মহাসড়কে নিষিদ্ধ নছিমন-করিমনই নির্বাচনী সরঞ্জামাদি নিয়ে ভোটকেন্দ্রে যাতায়াতের এখন প্রধান ভরসা। প্রতিটি নছিমন-করিমনের সামনে বড় করে কাগজে লেখা রয়েছে ভোটকেন্দ্র ও ইউনিয়নের নাম। অথচ মহাসড়কে নছিমন-করিমনের চলাচল নিষিদ্ধ।
পাবনা-১ (সাঁথিয়া বেড়া আংশিক) উপজেলার ১৬১টি ভোটকেন্দ্রে নির্বাচন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারী, আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য ও মালামাল বহনের কাজে অংশ নেয় দেড় শতাধিক নছিমন-করিমন।
নির্বাচনের সঙ্গে যুক্ত কর্মকর্তা ও নছিমন-করিমন চালকদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরেই ভোটকেন্দ্রে মালামাল নেওয়ার প্রধান বাহন হিসেবে নছিমন-করিমন ব্যবহৃত হচ্ছে।
আগামীকাল (৭ জানুয়ারি) বেড়া ও সাঁথিয়া উপজেলা পরিষদে গিয়ে দেখা যায়, সারি সারি নছিমন-করিমন দাঁড় করিয়ে রাখা হয়েছে। উপজেলার বিভিন্ন ভোটকেন্দ্রের নির্বাচনী সরঞ্জাম সরবরাহ করা নিয়ে ব্যস্ত সবাই। ভোটকেন্দ্রের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা-কর্মচারী নির্বাচনী সরঞ্জাম বুঝে পাওয়া মাত্রই নছিমন-করিমনে নিয়ে তুলছেন সেসব। এর পর ভোটকেন্দ্রের দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রিজাইডিং অফিসার, সহকারী প্রিজাইডিং অফিসার, পোলিং অফিসার, পুলিশ ও আনসার সদস্যরা নির্ধারিত নছিমন-করিমনে উঠে রওনা দিচ্ছেন নিজ নিজ ভোটকেন্দ্র।
একটি ভোটকেন্দ্রের দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রিজাইডিং অফিসার নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, উপজেলা পরিষদ থেকে নছিমনে করেই তাঁদের ভোটকেন্দ্রে যেতে হবে ও সেখান থেকে ফিরতে হবে। সংশ্লিষ্ট রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয় থেকে এই নছিমনটি আগে থেকেই তাঁদের জন্য নির্ধারণ করা ছিল। ঝুঁকিপূর্ণ ও অবৈধ হওয়া সত্বেও নিতান্ত নিরুপায় হয়ে নছিমনে ভোটকেন্দ্রে যাতায়াত করতে হচ্ছে বলে তিনি জানান।
ভোটকেন্দ্রে যাওয়ার অপেক্ষায় থাকা নছিমনচালক হামিদুল, ইয়াসিন, বাবুসহ পাঁচ-ছয়জন জানান, দু-তিন দিন আগেই পুলিশ ভোটকেন্দ্রে যাওয়ার জন্য তাঁদের বলে রেখেছিল। সেই মোতাবেক তাঁরা গতকাল (৬ জানুয়ারি) সকালে উপজেলা পরিষদে নছিমন নিয়ে আসেন। এ জন্য ভাড়া বাবদ দুই হাজার টাকার কাছাকাছি দেওয়া হচ্ছে বলে তাঁরা জানান।
ভোটকেন্দ্রে যাওয়ার অপেক্ষায় থাকা নছিমনচালক রতন মিয়া জানান, দুই-তিনদিন আগেই পুলিশ ভোটকেন্দ্রে যাওয়ার জন্য তাঁদের বলে রেখেছিল। তাই তিনিসহ অন্যান্য নছিমনচালকেরা নছিমন নিয়ে গতকাল (৬ জানুয়ারি) সকালে উপজেলা পরিষদে এসেছেন। এ জন্য দুদিনের (শনি ও রবিবার) ভাড়া বাবদ দুই হাজার ১০০ টাকা দেওয়া হলেও তাতে তাঁর পোষাবে না বলে জানান।
বেড়া ও সাঁথিয়া উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা যথাক্রমে নারগিস সুলতানা ও মো. শামসুজ্জামান জানান, মালামালসহ ভোট গ্রহণের সঙ্গে জড়িতদের বহনের জন্য আলাদা আলাদা নছিমনের ব্যবহার করা হচ্ছে। এগুলো অবৈধ কিনা সে ব্যাপারে জানার জন্য প্রশাসনের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলার পরামর্শ দেন তাঁরা।
সাঁথিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা) আল্পনা ইয়াসমিনকে জিজ্ঞাসা করা হলে এ ব্যাপারে তিনি কোনো মন্তব্য করেননি।
বিজনেস বাংলাদেশ/এমএইচটি
























