১১:৩৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ১১ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

পাবনায় ডিবি পুলিশের হাতে ধরা দুই জ্বীনের বাদশা

নাইটগার্ডের ডিউটি করার সময় গভীর রাতে হঠাৎ মো. আরব আলীর (৬৫) ফোনে কল আসে। নিজেকে জ্বীনের বাদশার পরিচয় দিয়ে ধর্মের নানান বিষয়ে কথা বলেন এবং আল্লাহর নামে শপথ করান। এরপর নানা সময়ে ধর্মীয় বিশ্বাসকে পুঁজি করে ইসলামের নানা বিষয়ে মিথ্যা বুঝায়ে ও প্রলোভন দেখায়ে তার কাছ থেকে ৬ লাখ টাকা হাতিয়ে নেয় জ্বীনের বাদশা। কথিত এমন দুইজন জ্বীনের বাদশাকে গ্রেফতার করেছে পাবনার গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)।

বৃহস্পতিবার (১৫ জুন) দুপুরে তাদের গ্রেফতারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন পাবনার পুলিশ সুপার মো. আকবর আলী মুন্সী। এর আগে বুধবার (১৪ জুন) রাতে পাবনা, গাইবান্ধা এবং বগুড়ার বিভিন্ন থানা এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেফতার করে পাবনার গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)।

গ্রেফতারকৃতরা হলেন- গাইবান্ধার গোবিন্ধগঞ্জ উপজেলার মিরুপাড়া এলাকার মৃত জহির উদ্দিনের ছেলে মো. আব্দুর রশিদ (৫০) এবং একই এলাকার মৃত. সাফায়াতুল্লাহ প্রামানিকের ছেলে মো. আবু মিয়া (৩৮)। ভুক্তভোগী আরব আলী প্রাং (৬৫) পাবনার চাটমোহর উপজেলার সারোরা পুর্বপাড়ার মৃত আছের উদ্দিনের ছেলে।

পুলিশ সুপার মো. আকবর আলী মুন্সী বলেন, গত প্রায় ৬ মাস পূর্বে মো. আরব আলী চাটমোহর নতুন বাজারে নাইট গার্ডের ডিউটি করাকালীন সময় গভীর রাত্রীতে তার ব্যবহৃত মোবাইল নম্বরে অজ্ঞাতনামা ব্যক্তি জ্বীনের বাদশা পরিচয় দিয়ে তাকে আল্লাহর নামে শপথ করান। এসময় ধর্মীয় ভাবে ইসলামের নানা বিষয়ে মিথ্যা বুঝায়ে ও প্রলোভন দেখায়ে তার ধর্মীয় বিশ্বাসকে পুঁজি করে বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন অজুহাতে তার কাছ থেকে বিকাশের মাধ্যমে ৬ লক্ষ টাকা হাতিয়ে নেয়। এসব কথা কাউকে জানালে তার পরিবারের যেকোন সদস্য মারা যাবে বলে ভয় দেখায়ে বিষয়টি তাকে গোপন রাখতে বাধ্য করে। পরবর্তীতে ১৩ জুন পুনরায় কল করে জ্বীনের বাদশা পরিচয় দিয়ে জায়নামাজ কেনার জন্য ২১ হাজার টাকা দাবি করে। এরপর ভুক্তভোগী চাটমোহর থানায় লিখিত অভিযোগ দেন।

তিনি জানান, অভিযোগের পর আধুনিক তথ্য প্রযুক্তি ব্যবহার করে এবং মোবাইল ফোনের সিডিআর পর্যালোচনা করে পাবনা ডিবির একটি চৌকশ টিম পাবনা, গাইবান্ধা এবং বগুড়ারর বিভিন্ন থানা এলাকায় অভিযান পরিচালনা করিয়া অভিযুক্ত জ্বীনের বাদশা চক্রের দুই সদস্যকে আটক করা হয়। এসময় তাদের কাছ থেকে মোবাইল ফোন এবং যে সকল বিকাশ নম্বরে টাকা নিয়েছে সহ সকল মোবাইল সিম উদ্ধার করা হয়।

গ্রেফতারকৃতরা দীর্ঘদিন যাবত জ্বীনের বাদশা পরিচয় দিয়ে গভীর রাতে নিরহ সহজ সরল ধর্ম প্রান মুসলমাদের ধর্মীয় অনুভুতিকে কাজে লাগিয়ে এবং গুপ্তধন পাইয়ে দেয়ার লোভ দেখিয়ে ও জ্বীন দ্বারা প্রাণনাশের ভয়ভীতি প্রদর্শন করে বিভিন্ন অজুহাতে বিকাশের মাধ্যমে টাকা হাতিয়ে নিতো বলেও জানান পুলিশ সুপার।

বিজনেস বাংলাদেশ/ হাবিব

ট্যাগ :
জনপ্রিয়

রংপুরে ভোটের পরিবেশ সুরক্ষিত রাখতে যৌথ বাহিনীর টহল জোরদার

পাবনায় ডিবি পুলিশের হাতে ধরা দুই জ্বীনের বাদশা

প্রকাশিত : ০৩:৪৬:২৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৫ জুন ২০২৩

নাইটগার্ডের ডিউটি করার সময় গভীর রাতে হঠাৎ মো. আরব আলীর (৬৫) ফোনে কল আসে। নিজেকে জ্বীনের বাদশার পরিচয় দিয়ে ধর্মের নানান বিষয়ে কথা বলেন এবং আল্লাহর নামে শপথ করান। এরপর নানা সময়ে ধর্মীয় বিশ্বাসকে পুঁজি করে ইসলামের নানা বিষয়ে মিথ্যা বুঝায়ে ও প্রলোভন দেখায়ে তার কাছ থেকে ৬ লাখ টাকা হাতিয়ে নেয় জ্বীনের বাদশা। কথিত এমন দুইজন জ্বীনের বাদশাকে গ্রেফতার করেছে পাবনার গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)।

বৃহস্পতিবার (১৫ জুন) দুপুরে তাদের গ্রেফতারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন পাবনার পুলিশ সুপার মো. আকবর আলী মুন্সী। এর আগে বুধবার (১৪ জুন) রাতে পাবনা, গাইবান্ধা এবং বগুড়ার বিভিন্ন থানা এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেফতার করে পাবনার গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)।

গ্রেফতারকৃতরা হলেন- গাইবান্ধার গোবিন্ধগঞ্জ উপজেলার মিরুপাড়া এলাকার মৃত জহির উদ্দিনের ছেলে মো. আব্দুর রশিদ (৫০) এবং একই এলাকার মৃত. সাফায়াতুল্লাহ প্রামানিকের ছেলে মো. আবু মিয়া (৩৮)। ভুক্তভোগী আরব আলী প্রাং (৬৫) পাবনার চাটমোহর উপজেলার সারোরা পুর্বপাড়ার মৃত আছের উদ্দিনের ছেলে।

পুলিশ সুপার মো. আকবর আলী মুন্সী বলেন, গত প্রায় ৬ মাস পূর্বে মো. আরব আলী চাটমোহর নতুন বাজারে নাইট গার্ডের ডিউটি করাকালীন সময় গভীর রাত্রীতে তার ব্যবহৃত মোবাইল নম্বরে অজ্ঞাতনামা ব্যক্তি জ্বীনের বাদশা পরিচয় দিয়ে তাকে আল্লাহর নামে শপথ করান। এসময় ধর্মীয় ভাবে ইসলামের নানা বিষয়ে মিথ্যা বুঝায়ে ও প্রলোভন দেখায়ে তার ধর্মীয় বিশ্বাসকে পুঁজি করে বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন অজুহাতে তার কাছ থেকে বিকাশের মাধ্যমে ৬ লক্ষ টাকা হাতিয়ে নেয়। এসব কথা কাউকে জানালে তার পরিবারের যেকোন সদস্য মারা যাবে বলে ভয় দেখায়ে বিষয়টি তাকে গোপন রাখতে বাধ্য করে। পরবর্তীতে ১৩ জুন পুনরায় কল করে জ্বীনের বাদশা পরিচয় দিয়ে জায়নামাজ কেনার জন্য ২১ হাজার টাকা দাবি করে। এরপর ভুক্তভোগী চাটমোহর থানায় লিখিত অভিযোগ দেন।

তিনি জানান, অভিযোগের পর আধুনিক তথ্য প্রযুক্তি ব্যবহার করে এবং মোবাইল ফোনের সিডিআর পর্যালোচনা করে পাবনা ডিবির একটি চৌকশ টিম পাবনা, গাইবান্ধা এবং বগুড়ারর বিভিন্ন থানা এলাকায় অভিযান পরিচালনা করিয়া অভিযুক্ত জ্বীনের বাদশা চক্রের দুই সদস্যকে আটক করা হয়। এসময় তাদের কাছ থেকে মোবাইল ফোন এবং যে সকল বিকাশ নম্বরে টাকা নিয়েছে সহ সকল মোবাইল সিম উদ্ধার করা হয়।

গ্রেফতারকৃতরা দীর্ঘদিন যাবত জ্বীনের বাদশা পরিচয় দিয়ে গভীর রাতে নিরহ সহজ সরল ধর্ম প্রান মুসলমাদের ধর্মীয় অনুভুতিকে কাজে লাগিয়ে এবং গুপ্তধন পাইয়ে দেয়ার লোভ দেখিয়ে ও জ্বীন দ্বারা প্রাণনাশের ভয়ভীতি প্রদর্শন করে বিভিন্ন অজুহাতে বিকাশের মাধ্যমে টাকা হাতিয়ে নিতো বলেও জানান পুলিশ সুপার।

বিজনেস বাংলাদেশ/ হাবিব