জৈষ্ঠ্য মাস মধু মাস ফলের মাস। গ্রীষ্মের ভরপুর ফলের মৌসুমে আনোয়ারা উপজেলায় হাট-বাজারে তালশাঁস বিক্রিতে ব্যস্ত ব্যবসায়ীরা।
ফলের জন্য বিখ্যাত মধুমাস জৈষ্ঠ্যতে অন্যান্য ফলের পাশাপাশি তালের কদর বেড়েছে অস্বাভাবিকভাবে। বাঙ্গালী তরমুজের পর ছোট-বড় সব বয়সের মানুষের কাছে প্রিয় ফল এখন তাল।তাল ফলটির শাঁস বেশ সুস্বাদু হওয়ায় একটু তৃষ্ণা মেটাতে বিভিন্ন পেশার মানুষ ভিড় করে এই ফলটি কিনতে। অনেকেই রাস্তার পাশে বসে ও দাঁড়িয়ে এ ফল খাচ্ছেন। কেউ খুচরো কিনছেন, কেউবা কাঁধি কিনে নিয়ে যাচ্ছেন বাড়িতে।
সরেজমিনে ঘুরে দেখা যায়,উপজেলার প্রতিটি হাট-বাজার, রাস্তার মোড়, এলাকার বিভিন্ন দোকানের সামনে তালের ফসরা বসিয়েছে বিক্রেতারা। তাতে ভিড় জমিয়েছে ছোট-বড় বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ। পানি-তাল হিসেবে প্রতিটি তাল ১৫-২০ টাকা দরে বিক্রি করছেন বিক্রেতারা এবং ধারালো দা দিয়ে তা কেটে তালের শাঁস বের করে দিচ্ছেন ক্রেতাদের।
সেন্টার মহালখাঁন বাজারের রাস্তার পাশে বসে তালের শাঁস বিক্রি করছেন স্থানীয় তাল বিক্রেতা শঙ্কর। তিনি জানান, প্রতিটি তালে থেকে তিন থেকে চারটি শাঁস বা বিচি হয়। প্রতি পিসের আকারের ওপর দাম নিধারিত হয়। তবে প্রতি পিস ১৫-৫০ টাকায় বিক্রি হয়। প্রতিদিন তাল এক হাজার থেকে ২হাজার টাকায় পর্যন্ত বিক্রি হয়। তালের শাঁস বা বিচি অত্যন্ত সুস্বাদু ও পানি জাতীয় তুলতুলে নরম ফল হওয়ায় ছোট-বড় সকলে এই ফল পছন্দ করে।
রিংকি নামে এক তালের শাঁস ক্রেতা বলেন,প্রতি বছর জৈষ্ঠ্যমাসে অন্যান্য ফলের পাশাপাশি কচি তালের জনপ্রিয়তা ও অনেকটা বেড়ে যায়,বিশেষ করে প্রচন্ড গরম পড়লে এই ফলের কদরও বাড়ে। কচি তালের প্রকৃতি অনেকটা নরম ও পানিজাতীয় হওয়ায় এই ফল বেশ সুস্বাদু হয়।
তালের আরেক শাঁস ক্রেতা শামসুল আলম বলেন, গ্রামঞ্চলে মৌসুমি ফল হিসেবে তালের জনপ্রিয়তা সবচেয়ে বেশি।মৌসুমি ফলগুলোতে বিভিন্ন রাসায়নিক পদার্থ ও ফরমালিন ব্যবহার করায় ফলগুলো মানবদেহে ক্ষতিকর প্রভাব ফেলে।কিন্তু তালে কোনো ধরনের রাসায়নিক ব্যবহার করা হয়না।তাই এই ফলটি যেমন স্বাস্থ্যকর তেমনি মানবদেহের জন্য খুবই উপকারী।
বিজনেস বাংলাদেশ/ বিএইচ




















