রাত পোহালেই ভোট। অপেক্ষার পালা শেষ। এখন শুধু উৎকণ্ঠা। প্রার্থী, কর্মী, সমর্থক থেকে শুরু করে ভোটার পর্যন্ত এখন মহাটেনশনে। বরিশালে জুড়ে ভোটারদের কৌতুহল। বিজয়ের শেষ হাসি নিয়ে কে হবেন নগরপিতা? তা জানার জন্য এখন আর ধৈর্য ধরতে চাচ্ছে না নগরবাসী।
প্রচার-প্রচারণা শেষ হয়ে গেলেও দিনভর নগরজুড়ে প্রশ্ন ছিল ‘কি বোঝেন? কে হবে’। এই প্রশ্নই ঘুরপাক খেয়েছে নগরবাসীর মাঝে। কেউ যেন ভোটের ফলাফল জানার জন্য অপেক্ষা করতে রাজি নয়। ভোট না দিয়েই মেয়রের নামটি জানার জন্য ভোটাররা মহাটেনশনে রোববারের দিনটি পার করেছেন। প্রকাশ্য প্রচার প্রচারনা না থাকায় সাধারণ ভোটাররা ছিলেন চুপচাপ। কিন্তু মেয়র পদটি দখল করতে শেষ দিনেও প্রার্থীরা প্রানান্তকর চেষ্টা থেকে পিছপা হননি। তারা রোববার দিনভর ব্যস্ত সময় কাটিয়েছেন।
এছাড়াও রোববার দিনভর প্রার্থীদের নিয়ে নানান গুজব চলে নগরজুড়ে। প্রার্থীরা একে অপরের বিরুদ্ধে সংবাদ সম্মেলনসহ সাংবাদিকদের সাক্ষাৎকারে নানান তথ্য তুলে ধরায় তা থেকেও গুজবের রটনা হয়। কখনো নৌকার পক্ষে টাকা ছড়ানো, কখনো হাতপাখা তাদের কর্মী সমর্থক কমে যাওয়ায় স্বতন্ত্র প্রার্থীদের টাকা দিয়ে এজেন্ট নিয়োগে সহায়তা সহ নানান গুজব রটে যায় নগরীতে।
বরিশাল সিটি কর্পোরেশনের ৫ম নির্বাচন এ নির্বাচনে ৫৮ বর্গকিলোমিটার নগরীর ২ লাখ ৭৬ হাজার দুই শত ৯৮ ভোটার তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করে একজন নগরপিতা, ৩টি ওয়ার্ডের জন্য ৩০ জন কাউন্সিলর ও ১০ জন সংরক্ষিত কাউন্সিলর নির্বাচিত করবেন।
এ লক্ষে এখানকার নির্বাচন কমিশন সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে। নগরীর ২ লাখ ৭৬ হাজার দুই শত ৯৮ ভোটারের মধ্যে নারী ১ লাখ ৩৮ হাজার ৮০৯ জন ও পুরুষ ১ লাখ ৩৭ হাজার ৪৮৯ জন। ভোগ গ্রহনের জন্য ১২৬টি কেন্দ্র নির্ধারিত করা হয়েছে। ঐ সকল কেন্দ্রের ৮৯৪টি কক্ষে ভোগ গ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। ১২৬টি কেন্দ্রের ১২৬ জন প্রিজাইর্ডিং অফিসারকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। এছাড়া প্রতিটি কক্ষে একজন করে মোট ৮৯৪ জন সহকারী প্রিজাইডিং অফিসার দািয়ত্ব পালন করবেন।
বরিশাল সিটি করপোরেশনের রিটার্নিং কর্মকর্তা মো. হুমায়ুন কবির বলেন, সব ধরনের প্রস্তুতি নেওয়াতে, ভোট উৎসব হবে। প্রথমবারের মতো এবার বরিশালের সবগুলো কেন্দ্রে ইভিএম মেশিনে ভোট গ্রহণ হচ্ছে জানিয়ে তিনি বলেন, ১২৬টি কেন্দ্রের ৮৯৪টি বুথের জন্য দেড় হাজার ইভিএম মেশিন রাখা হয়েছে।
রোববার ইভিএম মেশিন সহ নির্বাচনী সামগ্রী প্রিজাইডিং অফিসারদের কাছে বুঝিয়ে দেওয়ার পর আইন-শৃংখলা বাহিনীর সদস্যদের সঙ্গে স্ব -স্ব কেন্দ্রে চলে যান প্রিজাইডিং অফিসাররা।এছাড়া ১২৬টি ভোট কেন্দ্রের নিরাপত্তা নিশ্চিতে প্রায় ১২শ’ সিসি ক্যামেরা বসানো হয়েছে বলে তিনি জানান।
বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার মো. সাইফুল ইসলাম জানান, এবারের সিটি নির্বাচনে মোট ১২৬টি ভোট কেন্দের মধ্যে ১০৬টি কেন্দ্রকে অধিক গুরুত্বপূর্ণ বিবেচনা করা হয়েছে। তিনি বলেন নির্বাচনকে শান্তিপূর্ণ করতে পুলিশ, র্যাব, বিজিবি, এপিবিএন, ব্যাটালিয়ন আনসার, কোস্টগার্ড, নৌ-পুলিশ এর সাড়ে ৪ হাজার হাজার সদস্য দায়িত্ব পালন করবেন।
পুলিশ কমিশনার বলেন, নগরীতে আমরা কোনো বহিরাগত দেখতে চাই না। গুরুত্বপূর্ণ স্থানগুলোতে চেকপোস্ট বসিয়ে বহিরাগতদের বিষয়ে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।
বরিশাল সিটি কর্পোরেশনের প্রথম নির্বাচন হয় ২০০৩ সালের ২০ মার্চ। ঐ পরিষদের মেয়র নির্বাচিত হন বিএনপির অ্যাডভোকেট মজিবর রহমান সরোয়ার। সেই থেকে ২০২৩ সাল পর্যন্ত বরিশাল সিটি করপোরেশনে চার জন নির্বাচিত মেয়র হিসেবে দায়িত্ব পালন করলেও কাঙ্খিত উন্নয়ন হয়নি এ সিটি করপোরেশন এলাকায়। ৫৮ বর্গকিলোমিটারে বরিশাল সিটি করপোরেশনের বর্তমান জনসংখ্যা প্রায় ৬ লক্ষ।
আওয়ামী লীগের নৌকা প্রতীকের মেয়র প্রার্থী আবুল খায়ের আব্দুল্লাহ খোকন সেরনিয়াবাত নগরীর কালিবাড়িরোডস্থ সরকারি বরিশাল কলেজ কেন্দ্রে, জাতীয় পার্টির লাঙল প্রতীকের প্রার্থী ইকবাল হোসেন তাপস গোরস্থান রোডের সৈয়দ আব্দুল মান্নান ডিডিএফ আলিম মাদরাসা কেন্দ্রে, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের হাতপাখা প্রতীকের মেয়র প্রার্থী মুফতী সৈয়দ মুহাম্মাদ ফয়জুল করীম নগরীর রূপাতলী হাউজিং আ. রব সেরনিয়াবাত মাধ্যমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে, জাকের পার্টির গোলাপফুল প্রতীকের মেয়র প্রার্থী মো. মিজানুর রহমান বাচ্চুু ২৮ নম্বর ওয়ার্ডের চহুতপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে ভোট দেবেন। এছাড়া টেবিলঘড়ি প্রতীকের স্বতন্ত্র মেয়র প্রার্থী কামরুল আহসান রুপন কালুশাহ সড়কের আলেকান্দা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে, হরিণ প্রতীকের স্বতন্ত্র মেয়র প্রার্থী মো. আলী হোসেন হাওলাদার ২৮ নম্বর ওয়ার্ডের চহুতপুর ইস্কান্দার শরীফ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে, হাতি প্রতীকের স্বতন্ত্র মেয়র প্রার্থী মো. আসাদুজ্জামান বরিশাল নগরীর সদররোডের সিটি কলেজ কেন্দ্রে ভোট দেবেন।
ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের হাতপাখা প্রতীকের প্রার্থী মুফতি ফয়জুল করীম ভিডিও বার্তায় বলেছেন, ভোটাররা কোনো অপপ্রচারে কোনো অবস্থায় কান দিবেন না। সকাল সকাল সবাই ভোটকেন্দ্রে চলে আসবেন। ইনশাআল্লাহ নিশ্চিতভাবে আপনার ভোট প্রদান করতে পারবেন। আপনি আপনার ভোট দিবেন ভোট দেয়ার দায়িত্ব আপনার, আর সংরক্ষণ করার দায়িত্ব আমাদের। তবে হ্যাঁ কৌশলগত ভাবে হয়তোবা আমরা ভোট কেন্দ্রের বাইরে ব্যাচধারী লোক কম থাকবে। কিন্তু ভাববেন আমরা সব জায়গাতে আছি আপনার ভোটকে হেফাজত করে সংরক্ষণ করা দায়িত্ব আমাদের এবং প্রশাসনের। প্রশাসন আশ্বস্ত করেছে ইনশাআল্লাহ অবশ্যই তারা নিরপেক্ষ গ্রহণযোগ্য এক নির্বাচন উপহার দেবে। এর জন্য বিভ্রান্তিতে না পড়ে আপনারা সবাই ভোটকেন্দ্রে চলে আসবেন আল্লাহ আপনাদের সকলকে ভাল রাখুক।




















