কুড়িগ্রামের ভূরুঙ্গামারী উপজেলায় আনোয়ারা জাহাঙ্গীর ক্লিনিক এন্ড ডিজিটাল ডায়াগনস্টিক সেন্টারে এক প্রসূতি মায়ের ভূল চিকিৎসায় মৃত্যু হয়েছে বলে স্বজনদের দাবী।
নিহতের খবর পেয়ে গণমাধ্যম কর্মী ২৩ আগষ্ট সন্ধার দিকে আনোয়ারা জাহাঙ্গীর ক্লিনিক এন্ড ডিজিটাল ডায়াগনস্টিক সেন্টারে কর্মরত মশিউর রহমানকে ফোন করে নিহতের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন হ্যা ,ওই নিহতের কিডনি ফেইল করছে যার কারনে এই দূর্ঘটনা হয়েছে।আমি আসতেছি এসে সাক্ষাৎ করে কথা বলবো নিউজ করিয়েন না।
আনোয়ারা জাহাঙ্গীর ক্লিনিক এন্ড ডিজিটাল ডায়াগনস্টিক সেন্টারের কতৃপক্ষ ও উক্ত ক্লিনিকের ছোটো ভাই মো: আসাদকে না পেয়ে গণমাধ্যম কর্মী নিহতের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি ফোনে বলেন আমার ক্লিনিকে একটা দূর্ঘটনা ঘটেছে তাই আমি একটু বাহিরে আছি।আর প্রিন্স ভাইকেতো চিনেন ?উনি সব দায়িত্বে আছে ক্লিনিকের।
উনি বাহিরে আছে এসে আপনাদের সাথে কথা বলবে কোনো নিউজ করিয়েন না।কি ভাবে কি হলো সে বিষয়ে তিনি বলেন, অপারেশন ভালো হয়েছে কিন্তু ইন্টারনাল মনে হয় ব্লিডিং হইছে।পরে জানতে পারি যে কিডনির সমস্যা ছিলো তখন ধরা পড়েনি। তিনি বলেন এর আগেও অনেক চিকিৎসা করেছে কিডনির।যে রুগীর কিডনির সমস্যা সেই রুগীর অপারেশন খুবি কম হয়।তারা যদি অপারেশনের আগে বলতো কিডনির সমস্যা তাহলে আমি অপারেশন করতাম না।
ক্লিনিক কতৃপক্ষ ও ক্লিনিকের ছোটো ভাই আসাদের সাথে কথা বলার পর ক্লিনিক কতৃপক্ষ প্রিন্সকে ফোন করে নিহতের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন ,আমি ঢাকাতে এসেছিলাম এখন ফুড ভিলেজে আছি, দূর্ঘটনাতো দূর্ঘটনাই আমি ভূরুঙ্গামারী যাচ্ছি এসে কথা বলবো।
নিহতের স্বজনরা ওই দিন ২৩ আগষ্ট লাশ নিয়ে বিচারের দাবীতে রাত ২ টা পযন্ত ক্লিনিকের সামনে বিক্ষোভ মিছিল করে স্বজনরা।তবে ক্লিনিকের গেট ভিতর থেকে তালা দেওয়া ছিলো সন্ধা থেকে সকাল পযন্ত।পরে ক্লিনিক কতৃপক্ষের গোপন বৈঠকে ২ লক্ষ ৫০ হাজার টাকা ক্ষতি পূরন দিবে বলে মৌখিক আলাপ আলোচনা করে পরের দিন লাশ দাফন করে নিহতের স্বজনরা।
নিহতের পরিবারের মাধ্যমে জানাযায় চলতি মাসের ১৫ আগষ্ট ২০২৩ উপজেলার সদর ইউনিয়নের ভোটহাট গ্রামের মৃত আজিমউদ্দিনের ছেলে মো: শফিকুল ইসলাম (৪২) এর সহধর্মিণী মোছা: মর্জিনা বেগম (৩৩)।মর্জিনা বেগমের প্রসব ব্যাথা উঠলে উপজেলার আনেয়ারা জাহাঙ্গীর ক্লিনিক এন্ড ডিজিটাল ডায়াগনস্টিক সেন্টারে উপরোক্ত তারিখে আনুমানিক বেলা ১২ টার দিকে ভর্তি করা হয়।
নিহত মর্জিনা বেগমের স্বামী শফিকুল ইসলামের ভাই আসাদ বাবুর স্ত্রী মোছা: মালা (২৫) নিহতের বিষয়ে বলেন ,আমার (জা) মর্জিনা বেগম তাকে সিজার রুমে ঢোকানোর ৫-৭ মিনিট পর একটি ফুটফুটে বাচ্চাকে আমাদের কোলে দেয়।আমার ভাবির সিজার করেছেন ডা: আতিকুন্নাহার।আমরা বাচ্চাকে দেখে আনন্দে উৎসাহিত হই।কিন্তু এই আনন্দ যেনো কাল হয়ে দাড়ালো আমাদের পরিবারের জন্য। পরে আমরা জানতে পারি আমার (জা) মর্জিনা বেগমের প্রসাব বন্ধ হয়ে গেছে এবং তার আরোও কিছুক্ষণ পর জানতে পারিযে পেটও ফুলে যাচ্ছে আস্তে আস্তে।পরে সেদিন পার হলেও পরের দিন ১৬ আগষ্ট রুগীর প্রসাব , পায়খানা না হওয়ায় রুগী আরো বেশী খারাপ হলে সেইদিনি রংপুরে নিয়ে যাবে বলে রুগীকে বের করে।রংপুর নিয়ে যাওয়ার সময় আমার ভাবির অনেক পেট ফোলা ছিলো।আমার ভাবির কোনো টেস্ট রিপোর্ট না দিয়ে রংপুর পাঠায় দেয় আমাদের।আনোয়ারা জাহাঙ্গীর ক্লিনিকের কারনে আমার ভাবি (জা) মারা গেছে।আমি এর বিচার চাই ও ক্লিনিকে তালা দেখতে চাই।
নিহত মর্জিনার স্বামী শফিকুল ইসলাম বলেন ,আমার স্ত্রী যখন আনোয়ারা জাহাঙ্গীর ক্লিনিকে বেশী অসুস্থ হলো তখন তারা বলে কিডনি সমস্যা ছিলো আমার স্ত্রীর তাই এই অবস্থা হয়েছে রংপুর নিয়ে যেতে হবে।পরে রংপুর যাওয়ার জন্য আমার স্ত্রীকে নিয়ে গাড়িতে উঠলে ক্লিনিকের লোকের কাছে আমার স্ত্রীর রিপোর্ট চাইলে তারা বলেন কেনো রিপোর্ট লাগবে না আপনারা চলে যান আমাদের লোক মশিউর যাবে আপনাদের সাথে কোনো সমস্যা হবে না।পরে রংপুর প্রাইম মেডিকেলের সামনে গাড়িতে রেখেই আনোয়ারা জাহাঙ্গীর ক্লিনিক থেকে আশা মশিউর নামে ছেলেটি প্রাইম মেডিকেলে ঢুকে কিছুক্ষণ পরে বের হয়ে এসে বলে ৫০ হাজার টাকা লাগবে। কিন্তুু এতটাকা কই পাবো আমরা। তাই তখনি রংপুর সরকারি মেডিকেলে নিয়ে গিয়ে ভর্তি করি।তিনি আরও বলেন রংপুর সরকারি মেডিকেলের ডাঃ বলেছে যে আপনার স্ত্রীর কিডনি সমস্যা ছিলো কেনো সিজারের রিক্স নিয়েছেন আগেই।
শফিকুলের বোন জামাই মো: আয়নাল হক (৩২) বলেন রুগীর এই ক্লিনিকে কোনো চিকিৎসা হয়নি, রুগীর পায়খান,পোশসাব বন্ধ হয়ে পেট ফুলেগেছে এই কারনে আমার রুগী মারা গেছে এর বিচার চাই।
শফিকুলের ভায়রা মো : রিয়াজুল ইসলাম (৩৩) বলেন আনোয়ারা জাহাঙ্গীর ক্লিনিকে ভূল চিকিৎসার কারনে আমাদের রুগী মারা গেছে।
অপারেশন করেছে ডাক্তার মোছা: আতিকুন্নাহার উনি একজন ভূয়া ডাক্তার ওনার বিচার চাই।
নিহত মর্জিনার বড় ভাই মো: লিটন মিয়া (৩৫) বলেন আমার ছোটো বোন অসুস্থ বেশী হলে আনোয়ার জাহাঙ্গীর ক্লিনিকের লোকজন কিছুক্ষণ পর পর ওষুধের কাগজ আমাদের হাতে ধরায় দেয় আমরা ওষুধ নিয়ে আসি।কিন্তুু সেই ওষুধ গুলো ইনজেকশন, সেলাইন,তরল ওষুধ গুলো কোনোটাই ব্যাবহার করেনি আমার বোনকে।প্রায় ৩ হাজার টাকা ওষুধের মূল্য একটাও ব্যাবহার হয়নি। তিনি আরও বলেন রংপুর নিয়ে গিয়ে আরও ৫০ হাজার টাকা দাবি করে ক্লিনিকের মশিউর,আর আমার বোনকে রংপুর নিয়ে আসার সময় কোনো রিপোর্ট দেয়নি ক্লিনিক। আমার বোনকে এই ক্লিনিকের লোকজন মেরে ফেলেছে আমি প্রশাসন,সাংবাদিক ও স্থানীয় লোকজনের কাছে আমার দাবি আমার বোনের যেনো সঠিক বিচার পাই।
ক্লিনিক কর্তৃপক্ষ আসাদ, বলেন তিন লক্ষ টাকা দিয়ে রফাদফা করেছি।একটা সমস্যা হয়েছে সমাধান তো করতে হবে।সে জন্য আমরা তিন লক্ষ টাকা দিয়ে সমাধান করেছি, একথা তিনি গণমাধ্যম কর্মীকে জানান।
পরে ২৬ আগষ্ট নিহতের স্বামী শফিকুল ইসলামকে ফোন করে বিষয়টি কিভাবে মিমাংসা হলো সে বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন মোট ২ লক্ষ ৫০ হাজার টাকা মিটছে। ১ লক্ষ দিছে দেওয়ানির কাছে আর বাকী ১ লক্ষ ৫০ হাজার আগামী মাসের ২২ তারিখে দিবে।
টাকা নিয়ে আপোষ মিমাংসার বিষয়ে শফিকুলের ভায়রা রিয়াজুল ইসলামকে ফোন করা হলে তিনি বলেন হ্যা মোট ২ লক্ষ ৫০ হাজার টাকা ক্লিনিক মালিক দিবে আলাপ হয়েছে।১ লক্ষ দিয়েছে আর বাকী টাকা আগামী মাসে দিবে।ক্লিনিক কতৃপক্ষকে ফোন করা হলে তারাও স্বীকার করে বলেন হ্যা প্রথমে ৩ লক্ষ টাকার আলাপ হয়। পরে ২ লক্ষ ৫০ হাজার টাকা মধ্যে সিমা বৈধ হয়।
নিহত মর্জিনা বেগম উপজেলার পাইকেছছরা ইউনিয়নের গছিডাঙ্গা গ্রামের সাবেক মেম্বার মৃত কছর আলীর মেয়ে।
নিহতের বিষয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স প: প: কর্মকর্তা ডাক্তার মোঃ আবু সাজ্জাদ সায়েম তিনি বলেন ,ক্লিনিকের সামনে লোকজন বিক্ষোভ করেছে আমি ফেসবুকে ঘটনাটি লাইভে দেখেছি।আমার কাছে কোনো অভিযোগ আসেনি তবে বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়েজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
কুড়িগ্রামের জেলা প্রশাসক সাইদুল আরিফ বলেন, আমি বিষয়টি অনলাইন পত্রিকায় দেখেছি, ফেসবুকে দেখেছি, তদন্ত সাপেক্ষে এটি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।




















