১০:৫৩ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৪ জানুয়ারী ২০২৬

গরমে ঘামের গন্ধ দূর করতে যা করবেন

গরমে ঘেমে অস্বস্তিতে থাকতে হয় আমাদের। ঘাম শরীরের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণের পদ্ধতি। গরমে শরীরের তাপমাত্রা বেড়ে গেলে তা স্বাভাবিক রাখতে ঘাম হয়। এছাড়াও ঘামের সঙ্গে শরীরের বিভিন্ন বর্জ্য পদার্থ বেরিয়ে যায়। গরমের দিনে ঘাম হওয়া অতি সাধারণ একটি বিষয়। তবে অতিরিক্ত ঘামের কারণে বিভিন্ন শারীরিক সমস্যা দেখা দিতে পারে।

সেই সঙ্গে শরীরে ঘামের দুর্গন্ধ সহ্য করা আরো মুশকিল। নিজের সেই গন্ধ নিজেরই সহ্য করতে অসহ্য লাগে, সেখানে আশেপাশের লোকজনের অসুবিধার কথাও আমাদের ভাবতে হয়। কিন্তু কিছুটা সচেতন হয়ে চললে ঘামের গন্ধ কিছুটা হলেও কম প্রকট হবে। তাই মেনে চলুন এই বিষয়গুলো:

অবশ্যই পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন থাকুন

গরমে ঘামে ভিজবেন, শরীরেই সেই ঘাম শুকিয়ে যাবে। কিন্তু শরীরে থেকে যাবে তীব্র দুর্গন্ধ। এই গন্ধ দূর করতে প্রথম শর্ত হলো পুরোপুরি পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন থাকা। এজন্য ভালো করে গোসল করতে হবে, শরীরের ঘাম ভালোভাবে মুছে ফেলতে হবে। গোসলে ফলে শরীরের ব্যাকটেরিয়া দূর হয়, আর তাই দরকার ভালো মানের সাবান দিয়ে গোসল করা। গরমে ঘামাচি থেকে বাঁচতে গোসলের পানিতে ওডিকলোন মেশান।

ডিওডরেন্ট

গরমে সতেজ, স্নিগ্ধ থাকার জন্য ডিওডরেন্ট খুব কার্যকর। এতে আছে অ্যান্টি ব্যাকটেরিয়াল এজেন্ট, যেটি আর ব্যাকটেরিয়াগুলোকে সক্রিয় হতে দেয় না।

পারফিউম

আমাদের সবারই মোটামুটি পারফিউম ব্যবহারের অভ্যাস আছে। এর সুগন্ধ দেহের স্বাভাবিক গন্ধের সঙ্গে মিশে একটা আলাদা সৌরভ তৈরি করে। আমাদের শরীরের দুর্গন্ধ দূর করতেই পারফিউম ব্যবহার করি আমরা। অন্যের নাকেও সেই গন্ধ যাবে, তাই স্বাভাবিক হালকা গন্ধের পারফিউম ব্যবহার করুন। আর গরমের দিনে কড়া গন্ধের পারফিউম লাগাবেন না। হাতের কবজি, ঘাড়, বগলে পারফিউম লাগান ভালো করে।

অ্যান্টি ব্যাকটেরিয়াল সাবান ব্যবহার

যাদের ত্বক একটু স্পর্শকাতর হয় তারা সাধারণত পারফিউম বা ডিওডরেন্ট লাগাতে পারেন না। লাগালেই তাদের র‍্যাশ বের হয়। এমন অবস্থায় অ্যান্টি ব্যাকটেরিয়াল সাবান ব্যবহার করুন। যেসব জায়গা বেশি ঘামে সেখানে ট্যালকম পাউডার অথবা বেকিং সোডা লাগিয়ে রাখলে উপকার মিলবে।

ডায়েট

ভারি মসলা এবং ঝাঁঝালো গন্ধযুক্ত খাবার খেলে ঘামের দুর্গন্ধ বাড়ে। তাই গরমে এসব খাবার খাবেন না। পেঁয়াজ, রসুন, গরম মশলা, কফি এই খাবারগুলো যত কম খাওয়া যায় তত ভালো। কারণ এগুলো ঘামের দুর্গন্ধ বাড়ায়।

মাথায় রাখুন কিছু বিষয়

১. চেষ্টা করুন প্রতিদিন দুবার গোসল করতে। ব্যায়াম, খেলাধুলা বা বাইরে থেকে আসার পরে অবশ্যই গোসল করতে হবে।

২. গোসলের পর পায়ের পাতা ভালো করে মুছে পাউডার লাগান। এতে পা কম ঘামবে। এবং সুতির মোজা পরুন। আর এমন জুতা পরবেন যাতে পায়ে বাতাস লাগে। পা ঘামার অভ্যাস থাকলে প্রতিদিন জুতা বদলে পরুন। পর পর দুদিন একই জুতা পরবেন না। অনেকক্ষণ জুতা পরে থাকতে হলে মাঝেমাঝে জুতা খুলে রাখুন।

৩. সুতির আরামদায়ক জামা-কাপড় পরুন। ঘাম হলেই তা মুছে ফেলুন। চুল নিয়মিত শ্যাম্পু করুন।

৪. ধূমপান এড়িয়ে চলুন। কেননা ধূমপানের গন্ধ শরীরের অন্যান্য উপাদানের সঙ্গে মিশে বাজে গন্ধ সৃষ্টি করে।

৫. রোদে বাইরে বের হলে ছাতা ও সানগ্লাস ব্যবহার করুন। প্রয়োজনীয় পরিমাণ পানি এবং ফলের রস পান করুন।

ট্যাগ :
জনপ্রিয়

যে কোনো হামলাকে সর্বাত্মক যুদ্ধ হিসেবে বিবেচনা করবে ইরান

গরমে ঘামের গন্ধ দূর করতে যা করবেন

প্রকাশিত : ০৭:৪৭:৪১ অপরাহ্ন, সোমবার, ২ জুলাই ২০১৮

গরমে ঘেমে অস্বস্তিতে থাকতে হয় আমাদের। ঘাম শরীরের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণের পদ্ধতি। গরমে শরীরের তাপমাত্রা বেড়ে গেলে তা স্বাভাবিক রাখতে ঘাম হয়। এছাড়াও ঘামের সঙ্গে শরীরের বিভিন্ন বর্জ্য পদার্থ বেরিয়ে যায়। গরমের দিনে ঘাম হওয়া অতি সাধারণ একটি বিষয়। তবে অতিরিক্ত ঘামের কারণে বিভিন্ন শারীরিক সমস্যা দেখা দিতে পারে।

সেই সঙ্গে শরীরে ঘামের দুর্গন্ধ সহ্য করা আরো মুশকিল। নিজের সেই গন্ধ নিজেরই সহ্য করতে অসহ্য লাগে, সেখানে আশেপাশের লোকজনের অসুবিধার কথাও আমাদের ভাবতে হয়। কিন্তু কিছুটা সচেতন হয়ে চললে ঘামের গন্ধ কিছুটা হলেও কম প্রকট হবে। তাই মেনে চলুন এই বিষয়গুলো:

অবশ্যই পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন থাকুন

গরমে ঘামে ভিজবেন, শরীরেই সেই ঘাম শুকিয়ে যাবে। কিন্তু শরীরে থেকে যাবে তীব্র দুর্গন্ধ। এই গন্ধ দূর করতে প্রথম শর্ত হলো পুরোপুরি পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন থাকা। এজন্য ভালো করে গোসল করতে হবে, শরীরের ঘাম ভালোভাবে মুছে ফেলতে হবে। গোসলে ফলে শরীরের ব্যাকটেরিয়া দূর হয়, আর তাই দরকার ভালো মানের সাবান দিয়ে গোসল করা। গরমে ঘামাচি থেকে বাঁচতে গোসলের পানিতে ওডিকলোন মেশান।

ডিওডরেন্ট

গরমে সতেজ, স্নিগ্ধ থাকার জন্য ডিওডরেন্ট খুব কার্যকর। এতে আছে অ্যান্টি ব্যাকটেরিয়াল এজেন্ট, যেটি আর ব্যাকটেরিয়াগুলোকে সক্রিয় হতে দেয় না।

পারফিউম

আমাদের সবারই মোটামুটি পারফিউম ব্যবহারের অভ্যাস আছে। এর সুগন্ধ দেহের স্বাভাবিক গন্ধের সঙ্গে মিশে একটা আলাদা সৌরভ তৈরি করে। আমাদের শরীরের দুর্গন্ধ দূর করতেই পারফিউম ব্যবহার করি আমরা। অন্যের নাকেও সেই গন্ধ যাবে, তাই স্বাভাবিক হালকা গন্ধের পারফিউম ব্যবহার করুন। আর গরমের দিনে কড়া গন্ধের পারফিউম লাগাবেন না। হাতের কবজি, ঘাড়, বগলে পারফিউম লাগান ভালো করে।

অ্যান্টি ব্যাকটেরিয়াল সাবান ব্যবহার

যাদের ত্বক একটু স্পর্শকাতর হয় তারা সাধারণত পারফিউম বা ডিওডরেন্ট লাগাতে পারেন না। লাগালেই তাদের র‍্যাশ বের হয়। এমন অবস্থায় অ্যান্টি ব্যাকটেরিয়াল সাবান ব্যবহার করুন। যেসব জায়গা বেশি ঘামে সেখানে ট্যালকম পাউডার অথবা বেকিং সোডা লাগিয়ে রাখলে উপকার মিলবে।

ডায়েট

ভারি মসলা এবং ঝাঁঝালো গন্ধযুক্ত খাবার খেলে ঘামের দুর্গন্ধ বাড়ে। তাই গরমে এসব খাবার খাবেন না। পেঁয়াজ, রসুন, গরম মশলা, কফি এই খাবারগুলো যত কম খাওয়া যায় তত ভালো। কারণ এগুলো ঘামের দুর্গন্ধ বাড়ায়।

মাথায় রাখুন কিছু বিষয়

১. চেষ্টা করুন প্রতিদিন দুবার গোসল করতে। ব্যায়াম, খেলাধুলা বা বাইরে থেকে আসার পরে অবশ্যই গোসল করতে হবে।

২. গোসলের পর পায়ের পাতা ভালো করে মুছে পাউডার লাগান। এতে পা কম ঘামবে। এবং সুতির মোজা পরুন। আর এমন জুতা পরবেন যাতে পায়ে বাতাস লাগে। পা ঘামার অভ্যাস থাকলে প্রতিদিন জুতা বদলে পরুন। পর পর দুদিন একই জুতা পরবেন না। অনেকক্ষণ জুতা পরে থাকতে হলে মাঝেমাঝে জুতা খুলে রাখুন।

৩. সুতির আরামদায়ক জামা-কাপড় পরুন। ঘাম হলেই তা মুছে ফেলুন। চুল নিয়মিত শ্যাম্পু করুন।

৪. ধূমপান এড়িয়ে চলুন। কেননা ধূমপানের গন্ধ শরীরের অন্যান্য উপাদানের সঙ্গে মিশে বাজে গন্ধ সৃষ্টি করে।

৫. রোদে বাইরে বের হলে ছাতা ও সানগ্লাস ব্যবহার করুন। প্রয়োজনীয় পরিমাণ পানি এবং ফলের রস পান করুন।