিদ্যুৎ বিভাগের। সেই দিক মাথায় রেখে গ্রাহক পর্যায়ে সোলার বিদ্যুৎ ব্যবহার বাড়াতে তারা উৎসাহিত করছেন। নবাব অটো রাইস মিলের মতো অন্য পাঁচ থেকে পাঁচজন উদ্যোক্তা এগিয়ে আসলে চাঁপাইনবাবগঞ্জকে লোডশেডিং মুক্ত রাখা সম্ভব বলেও জানান তিনি।