চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড উপজেলা সাব-রেজিস্ট্রার কার্যালয়ের সাবেক এক অফিস সহকারী ও তার স্ত্রীর বিরুদ্ধে জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের তথ্য গোপন করায় মামলা দায়ের করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।
বুধবার (১৩ ডিসেম্বর) দুদক সমন্বিত জেলা কার্যালয়, চট্টগ্রাম-২ এর উপ-সহকারী পরিচালক খাইরুল ইসলাম ভূঁইয়া বাদি হয়ে মামলাটি দায়ের করেন।
মামলার আসামিরা হলেন-সীতাকুণ্ড উপজেলা সাব-রেজিস্ট্রার কার্যালয়ের সাবেক অফিস সহকারী রফিক আহমদ (৬৪) এবং তার স্ত্রী নুর জাহান (৫৬)। তাদের বাড়ি চট্টগ্রামের পটিয়া উপজেলার বুধপুরায়। বর্তমানে তারা নগরের পাথরঘাটা ৫৬ সতীশ বাবুলেনে নিজেদের ৬তলা ভবনে বসবাস করেন।
এজাহার সূত্রে জানা যায়, ২০১৫ সালে রফিক আহমদ ও তার স্ত্রীর নূর জাহান বেগমের বিরুদ্ধে অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগ আনা হয়। সেই অভিযোগের দীর্ঘ অনুসন্ধানের শেষে প্রাথমিক সত্যতা পাওয়া যায়। এই দম্পতি পরস্পর যোগসাজশে দুই কোটি ১১ লাখ ২৪ হাজার ৭৫ টাকার স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদ অর্জনের তথ্য গোপন করেছেন।
২০০৬ সাল থেকে ২০০৮ সালের মধ্যে স্বামী রফিক আহমেদের অবৈধ আয়ে স্ত্রী নূর জাহান বেগম কোতোয়ালী থানার পাথরঘাটা বাবু সতীশ লেইনের ৫৬ নম্বর রাস্তায় একটি ৬তলা বাড়ি নির্মাণ করেন। বাড়িটির নম্বর ৫৬। এছাড়া গ্রামের বাড়ি পটিয়ায় গড়ে তোলেন প্রায় দেড় কোটি টাকা মূল্যের ২ তলা বাড়ি।
২০১৯ সালের ২৯ মে এই দম্পতিকে দুদক সম্পদ বিবরণী দাখিলের নির্দেশ দিলে একই বছরের ৭ জুলাই তারা সম্পদ বিবরণী দাখিল করেন। সম্পদ বিবরণীতে ৭৯ লাখ ২৭ হাজার ৬৫৪ টাকা সম্পদের মিথ্যা তথ্য প্রদান করেন তারা। কিন্তু দুদকের অনুসন্ধানে বেরিয়ে আসে ১ কোটি ৭৬ লাখ ৮১ হাজার ১৯০ টাকার সম্পদ। তাদের দুইটি বাড়ির নির্মাণ ব্যয় দেখানো হয় মাত্র ৬৭ লাখ টাকা।
অভিযোগ তদন্ত করে দম্পতির বিরুদ্ধে আয়বহির্ভূত মোট দুই কোটি ১১ লাখ ২৪ হাজার ৭৫ টাকার স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদ অর্জনের তথ্য পাওয়ায় গত ২৯ নভেম্বর মামলার অনুমোদন দেয় দুদক।
দুদক মামলার বিবরণে আরও বলা হয়, আসামি নূর জাহান বেগম একজন ব্যবসায়ী হিসেবে বার্ষিক আয়কর নথিতে উল্লেখ করলেও প্রকৃতপক্ষে তিনি ব্যবসায়ী ছিলেন না। ২০০১-০২ থেকে ২০১৫-১৬ অর্থবছর পর্যন্ত নূর জাহান বেগম চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন কর্তৃক মেসার্স তৈয়বিয়া ট্রেডার্স নামের প্রতিষ্ঠানের বিপরীতে কোনো ট্রেড লাইসেন্স গ্রহণ করেননি।
২০১৬-১৭ থেকে ২০১৯-২০ এই তিন অর্থবছরে কমিশন এজেন্ট ও সরবরাহকারী হিসেবে মেসার্স তৈয়বিয়া ট্রেডার্স নামের প্রতিষ্ঠানের বিপরীতে ট্রেড লাইসেন্স ইস্যু করা হলেও তিনি কোনো ব্যবসায়ী ছিলেন না। দুদক তদন্তকালে তার প্রতিষ্ঠানের নামে দায়-দেনা, মুনাফা ও প্রত্যাহিক লেনদেনের রেজিস্ট্রার সংক্রান্ত নূর জাহান বেগমের কোনো ধরনের রেকর্ডপত্র পাওয়া যায়নি।
অসৎ উদ্দেশ্যে একে অপরের সহযোগিতায় দুদকে দাখিলকৃত সম্পদ বিবরণীতে ৭৯ লাখ ২৭ হাজার ৬৫৪ টাকা সম্পদের মিথ্যা তথ্য প্রদান ও ১ কোটি ৩১ লাখ ৯৬ হাজার ৪২১ টাকার সম্পদের তথ্য জ্ঞাত আয়ের সঙ্গে অসঙ্গতিপূর্ণ অর্জনপূর্বক ভোগ দখলে রেখেছে। দুর্নীতি দমন কমিশন আইন, ২০০৪ এর ২৬ (২) ও ২৭ (১) ধারা তৎসহ দন্ডবিধি ১০৯ ধারায় আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয়েছে।
দুদক সমন্বিত জেলা কার্যালয়, চট্টগ্রাম-২ এর উপপরিচালক মো. আতিকুল আলম জানান, আসামিদের বিরুদ্ধে অবৈধভাবে সম্পদ অর্জনের দায়ে দুর্নীতি দমন কমিশন আইন, ২০০৪ এর ২৬ (২) ও ২৭ (১) ধারা তৎসহ দণ্ডবিধি ১০৯ ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে।
বিজনেস বাংলাদেশ/একে




















