০৫:১০ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১১ জুলাই ২০২৬
সন্দেহের তীর ইউপি সচিব আওলাদের দিকে

পাবনা জাস্টিন ট্রুডোর জন্ম নিবন্ধন মূল হোতা কে?

অনলাইনে জন্মনিবন্ধন আবেদনের পর তা অনুমোদনে গোপন ওটিপি যায় সংশ্লিষ্ট ইউনিয়ন বা পৌর কর্তৃপক্ষের কাছে। ওটিপি অনুমোদন ছাড়া জন্ম নিবন্ধন অসম্ভব হলেও, পাবনায় কানাডার প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডোর জন্ম নিবন্ধনের ঘটনায় দায় অস্বীকার করছেন আহমেদপুর ইউনিয়ন পরিষদ কর্তৃপক্ষ। ঘটনা অনুসন্ধানে কাজ করছে তদন্ত কমিটি, হয়েছে মামলা। বিব্রতকর এ ঘটনায় জড়িত কাউকে ছাড় দেয়া হবে না বলছে জেলা প্রশাসন।
স্থানীয়রা জানান, জন্ম নিবন্ধন মানেই যেনো নিয়ত ভোগান্তি। নিবন্ধনে সার্ভার জটিলতাসহ হয়রানির নানা বিষয়ে বার বার অভিযোগ জানিয়েও পরিস্থিতির উন্নতি হয়নি। এর মাঝেই সম্প্রতি পাবনার আহমেদপুর ইউনিয়ন থেকে কানাডার প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডোর নামে একরাতে জন্ম নিবন্ধন সম্পন্ন হওয়ায় প্রশ্ন ওঠে সার্ভারের নিরপত্তা ও সামগ্রিক প্রক্রিয়া নিয়েই।


এবার দেখা যাক, কিভাবে জাস্টিন ট্রুডোর নামে জন্ম নিবন্ধন হলো? ঘটনার মূল হোতা হিসেবে কম্পিউটার অপারেটর নিলয় পারভেজ ইমনের নাম আলোচিত হলেও, মূলত নিলয় ইউনিয়ন পরিষদের কেউই নন। তাহলে কিভাবে দিনের পর দিন ইউনিয়ন পরিষদে সচিব আওলাদ হোসেনের পেছনে বসেই কাজ করতেন নিলয়? জবাবে এলোমেলো উত্তর আওলাদ হোসেনের।
ঘটনা জানাজানির পর থেকেই আত্মগোপনে কম্পিউটার অপারেটর নিলয়। নিলয়ের এক স্বজনের মাধ্যমে তার সাথে যোগাযোগ করে দেশ রূপান্তর। নিজের সংশ্লিষ্টতা স্বীকার করে নিলয় দায়ী করেন ইউপি সচিবকে। নিলয় বলেন, অর্থের বিনিময়ে ইউপি সচিব আওলাদ দীর্ঘদিন ধরে করছেন এই ভুয়া নিবন্ধন ব্যবসা। ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান আব্দুর রউফও বিষয়টি জানেন। আমার কাছে ওটিপি আসে ন্।া কর্তৃপক্ষের কাছেই আসে। সচিব আওলাদ সাহেব যেগুলো নির্দেশনা দেন আমি সেগুলো নিয়েই কাজ করেছি। আমার নিজের কোন ক্ষমতা নেই। তারা কাজের বিনিময়ে আমাকে কিছু পারিশ্রমিক দিতেন। কোনটা বৈধ না অবৈধ নিবন্ধন এ বিষয়ে আমি কিছুই জানি না। আওলাদ সাহেবের বিকাশ লেনদেন যাচাইয়েও তার প্রমাণ মিলবে দাবি নিলয়ের।
আওলাদ হোসেন বলেন, নিলয়কে সাবেক চেয়ারম্যান ও সচিব পরিষদের কাজে এনেছেন। কোন চুক্তি না থাকলেও সেই নিবন্ধন সংক্রান্ত কাজ গুলো করতো। আমার মনে হয় আমি যখন বাথরুমে গিয়েছি তখন নিলয় ওটিপি চুরি করে এ কাজ করেছে। আবার সার্ভার হ্যাক করেও এ ঘটনা ঘটতে পারে। এ বিষয়ে আমি কিছুই জানি না। বিকাশে টাকার লেনদেন জন্মনিবন্ধন সংক্রান্ত নয়।
এদিকে, জাস্টিন ট্রুডোর নামে ভুয়া জন্ম নিবন্ধনে ক্ষুব্ধ স্থানীয়রা। দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তিও চান তারা। স্থানীয় আইনজীবী আনোয়ার হোসেন বলেন, এ ঘটনায় ইউনিয়ন পরিষদ কর্তৃপক্ষ কিছুতেই দায় এড়াতে পারেন না। নিলয়ের মতো একজন কম্পিউটার অপারেটর একাই গোপন ওটিপি জালিয়াতি হ্যাক করে এসব করেছে তা কেউ বিশ্বাস করবে না। এ ঘটনায় দেশের ভাবমূর্তি নষ্ট হয়েছে। পাবনাবাসী হিসেবে আমরাও লজ্জিত। সুষ্ঠু তদন্ত সাপেক্ষে দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবী জানাচ্ছি।
ভুয়া জন্মনিবন্ধন কান্ডে বিব্রত প্রশাসনও। ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান ও ইউপি সচিবকে শোকজের পর সরেজমিন তদন্ত করেছে জেলা প্রশাসনের কমিটি। নিলয়কে আসামী করে মামলাও দায়ের হয়েছে সুজানগর থানায়।
পাবনা জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মাসুদ আলম বলেন, আমরা মামলাটি গুরুত্বে সাথে তদন্ত করছি। ঘটনার সাথে যারাই জড়িত থাকুক আইনের আওতায় আনা হবে।
জাস্টিন ট্রুডোর নামে ভুয়া জন্ম নিবন্ধন কান্ডে মঙ্গলবার তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেবে জেলা প্রশাসনের কমিটি।
পাবনা জেলা প্রশাসক মু. আসাদুজ্জামান জানান, বিষয়টি উর্ধ্বতন কতৃপক্ষ অবগত। তদন্ত কমিটি ঘটনাস্থলে সরেজমিন তদন্ত করেছে। এর ওর উপর দায় চাপিয়ে পার পাওয়ার সুযোগ নেই। আমরা কঠোর ব্যবস্থা নেবো।

 

বিজনেস বাংলাদেশ/বিএইচ

ট্যাগ :
জনপ্রিয়

বিমানবন্দরের রানওয়ে সুরক্ষায় ১২ নম্বর খাল পুনঃখনন করছে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ

সন্দেহের তীর ইউপি সচিব আওলাদের দিকে

পাবনা জাস্টিন ট্রুডোর জন্ম নিবন্ধন মূল হোতা কে?

প্রকাশিত : ০৭:৩৯:৩০ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৫ মার্চ ২০২৪

অনলাইনে জন্মনিবন্ধন আবেদনের পর তা অনুমোদনে গোপন ওটিপি যায় সংশ্লিষ্ট ইউনিয়ন বা পৌর কর্তৃপক্ষের কাছে। ওটিপি অনুমোদন ছাড়া জন্ম নিবন্ধন অসম্ভব হলেও, পাবনায় কানাডার প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডোর জন্ম নিবন্ধনের ঘটনায় দায় অস্বীকার করছেন আহমেদপুর ইউনিয়ন পরিষদ কর্তৃপক্ষ। ঘটনা অনুসন্ধানে কাজ করছে তদন্ত কমিটি, হয়েছে মামলা। বিব্রতকর এ ঘটনায় জড়িত কাউকে ছাড় দেয়া হবে না বলছে জেলা প্রশাসন।
স্থানীয়রা জানান, জন্ম নিবন্ধন মানেই যেনো নিয়ত ভোগান্তি। নিবন্ধনে সার্ভার জটিলতাসহ হয়রানির নানা বিষয়ে বার বার অভিযোগ জানিয়েও পরিস্থিতির উন্নতি হয়নি। এর মাঝেই সম্প্রতি পাবনার আহমেদপুর ইউনিয়ন থেকে কানাডার প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডোর নামে একরাতে জন্ম নিবন্ধন সম্পন্ন হওয়ায় প্রশ্ন ওঠে সার্ভারের নিরপত্তা ও সামগ্রিক প্রক্রিয়া নিয়েই।


এবার দেখা যাক, কিভাবে জাস্টিন ট্রুডোর নামে জন্ম নিবন্ধন হলো? ঘটনার মূল হোতা হিসেবে কম্পিউটার অপারেটর নিলয় পারভেজ ইমনের নাম আলোচিত হলেও, মূলত নিলয় ইউনিয়ন পরিষদের কেউই নন। তাহলে কিভাবে দিনের পর দিন ইউনিয়ন পরিষদে সচিব আওলাদ হোসেনের পেছনে বসেই কাজ করতেন নিলয়? জবাবে এলোমেলো উত্তর আওলাদ হোসেনের।
ঘটনা জানাজানির পর থেকেই আত্মগোপনে কম্পিউটার অপারেটর নিলয়। নিলয়ের এক স্বজনের মাধ্যমে তার সাথে যোগাযোগ করে দেশ রূপান্তর। নিজের সংশ্লিষ্টতা স্বীকার করে নিলয় দায়ী করেন ইউপি সচিবকে। নিলয় বলেন, অর্থের বিনিময়ে ইউপি সচিব আওলাদ দীর্ঘদিন ধরে করছেন এই ভুয়া নিবন্ধন ব্যবসা। ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান আব্দুর রউফও বিষয়টি জানেন। আমার কাছে ওটিপি আসে ন্।া কর্তৃপক্ষের কাছেই আসে। সচিব আওলাদ সাহেব যেগুলো নির্দেশনা দেন আমি সেগুলো নিয়েই কাজ করেছি। আমার নিজের কোন ক্ষমতা নেই। তারা কাজের বিনিময়ে আমাকে কিছু পারিশ্রমিক দিতেন। কোনটা বৈধ না অবৈধ নিবন্ধন এ বিষয়ে আমি কিছুই জানি না। আওলাদ সাহেবের বিকাশ লেনদেন যাচাইয়েও তার প্রমাণ মিলবে দাবি নিলয়ের।
আওলাদ হোসেন বলেন, নিলয়কে সাবেক চেয়ারম্যান ও সচিব পরিষদের কাজে এনেছেন। কোন চুক্তি না থাকলেও সেই নিবন্ধন সংক্রান্ত কাজ গুলো করতো। আমার মনে হয় আমি যখন বাথরুমে গিয়েছি তখন নিলয় ওটিপি চুরি করে এ কাজ করেছে। আবার সার্ভার হ্যাক করেও এ ঘটনা ঘটতে পারে। এ বিষয়ে আমি কিছুই জানি না। বিকাশে টাকার লেনদেন জন্মনিবন্ধন সংক্রান্ত নয়।
এদিকে, জাস্টিন ট্রুডোর নামে ভুয়া জন্ম নিবন্ধনে ক্ষুব্ধ স্থানীয়রা। দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তিও চান তারা। স্থানীয় আইনজীবী আনোয়ার হোসেন বলেন, এ ঘটনায় ইউনিয়ন পরিষদ কর্তৃপক্ষ কিছুতেই দায় এড়াতে পারেন না। নিলয়ের মতো একজন কম্পিউটার অপারেটর একাই গোপন ওটিপি জালিয়াতি হ্যাক করে এসব করেছে তা কেউ বিশ্বাস করবে না। এ ঘটনায় দেশের ভাবমূর্তি নষ্ট হয়েছে। পাবনাবাসী হিসেবে আমরাও লজ্জিত। সুষ্ঠু তদন্ত সাপেক্ষে দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবী জানাচ্ছি।
ভুয়া জন্মনিবন্ধন কান্ডে বিব্রত প্রশাসনও। ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান ও ইউপি সচিবকে শোকজের পর সরেজমিন তদন্ত করেছে জেলা প্রশাসনের কমিটি। নিলয়কে আসামী করে মামলাও দায়ের হয়েছে সুজানগর থানায়।
পাবনা জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মাসুদ আলম বলেন, আমরা মামলাটি গুরুত্বে সাথে তদন্ত করছি। ঘটনার সাথে যারাই জড়িত থাকুক আইনের আওতায় আনা হবে।
জাস্টিন ট্রুডোর নামে ভুয়া জন্ম নিবন্ধন কান্ডে মঙ্গলবার তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেবে জেলা প্রশাসনের কমিটি।
পাবনা জেলা প্রশাসক মু. আসাদুজ্জামান জানান, বিষয়টি উর্ধ্বতন কতৃপক্ষ অবগত। তদন্ত কমিটি ঘটনাস্থলে সরেজমিন তদন্ত করেছে। এর ওর উপর দায় চাপিয়ে পার পাওয়ার সুযোগ নেই। আমরা কঠোর ব্যবস্থা নেবো।

 

বিজনেস বাংলাদেশ/বিএইচ