০৮:২৪ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১২ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
শীর্ষ তিন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে তদন্তে ইউজিসি

বরিশাল ও চট্টগ্রামের বেড়াজালে ইআবি প্রশাসন!

দেশের মাদ্রাসা উচ্চ শিক্ষা নিয়ন্ত্রণের দায়িত্বপ্রাপ্ত ইসলামি আরবি বিশ্ববিদ্যালয় একটি জাতীয় প্রতিষ্টান। ফাজিল কামিল, অনার্স-মাস্টার্স মাদ্রাসাগুলোর প্রশাসনিক কার্যক্রম পরিচালিত হয় এখান থেকে। দু:খজনক হলে ও সত্য আঞ্চলিকতার বলয় থেকে বের হতে পারছেনা ইআবি প্রশাসন। ২০১৫ সাল থেকে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় কুষ্টিয়া থেকে ক্ষমতা পরিবর্তন হয়ে ঢাকাস্থ ইসলামি আরবি বিশ্ববিদ্যালয় এর উপর ন্যস্ত হয় ফাজিল কামিল মাদ্রাসার প্রশাসনিক কার্যক্রম পরিচালনার ক্ষমতা ।
দেশের রাজধানীতে প্রতিষ্ঠানটির অবস্থান হওয়ার অন্যতম লক্ষ্য পুরো দেশের সমান যোগাযোগ ব্যবস্থার সুবিধা ও সমান সুযোগ তৈরি করা। কিন্তু সেই লক্ষ্য থেকে বিচ্যুত
আঞ্চলিকতার ভেডাজালে আবদ্ধ ইআবি প্রশাসন।
আঞ্চলিকতা, স্বজনপ্রীতি, ভিসি -প্রোভিসি অন্তর্কোন্দল, রেজিস্ট্রার নিয়োগে একই ব্যাক্তি নিয়োগ বোর্ডের সদস্য ও প্রার্থী হওয়ার অভিযোগে তদন্ত কমিটি গঠন ইউজিসির, শীঘ্রই শীর্ষ ৩ ব্যক্তির বিরুদ্ধে তদন্তে আসবে ইউজিসি।

সুত্র জানায়, দীর্ঘ আট বছরের চট্টগ্রামের ভাইস চ্যান্সেলর অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ আহসান উল্লাহ যেমন আঞ্চলিকতা থেকে মুক্ত রাখতে পারেনি ইআবি প্রশাসনকে ঠিক বর্তমান ভাইস চ্যান্সেলর অধ্যাপক আব্দুর রশীদ ও স্বজনপ্রীতি ও আঞ্চলিকতা থেকে বের হতে পারছেইনা । বহাল তবিয়তে রয়েছে সাবেক ভাইস চ্যান্সেলর এর সময় প্রশাসন নিয়ন্ত্রণে প্রভাব রাখা চট্টগ্রামের কর্মকর্তারা ও । বর্তমান প্রশাসনকে নিয়ন্ত্রণ করছে বরিশাল ও চট্টগ্রাম জেলার কর্মকর্তারা। ভিসি দপ্তর থেকে কমিটি শাখা সবক্ষেত্রে আগের ভিসির লোকদের সরানো হয় নি। আগের আট বছরের পিএস কেই রেখে দেয়া হয়েছে। যেখানে নতুন ভাইস চ্যান্সেলর নতুন পিএস নেয়ার প্রচলিত বিধান।রেখে দেয়া হয়েছে আগের ড্রাইভার, গানম্যান সবাইকে। নতুন যাদের পদায়ন হয়েছে সবাই বরিশালের।

অপরদিকে বেছে বেছে ভাল পদ ও দপ্তর পদায়ন করা হয়েছে বরিশালের কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের।

রেজিস্ট্রার দপ্তরের গুরুত্বপূর্ণ শাখাগুলোতে বরিশালের আধিপত্য। বরিশালের একজন অস্থায়ী টাইপিস্ট পদে থাকা কর্মচারী যিনি রেজিস্ট্রার দপ্তরের পিএস।

পরিদর্শন দপ্তর যেটা বিশ্ববিদ্যালয়ের গুরুত্বপূর্ণ দপ্তর হিসেবে ধরা হয়। সেখানেই ও বরিশাল ও চট্টগ্রামের কর্মকর্তা।
একেকজন একেক দপ্তরে কেউ আট বছর, কেউ নয় বছর আর কেউ পাচঁ বছর। নতুন ভাইস চ্যান্সেলর যোগদানের পর ও এখনো কোনো উল্লেখযোগ্য দপ্তর পরিবর্তন হয়নি।

নিয়োগ শাখা যেটাতে নয় বছর ধরেই একজনের পদায়ন যিনি চট্টগ্রামের জামাই এবং ইআবির প্রশ্নবিদ্ধ সাবেক ডিনের দীর্ঘদিনের গৃহ শিক্ষক ছিল। দীর্ঘদিন একই শাখায় পদায়ন হওয়াতে সংশ্লিষ্ট অফিসার হয়ে উঠেছে মহাদানব। যার সবকিছুই চট্টগ্রামের নামে সিলেটের। নিয়োগ প্রতিনিধিকে ম্যানেজ করে দেওয়ার কথা বলেই অধ্যক্ষ নিয়োগে সহজ সরল মাদ্রাসার অধ্যক্ষ নিয়োগ প্রার্থীদের দুর্বলতার সুযোগ কে পুঁজি করে করছেন চাঁদা আদায়। নিয়োগ শাখার দুজন কর্মকর্তাই একপদে চট্টগ্রামের। একজন চাঁদপুর ও একজন নামে সিলেট হলেও সকল কিছুই চট্টগ্রামের।

একাধিক ইআবির কর্মচারী কর্মকর্তার সুত্রে জানা যায়,প্রতি নিয়াগ কে কেন্দ্র করে অধ্যক্ষদের সুযোগ বুঝে আদায় করেন লাখ লাখ টাকা। মাদ্রাসা নির্মাণের কথা বলে কৌটি কৌটি টাকার ব্যবসা করছে বলে অভিযোগ করেন নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক মাদ্রাসার অধ্যক্ষ ও শিক্ষককগন।

একটি জাতীয় প্রতিষ্ঠানে এভাবে আঞ্চলিকতার প্রভাব চলতে থাকলে পরিনাম কি হতে পারে জানতে চাইলে একজন সিন্ডিকেট সদস্য বলেন, আঞ্চলিকতার প্রভাবমুক্ত থাকার জন্য একটি স্বতন্ত্র আরবি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার আন্দোলনের লক্ষ্য ছিল পীর আওলিয়া ও মাদ্রাসা শিক্ষক নেতাদের। কিন্তু সেই লক্ষ্য থেকে বিচ্যুত বর্তমান ও সাবেক প্রশাসন যা খুবই দু:খজনক। আমরা মাদ্রাসা শিক্ষক নেতারা এধরনের আঞ্চলিকতা ও স্বজনপ্রীতিমুক্ত প্রশাসন চাই।

বিজনেস বাংলাদেশ/BH

ট্যাগ :
জনপ্রিয়

রংপুরে ভোটের পরিবেশ সুরক্ষিত রাখতে যৌথ বাহিনীর টহল জোরদার

শীর্ষ তিন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে তদন্তে ইউজিসি

বরিশাল ও চট্টগ্রামের বেড়াজালে ইআবি প্রশাসন!

প্রকাশিত : ০৪:৫৩:৩০ অপরাহ্ন, বুধবার, ২০ মার্চ ২০২৪

দেশের মাদ্রাসা উচ্চ শিক্ষা নিয়ন্ত্রণের দায়িত্বপ্রাপ্ত ইসলামি আরবি বিশ্ববিদ্যালয় একটি জাতীয় প্রতিষ্টান। ফাজিল কামিল, অনার্স-মাস্টার্স মাদ্রাসাগুলোর প্রশাসনিক কার্যক্রম পরিচালিত হয় এখান থেকে। দু:খজনক হলে ও সত্য আঞ্চলিকতার বলয় থেকে বের হতে পারছেনা ইআবি প্রশাসন। ২০১৫ সাল থেকে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় কুষ্টিয়া থেকে ক্ষমতা পরিবর্তন হয়ে ঢাকাস্থ ইসলামি আরবি বিশ্ববিদ্যালয় এর উপর ন্যস্ত হয় ফাজিল কামিল মাদ্রাসার প্রশাসনিক কার্যক্রম পরিচালনার ক্ষমতা ।
দেশের রাজধানীতে প্রতিষ্ঠানটির অবস্থান হওয়ার অন্যতম লক্ষ্য পুরো দেশের সমান যোগাযোগ ব্যবস্থার সুবিধা ও সমান সুযোগ তৈরি করা। কিন্তু সেই লক্ষ্য থেকে বিচ্যুত
আঞ্চলিকতার ভেডাজালে আবদ্ধ ইআবি প্রশাসন।
আঞ্চলিকতা, স্বজনপ্রীতি, ভিসি -প্রোভিসি অন্তর্কোন্দল, রেজিস্ট্রার নিয়োগে একই ব্যাক্তি নিয়োগ বোর্ডের সদস্য ও প্রার্থী হওয়ার অভিযোগে তদন্ত কমিটি গঠন ইউজিসির, শীঘ্রই শীর্ষ ৩ ব্যক্তির বিরুদ্ধে তদন্তে আসবে ইউজিসি।

সুত্র জানায়, দীর্ঘ আট বছরের চট্টগ্রামের ভাইস চ্যান্সেলর অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ আহসান উল্লাহ যেমন আঞ্চলিকতা থেকে মুক্ত রাখতে পারেনি ইআবি প্রশাসনকে ঠিক বর্তমান ভাইস চ্যান্সেলর অধ্যাপক আব্দুর রশীদ ও স্বজনপ্রীতি ও আঞ্চলিকতা থেকে বের হতে পারছেইনা । বহাল তবিয়তে রয়েছে সাবেক ভাইস চ্যান্সেলর এর সময় প্রশাসন নিয়ন্ত্রণে প্রভাব রাখা চট্টগ্রামের কর্মকর্তারা ও । বর্তমান প্রশাসনকে নিয়ন্ত্রণ করছে বরিশাল ও চট্টগ্রাম জেলার কর্মকর্তারা। ভিসি দপ্তর থেকে কমিটি শাখা সবক্ষেত্রে আগের ভিসির লোকদের সরানো হয় নি। আগের আট বছরের পিএস কেই রেখে দেয়া হয়েছে। যেখানে নতুন ভাইস চ্যান্সেলর নতুন পিএস নেয়ার প্রচলিত বিধান।রেখে দেয়া হয়েছে আগের ড্রাইভার, গানম্যান সবাইকে। নতুন যাদের পদায়ন হয়েছে সবাই বরিশালের।

অপরদিকে বেছে বেছে ভাল পদ ও দপ্তর পদায়ন করা হয়েছে বরিশালের কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের।

রেজিস্ট্রার দপ্তরের গুরুত্বপূর্ণ শাখাগুলোতে বরিশালের আধিপত্য। বরিশালের একজন অস্থায়ী টাইপিস্ট পদে থাকা কর্মচারী যিনি রেজিস্ট্রার দপ্তরের পিএস।

পরিদর্শন দপ্তর যেটা বিশ্ববিদ্যালয়ের গুরুত্বপূর্ণ দপ্তর হিসেবে ধরা হয়। সেখানেই ও বরিশাল ও চট্টগ্রামের কর্মকর্তা।
একেকজন একেক দপ্তরে কেউ আট বছর, কেউ নয় বছর আর কেউ পাচঁ বছর। নতুন ভাইস চ্যান্সেলর যোগদানের পর ও এখনো কোনো উল্লেখযোগ্য দপ্তর পরিবর্তন হয়নি।

নিয়োগ শাখা যেটাতে নয় বছর ধরেই একজনের পদায়ন যিনি চট্টগ্রামের জামাই এবং ইআবির প্রশ্নবিদ্ধ সাবেক ডিনের দীর্ঘদিনের গৃহ শিক্ষক ছিল। দীর্ঘদিন একই শাখায় পদায়ন হওয়াতে সংশ্লিষ্ট অফিসার হয়ে উঠেছে মহাদানব। যার সবকিছুই চট্টগ্রামের নামে সিলেটের। নিয়োগ প্রতিনিধিকে ম্যানেজ করে দেওয়ার কথা বলেই অধ্যক্ষ নিয়োগে সহজ সরল মাদ্রাসার অধ্যক্ষ নিয়োগ প্রার্থীদের দুর্বলতার সুযোগ কে পুঁজি করে করছেন চাঁদা আদায়। নিয়োগ শাখার দুজন কর্মকর্তাই একপদে চট্টগ্রামের। একজন চাঁদপুর ও একজন নামে সিলেট হলেও সকল কিছুই চট্টগ্রামের।

একাধিক ইআবির কর্মচারী কর্মকর্তার সুত্রে জানা যায়,প্রতি নিয়াগ কে কেন্দ্র করে অধ্যক্ষদের সুযোগ বুঝে আদায় করেন লাখ লাখ টাকা। মাদ্রাসা নির্মাণের কথা বলে কৌটি কৌটি টাকার ব্যবসা করছে বলে অভিযোগ করেন নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক মাদ্রাসার অধ্যক্ষ ও শিক্ষককগন।

একটি জাতীয় প্রতিষ্ঠানে এভাবে আঞ্চলিকতার প্রভাব চলতে থাকলে পরিনাম কি হতে পারে জানতে চাইলে একজন সিন্ডিকেট সদস্য বলেন, আঞ্চলিকতার প্রভাবমুক্ত থাকার জন্য একটি স্বতন্ত্র আরবি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার আন্দোলনের লক্ষ্য ছিল পীর আওলিয়া ও মাদ্রাসা শিক্ষক নেতাদের। কিন্তু সেই লক্ষ্য থেকে বিচ্যুত বর্তমান ও সাবেক প্রশাসন যা খুবই দু:খজনক। আমরা মাদ্রাসা শিক্ষক নেতারা এধরনের আঞ্চলিকতা ও স্বজনপ্রীতিমুক্ত প্রশাসন চাই।

বিজনেস বাংলাদেশ/BH