০৩:৪৯ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

অবৈধ সম্পদ, স্বর্ণ ও হুন্ডি কারবারে জড়িত আব্দুল হকের বিরুদ্ধে দুদকের মামলা

চট্টগ্রামের সরকারি রাজস্ব ফাঁকি দিয়ে অবৈধ সম্পদ অর্জন, হুন্ডি, স্বর্ণ চোরাচালন ও মাদক ব্যবসায় জড়িত থাকার দায়ে বুধবার (১৩ সেপ্টম্বর) দুদক সমন্বিত জেলা কার্যালয়, চট্টগ্রাম-২ উপপরিচালক মো. আতিকুল আলম বাদি হয়ে আব্দুল হক নামে এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে মামলা করা হয়।

অভিযুক্ত আব্দুল হক চট্টগ্রামের লোহাগাড়া থানার খুলু খলিফা পাড়ার হাজী ফজলুল হকের বাড়ির মৃত হাজী ফজলুল হকের ছেলে। বর্তমানে পরিবার নিয়ে নগরীর চকবাজার থানার কলেজ রোড দেবপাহাড় এসকাডেট লিবার্টি ফ্ল্যাটের এ/৬-তে বসবাস করছেন তিনি।

মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, আব্দুল হক দীর্ঘদিন যাবৎ সরকারী রাজস্ব ফাঁকি, অবৈধ উপায়ে অর্থ উপার্জনকারী, হুন্ডি ব্যবসায়ী, স্বর্ণ চোরাকারবারী, মাদক ব্যবসা ও ইয়াবা ব্যবসা করে জ্ঞাত আয়ের উৎস বহির্ভূত সম্পদের অভিযোগ সত্যতা প্রমাণ পেয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন ( দুদক) সমন্বিত জেলা কার্যালয়, চট্টগ্রাম-২ এর ই.আর নং-০৫/২০১৯ ভুক্ত করেন।

এজাহারে আরো উল্লেখ করা হয়েছে অনুসন্ধানকালে আসামী আব্দুল হক কর্তৃক তার জ্ঞাত আয়ের উৎসের সাথে অসঙ্গতিপূর্ণ সম্পদ অর্জন কারার অভিযোগটি প্রাথমিকভাবে প্রমাণিত হওয়ায় তার বিরুদ্ধে সকল বিবরণী দাখিলের আদেশ জারীর সুপারিশ করে পূর্ববর্তী অনুসন্ধানকারী কর্মকর্তা সাবেক উপসহকারী পরিচালক জনাব মোঃ শরীফ উদ্দিন প্রতিবেদন দাখিল করেন। দুর্নীতি দমন কমিশন, প্রধান কার্যালয়, ঢাকার স্মারক নং-০০.০১.১৫০০.৬২৩.০১.৪৯৮.১৮/চট্টগ্রাম-২/২১৬৪৫। ০৫/১০/২০২০ খ্রি. মূলে সম্পদ বিবরণী দাখিলের আদেশ জারীর নির্দেশ দেয়া হয়। তৎপ্রেক্ষিতে অত্র কার্যালয়ের স্মারক নং-৫৭৩০, তাং-১১/১০/২০২০ খ্রি. মূলে তার বিরুদ্ধে সম্পদ বিবরণী দাখিলের আদেশ জারী করা হয়। তিনি সৌদি আরব অবস্থান করায় তার পক্ষে তার বড় ছেলে এরশাদুল হক গত ০১/১১/২০২০ সালে উক্ত আদেশ গ্রহণ করেন। তিনি সৌদি আরব থেকে বাংলাদেশে এসে অত্র কার্যালয়ে তার সম্পদ বিবরণী পূরণপূর্বক গত ২১/১২/২০২০ খ্রি. তারিখে দাখিল করেন।

২০১৯ সালে আসা অভিযোগের ভিত্তিতে আব্দুল হকের বিরুদ্ধে অনুসন্ধান কার্যক্রম শুরু করে। প্রাথমিক অনুসন্ধানে অভিযোগের সত্যতা পাওয়ার পর সম্পদ বিবরণী দাখিলের নোটিশ জারির সুপারিশ করেন দুদকের সাবেক উপসহকারী পরিচালক মো. শরীফ উদ্দিন।

২০২০ সালের ৫ অক্টোবর আব্দুল হককে সম্পদ বিবরণী দাখিলের আদেশ জারির নির্দেশ দেয় দুদক। সম্পদ বিবরণী যাচাইকালে আব্দুল হকের বিরুদ্ধে ৩০ লাখ ৯২ হাজার ছয়শ’ ৫৮ টাকার সম্পদ আয়ের সঙ্গে অসঙ্গতিপূর্ণ থাকা সত্বেও ভোগ দখলে রাখার তথ্য পেয়েছে দুদক। একইসঙ্গে ৫০ লাখ ৭৪ হাজার চারশ’ ৩১ টাকার সম্পদের তথ্য গোপন করা হয়েছে। এই ঘটনায় আসামির বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশন আইন, ২০০৪-এর ২৬(২) ও ২৭(১) ধারায় অভিযোগ আনা হয়।

এই ঘটনায় আসামির বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশন আইন, ২০০৪-এর ২৬(২) ও ২৭(১) ধারায় অভিযোগ আনা হয়। উপরোক্ত বিষয়টি নিশ্চিত করে দুদক সমন্বিত জেলা কার্যালয়ের, চট্টগ্রাম-২ উপ পরিচালক মো. আতিকুল আলম বলেন, ‘অধিকতর তদন্তে সরকারি রাজস্ব ফাঁকির ঘটনায় অন্য কারোর সংশ্লিষ্টতা পাওয়া গেলে তাদেরও আইনের আওতায় আনা হবে।’

বিজনেস বাংলাদেশ/একে

ট্যাগ :

৯ ফেব্রুয়ারি জাতির উদ্দেশে ভাষণ দেবেন জামায়াত আমির

অবৈধ সম্পদ, স্বর্ণ ও হুন্ডি কারবারে জড়িত আব্দুল হকের বিরুদ্ধে দুদকের মামলা

প্রকাশিত : ০৩:২৩:৫১ অপরাহ্ন, বুধবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৩

চট্টগ্রামের সরকারি রাজস্ব ফাঁকি দিয়ে অবৈধ সম্পদ অর্জন, হুন্ডি, স্বর্ণ চোরাচালন ও মাদক ব্যবসায় জড়িত থাকার দায়ে বুধবার (১৩ সেপ্টম্বর) দুদক সমন্বিত জেলা কার্যালয়, চট্টগ্রাম-২ উপপরিচালক মো. আতিকুল আলম বাদি হয়ে আব্দুল হক নামে এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে মামলা করা হয়।

অভিযুক্ত আব্দুল হক চট্টগ্রামের লোহাগাড়া থানার খুলু খলিফা পাড়ার হাজী ফজলুল হকের বাড়ির মৃত হাজী ফজলুল হকের ছেলে। বর্তমানে পরিবার নিয়ে নগরীর চকবাজার থানার কলেজ রোড দেবপাহাড় এসকাডেট লিবার্টি ফ্ল্যাটের এ/৬-তে বসবাস করছেন তিনি।

মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, আব্দুল হক দীর্ঘদিন যাবৎ সরকারী রাজস্ব ফাঁকি, অবৈধ উপায়ে অর্থ উপার্জনকারী, হুন্ডি ব্যবসায়ী, স্বর্ণ চোরাকারবারী, মাদক ব্যবসা ও ইয়াবা ব্যবসা করে জ্ঞাত আয়ের উৎস বহির্ভূত সম্পদের অভিযোগ সত্যতা প্রমাণ পেয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন ( দুদক) সমন্বিত জেলা কার্যালয়, চট্টগ্রাম-২ এর ই.আর নং-০৫/২০১৯ ভুক্ত করেন।

এজাহারে আরো উল্লেখ করা হয়েছে অনুসন্ধানকালে আসামী আব্দুল হক কর্তৃক তার জ্ঞাত আয়ের উৎসের সাথে অসঙ্গতিপূর্ণ সম্পদ অর্জন কারার অভিযোগটি প্রাথমিকভাবে প্রমাণিত হওয়ায় তার বিরুদ্ধে সকল বিবরণী দাখিলের আদেশ জারীর সুপারিশ করে পূর্ববর্তী অনুসন্ধানকারী কর্মকর্তা সাবেক উপসহকারী পরিচালক জনাব মোঃ শরীফ উদ্দিন প্রতিবেদন দাখিল করেন। দুর্নীতি দমন কমিশন, প্রধান কার্যালয়, ঢাকার স্মারক নং-০০.০১.১৫০০.৬২৩.০১.৪৯৮.১৮/চট্টগ্রাম-২/২১৬৪৫। ০৫/১০/২০২০ খ্রি. মূলে সম্পদ বিবরণী দাখিলের আদেশ জারীর নির্দেশ দেয়া হয়। তৎপ্রেক্ষিতে অত্র কার্যালয়ের স্মারক নং-৫৭৩০, তাং-১১/১০/২০২০ খ্রি. মূলে তার বিরুদ্ধে সম্পদ বিবরণী দাখিলের আদেশ জারী করা হয়। তিনি সৌদি আরব অবস্থান করায় তার পক্ষে তার বড় ছেলে এরশাদুল হক গত ০১/১১/২০২০ সালে উক্ত আদেশ গ্রহণ করেন। তিনি সৌদি আরব থেকে বাংলাদেশে এসে অত্র কার্যালয়ে তার সম্পদ বিবরণী পূরণপূর্বক গত ২১/১২/২০২০ খ্রি. তারিখে দাখিল করেন।

২০১৯ সালে আসা অভিযোগের ভিত্তিতে আব্দুল হকের বিরুদ্ধে অনুসন্ধান কার্যক্রম শুরু করে। প্রাথমিক অনুসন্ধানে অভিযোগের সত্যতা পাওয়ার পর সম্পদ বিবরণী দাখিলের নোটিশ জারির সুপারিশ করেন দুদকের সাবেক উপসহকারী পরিচালক মো. শরীফ উদ্দিন।

২০২০ সালের ৫ অক্টোবর আব্দুল হককে সম্পদ বিবরণী দাখিলের আদেশ জারির নির্দেশ দেয় দুদক। সম্পদ বিবরণী যাচাইকালে আব্দুল হকের বিরুদ্ধে ৩০ লাখ ৯২ হাজার ছয়শ’ ৫৮ টাকার সম্পদ আয়ের সঙ্গে অসঙ্গতিপূর্ণ থাকা সত্বেও ভোগ দখলে রাখার তথ্য পেয়েছে দুদক। একইসঙ্গে ৫০ লাখ ৭৪ হাজার চারশ’ ৩১ টাকার সম্পদের তথ্য গোপন করা হয়েছে। এই ঘটনায় আসামির বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশন আইন, ২০০৪-এর ২৬(২) ও ২৭(১) ধারায় অভিযোগ আনা হয়।

এই ঘটনায় আসামির বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশন আইন, ২০০৪-এর ২৬(২) ও ২৭(১) ধারায় অভিযোগ আনা হয়। উপরোক্ত বিষয়টি নিশ্চিত করে দুদক সমন্বিত জেলা কার্যালয়ের, চট্টগ্রাম-২ উপ পরিচালক মো. আতিকুল আলম বলেন, ‘অধিকতর তদন্তে সরকারি রাজস্ব ফাঁকির ঘটনায় অন্য কারোর সংশ্লিষ্টতা পাওয়া গেলে তাদেরও আইনের আওতায় আনা হবে।’

বিজনেস বাংলাদেশ/একে