০৬:১১ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৫ জানুয়ারী ২০২৬

পরীক্ষা চলাকালীন অসদুপায় অবলম্বনে বাঁধা দেয়ায় শিক্ষকের দু’গালে চড়, থানায় মামলা

পরীক্ষা চলাকালীন অসদুপায় অবলম্বন করছিল এক ছাত্র। সে কাজে বাঁধা দেয়ায় ওই শ্রেণী কক্ষে দায়িত্বরত বাংলা বিভাগের সহকারী শিক্ষক হাফিজুর রহমানের দু’গালে চড় মেরে পালিয়ে যায়। ঘটনাটি ঘটে রবিবার (৮ অক্টোবর) বেলা ১১টা ১০ মিনিটে চুয়াডাঙ্গা ভিক্টোরিয়া জুবিলি সরকারী উচ্চ বিদ্যালয়ে।

ঘটনার দিন রাতে প্রধান শিক্ষক সেখ সফিয়ার রহমান সদর থানায় এ সংক্রান্ত একটি অভিযোগপত্র দেন।
এরপর আজ সোমবার নিয়মিত মামলা হয়েছে। সদর থানার মামলা নং-১৩, তাং-০৯/১০/২৩ইং।
এ ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে সোমবার দুপুরে শহরে বিক্ষোভ প্রদর্শন করেছে সরকারি বালিকা বিদ্যালয়ের ছাত্রীরা।
এদিকে এ ঘটনায় অতিরিক্ত জেলা জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) শারমিন আক্তারকে প্রধান করে সদস্যের তদন্ত কমিটি করা হয়েছে। তদন্ত দলের সদস্যরা হলেন, চুয়াডাঙ্গা জেলা শিক্ষা অফিসার আতাউর রহমান, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) শারমিন আক্তার, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) আনিসুজ্জামান লালন ও বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকসেখ সফিয়ার রহমান । সোমবার সকাল থেকেই কাজ শুরু করেছে এই কমিটি।

এছাড়া বাংলাদেশ সরকারী মাধ্যমিক শিক্ষক সমিতি এ ঘটনায় তীব্র প্রতিবাদ ও নিন্দা জ্ঞাপন করে একটি বিবৃতি দিয়েছে। বিবৃতিতে বলা হয়েছে, দ্রæত সময়ের মধ্যে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ না নিলে সমিতির পক্ষ থেকে কর্মসূচি গ্রহণ করা হবে। এ ঘটনায় শিক্ষকরা সোমবার ক্লাস বর্জনের কর্মসুচি দিলে বিদ্যালয়ের সভাপতি জেলা প্রশাসক ড.কিসিঞ্জার চাকমা ও পুলিশ সুপার আবদুল্লাহ আল মামুনের আশ^াসে তা প্রত্যাহার করে করেন।
অভিযুক্ত সাইফুল আমিন শীর্ষ দৈনিক মাথাভাঙ্গা পত্রিকার সম্পাদক ও প্রকাশক এবং চুয়াডাঙ্গা প্রেসক্লাবের সভাপতি সরদার আল-আমিনের ছেলে।
চুয়াডাঙ্গা ভিক্টোরিয়া জুবিলি সরকারী উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সেখ সফিয়ার রহমান এ প্রতিবেদককে বলেন,, বিদ্যালয়ের ১১২ নম্বর কক্ষে এস.এস.সি. নির্বাচনী পরীক্ষার দায়িত্বপালন করছিলেন সহকারী শিক্ষক হাফিজুর রহমান। পরীক্ষা চলাকালীন এ বিদ্যালয়ের প্রভাতী শাখার দশম শ্রেণীর ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগের পরীক্ষার্থী সাইফুল আমিন শীর্ষ, সিরিয়াল নম্বর-২৮, স্টুডেন্ট আইডি নম্বর-২১৮৫৫৯, পিতা-সরদার আল-আমিন, সরদারপাড়া, দৌলাৎদিয়াড়,চুয়াডাঙ্গা, পরীক্ষার হলে অসদুপায় আবলম্বন ও বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করে। এমতবস্থায় দায়িত্বরত শিক্ষক বাঁধা প্রদান করায় ওই শিক্ষার্থী,শিক্ষককে শারীরিকভাবে লাঞ্চিত করে।
প্রধান শিক্ষক আরো বলেন, ‘এ বিদ্যালয়ের সভাপতি জেলা প্রশাসক ড.কিসিঞ্জার চাকমা। এ ঘটনার পর বিষয়টি নিয়ে কথা বলতে গেলে তিনি থানায় অভিযোগপত্র দিতে পরামর্শ দেন। সেই মোতাবেক অভিযোগপত্র দেয়া হয়েছে। এরপর মামলা হয়েছে। ডিসি স্যার আমাদের সভাপতি তিনি যেভাবে বলবেন আমরা সেভাবে এগুবো। তবে এ ঘটনায় সাধারন শিক্ষকদের মধ্যে চরম ক্ষোভ ও হতাশা বিরাজ করছে। ’
সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, পরীক্ষার্থী সাইফুল আমিন শীর্ষ পরীক্ষা দেয়ার সময় অসদুপায় অবলন্বন করলে তার খাতাটি দায়িত্বরত শিক্ষক কেড়ে নেয়। এরপর তাকে শিক্ষকের সঙ্গে কথা বলতে দেখা যায়। সে সময় শিক্ষক তাকে দু’কাঁধ চাপ দিয় তার আসনে বসিয়ে দেয়। তারপর শিক্ষার্থী শীর্ষ নিজের আসন থেকে উঠে গিয়ে পিছনে হাত রেখে ওই শিক্ষকের মুখোমুখী দাঁড়ায়। সে সময় কথা বলার পরপরই সে শিক্ষকের দু’গালে ডান ও বাম হাত দিয়ে চড় মেরে পালিয়ে যায়। এরপর লাঞ্চিত শিক্ষক খাতাটি নিয়ে শ্রেনী কক্ষ থেকে বের হয়ে যায়।
সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন)’র চুয়াডাঙ্গা জেলা শাখার সভাপতি চুয়াডাঙ্গা সরকারি কলেজের অবসরপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ সিদ্দিকুর রহমান এ ঘটনায় বিস্ময় প্রকাশ করে বলেন, ‘সবখানে চরম নৈতিক অবক্ষয় শুরু হয়েছে। একজন ছাত্র শিক্ষককে এভাবে লাঞ্জিত করতে পারে এটা ভাবতেও খারাপ লাগে। স্কুলের ম্যানেজিং কমিটি, শিক্ষক, ছাত্র, অভিভাবক এর দায় কেউ এড়াতে পারেনা।’

বিজনেস বাংলাদেশ/bh

ট্যাগ :
জনপ্রিয়

আপনাদের একটি ভোটই পারে বিএনপিকে ক্ষমতায় নিয়ে আসতে: ব্যারিস্টার ফারজানা শারমিন পুতুল

পরীক্ষা চলাকালীন অসদুপায় অবলম্বনে বাঁধা দেয়ায় শিক্ষকের দু’গালে চড়, থানায় মামলা

প্রকাশিত : ০৮:৫২:২৬ অপরাহ্ন, সোমবার, ৯ অক্টোবর ২০২৩

পরীক্ষা চলাকালীন অসদুপায় অবলম্বন করছিল এক ছাত্র। সে কাজে বাঁধা দেয়ায় ওই শ্রেণী কক্ষে দায়িত্বরত বাংলা বিভাগের সহকারী শিক্ষক হাফিজুর রহমানের দু’গালে চড় মেরে পালিয়ে যায়। ঘটনাটি ঘটে রবিবার (৮ অক্টোবর) বেলা ১১টা ১০ মিনিটে চুয়াডাঙ্গা ভিক্টোরিয়া জুবিলি সরকারী উচ্চ বিদ্যালয়ে।

ঘটনার দিন রাতে প্রধান শিক্ষক সেখ সফিয়ার রহমান সদর থানায় এ সংক্রান্ত একটি অভিযোগপত্র দেন।
এরপর আজ সোমবার নিয়মিত মামলা হয়েছে। সদর থানার মামলা নং-১৩, তাং-০৯/১০/২৩ইং।
এ ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে সোমবার দুপুরে শহরে বিক্ষোভ প্রদর্শন করেছে সরকারি বালিকা বিদ্যালয়ের ছাত্রীরা।
এদিকে এ ঘটনায় অতিরিক্ত জেলা জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) শারমিন আক্তারকে প্রধান করে সদস্যের তদন্ত কমিটি করা হয়েছে। তদন্ত দলের সদস্যরা হলেন, চুয়াডাঙ্গা জেলা শিক্ষা অফিসার আতাউর রহমান, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) শারমিন আক্তার, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) আনিসুজ্জামান লালন ও বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকসেখ সফিয়ার রহমান । সোমবার সকাল থেকেই কাজ শুরু করেছে এই কমিটি।

এছাড়া বাংলাদেশ সরকারী মাধ্যমিক শিক্ষক সমিতি এ ঘটনায় তীব্র প্রতিবাদ ও নিন্দা জ্ঞাপন করে একটি বিবৃতি দিয়েছে। বিবৃতিতে বলা হয়েছে, দ্রæত সময়ের মধ্যে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ না নিলে সমিতির পক্ষ থেকে কর্মসূচি গ্রহণ করা হবে। এ ঘটনায় শিক্ষকরা সোমবার ক্লাস বর্জনের কর্মসুচি দিলে বিদ্যালয়ের সভাপতি জেলা প্রশাসক ড.কিসিঞ্জার চাকমা ও পুলিশ সুপার আবদুল্লাহ আল মামুনের আশ^াসে তা প্রত্যাহার করে করেন।
অভিযুক্ত সাইফুল আমিন শীর্ষ দৈনিক মাথাভাঙ্গা পত্রিকার সম্পাদক ও প্রকাশক এবং চুয়াডাঙ্গা প্রেসক্লাবের সভাপতি সরদার আল-আমিনের ছেলে।
চুয়াডাঙ্গা ভিক্টোরিয়া জুবিলি সরকারী উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সেখ সফিয়ার রহমান এ প্রতিবেদককে বলেন,, বিদ্যালয়ের ১১২ নম্বর কক্ষে এস.এস.সি. নির্বাচনী পরীক্ষার দায়িত্বপালন করছিলেন সহকারী শিক্ষক হাফিজুর রহমান। পরীক্ষা চলাকালীন এ বিদ্যালয়ের প্রভাতী শাখার দশম শ্রেণীর ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগের পরীক্ষার্থী সাইফুল আমিন শীর্ষ, সিরিয়াল নম্বর-২৮, স্টুডেন্ট আইডি নম্বর-২১৮৫৫৯, পিতা-সরদার আল-আমিন, সরদারপাড়া, দৌলাৎদিয়াড়,চুয়াডাঙ্গা, পরীক্ষার হলে অসদুপায় আবলম্বন ও বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করে। এমতবস্থায় দায়িত্বরত শিক্ষক বাঁধা প্রদান করায় ওই শিক্ষার্থী,শিক্ষককে শারীরিকভাবে লাঞ্চিত করে।
প্রধান শিক্ষক আরো বলেন, ‘এ বিদ্যালয়ের সভাপতি জেলা প্রশাসক ড.কিসিঞ্জার চাকমা। এ ঘটনার পর বিষয়টি নিয়ে কথা বলতে গেলে তিনি থানায় অভিযোগপত্র দিতে পরামর্শ দেন। সেই মোতাবেক অভিযোগপত্র দেয়া হয়েছে। এরপর মামলা হয়েছে। ডিসি স্যার আমাদের সভাপতি তিনি যেভাবে বলবেন আমরা সেভাবে এগুবো। তবে এ ঘটনায় সাধারন শিক্ষকদের মধ্যে চরম ক্ষোভ ও হতাশা বিরাজ করছে। ’
সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, পরীক্ষার্থী সাইফুল আমিন শীর্ষ পরীক্ষা দেয়ার সময় অসদুপায় অবলন্বন করলে তার খাতাটি দায়িত্বরত শিক্ষক কেড়ে নেয়। এরপর তাকে শিক্ষকের সঙ্গে কথা বলতে দেখা যায়। সে সময় শিক্ষক তাকে দু’কাঁধ চাপ দিয় তার আসনে বসিয়ে দেয়। তারপর শিক্ষার্থী শীর্ষ নিজের আসন থেকে উঠে গিয়ে পিছনে হাত রেখে ওই শিক্ষকের মুখোমুখী দাঁড়ায়। সে সময় কথা বলার পরপরই সে শিক্ষকের দু’গালে ডান ও বাম হাত দিয়ে চড় মেরে পালিয়ে যায়। এরপর লাঞ্চিত শিক্ষক খাতাটি নিয়ে শ্রেনী কক্ষ থেকে বের হয়ে যায়।
সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন)’র চুয়াডাঙ্গা জেলা শাখার সভাপতি চুয়াডাঙ্গা সরকারি কলেজের অবসরপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ সিদ্দিকুর রহমান এ ঘটনায় বিস্ময় প্রকাশ করে বলেন, ‘সবখানে চরম নৈতিক অবক্ষয় শুরু হয়েছে। একজন ছাত্র শিক্ষককে এভাবে লাঞ্জিত করতে পারে এটা ভাবতেও খারাপ লাগে। স্কুলের ম্যানেজিং কমিটি, শিক্ষক, ছাত্র, অভিভাবক এর দায় কেউ এড়াতে পারেনা।’

বিজনেস বাংলাদেশ/bh