দখল আর দূষণে রাজধানীর খালগুলো নগরবাসীর জন্য চরম ভোগান্তির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। মাত্র ১ ঘণ্টা ভারি বর্ষণে পানির নিচে তলিয়ে যাচ্ছে গুরুত্বপূর্ণ সড়কসহ বেশির ভাগ এলাকা। দেখে মনে হতে পারে একটি নদী, কিন্তু বাস্তবতা ভিন্ন। মিরপুরের অন্যতম ব্যস্ত প্রধান সড়ক, মাত্র একঘণ্টা বৃষ্টির পর পানিতে ক্রমাগত তলিয়ে গেছে সাংবাদিক কলোনির সামনের রাস্তা। সাধারণ মানুষ বলেন, ১ ঘণ্টার বৃষ্টিতে যদি এমন হয় তাহলে ৩দিন বৃষ্টি হলে কী অবস্থা হবে? আসাদ গেইটের পর থেকে কলাবাগান পর্যন্ত পানির জলবদ্ধতায় নদীর মতো হয়ে গেছে।

সিটি করপোরেশনের এই উদাসীনতায় মনে হচ্ছে সমন্বয়হীনতার অভাব। সমন্বয় করলে জনগণের এতো সমস্যার মধ্যে পড়তে হতো না। বৃষ্টিতে তলিয়ে যাওয়ার একদিন আগে ময়লা-আবর্জনায় খালটি পূর্ণ ছিল। সাধারণ জনগণ বলেন, এই ময়লাগুলো আমরাই ফেলছি, সিটি করপোরেশনের পক্ষ থেকে আমাদের ময়লা ফেলার জায়গা থাকলেও আমরাই এই ময়লা গুলো যেখানে-সেখানে ফেলছি। এই এলাকায় বর্ষার পানি নেমে যাওয়ার একমাত্র প্রধান খাল যেটিতে দু’পাশে বাড়িঘরের ময়লা-আবর্জনায় ফেলে এর এমন অবস্থা যেখানে অনায়াসে খালের উপর দিয়ে হেঁটে পার হওয়া যায়।

কাগজে কলমে রাজধানীর ২৪টি খালের মধ্যে মিরপুর এলাকার তিনটির অবস্থা একই রকম। প্রয়াত আনিসুল হক মেয়র দখলে থাকাকালে পুন:রুদ্ধার, দফায় দফায় উচ্ছেদ অভিযান চালানো হলেও পাল্টায়নি চিত্র। দেখে মনে হবে ড্রেন, কিন্তু এটি পলাশ নগরের একটি প্রধান খাল। যা পলাশ নগরের পানি নিষ্কাশনের একমাত্র পথ। এই খালটি যেভাবে তৈরি করা হচ্ছে বা ওয়াসার নিয়ম অনুযায়ী প্রতিটি খালের পাশে ৯ থেকে ১২ ফুট জায়গায় রেখে ভবন তৈরি করার কথা। খালের পাড় ঘেষে বাড়িঘর তৈরি হওয়ার কারণে খালগুলো একেবারেই বিলিন হয়ে যাচ্ছে।






















