০৭:৩৬ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৪ জানুয়ারী ২০২৬

চট্টগ্রাম মেডিকেলে ডেঙ্গু রোগীর চাপ বাড়ায়, ৫০ শয্যার ডেঙ্গু ওয়ার্ড

সাধারণত ডেঙ্গুর প্রকোপ শুরু হয় জুলাই থেকে ডিসেম্বরে। কিন্তু এবার বছরের শুরু থেকেই এ রোগের প্রকোপ বেড়েছে কয়েকগুন।

চট্টগ্রামে প্রতিনিয়ত বাড়ছে ডেঙ্গু আক্রান্তের সংখ্যা। এর সাথে বাড়ছে হাসপাতালে ডেঙ্গু রোগীদের চাপ। চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে এতদিন ডেঙ্গু রোগীদের চিকিৎসাসেবা দেওয়ার জন্য আলাদা কোনো ওয়ার্ড ছিলো না। মেডিসিন বিভাগে এসব রোগীর সেবা দেওয়া হতো। এতে অন্য রোগীরা ঝুঁকির মধ্যে থাকতো। এবার ডেঙ্গু রোগীদের জন্য আলাদা ৫০ শয্যার ওর্য়াড করা হচ্ছে।

বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন চমেক হাসপাতালে মেডিসিন বিভাগীয় প্রধান প্রফেসর এম এ সাত্তার। তিনি বলেন, ডেঙ্গুর পূর্ণ মৌসুম চলছে। প্রতিবছর এই সময় রোগী বাড়ে। বর্তমানে প্রতিদিন ১০০ জনের বেশি রোগী ভর্তি থাকছে হাসপাতালে। আগস্টে রোগী আরও বাড়তে পারে। হাসপাতালে এতদিন ডেঙ্গু রোগীদের জন্য আলাদা ওয়ার্ড না থাকায় মেডিসেন বিভাগের ওর্য়াডগুলোতে তাদের চিকিৎসা দেওয়া হতো। এ কারণে ওই ওর্য়াডের বিরাট একটা অংশ ঝুঁকিতে থাকত। এ সমস্যা সমাধানের জন্য ৫০ শয্যার একটি আলাদা ডেঙ্গু ওয়ার্ড করা হচ্ছে। হাসপাতালের নতুন ভবনের ৮ম তলায় কার্ডিওয়াক বিভাগের পেছনে এ ওর্য়াড করা হবে। আগামী দু-তিন দিনের মধ্যে ডেঙ্গু রোগীদের সেখানে চিকিৎসাসেবা দেয়া হবে।

তিনি আরও বলেন, শুধু হাসপাতাল নির্ভর হলেই হবে না। সাধারণ জনগণকে সচেতন হতে হবে। ঘুমানোর আগে অবশ্যই মশারি টাঙাতে হবে। বাসার ছাদ-টবে পানি জমাতে দেওয়া যাবে না। ঘরের চারপাশ পরিষ্কার রাখতে হবে।

চমেক হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার মো. শামীম আহসান বলেন, ‘অস্থায়ীভাবে এ ওর্য়াড করা হচ্ছে। সেখানে ৫০ উপরে শয্যা থাকবে। বর্তমানে বেডের কাজ চলছে। দ্রুতই কাজ শেষ হবে। কয়েকদিনের মধ্যে সকল কাজ সম্পন্ন করে রোগীর সেবা শুরু হবে।’

এদিকে গত চব্বিশ ঘণ্টায় ১০০ জন ডেঙ্গু শনাক্ত হয়েছে। চট্টগ্রামে আক্রান্তের সংখ্যা কমে আসার কোনো লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না। প্রতিনিয়ত বাড়ছে রোগী। চলতি বছরের জানুয়ারিতে ৭৭ জন, ফেব্রুয়ারিতে ২২ জন, মার্চে ১২ জন, এপ্রিলে ১৮, মে মাসে ৫৩, জুনে ২৮৩ জন। আক্রান্তের সংখ্যা জুলাইয়ে বেশি। শুধু এ মাসে আক্রান্ত হয়েছেন ২ হাজার ৩১১ জন এবং ১ হাজার ৯৪৪ জন। ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে এখন পর্যন্ত ২৫ জনের মৃত্যু হয়ছে। তারমধ্যে ১৪ জনই শিশু। বাকিদের মধ্যে পুরুষ ছয় ও নারী পাঁচজন রয়েছেন।

দেশের ইতিহাসে ২০২২ সালে ডেঙ্গুতে ২৮১ জন মারা যান। একই বছর ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হন ৬২ হাজার ৩৮২ জন। এর আগের বছর ২০২১ সালে সারাদেশে ডেঙ্গু আক্রান্ত হন ২৮ হাজার ৪২৯ জন। মৃত্যু হয় ১০৫ জনের।

ডেঙ্গুবিষয়ক প্রতিবেদনে জানানো হয়, রোববার (৩০ জুলাই) সকাল ৮টা থেকে সোমবার সকাল ৮টা পর্যন্ত ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে দেশের বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ২ হাজার ৬৯৪ জন। এদের মধ্যে ঢাকার বাসিন্দা ১ হাজার ১৬৮ জন ও ঢাকার বাইরের ১ হাজার ৫২৬ জন। চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে ৩১ জুলাই পর্যন্ত ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়েছেন ৫১ হাজার ৮৩২ জন। তাদের মধ্যে ঢাকার বাসিন্দা ২৯ হাজার ২০০ জন। ঢাকার বাইরের হাসপাতালগুলোতে ভর্তি হয়েছেন ২২ হাজার ৬৩২ জন। একই সময়ে হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পেয়েছেন ৪২ হাজার ১৯৫ জন। তাদের মধ্যে ঢাকার বাসিন্দা ২৩ হাজার ৯৯৩ জন এবং ঢাকার বাইরের ১৮ হাজার ২০২ জন।

বিজনেস বাংলাদেশ/ bh

ট্যাগ :
জনপ্রিয়

বাংলাদেশ সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত: প্রধান উপদেষ্টা

চট্টগ্রাম মেডিকেলে ডেঙ্গু রোগীর চাপ বাড়ায়, ৫০ শয্যার ডেঙ্গু ওয়ার্ড

প্রকাশিত : ০৭:৫২:০৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১ অগাস্ট ২০২৩

সাধারণত ডেঙ্গুর প্রকোপ শুরু হয় জুলাই থেকে ডিসেম্বরে। কিন্তু এবার বছরের শুরু থেকেই এ রোগের প্রকোপ বেড়েছে কয়েকগুন।

চট্টগ্রামে প্রতিনিয়ত বাড়ছে ডেঙ্গু আক্রান্তের সংখ্যা। এর সাথে বাড়ছে হাসপাতালে ডেঙ্গু রোগীদের চাপ। চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে এতদিন ডেঙ্গু রোগীদের চিকিৎসাসেবা দেওয়ার জন্য আলাদা কোনো ওয়ার্ড ছিলো না। মেডিসিন বিভাগে এসব রোগীর সেবা দেওয়া হতো। এতে অন্য রোগীরা ঝুঁকির মধ্যে থাকতো। এবার ডেঙ্গু রোগীদের জন্য আলাদা ৫০ শয্যার ওর্য়াড করা হচ্ছে।

বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন চমেক হাসপাতালে মেডিসিন বিভাগীয় প্রধান প্রফেসর এম এ সাত্তার। তিনি বলেন, ডেঙ্গুর পূর্ণ মৌসুম চলছে। প্রতিবছর এই সময় রোগী বাড়ে। বর্তমানে প্রতিদিন ১০০ জনের বেশি রোগী ভর্তি থাকছে হাসপাতালে। আগস্টে রোগী আরও বাড়তে পারে। হাসপাতালে এতদিন ডেঙ্গু রোগীদের জন্য আলাদা ওয়ার্ড না থাকায় মেডিসেন বিভাগের ওর্য়াডগুলোতে তাদের চিকিৎসা দেওয়া হতো। এ কারণে ওই ওর্য়াডের বিরাট একটা অংশ ঝুঁকিতে থাকত। এ সমস্যা সমাধানের জন্য ৫০ শয্যার একটি আলাদা ডেঙ্গু ওয়ার্ড করা হচ্ছে। হাসপাতালের নতুন ভবনের ৮ম তলায় কার্ডিওয়াক বিভাগের পেছনে এ ওর্য়াড করা হবে। আগামী দু-তিন দিনের মধ্যে ডেঙ্গু রোগীদের সেখানে চিকিৎসাসেবা দেয়া হবে।

তিনি আরও বলেন, শুধু হাসপাতাল নির্ভর হলেই হবে না। সাধারণ জনগণকে সচেতন হতে হবে। ঘুমানোর আগে অবশ্যই মশারি টাঙাতে হবে। বাসার ছাদ-টবে পানি জমাতে দেওয়া যাবে না। ঘরের চারপাশ পরিষ্কার রাখতে হবে।

চমেক হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার মো. শামীম আহসান বলেন, ‘অস্থায়ীভাবে এ ওর্য়াড করা হচ্ছে। সেখানে ৫০ উপরে শয্যা থাকবে। বর্তমানে বেডের কাজ চলছে। দ্রুতই কাজ শেষ হবে। কয়েকদিনের মধ্যে সকল কাজ সম্পন্ন করে রোগীর সেবা শুরু হবে।’

এদিকে গত চব্বিশ ঘণ্টায় ১০০ জন ডেঙ্গু শনাক্ত হয়েছে। চট্টগ্রামে আক্রান্তের সংখ্যা কমে আসার কোনো লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না। প্রতিনিয়ত বাড়ছে রোগী। চলতি বছরের জানুয়ারিতে ৭৭ জন, ফেব্রুয়ারিতে ২২ জন, মার্চে ১২ জন, এপ্রিলে ১৮, মে মাসে ৫৩, জুনে ২৮৩ জন। আক্রান্তের সংখ্যা জুলাইয়ে বেশি। শুধু এ মাসে আক্রান্ত হয়েছেন ২ হাজার ৩১১ জন এবং ১ হাজার ৯৪৪ জন। ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে এখন পর্যন্ত ২৫ জনের মৃত্যু হয়ছে। তারমধ্যে ১৪ জনই শিশু। বাকিদের মধ্যে পুরুষ ছয় ও নারী পাঁচজন রয়েছেন।

দেশের ইতিহাসে ২০২২ সালে ডেঙ্গুতে ২৮১ জন মারা যান। একই বছর ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হন ৬২ হাজার ৩৮২ জন। এর আগের বছর ২০২১ সালে সারাদেশে ডেঙ্গু আক্রান্ত হন ২৮ হাজার ৪২৯ জন। মৃত্যু হয় ১০৫ জনের।

ডেঙ্গুবিষয়ক প্রতিবেদনে জানানো হয়, রোববার (৩০ জুলাই) সকাল ৮টা থেকে সোমবার সকাল ৮টা পর্যন্ত ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে দেশের বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ২ হাজার ৬৯৪ জন। এদের মধ্যে ঢাকার বাসিন্দা ১ হাজার ১৬৮ জন ও ঢাকার বাইরের ১ হাজার ৫২৬ জন। চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে ৩১ জুলাই পর্যন্ত ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়েছেন ৫১ হাজার ৮৩২ জন। তাদের মধ্যে ঢাকার বাসিন্দা ২৯ হাজার ২০০ জন। ঢাকার বাইরের হাসপাতালগুলোতে ভর্তি হয়েছেন ২২ হাজার ৬৩২ জন। একই সময়ে হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পেয়েছেন ৪২ হাজার ১৯৫ জন। তাদের মধ্যে ঢাকার বাসিন্দা ২৩ হাজার ৯৯৩ জন এবং ঢাকার বাইরের ১৮ হাজার ২০২ জন।

বিজনেস বাংলাদেশ/ bh