দলের বিপদে আরও একবার হাসলো মেহেদী হাসান মিরাজের ব্যাট। ওপেনার সঙ্কটে প্রায় ৫ বছর পর আজ ওপেনিং করতে নামেন তিনি। নাঈম শেখকে নিয়ে প্রথমে গড়েন ৬০ রানের জুটি। নাঈম ফিরে গেলেও দুর্দান্ত ব্যাটিংয়ে ওয়ানডেতে ওপেনিংয়ে মিরাজ তুলে নিয়েছেন প্রথম ফিফটি। সবমিলিয়ে আন্তর্জাতিক ওয়ানডেতে এটা মিরাজের তৃতীয় ফিফটি। ওয়ানডেতে এর আগে ২০১৮ সালের এশিয়া কাপের ফাইনালে প্রথমবার ওপেনিং করেন মিরাজ। ভারতের বিপক্ষে সেদিন লিটন দাসকে নিয়ে ওপেনিং জুটি গড়েন ১২০ রানের। ওইদিন মিরাজের ব্যাট থেকে আসে ৩২ রান। ২৪.১ ওভারে বাংলাদেশের সংগ্রহ ১৩০ রান, ফিরেছেন ২ ব্যাটার। মিরাজ ৫৩ আর শান্ত ব্যাটিং করছেন ৩৫ রানে।
ওপেনিংয়ে আজ দুর্দান্ত শুরু পেয়েছিল বাংলাদেশ। তবে ৩ বলের ব্যবধানে নাঈম শেখ ও তাউহিদ হৃদয়কে হারিয়ে মৃদু চাপে পড়ে টাইগাররা।
এরপর চাপ সামাল দেন নাজমুল হোসেন শান্ত ও মেহেদী হাসান মিরাজ। দুজনে ব্যাটিং করছেন পঞ্চাশোর্ধ জুটিতে। ২১তম ওভারে মোহাম্মদ নবীকে ছক্কা হাকিয়ে ৫০ রানের জুটি স্পর্শ করেন মিরাজ।
দলীয় সংগ্রহ ১০০ পার হলো বাংলাদেশের
ইনিংসের ২০তম ওভারে দলীয় সংগ্রহ ১০০ পার হলো বাংলাদেশের। এর আগে অষ্টম ওভারে ৫০ স্পর্শ করেছিল টাইগাররা। ভালো শুরুর পর ৩ বলের ব্যবধানে ২ উইকেট হারায় বাংলাদেশ। এরপর দলের হাল ধরেছেন নাজমুল হোসেন শান্ত ও মেহেদী হাসান মিরাজ।
ওপেনিংয়ে দুর্দান্ত শুরুর পর জোড়া উইকেট হারালো বাংলাদেশ। ১০ম ওভারে শেষ বলে নাঈম শেখ ফেরার পর ১১তম ওভারের তৃতীয় বলে ফিরে গেলেন তাউহিদ হৃদয়। ২ বলে শূন্য রানে স্লিপে ক্যাচ দেন তিনি। ১১ ওভারে বাংলাদেশের সংগ্রহ ৬৩ রান, ফিরে গেছেন ২ ব্যাটার।
শুরু থেকে দারুণ ছন্দে থাকা ওপেনার নাঈম শেখ ইনিংস বড় করতে পারলেন না। পাওয়ার প্লের শেষ ওভারের শেষ বলে আফগান স্পিনার মুজিব উর রহমানের বলে বোল্ড হয়ে ফেরেন তিনি। ফেরার আগে ৩২ বলে ৫ চারে ২৮ রান করেন এই বাঁহাতি ব্যাটার। । ৬ ওয়ানডের ক্যারিয়ারে এটিই এখন নাঈমের সর্বোচ্চ স্কোর নতুন ব্যাটার হিসেবে উইকেটে এসেছেন তাউহিদ হৃদয়।
ইতিবাচকভাবে শুরু করা বাংলাদেশ ইনিংসের অষ্টম ওভারে পেনিং জুটিতে ৫০ স্পর্শ করেছে। সাত ম্যাচ পর ওপেনিংয়ে ৫০ বা তার বেশি রানের জুটি পেলো বাংলাদেশ। ৯ ওভারে বাংলাদেশের সংগ্রহ ৫৪ রান। নাঈম ২৮ আর মিরাজ ব্যাটিং করছেন ১৬ রানে।
আন্তর্জাতিক ওয়ানডেতে ৫ বছর পর ওপেনিং করতে নেমেছেন মেহেদী হাসান মিরাজ। তার সঙ্গে নামা নাঈম শেখও আজ শুরু থেকেই বেশ ভালো ছন্দে আছেন। মূলত নাঈম শেখের ইতিবাচক ব্যাটিংয়েই ভালো শুরু পেয়েছে বাংলাদেশ। সর্বশেষ ৬ ম্যাচে বাংলাদেশের এটি পঞ্চম ওপেনিং জুটি। আগের ম্যাচে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে পাল্লেকেলের উইকেট ছিল ধীরগতির। আজ লাহোরের উইকেটে তুলনামূলক বল ব্যাটে ভাল্প আসছে। যদিও কিছুটা নিচু বাউন্স আছে, সেটার দেখাও মিলেছে ইতিমধ্যে। ৬ ওভারে বাংলাদেশের সংগ্রহ ৩৭ রান। নাঈম ব্যাটিং করছেন ২২ রানে আর মিরাজ ৫ রানে।
বাঁচা-মরার লড়াইয়ে ব্যাটিংয়ে বাংলাদেশ, একাদশে একাধিক পরিবর্তন
এশিয়া কাপে বাঁচা-মরার লড়াইয়ে আফগানিস্তানের বিপক্ষে টস জিতে আগে ব্যাটিং করবে বাংলাদেশ। আসরে টিকে থাকতে এই ম্যাচে জয়ের কোনো বিকল্প নেই টাইগারদের সামনে। এমন ম্যাচে একাদশে একাধিক পরিবর্তন এনেছে টাইগার টিম ম্যানেজমেন্ট। অভিষেক হচ্ছে বাঁহাতি হার্ডহিটার ব্যাটার শামিম পাটোয়ারির।
এছাড়া একাদশে এসেছেন আফিফ হোসেন ও ডানহাতি পেস বোলার হাসান মাহমুদ। আগের ম্যাচে শুন্য রানে ফেরা তানজিদ হাসান তামিম, শেখ মেহেদী ও মোস্তাফিজুর রহমান বাদ পড়েছেন এই ম্যাচ থেকে। টিম ম্যানেজমেন্টের দেওয়া খেলোয়াড় তালিকায় অনুযায়ী, নাঈম শেখের সঙ্গে ওপেনিং করার কথা অলরাউন্ডার মেহেদী হাসান মিরাজের।
আফগানদের বিপক্ষে বাংলাদেশের আজকের ম্যাচটি হচ্ছে পাকিস্তানের লাহোরের গাদ্দাফি স্টেডিয়ামে। এখানে সর্বশেষ ২০০৮ সালে ওয়ানডে খেলেছি টাইগাররা। ২০০৮ সালে এশিয়া কাপে বাংলাদেশ এই মাঠে এ আরব আমিরাতকে হারিয়েছিল ৯৬ রানের বিশাল ব্যবধানে।
আফগানিস্তানের বিপক্ষে সবমিলিয়ে ১৪ ওয়ানডে খেলেছে বাংলাদেশ। যেখানে ৮টিতে জয় নিয়ে এগিয়ে আছে টাইগাররা। বাকি ৬ ম্যাচে জিতেছে আফগানরা।
বাংলাদেশ একাদশ
মোহাম্মদ নাঈম শেখ, নাজমুল হোসেন শান্ত, সাকিব আল হাসান, তাওহীদ হৃদয়, শামীম হোসেন পাটোয়ারী, মুশফিকুর রহিম, আফিফ হোসেন, মেহেদী হাসান মিরাজ, তাসকিন আহমেদ, শরিফুল ইসলাম ও হাসান মাহমুদ।
আফগানিস্তান একাদশ
রহমানউল্লাহ গুরবাজ, ইব্রাহিম জারদান, রহমত শাহ, হাশমতউল্লাহ শহীদি, নাজিবুল্লাহ জাদরান, মোহাম্মদ নবী, গুলবাদিন নাইব, করিম জানাত, রশিদ খান, ফজল হক ফারুকি ও মুজিব উর রহমান।

























