১১:২৭ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৬ মে ২০২৬

জুড়ী উপজেলা প্রশাসনের মাসিক আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভা ও দুর্গাপূজা উপলক্ষে বিশেষ আইনশৃঙ্খলা সভা

গত সোমবার সকাল থেকে অপরাহ্ন পর্যন্ত জুড়ী উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে উপজেলা পরিষদের সভা কক্ষে উপজেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটির অক্টোবর মাসের মাসিক সভা, আসন্ন শারদীয় দুর্গা পূজা উপলক্ষে উপজেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটির বিশেষ সভা ও উপজেলা চোরাচালান প্রতিরোধ কমিটির সভা এবং জুড়ী উপজেলা সন্ত্রাস ও নাশকতা প্রতিরোধ কমিটির সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। উপজেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভাপতি ও জুড়ী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা “রঞ্জন চন্দ্র দে” এর সভাপতিত্বে ও পরিচালনায় অনুষ্ঠিত সভায় প্রধান অতিথির বক্তৃতায় জুড়ী উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান বীর মুক্তিযোদ্ধা “এম এ মুঈদ ফারুক” বলেন “অবৈধভাবে দখলদার ইসরায়েলের সামরিক বাহিনীর অব্যাহত বোমা হামলায় গণহারে  ফিলিস্তিনের নিরীহ – নিরপরাধ শিশু ও নারী এবং বেসামরিক লোকজন নিহত হচ্ছেন। সকল ধর্মাবলম্বী মানুষদের উচিৎ ইহুদিবাদী চরমপন্থী ইসরায়েলের অবৈধ আগ্রাসনের বিরুদ্ধে প্রতিবাদে শামিল হওয়া। বাংলাদেশ আমাদের, আমরা বাংলাদেশ নিয়ে কথা বলব। জুড়ী বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষের উদ্দেশ্যে জুড়ী উপজেলা চেয়ারম্যান বলেন “দুর্গাপূজার সময় দিনে লোডশেডিং দিলেও সন্ধ্যা থেকে রাত পর্যন্ত পূজা মন্ডপে আগত নারীদের নিরাপত্তার স্বার্থে নিরবিচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ করবেন। বিশেষ অতিথির বক্তৃতায় উপজেলা সহকারী কমিশনার ভূমি “রতন কুমার অধিকারী” বলেন “আমি নিজে ১জন সনাতন ধর্মাবলম্বী হয়েও বলতে বাধ্য হচ্ছি যে, জুড়ীতে বিগত বছরে ২/৩ টি পূজা মন্ডপ বিজয়া দশমীর সন্ধ্যায় বিলম্বে প্রতিমা বিসর্জ্জন দিয়েছিলেন। ঐ কারণে প্রশাসনকে মাত্রাতিরিক্ত কর্মব্যস্থতার মধ্যেও ঐ দিকে কড়া নিরাপত্তা প্রদানের পাশাপাশি অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা এড়াতে কড়া নজরদারি রাখতে হয়েছিল। তাই উপস্থিত সনাতন ধর্মাবলম্বী ও পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতিবৃন্দকে বলছি আপনাদেরকে যথাযথ সময়ে পূজামন্ডপের প্রতিমা বিসর্জ্জন দিতে বিশেষ অনুরোধ”। জুড়ী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা “মোশারফ হোসেন” বলেন “পুলিশ বাহিনী ইনফরমেশনের ভিত্তিতে কাজ করে থাকে। তাই সঠিক তথ্য দিয়ে পুলিশকে সাহায্য করুন। ফার্স্ট ইনফরমেশন রেকর্ড দোষের কিছু নয়। আমরা মামলা হলেই তদন্ত করে এরেস্ট করি, কখনও কোনো নিরপরাধ কে গ্রেফতার করি না। কোথাও কেউ মানববন্ধন ও সভা – সমাবেশ করতে হলে পুলিশকে অবগত করতে হবে। অনুমতি না নিয়ে কেউ কখনো বেআইনি সভা – সমাবেশ করবেন না। কোনো নিরপরাধ লোককে এরেস্ট করা হবে না এবং হয়রানি করা হবে না। আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় বেআইনি সভা – সমাবেশ কঠোর হস্তে দমন করা হবে। গুজব প্রতিরোধে সকলকে এগিয়ে আসতে হবে এবং তাৎক্ষণিক আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে অবগত করতে হবে। ঝুকিপূর্ণ পূজা মন্ডপ হলে জানাবেন আমরা কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেবো। আইনের ভাষ্যনুযায়ী ঘটনাস্থলে অনুপস্থিত থেকেও যেকেউই আইন পরিপন্থী কাজে ঈন্ধন দিতে পারেন”। উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান রিংকু রঞ্জন দাস  বলেন “দুর্গাপূজায় মন্ডপে উচ্চ শব্দের মাইক ব্যবহার না করে শব্দ নিয়ন্ত্রিত সাউন্ড সিষ্টেম ব্যবহার করলে সকল ধর্মাবলম্বী মানুষ শব্দ দূষণ থেকে রক্ষা পাবেন”।

বিজিবি জুড়ী কোম্পানি কমান্ডার নায়েব সুবেদার “পরিতোষ রায়” জানান বিজিবি সঠিকভাবে দায়িত্ব পালন করছে এবং সীমান্ত পরিস্থিতি ভালো আছে। সভার প্রারম্ভে ইউএনও “রঞ্জন চন্দ্র দে” এর নির্দেশে সাম্প্রতিক কালে জুড়ী উপজেলায় নবনিযুক্ত ফায়ার সার্ভিসের পরিচালক “এস এম শামীম” নিজের পরিচয় প্রদানের পরে উপস্থিত সকলের কাছে সরকারি মুঠোফোন নং বিতরণ শেষে জুড়ীতে দায়িত্ব পালনে সকলের সহযোগিতা কামনা করেন। উক্ত  আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভায় বিশেষ অতিথি হয়ে গুরুত্বপূর্ণ মতামত এবং দাবি উপস্থাপন করেন “উপজেলা মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান রঞ্জিতা শর্মা, সাগরনাল ইউপি চেয়ারম্যান বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুন নুর মাষ্টার, জায়ফর নগর ইউপি চেয়ারম্যান হাজী মাসুম রেজা, পূর্ব জুড়ী ইউপি চেয়ারম্যান রুয়েল উদ্দিন, ফুলতলা ইউপি চেয়ারম্যান আবদুল আলিম সেলু, গোয়ালবাড়ী ইউপি চেয়ারম্যান আবদুল কাইয়ুম, দূর্নীতি প্রতিরোধ কমিটির তাজুল ইসলাম তারা মাষ্টার, জুড়ী উপজেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি সিতাংশু শেখর দাস মাষ্টার, ফুলতলা ইউনিয়ন পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি, সাগরনাল ইউনিয়ন পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি ও জুড়ী উপজেলা আওয়ামিলীগের সহসভাপতি রঞ্জিত কুমার নাথ, ভবানীগঞ্জ বাজার পরিচালনা কমিটির সভাপতি মাওলানা আবুল মহসিন, কামিনীগঞ্জ বাজার ব্যবসায়ী কল্যাণ সমিতির সভাপতি মোঃ কামাল হোসেন, জুড়ী উপজেলা আনসার কমান্ডার, ইসলামিক ফাউণ্ডেশনের জুড়ী প্রতিনিধি মোঃ তাজ উদ্দিন, জুড়ী উপজেলা হিন্দু – বৌদ্ধ – খ্রিষ্টান ঐক্য পরিষদের সভাপতি গৌরাঙ্গ দেবনাথ, পশ্চিম জুড়ী ইউনিয়ন পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি সুভাষ চন্দ্র দাস। জুড়ী প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক মোঃ হুমায়ূন রহমান বাপ্পী জনস্বার্থে দাবি জানিয়ে বলেন “জুড়ী ভবানীগঞ্জ বাজারে স্থায়ী বাসষ্ট্যান্ড ও পর্যাপ্ত জায়গা থাকা সত্বেও শহরের বিজিবি ক্যাম্পের সম্মুখের সড়কে অবৈধভাবে বাস ও সিএনজি অটোরিকশা ষ্ট্যান্ড বসিয়ে অতি ব্যাস্ততম ডাকঘর সড়কে সর্বক্ষণ যানজটের সৃষ্টির কারণে সারা জুড়ী শহরে যানজটের সৃষ্টি হচ্ছে। এতে প্রায়ই দূর্ঘটনার সৃষ্টি হলেও সড়ক পরিবহন আইনের প্রয়োগ হচ্ছে না। জুড়ীতে প্রায়ই মাদকের ছোট এবং মাঝারি আকারের চালান আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে আটক হলেও মূল গডফাদাররা ধরা ছোঁয়ার বাহিরে রয়ে যায়! ঐসব মাদকের ক্রেতা এবং মাদকসেবি কারা? মাঝেমধ্যে গণহারে পরিবহন চালক ও সহকারীদের মাদকসেবি বলা হয়!! কিন্তু চিহ্নিত বখাটেদের এবং অতি উগ্র শিক্ষার্থীদের কতজনকে ডোপ টেস্টের আওতায় নেয়া হয়েছে? ইতিপূর্বে শিক্ষার্থী ও চাকুরীজীবিদের কে ডোপ টেস্টের আওতায় নিয়ে পরীক্ষার জন্য সরকারি নির্দেশনার আলোকে জুড়ী উপজেলায় কতজনকে পরীক্ষা করা হয়েছে? সড়ক পরিবহন শ্রমিকবৃন্দ ও স্কুল -কলেজের অতি উগ্র শিক্ষার্থীদের কে এবং এলাকার চিহ্নিত বখাটেদের কে ডোপ টেস্টের আওতায় নিয়ে এলে জুড়ী উপজেলা থেকে মাদক নির্মূল সম্ভব। জুড়ীতে বেপরোয়া গতির মোটরসাইকেল ও সিএনজি অটোরিকশা চালকদের বিরুদ্ধে অভিযান চালানো হয়নি। তাই তো কয়েক মাস পূর্বে বেপরোয়া গতির মোটরসাইকেল আরোহীরা বিজিবির জনৈক উচ্চ পদস্থ কর্মকর্তার গাড়িতে ধাক্কা দিয়েছিলো। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযানে তাদের যথাযথ কাগজপত্র সঙ্গে না থাকলেও ট্রাফিক ও সড়ক পরিবহন আইনে যথাযথভাবে মামলা না দিয়ে বরং ওদেরকে প্রায়ই মানবতার দোহাই দিয়ে ছাড় দেয়া হচ্ছে। ধুমপানকারীরা প্রকাশ্যে রাস্তায় ও হাটে-বাজারে ধুমপান করে জনস্বাস্থ্যের ও পরিবেশের ক্ষতি করছে। তাই ধুমপান বিরোধী আইনের সঙ্গে পরিবেশ দূষণের আইনের প্রয়োগ ঘটিয়ে মাসে একাধিকবার ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনার জন্য বিনীত প্রার্থনা”। সভাপতির বক্তব্যে “জুড়ী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও উপজেলা  আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভাপতি”রঞ্জন চন্দ্র দে” বলেন “ফেসবুকে কেউ গুজব রটালে দেখা মাত্রই আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে অবগত করবেন। বিদ্যুৎ বিভাগকে বলছি “সুষ্ট সমন্বয়ের মাধ্যমে আসন্ন দুর্গা পূজায় পূজা মন্ডপে বিদ্যুৎ বন্টন করবেন। মন্দিরের জন্য বরাদ্দকৃত চাল সুষ্ঠভাবে মন্দিরের প্রসাদ তৈরীতে ব্যবহার করবেন। পূজা আয়োজক কর্তৃপক্ষ স্ব উদ্যোগে সিসি টিভি ক্যামেরা কেনার উদ্যোগ নিতে পারবেন। বিদেশে থেকেও যেকেউই অপরাধের মূল পরিকল্পনা করে বাস্তবায়নে সহায়তা করতে পারেন।  নির্ধারিত সময়েই প্রতিমা বিসর্জ্জন দিতে হবে। দুর্গাপূজায় মন্ডপে ধর্মীয় গান ও বাদ্য-বাজনা বাজাতে উৎসাহিত করবেন। মাত্রাতিরিক্ত সাউন্ড দিয়ে শব্দ দূষণ করবেন না”।

ট্যাগ :
জনপ্রিয়

টসে হেরে ব্যাটিংয়ে বাংলাদেশ

জুড়ী উপজেলা প্রশাসনের মাসিক আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভা ও দুর্গাপূজা উপলক্ষে বিশেষ আইনশৃঙ্খলা সভা

প্রকাশিত : ০৭:৩৩:৪৫ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৬ অক্টোবর ২০২৩
গত সোমবার সকাল থেকে অপরাহ্ন পর্যন্ত জুড়ী উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে উপজেলা পরিষদের সভা কক্ষে উপজেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটির অক্টোবর মাসের মাসিক সভা, আসন্ন শারদীয় দুর্গা পূজা উপলক্ষে উপজেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটির বিশেষ সভা ও উপজেলা চোরাচালান প্রতিরোধ কমিটির সভা এবং জুড়ী উপজেলা সন্ত্রাস ও নাশকতা প্রতিরোধ কমিটির সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। উপজেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভাপতি ও জুড়ী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা “রঞ্জন চন্দ্র দে” এর সভাপতিত্বে ও পরিচালনায় অনুষ্ঠিত সভায় প্রধান অতিথির বক্তৃতায় জুড়ী উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান বীর মুক্তিযোদ্ধা “এম এ মুঈদ ফারুক” বলেন “অবৈধভাবে দখলদার ইসরায়েলের সামরিক বাহিনীর অব্যাহত বোমা হামলায় গণহারে  ফিলিস্তিনের নিরীহ – নিরপরাধ শিশু ও নারী এবং বেসামরিক লোকজন নিহত হচ্ছেন। সকল ধর্মাবলম্বী মানুষদের উচিৎ ইহুদিবাদী চরমপন্থী ইসরায়েলের অবৈধ আগ্রাসনের বিরুদ্ধে প্রতিবাদে শামিল হওয়া। বাংলাদেশ আমাদের, আমরা বাংলাদেশ নিয়ে কথা বলব। জুড়ী বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষের উদ্দেশ্যে জুড়ী উপজেলা চেয়ারম্যান বলেন “দুর্গাপূজার সময় দিনে লোডশেডিং দিলেও সন্ধ্যা থেকে রাত পর্যন্ত পূজা মন্ডপে আগত নারীদের নিরাপত্তার স্বার্থে নিরবিচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ করবেন। বিশেষ অতিথির বক্তৃতায় উপজেলা সহকারী কমিশনার ভূমি “রতন কুমার অধিকারী” বলেন “আমি নিজে ১জন সনাতন ধর্মাবলম্বী হয়েও বলতে বাধ্য হচ্ছি যে, জুড়ীতে বিগত বছরে ২/৩ টি পূজা মন্ডপ বিজয়া দশমীর সন্ধ্যায় বিলম্বে প্রতিমা বিসর্জ্জন দিয়েছিলেন। ঐ কারণে প্রশাসনকে মাত্রাতিরিক্ত কর্মব্যস্থতার মধ্যেও ঐ দিকে কড়া নিরাপত্তা প্রদানের পাশাপাশি অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা এড়াতে কড়া নজরদারি রাখতে হয়েছিল। তাই উপস্থিত সনাতন ধর্মাবলম্বী ও পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতিবৃন্দকে বলছি আপনাদেরকে যথাযথ সময়ে পূজামন্ডপের প্রতিমা বিসর্জ্জন দিতে বিশেষ অনুরোধ”। জুড়ী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা “মোশারফ হোসেন” বলেন “পুলিশ বাহিনী ইনফরমেশনের ভিত্তিতে কাজ করে থাকে। তাই সঠিক তথ্য দিয়ে পুলিশকে সাহায্য করুন। ফার্স্ট ইনফরমেশন রেকর্ড দোষের কিছু নয়। আমরা মামলা হলেই তদন্ত করে এরেস্ট করি, কখনও কোনো নিরপরাধ কে গ্রেফতার করি না। কোথাও কেউ মানববন্ধন ও সভা – সমাবেশ করতে হলে পুলিশকে অবগত করতে হবে। অনুমতি না নিয়ে কেউ কখনো বেআইনি সভা – সমাবেশ করবেন না। কোনো নিরপরাধ লোককে এরেস্ট করা হবে না এবং হয়রানি করা হবে না। আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় বেআইনি সভা – সমাবেশ কঠোর হস্তে দমন করা হবে। গুজব প্রতিরোধে সকলকে এগিয়ে আসতে হবে এবং তাৎক্ষণিক আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে অবগত করতে হবে। ঝুকিপূর্ণ পূজা মন্ডপ হলে জানাবেন আমরা কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেবো। আইনের ভাষ্যনুযায়ী ঘটনাস্থলে অনুপস্থিত থেকেও যেকেউই আইন পরিপন্থী কাজে ঈন্ধন দিতে পারেন”। উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান রিংকু রঞ্জন দাস  বলেন “দুর্গাপূজায় মন্ডপে উচ্চ শব্দের মাইক ব্যবহার না করে শব্দ নিয়ন্ত্রিত সাউন্ড সিষ্টেম ব্যবহার করলে সকল ধর্মাবলম্বী মানুষ শব্দ দূষণ থেকে রক্ষা পাবেন”।

বিজিবি জুড়ী কোম্পানি কমান্ডার নায়েব সুবেদার “পরিতোষ রায়” জানান বিজিবি সঠিকভাবে দায়িত্ব পালন করছে এবং সীমান্ত পরিস্থিতি ভালো আছে। সভার প্রারম্ভে ইউএনও “রঞ্জন চন্দ্র দে” এর নির্দেশে সাম্প্রতিক কালে জুড়ী উপজেলায় নবনিযুক্ত ফায়ার সার্ভিসের পরিচালক “এস এম শামীম” নিজের পরিচয় প্রদানের পরে উপস্থিত সকলের কাছে সরকারি মুঠোফোন নং বিতরণ শেষে জুড়ীতে দায়িত্ব পালনে সকলের সহযোগিতা কামনা করেন। উক্ত  আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভায় বিশেষ অতিথি হয়ে গুরুত্বপূর্ণ মতামত এবং দাবি উপস্থাপন করেন “উপজেলা মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান রঞ্জিতা শর্মা, সাগরনাল ইউপি চেয়ারম্যান বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুন নুর মাষ্টার, জায়ফর নগর ইউপি চেয়ারম্যান হাজী মাসুম রেজা, পূর্ব জুড়ী ইউপি চেয়ারম্যান রুয়েল উদ্দিন, ফুলতলা ইউপি চেয়ারম্যান আবদুল আলিম সেলু, গোয়ালবাড়ী ইউপি চেয়ারম্যান আবদুল কাইয়ুম, দূর্নীতি প্রতিরোধ কমিটির তাজুল ইসলাম তারা মাষ্টার, জুড়ী উপজেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি সিতাংশু শেখর দাস মাষ্টার, ফুলতলা ইউনিয়ন পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি, সাগরনাল ইউনিয়ন পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি ও জুড়ী উপজেলা আওয়ামিলীগের সহসভাপতি রঞ্জিত কুমার নাথ, ভবানীগঞ্জ বাজার পরিচালনা কমিটির সভাপতি মাওলানা আবুল মহসিন, কামিনীগঞ্জ বাজার ব্যবসায়ী কল্যাণ সমিতির সভাপতি মোঃ কামাল হোসেন, জুড়ী উপজেলা আনসার কমান্ডার, ইসলামিক ফাউণ্ডেশনের জুড়ী প্রতিনিধি মোঃ তাজ উদ্দিন, জুড়ী উপজেলা হিন্দু – বৌদ্ধ – খ্রিষ্টান ঐক্য পরিষদের সভাপতি গৌরাঙ্গ দেবনাথ, পশ্চিম জুড়ী ইউনিয়ন পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি সুভাষ চন্দ্র দাস। জুড়ী প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক মোঃ হুমায়ূন রহমান বাপ্পী জনস্বার্থে দাবি জানিয়ে বলেন “জুড়ী ভবানীগঞ্জ বাজারে স্থায়ী বাসষ্ট্যান্ড ও পর্যাপ্ত জায়গা থাকা সত্বেও শহরের বিজিবি ক্যাম্পের সম্মুখের সড়কে অবৈধভাবে বাস ও সিএনজি অটোরিকশা ষ্ট্যান্ড বসিয়ে অতি ব্যাস্ততম ডাকঘর সড়কে সর্বক্ষণ যানজটের সৃষ্টির কারণে সারা জুড়ী শহরে যানজটের সৃষ্টি হচ্ছে। এতে প্রায়ই দূর্ঘটনার সৃষ্টি হলেও সড়ক পরিবহন আইনের প্রয়োগ হচ্ছে না। জুড়ীতে প্রায়ই মাদকের ছোট এবং মাঝারি আকারের চালান আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে আটক হলেও মূল গডফাদাররা ধরা ছোঁয়ার বাহিরে রয়ে যায়! ঐসব মাদকের ক্রেতা এবং মাদকসেবি কারা? মাঝেমধ্যে গণহারে পরিবহন চালক ও সহকারীদের মাদকসেবি বলা হয়!! কিন্তু চিহ্নিত বখাটেদের এবং অতি উগ্র শিক্ষার্থীদের কতজনকে ডোপ টেস্টের আওতায় নেয়া হয়েছে? ইতিপূর্বে শিক্ষার্থী ও চাকুরীজীবিদের কে ডোপ টেস্টের আওতায় নিয়ে পরীক্ষার জন্য সরকারি নির্দেশনার আলোকে জুড়ী উপজেলায় কতজনকে পরীক্ষা করা হয়েছে? সড়ক পরিবহন শ্রমিকবৃন্দ ও স্কুল -কলেজের অতি উগ্র শিক্ষার্থীদের কে এবং এলাকার চিহ্নিত বখাটেদের কে ডোপ টেস্টের আওতায় নিয়ে এলে জুড়ী উপজেলা থেকে মাদক নির্মূল সম্ভব। জুড়ীতে বেপরোয়া গতির মোটরসাইকেল ও সিএনজি অটোরিকশা চালকদের বিরুদ্ধে অভিযান চালানো হয়নি। তাই তো কয়েক মাস পূর্বে বেপরোয়া গতির মোটরসাইকেল আরোহীরা বিজিবির জনৈক উচ্চ পদস্থ কর্মকর্তার গাড়িতে ধাক্কা দিয়েছিলো। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযানে তাদের যথাযথ কাগজপত্র সঙ্গে না থাকলেও ট্রাফিক ও সড়ক পরিবহন আইনে যথাযথভাবে মামলা না দিয়ে বরং ওদেরকে প্রায়ই মানবতার দোহাই দিয়ে ছাড় দেয়া হচ্ছে। ধুমপানকারীরা প্রকাশ্যে রাস্তায় ও হাটে-বাজারে ধুমপান করে জনস্বাস্থ্যের ও পরিবেশের ক্ষতি করছে। তাই ধুমপান বিরোধী আইনের সঙ্গে পরিবেশ দূষণের আইনের প্রয়োগ ঘটিয়ে মাসে একাধিকবার ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনার জন্য বিনীত প্রার্থনা”। সভাপতির বক্তব্যে “জুড়ী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও উপজেলা  আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভাপতি”রঞ্জন চন্দ্র দে” বলেন “ফেসবুকে কেউ গুজব রটালে দেখা মাত্রই আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে অবগত করবেন। বিদ্যুৎ বিভাগকে বলছি “সুষ্ট সমন্বয়ের মাধ্যমে আসন্ন দুর্গা পূজায় পূজা মন্ডপে বিদ্যুৎ বন্টন করবেন। মন্দিরের জন্য বরাদ্দকৃত চাল সুষ্ঠভাবে মন্দিরের প্রসাদ তৈরীতে ব্যবহার করবেন। পূজা আয়োজক কর্তৃপক্ষ স্ব উদ্যোগে সিসি টিভি ক্যামেরা কেনার উদ্যোগ নিতে পারবেন। বিদেশে থেকেও যেকেউই অপরাধের মূল পরিকল্পনা করে বাস্তবায়নে সহায়তা করতে পারেন।  নির্ধারিত সময়েই প্রতিমা বিসর্জ্জন দিতে হবে। দুর্গাপূজায় মন্ডপে ধর্মীয় গান ও বাদ্য-বাজনা বাজাতে উৎসাহিত করবেন। মাত্রাতিরিক্ত সাউন্ড দিয়ে শব্দ দূষণ করবেন না”।