০৫:৫৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ১১ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

চট্টগ্রাম-৪ আসনে ১২৪টি ভোটকেন্দ্রের মধ্যে ঝুঁকিপূর্ণ ৪৮টি

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে চট্টগ্রাম-৪ সীতাকুণ্ড, (আকবরশাহ পাহাড়তলী আংশিক) আসনের ১২৪টি ভোটকেন্দ্রের মধ্যে ৪৮টি কেন্দ্রকে ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করেছে নির্বাচন কমিশন। এসব কেন্দ্রের মধ্যে কয়েকটি সংখ্যালঘু অধ্যুষিত ভোটকেন্দ্রকে সর্বোচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে বিবেচনা করা হয়েছে।

গতকাল মঙ্গলবার বিকাল ৪টার দিকে সীতাকুণ্ড উপজেলার সর্বোচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ ভোটকেন্দ্রগুলো সরেজমিনে পরিদর্শন করেন চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং অফিসার মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা। পরিদর্শনকালে তার সাথে উপস্থিত ছিলেন, চট্টগ্রামের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ নাজির আহমেদ খাঁন, স্থানীয় সরকার চট্টগ্রামের উপ-পরিচালক গোলাম মাঈনউদ্দিন হাসান, অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট সৈয়দ মাহবুবুল হক, কৃষি- সম্প্রসারণ অধিদপ্তর চট্টগ্রামের উপ-পরিচালক আপ্রু মারমা, মোহাম্মদ আব্দুল মতিন, জেলা কমান্ড্যান্ট আনসার ও ভিডিপি মোস্তাক আহমেদ, জেলা তথ্য অফিসের পরিচালক মোঃ বোরহান উদ্দীন, জেলা সিনিয়র নির্বাচন অফিসার মোহাম্মদ বশির আহমেদ, সীতাকুণ্ড উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ ফখরুল ইসলাম, সহকারী কমিশনার (ভূমি) আব্দুল্লাহ আল মামুন ও দায়িত্বপ্রাপ্ত নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটসহ যৌথবাহিনীর সদস্যরা।

পরিদর্শনকালে সীতাকুণ্ড পৌরসভার ৫ নং ওয়ার্ডে অবস্থিত সংখ্যালঘু অধ্যুষিত সীতাকুণ্ড ডিগ্রী কলেজ ভোটকেন্দ্রে যান জেলা প্রশাসক। তিনি স্থানীয় ভোটারদের সাথে কথা বলে নিরাপদ ও নির্বিঘ্ন পরিবেশে ভোটকেন্দ্রে এসে ভোট দেওয়ার বিষয়ে আশ্বস্ত করেন। একই সঙ্গে ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রগুলোতে পর্যাপ্ত নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা প্রদান করা হয়।

এ সময় সেনাবাহিনী, বিজিবি ও পুলিশের সদস্যরা ভোটকেন্দ্র এলাকায় সার্বক্ষণিক টহল জোরদার করেন। নিরাপত্তা ব্যবস্থার অংশ হিসেবে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর একাধিক যানবাহন কেন্দ্রের আশপাশে অবস্থান নিতে দেখা যায়।

সীতাকুণ্ড উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ ফখরুল ইসলাম বলেন, উপজেলায় চিহ্নিত ৪৮টি ঝুঁকিপূর্ণ ভোটকেন্দ্রের মধ্যে সীতাকুণ্ড বিশ্ববিদ্যালয় কলেজ সহ কয়েকটি ভোটকেন্দ্রকে সর্বোচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে ধরা হয়েছে। এসব কেন্দ্র ঘিরে অতিরিক্ত আইনশৃঙ্খলা বাহিনী মোতায়েন, বিশেষ নজরদারি ও প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে মাঠে থাকছেন ছয়জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট।

আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিতব্য ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট–২০২৬ উপলক্ষে ভোটগ্রহণের প্রস্তুতি পর্যবেক্ষণে চট্টগ্রাম জেলা ভিজিল্যান্স ও অবজারভেশন টিম সীতাকুণ্ড উপজেলার বিভিন্ন ভোটকেন্দ্র পরিদর্শন করে। টিমের সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং অফিসার মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা।

পরিদর্শনকালে টেরিয়াইল বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয় ভোটকেন্দ্র (মোট ভোটার ৩ হাজার ৬৬৪ জন) এবং সীতাকুণ্ড ডিগ্রী কলেজ ভোটকেন্দ্র (মোট ভোটার ৫ হাজার ২৯১ জন) ঘুরে দেখা হয়। এসময় ভোটকেন্দ্রগুলোর সার্বিক প্রস্তুতি, নিরাপত্তা ব্যবস্থা, ভোটকক্ষের অবস্থা এবং নির্বাচন সংক্রান্ত বিধি-বিধান প্রতিপালনের বিষয়গুলো পর্যবেক্ষণ করা হয়।

প্রসঙ্গত, সীতাকুণ্ড উপজেলায় মোট ভোটার সংখ্যা ৪ লাখ ৪৩ হাজার ২৪১ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ২ লাখ ৩০ হাজার ৮২০ জন, নারী ভোটার ২ লাখ ১২ হাজার ৪০৯ জন এবং হিজড়া (তৃতীয় লিঙ্গ) ভোটার রয়েছেন ১২ জন।

পরিদর্শন শেষে জেলা প্রশাসক সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের নির্বাচনী আইন ও আচরণবিধি লঙ্ঘনের বিষয়ে জিরো টলারেন্স নীতি অনুসরণের নির্দেশ দেন। পাশাপাশি ভোটকেন্দ্রগুলোতে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা এবং ভোটগ্রহণ প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নিরপেক্ষতা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা গ্রহণের কথা জানান।

ডিএস./

ট্যাগ :
জনপ্রিয়

রংপুরে ভোটের পরিবেশ সুরক্ষিত রাখতে যৌথ বাহিনীর টহল জোরদার

চট্টগ্রাম-৪ আসনে ১২৪টি ভোটকেন্দ্রের মধ্যে ঝুঁকিপূর্ণ ৪৮টি

প্রকাশিত : ০৪:২৬:৫৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ১১ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে চট্টগ্রাম-৪ সীতাকুণ্ড, (আকবরশাহ পাহাড়তলী আংশিক) আসনের ১২৪টি ভোটকেন্দ্রের মধ্যে ৪৮টি কেন্দ্রকে ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করেছে নির্বাচন কমিশন। এসব কেন্দ্রের মধ্যে কয়েকটি সংখ্যালঘু অধ্যুষিত ভোটকেন্দ্রকে সর্বোচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে বিবেচনা করা হয়েছে।

গতকাল মঙ্গলবার বিকাল ৪টার দিকে সীতাকুণ্ড উপজেলার সর্বোচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ ভোটকেন্দ্রগুলো সরেজমিনে পরিদর্শন করেন চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং অফিসার মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা। পরিদর্শনকালে তার সাথে উপস্থিত ছিলেন, চট্টগ্রামের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ নাজির আহমেদ খাঁন, স্থানীয় সরকার চট্টগ্রামের উপ-পরিচালক গোলাম মাঈনউদ্দিন হাসান, অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট সৈয়দ মাহবুবুল হক, কৃষি- সম্প্রসারণ অধিদপ্তর চট্টগ্রামের উপ-পরিচালক আপ্রু মারমা, মোহাম্মদ আব্দুল মতিন, জেলা কমান্ড্যান্ট আনসার ও ভিডিপি মোস্তাক আহমেদ, জেলা তথ্য অফিসের পরিচালক মোঃ বোরহান উদ্দীন, জেলা সিনিয়র নির্বাচন অফিসার মোহাম্মদ বশির আহমেদ, সীতাকুণ্ড উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ ফখরুল ইসলাম, সহকারী কমিশনার (ভূমি) আব্দুল্লাহ আল মামুন ও দায়িত্বপ্রাপ্ত নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটসহ যৌথবাহিনীর সদস্যরা।

পরিদর্শনকালে সীতাকুণ্ড পৌরসভার ৫ নং ওয়ার্ডে অবস্থিত সংখ্যালঘু অধ্যুষিত সীতাকুণ্ড ডিগ্রী কলেজ ভোটকেন্দ্রে যান জেলা প্রশাসক। তিনি স্থানীয় ভোটারদের সাথে কথা বলে নিরাপদ ও নির্বিঘ্ন পরিবেশে ভোটকেন্দ্রে এসে ভোট দেওয়ার বিষয়ে আশ্বস্ত করেন। একই সঙ্গে ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রগুলোতে পর্যাপ্ত নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা প্রদান করা হয়।

এ সময় সেনাবাহিনী, বিজিবি ও পুলিশের সদস্যরা ভোটকেন্দ্র এলাকায় সার্বক্ষণিক টহল জোরদার করেন। নিরাপত্তা ব্যবস্থার অংশ হিসেবে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর একাধিক যানবাহন কেন্দ্রের আশপাশে অবস্থান নিতে দেখা যায়।

সীতাকুণ্ড উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ ফখরুল ইসলাম বলেন, উপজেলায় চিহ্নিত ৪৮টি ঝুঁকিপূর্ণ ভোটকেন্দ্রের মধ্যে সীতাকুণ্ড বিশ্ববিদ্যালয় কলেজ সহ কয়েকটি ভোটকেন্দ্রকে সর্বোচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে ধরা হয়েছে। এসব কেন্দ্র ঘিরে অতিরিক্ত আইনশৃঙ্খলা বাহিনী মোতায়েন, বিশেষ নজরদারি ও প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে মাঠে থাকছেন ছয়জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট।

আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিতব্য ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট–২০২৬ উপলক্ষে ভোটগ্রহণের প্রস্তুতি পর্যবেক্ষণে চট্টগ্রাম জেলা ভিজিল্যান্স ও অবজারভেশন টিম সীতাকুণ্ড উপজেলার বিভিন্ন ভোটকেন্দ্র পরিদর্শন করে। টিমের সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং অফিসার মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা।

পরিদর্শনকালে টেরিয়াইল বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয় ভোটকেন্দ্র (মোট ভোটার ৩ হাজার ৬৬৪ জন) এবং সীতাকুণ্ড ডিগ্রী কলেজ ভোটকেন্দ্র (মোট ভোটার ৫ হাজার ২৯১ জন) ঘুরে দেখা হয়। এসময় ভোটকেন্দ্রগুলোর সার্বিক প্রস্তুতি, নিরাপত্তা ব্যবস্থা, ভোটকক্ষের অবস্থা এবং নির্বাচন সংক্রান্ত বিধি-বিধান প্রতিপালনের বিষয়গুলো পর্যবেক্ষণ করা হয়।

প্রসঙ্গত, সীতাকুণ্ড উপজেলায় মোট ভোটার সংখ্যা ৪ লাখ ৪৩ হাজার ২৪১ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ২ লাখ ৩০ হাজার ৮২০ জন, নারী ভোটার ২ লাখ ১২ হাজার ৪০৯ জন এবং হিজড়া (তৃতীয় লিঙ্গ) ভোটার রয়েছেন ১২ জন।

পরিদর্শন শেষে জেলা প্রশাসক সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের নির্বাচনী আইন ও আচরণবিধি লঙ্ঘনের বিষয়ে জিরো টলারেন্স নীতি অনুসরণের নির্দেশ দেন। পাশাপাশি ভোটকেন্দ্রগুলোতে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা এবং ভোটগ্রহণ প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নিরপেক্ষতা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা গ্রহণের কথা জানান।

ডিএস./