ব্রাক্ষণবাড়িয়া জেলার নবীনগর উপজেলার ২১টি ইউনিয়ন এবং ১ টি পৌরসভার বিভিন্ন বøকে কন্দাল ফসল উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় চাষ হয়েছে লতিরাজ কচু এবং পানিকচুর। কন্দাল ফসল (ঞঁনবৎ ঈৎড়ঢ়) হল কান্ড বা মূলে শ্বেতসার জমা হয়ে স্ফীত অঙ্গে রূপান্তরিত খাদ্য ফসল। যেমন- গোল আলু, মিষ্টি আলু, লতিরাজ কচু, পানি কচু, গাছ আলু, ওল কচু, কাসাভা ইত্যাদি। গ্রীষ্মের শুরুতে কিংবা বর্ষায় বাজারে যখন সবজির ক্রাইসিস থাকে তখন ভোক্তা পর্যায়ে আস্থা নিয়ে পাশে থাকে কচু জাতীয় ফসল। অর্থকরী ফসল হিসেবে এই সবজি বেশ লাভজনক।
কন্দাল ফসল উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় উপজেলা কৃষি অফিসের মাঠ পর্যায়ের উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তাবৃন্দ নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করে পরামর্শে পাশাপাশি সার, চারা, পরিচর্যার জন্য আর্থিক প্রণোদনা দেওয়া হচ্ছে কৃষকদের, এবং নতুন নতুন জাতের স¤প্রসারণ করা হচ্ছে। বাঙ্গরা বøকের মালাই গ্রামের কৃষক খবির হোসেন প্রথম বারের মত লতিরাজ চাষ করেছেন। তিনি বলেন- কৃষি বিভাগের পরামর্শে ২০ শতক জমিতে লতিরাজ কচু আবাদ করেছি। ইতিমধ্যে কয়েক ধাপে প্রায় বিশ হাজার টাকার লতি বিক্রি করেছি। এই মূহুর্তে বাজাে লতির ভাল মূল্য পাওয়া যাচ্ছে। আশা করছি আরো তিনমাস প্র্রতি সপ্তাহে নিয়মিত লতি বিক্রি করতে পারব।
পৌরসভা বøকের আলমনগর গ্রামের কৃষক মো. আমির হোসেন বিশ শতক জমিতে পানি কচু আবাদ করেছেন। তারমতে পানি কচু আবাদ ধান চাষ হতে অনেক লাভজনক, কন্দাল ফসল উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় এবং কৃষি বিভাগের পরামর্শে তিনি এই মৌসুমে পানি কচু আবাদ করেছেন। ১৫ শতক জমি থেকে কচুর কান্ড এবং লতি বাবদ লক্ষাধিক টাকা আয়ের স্বপ্ন দেখছেন তিনি। অপেক্ষাকৃত উঁচু জায়গায় মুখীকচু আবাদ করেছেন কৃষ্ণনগর ইউনিয়নের দৌলতপুর বøকের কৃষক সামছুল হক। তিনি জানান- মুখী কচুর বাজার চাহিদ বেশ ভাল। উপজেলা কৃষি অফিসের মাধ্যমে “বিলাসী” জাতের মুখীকচু ২০ শতক জমিতে প্র্রর্শনী হিসেবে আবাদ করেছি।
আগামীতে আরো বড় পরিসরে স¤প্রসারণের লক্ষ্যে বীজ সংরক্ষণ করব। উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা মো. নিয়াজ কায়সার জানান- বাজারে এই সময়ে সবজির ক্রাইসিস থাকে, তাই বাজারে ভাল দামে বিক্রি হচ্ছে। উপজেলা কৃষি অফিসার কৃষিবিদ মো. জাহাঙ্গীর আলম লিটন জানান-“ কচু জাতীয় ফসল অর্থকরী ফসল। প্রতি মৌসুমে বিঘা প্রতি লক্ষাধিক টাকার মত আয় করা সম্ভব। কচু চাষ কেবল আর্থিক ভাবে লাভ জনক নয় এটি আয়রন সমৃদ্ধ সবজি যা শিশু এবং গর্ভবতী মায়েদের পুষ্টি নিরাপত্তায় ভূমিকা রাখে। কন্দাল ফসল উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় নবীনগরে মুখীকচু, লতিরাজ কচু, ওল কচু, পানিকচু স¤প্রসারিত হচ্ছে।” গত দুই বছরে প্রায় ৬০ বিঘা জমিতে নতুন করে কন্দাল ফসল উৎপাদন বৃদ্ধি পেয়েছে। আগ্রহী কৃষকের সংখ্যা দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে বলে জানায় উপজেলা কৃষি অফিস।
বিজনেস বাংলাদেশ/ হাবিব




















