রংপুর নগরীতে নিয়ন্ত্রণহীন অটোরিকশার দাপটে যানজটের তীব্রতা বাড়ছে দুর্ভোগ। নগরীতে প্রায় ৩০টি পয়েন্টে তীব্রতা যানজট সৃষ্টি হয় দুপুর থেকে রাত পর্যন্ত।এর ফলে দুর্ভোগে আর ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে সাধারন মানুষদের।প্রতিদিন নগরীতে যানজটের চিত্র সারি সারি লাইনে দাড়িয়ে আছে অটো ও ইজিবাইক। অটোর দখলে রংপুর নগরী ও সিটি কর্পোরেশন।
নগরীতে অটোরিকশা ও তিন চাকার ইজিবাইকের দাপটে নাকাল নগরবাসী। নগরীতে যানজটের ফলে জাহাজ কোম্পানির মোড় থেকে মডার্ন মোড় পর্যন্ত ২০ মিনিটের পথ যেতে এক থেকে দেড় ঘণ্টা লেগে যায়।রংপুর মেট্রোপলিটন ও সিটি করপোরেশনের ভেতরে পুলিশের সংখ্যা ১৫শ থেকে ১৬শ মত। তারপরও যানজট নিরসনে হিমশিম খেতে হচ্ছে রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ বিভাগকে। সকাল থেকে রাত পর্যন্ত বিভিন্ন স্থানে চোখে পড়ে যানজটের চিত্র।ভোগান্তি আর দুর্ভোগে পড়তে হয় অফিসগামী মানুষদের।সঠিক সময়ে অফিসে যেতে পারছেন না যানজটের কারণে।
রংপুর সিটি করপোরেশন (রসিক)সূত্রে জানা গেছে,রসিক থেকে ৮ হাজার ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা ও রিকশার লাইসেন্স বা কাগজপত্র দেওয়া হয়েছে। নগরীতে অটোরিকশা ও রিকশা চলছে ৩৫ থেকে ৪০ হাজারের মতো। এর মধ্যেই পার্শ্ববর্তী জেলা ও উপজেলা থেকেও শত শত অটোরিকশা ঢুকছে নগরীতে।
এতে নগরীর প্রাণকেন্দ্র কাচারি বাজার,সিটি বাজার,সুপার মার্কেট, পায়রা চত্বর,জাহাজ কোম্পানি মোড়, প্রেস ক্লাব এরিয়া,শাপলা চত্বর ও ধাপ মেডিকেল মোড়সহ বিভিন্ন মোড়ে প্রতিদিনই তীব্র যানজটের সৃষ্টি হচ্ছে। অবৈধ রিকশা চলাচল বন্ধে নীল রং করা হলেও যানজট রয়েছে আগের মতোই। আর নিয়ন্ত্রণহীন যানবাহন চলাচলের কারণে নগরীজুড়ে দুর্ঘটনা বাড়ছে এমন তথ্য জানাগেছে।অটো ও মোটর সাইকেলের দুর্ঘটনায় অনেকেই আহত হচ্ছে। পথচারীরা আতঙ্ক নিয়েই রাস্তা পারাপার হচ্ছে।
নগরীর কামার পাড়া এলাকার দেলদার হোসেন বলেন,রংপুর পৌরসভাকে সিটি করপোরেশনে উন্নীত করার পর এই শহরে বিভিন্ন অফিস-আদালত হয়েছে। মানুষজন বেড়েছে ৪-৫গুণ।সেই সঙ্গে যানবাহনও বেড়েছে ৪গুণ। এতে প্রায় নগরীজুড়ে যানজট লেগেই থাকে। অনেক সময় দীর্ঘ ধরে এই ভোগান্তি পোহাতে হয় রাস্তায়। অনেকেই দুর্ঘটনার শিকারও হন মোটরসাইকেল ও অটোর।
সুপার মার্কেটে আসা কবির উদ্দিন,ফুলু,শফিক জানান রোজা থেকে পরিবার নিয়ে আমরা মার্কেট করতে এসেছি।কিন্তু সকাল থেকে রাত পর্যন্ত নগরীতে চলাচল করা অনেক কষ্ট হয়ে পড়ছে।রমজান মাসে একটু হলেই যানজনমুক্ত থাকবে শহর।কিন্তু নগরীতে আসলেই দুভোর্গে পড়তে হচ্ছে। আবার মার্কেটে ঢুকতে ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে।তারা বলেন,পুলিশ ইচ্ছা করলে যানজট নিরশন করতে ১০ মিনিট সময় লাগে না।কিন্তু পুলিশ তা না করে মোটর সাইকেল ধরার জন্য ব্যবস্থা থাকে।এর ফলে যানজটের সৃষ্টি হচ্ছে নগরীতে।
রসিক মেয়র মোস্তাফিজার রহমান মোস্তফা বলেন, নগরীতে যানজট নিরসনে সিটি করপোরেশন ও মেট্রোপলিটন পুলিশ কাজ করছে।আশা করি দ্রুত সময়ের মধ্যে রংপুরকে যানজটমুক্ত নগরী হিসাবে গড়ে তোলা যাবে।
আরো জানান,রংপুর নগরীতে অটোরিকশা চলছে ৩৫ থেকে ৪০ হাজার। এগুলো বন্ধ করার বিষয়ে কয়েক দফা বৈঠক হয়েছে। অবৈধ অটোরিকশা বন্ধে দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।তবে সিটি করপোরেশনে যানজট নিরসন করার দায়িত্ব মেট্রোপলিটন পুলিশের।তারা এটি দেখবে। তাদের সহযোগিতা করা প্রয়োজন।
রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের উপ-পুলিশ কমিশনার ডিসি ট্রাফিক মো.মোনহাজুল আলম জানান, রমজান মাস মানুষ মার্কেট ও বিভিন্ন প্রায়েজনীয় কাজে নগরীতে আসেন এর ফলে সাময়িক যানজট সৃষ্টি হয়।সেটি নিরসন করছে ট্রাফিক পুলিশ।কোনো ধরনের সমস্যা কিংবা জটিলতায় পড়তে হচ্ছে না সাধারণ মানুষকে। পুলিশ সবসময় কাজ করে যাচ্ছে।যদি কোথাও যানজট লেগে থাকে সেখানেই পুলিশ দ্রুত যানজট নিয়ন্ত্রণ করার জন্য কাজ করছে।




















