০৬:০৫ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৫ জানুয়ারী ২০২৬

পাবনায় ভয়াবহতার দিকে যাচ্ছে কিশোর গ্যাংয়ের তৎপরতা

এলাকায় আধিপত্য বিস্তার, মাদক ব্যবসা ও মাদক সেবন, চাঁদাবাজি, দখলবাজি, ধর্ষণ, ইভটিজিং ও হত্যার মত নানা নেতিবাচক কর্মকাণ্ডে পাবনায় ভয়াবহতার দিকে যাচ্ছে কিশোর গ্যাং। শহর থেকে শুরু করে গ্রামগঞ্জেও বেড়েছে বিশৃঙ্খলা। তাদেরকে ঘিরে সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে। এ নিয়ে উদ্বিগ্ন সচেতন সমাজ। তাদের দাবি এদের রুখতে তেমন কোনো ভূমিকা পালন করতে দেখা যাচ্ছে না প্রশাসনকে।

সরেজমিনে দেখা যায়, বিভিন্ন মার্কেট ও রাস্তার পাশের দোকানগুলোতে খোলামেলাভাবেই বিক্রি হচ্ছে ছুরি ও চাকুর মত সহজে বহন করা যায় এমন দেশীয় অস্ত্রগুলো। যেগুলো সাধারণ মানুষ খেলনা বা নিত্যপ্রয়োজনের ভেবে থাকেন। কিন্তু সেগুলো কিনে স্কুলের কোমলমতি শিক্ষার্থীরা পকেটে বা স্কুল ব্যাগে বয়ে বেড়াচ্ছে। বন্ধুদের সাথে ছোটখাটো ঝগড়া বা সামান্য দ্বন্দেই এগুলো ব্যবহার করা হচ্ছে। জড়িয়ে পড়ছে খুন বা জখমের মত নানা অপরাধ কর্মকাণ্ডে। ধুমপানের পাশাপাশি সেবন করছে মাদক। প্রভাব বা প্রতিপত্তি অর্জনে এরা যায় রাজনৈতিক বিভিন্ন নেতাদের কাছে। মিছিল-মিটিংয়ের বাইরেও নানা অন্যায় কাজে তারা ব্যবহৃত হয়। এতে দেখা যায় জখম-মারামারি, চাঁদাবাজি, দখলবাজি, ধর্ষণ ও ইভটিজিংয়ের মত কাজে তারা জড়িয়ে পড়ছে।

জানা যায়, গত ৩০ সেপ্টেম্বর রাতে পাবনার মাসুম বাজার এলাকায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে দুপক্ষের মধ্যে ব্যাপক গুলাগুলি হয়। ছাত্ররাজনীতির ছত্রছায়ায় থাকা দুই দলের অধিকাংশ সদস্যই স্কুল বা কলেজ পড়ুয়া। এর আগে পাবনা মহিলা কলেজ এলাকায় একটি মারধরের ঘটনা ঘটে। সেখানে স্কুল ও কলেজ পড়ুয়া শিক্ষার্থীদের বেধড়ক মারধরের ঘটনা ঘটে। এতেও লক্ষ্য করা গেছে অল্পবয়সী বিপথগামী তরুণদের ভূমিকা। এছাড়া পাবনা সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়, সেন্ট্রাল গার্লস হাই স্কুল, রফিক স্কুল, ইমাম গাজ্জালি গার্লস স্কুল সহ বিভিন্ন গার্লস স্কুল ও কোচিং-এর সামনে এদের ভীড় জমাতে দেখা যায়। মেয়েরা বের হলেই তাদের করা হয় ইভটিজিং। একই চিত্র শহরের রবিউল মার্কেট ও মহিলা কলেজ এলাকায়। এদের কিছু বলতেও ভয় পান ভুক্তভোগী মেয়েদের অভিভাবকেরা। কিছু বললে তাদের ওপরও চড়াও হবার ঘটনাও ঘটেছে। এতে স্কুল-কলেজের মেয়েদের নিরাপত্তা নিয়ে ব্যাপক দুশ্চিন্তা বেড়েছে।

একাধিক শিক্ষক ও অভিভাবকদের সাথে কথা বললে তারা জানান, স্কুলের সামনে হোন্ডা নিয়ে দাঁড়িয়ে থাকে বা ছোটাছুটি করতে থাকে এরা। মেয়েরা বের হলেই তাদের উত্যক্ত করে। অভিভাবক সাথে থাকাবস্থায়ও মেয়েদের সাথে বেহায়াপনা করে। অভিভাবক বা শিক্ষকদের কাউকেই এরা পরোয়া করে না। এগুলো কিছুদিন কম ছিলো। কিন্তু ইদানীং এদের তৎপরতা আরো বেড়েছে।
একই চিত্র গ্রামের স্কুলগুলোতেও। গ্রামেও আশঙ্কাজনক হারে সংগঠিত হচ্ছে কিশোর গ্যাং। বিভিন্ন বাজার বা হাট এলাকার চায়ের দোকানে গভীর রাত অবধিও এদের এলোমেলো চলাফেরা লক্ষ্য করা যায়। ধুমপান, মাদক সেবন, অনলাইন জুয়া ও বাজির মত অনৈতিক কাজেও এরা বেশ সংগঠিত। গ্রামের সাধারণ মানুষের কাছে এরা নতুন আতঙ্ক।

এব্যাপারে পাবনা প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক সাংবাদিক সৈকত আফরোজ আসাদ বলেন, যেকোনো ধরণের অন্যায় কাজের শিরোনাম স্কুল পড়ুয়া কিশোর-তরুণেরা। অতি ক্ষুদ্র বিষয় নিয়ে খুন জখমের মত বড় বড় অন্যায় কাজে তাদের সম্পৃক্ততা দেখা যাচ্ছে। অনবরত পকেটে ছুরি-চাকু নিয়ে ঘুরে বেড়াচ্ছে। এখনই তারা নতুন আতঙ্কের নাম। দ্রুতই এদের রুখতে না পারলে সামনে ভয়াবহ কিছু অপেক্ষা করছে।

এব্যাপারে পাবনার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অর্থ ও প্রশাসন) মাসুদ আলম জানান, পুলিশের একার সবকিছু রোধ করা সম্ভব নয়। সন্তানেরা কোথায় যায়, কি করে এগুলো অভিভাবকদেরও দেখতে হবে। তবে এদের রুখতে প্রশাসনিক তৎপরতা আরো বাড়ানো হবে।

বিজনেস বাংলাদেশ/বিএইচ

ট্যাগ :
জনপ্রিয়

আপনাদের একটি ভোটই পারে বিএনপিকে ক্ষমতায় নিয়ে আসতে: ব্যারিস্টার ফারজানা শারমিন পুতুল

পাবনায় ভয়াবহতার দিকে যাচ্ছে কিশোর গ্যাংয়ের তৎপরতা

প্রকাশিত : ০৫:৪২:২৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৩

এলাকায় আধিপত্য বিস্তার, মাদক ব্যবসা ও মাদক সেবন, চাঁদাবাজি, দখলবাজি, ধর্ষণ, ইভটিজিং ও হত্যার মত নানা নেতিবাচক কর্মকাণ্ডে পাবনায় ভয়াবহতার দিকে যাচ্ছে কিশোর গ্যাং। শহর থেকে শুরু করে গ্রামগঞ্জেও বেড়েছে বিশৃঙ্খলা। তাদেরকে ঘিরে সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে। এ নিয়ে উদ্বিগ্ন সচেতন সমাজ। তাদের দাবি এদের রুখতে তেমন কোনো ভূমিকা পালন করতে দেখা যাচ্ছে না প্রশাসনকে।

সরেজমিনে দেখা যায়, বিভিন্ন মার্কেট ও রাস্তার পাশের দোকানগুলোতে খোলামেলাভাবেই বিক্রি হচ্ছে ছুরি ও চাকুর মত সহজে বহন করা যায় এমন দেশীয় অস্ত্রগুলো। যেগুলো সাধারণ মানুষ খেলনা বা নিত্যপ্রয়োজনের ভেবে থাকেন। কিন্তু সেগুলো কিনে স্কুলের কোমলমতি শিক্ষার্থীরা পকেটে বা স্কুল ব্যাগে বয়ে বেড়াচ্ছে। বন্ধুদের সাথে ছোটখাটো ঝগড়া বা সামান্য দ্বন্দেই এগুলো ব্যবহার করা হচ্ছে। জড়িয়ে পড়ছে খুন বা জখমের মত নানা অপরাধ কর্মকাণ্ডে। ধুমপানের পাশাপাশি সেবন করছে মাদক। প্রভাব বা প্রতিপত্তি অর্জনে এরা যায় রাজনৈতিক বিভিন্ন নেতাদের কাছে। মিছিল-মিটিংয়ের বাইরেও নানা অন্যায় কাজে তারা ব্যবহৃত হয়। এতে দেখা যায় জখম-মারামারি, চাঁদাবাজি, দখলবাজি, ধর্ষণ ও ইভটিজিংয়ের মত কাজে তারা জড়িয়ে পড়ছে।

জানা যায়, গত ৩০ সেপ্টেম্বর রাতে পাবনার মাসুম বাজার এলাকায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে দুপক্ষের মধ্যে ব্যাপক গুলাগুলি হয়। ছাত্ররাজনীতির ছত্রছায়ায় থাকা দুই দলের অধিকাংশ সদস্যই স্কুল বা কলেজ পড়ুয়া। এর আগে পাবনা মহিলা কলেজ এলাকায় একটি মারধরের ঘটনা ঘটে। সেখানে স্কুল ও কলেজ পড়ুয়া শিক্ষার্থীদের বেধড়ক মারধরের ঘটনা ঘটে। এতেও লক্ষ্য করা গেছে অল্পবয়সী বিপথগামী তরুণদের ভূমিকা। এছাড়া পাবনা সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়, সেন্ট্রাল গার্লস হাই স্কুল, রফিক স্কুল, ইমাম গাজ্জালি গার্লস স্কুল সহ বিভিন্ন গার্লস স্কুল ও কোচিং-এর সামনে এদের ভীড় জমাতে দেখা যায়। মেয়েরা বের হলেই তাদের করা হয় ইভটিজিং। একই চিত্র শহরের রবিউল মার্কেট ও মহিলা কলেজ এলাকায়। এদের কিছু বলতেও ভয় পান ভুক্তভোগী মেয়েদের অভিভাবকেরা। কিছু বললে তাদের ওপরও চড়াও হবার ঘটনাও ঘটেছে। এতে স্কুল-কলেজের মেয়েদের নিরাপত্তা নিয়ে ব্যাপক দুশ্চিন্তা বেড়েছে।

একাধিক শিক্ষক ও অভিভাবকদের সাথে কথা বললে তারা জানান, স্কুলের সামনে হোন্ডা নিয়ে দাঁড়িয়ে থাকে বা ছোটাছুটি করতে থাকে এরা। মেয়েরা বের হলেই তাদের উত্যক্ত করে। অভিভাবক সাথে থাকাবস্থায়ও মেয়েদের সাথে বেহায়াপনা করে। অভিভাবক বা শিক্ষকদের কাউকেই এরা পরোয়া করে না। এগুলো কিছুদিন কম ছিলো। কিন্তু ইদানীং এদের তৎপরতা আরো বেড়েছে।
একই চিত্র গ্রামের স্কুলগুলোতেও। গ্রামেও আশঙ্কাজনক হারে সংগঠিত হচ্ছে কিশোর গ্যাং। বিভিন্ন বাজার বা হাট এলাকার চায়ের দোকানে গভীর রাত অবধিও এদের এলোমেলো চলাফেরা লক্ষ্য করা যায়। ধুমপান, মাদক সেবন, অনলাইন জুয়া ও বাজির মত অনৈতিক কাজেও এরা বেশ সংগঠিত। গ্রামের সাধারণ মানুষের কাছে এরা নতুন আতঙ্ক।

এব্যাপারে পাবনা প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক সাংবাদিক সৈকত আফরোজ আসাদ বলেন, যেকোনো ধরণের অন্যায় কাজের শিরোনাম স্কুল পড়ুয়া কিশোর-তরুণেরা। অতি ক্ষুদ্র বিষয় নিয়ে খুন জখমের মত বড় বড় অন্যায় কাজে তাদের সম্পৃক্ততা দেখা যাচ্ছে। অনবরত পকেটে ছুরি-চাকু নিয়ে ঘুরে বেড়াচ্ছে। এখনই তারা নতুন আতঙ্কের নাম। দ্রুতই এদের রুখতে না পারলে সামনে ভয়াবহ কিছু অপেক্ষা করছে।

এব্যাপারে পাবনার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অর্থ ও প্রশাসন) মাসুদ আলম জানান, পুলিশের একার সবকিছু রোধ করা সম্ভব নয়। সন্তানেরা কোথায় যায়, কি করে এগুলো অভিভাবকদেরও দেখতে হবে। তবে এদের রুখতে প্রশাসনিক তৎপরতা আরো বাড়ানো হবে।

বিজনেস বাংলাদেশ/বিএইচ